বীরভূমে পাথরখাদানে ধস: ছয় শ্রমিকের মৃত্যু, আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
বীরভূম: পুজোর মুখে আবারও এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বাংলার শ্রমজীবী মানুষের জীবনে গভীর ক্ষতের দাগ ফেলে দিল। বীরভূমের নলহাটির বাহাদুরপুর এলাকায় একটি পাথরখাদানে ধসে পড়ে ছয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় জখম হয়েছে আরও চারজন। আহতদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে পুলিশ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
এদিন সকাল থেকেই শ্রমিকরা পাথর কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। খাদানের একাংশে হঠাৎ দুপুরের দিকে মাটি হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বহু শ্রমিক ওই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। আশপাশের শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত সাহায্যের জন্য পুলিশকে খবর দেন। নলহাটি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
উদ্ধার অভিযান
প্রথম ধাপে ঘটনাস্থল থেকেই পাঁচ শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও একজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত চারজনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। খাদানের মধ্যে আরও কেউ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাথর ও মাটি সরিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রশ্ন
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, বর্ষায় ভারী বৃষ্টির ফলে খাদানের মাটি নরম হয়ে পড়েছিল। সেই কারণে শ্রমিকরা কাজ করার সময় খাদানের একাংশ ধসে পড়ে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শ্রমিকরা কি হেলমেট, নিরাপত্তা জাল বা অন্য কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করছিলেন? দুর্ঘটনার পর থেকে এই নিয়ে শ্রমিক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
নিরাপত্তার অভাব কি এই বিপর্যয়ের কারণ?
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, খাদানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অপর্যাপ্ত। যথাযথ প্রশিক্ষণ বা সরঞ্জাম ছাড়া শ্রমিকরা বিপজ্জনক স্থানে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় প্রশাসনিক নজরদারিও ছিল না। খাদানের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নিয়ম না মেনে কাজ করা হচ্ছিল কিনা তা তদন্তের বিষয়।
শ্রমিকদের পরিবারে শোকের ছায়া
মৃতদের পরিবারগুলিতে কান্নার রোল উঠেছে। পুজোর আগে পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যদের হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। প্রশাসন দ্রুত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাঁদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার ছায়া স্পষ্ট। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা প্রতিদিন এই খাদানে কাজ করতে ভয় পেতাম। কেউ শুনছিল না।”
পুলিশের তদন্ত
নলহাটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি খাদানের মালিক ও অন্যান্য কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে খাদানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শ্রমিকদের উপস্থিতির তালিকা, এবং কাজের পরিবেশ পরীক্ষা করছে। খাদান পরিচালনাকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। বহু শ্রমিক খাদানে কাজ করতে অনিচ্ছুক। দুর্ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার জন্য খাদানের মালিকপক্ষের গাফিলতি দায়ী। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিয়ম কড়াকড়ি করার দাবি উঠেছে।
পুজোর আগে বিপর্যয়
পুজোর আনন্দের মধ্যে এই দুর্ঘটনা এক তীব্র শোকের বার্তা নিয়ে এসেছে। শ্রমিকদের পরিবারগুলো উৎসবের আনন্দের বদলে দুঃখ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপত্তার অভাব এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। এই দুর্ঘটনা বাংলায় খনি ও খাদানগুলির নিরাপত্তা নিয়ম আরও কড়াকড়ি করার দাবি জোরালো করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন