শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল কলকাতা হাই কোর্ট, সেনাকর্মীদের ধরনা নিয়ে তোলপাড়
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
আদালতের নির্দেশ অমান্য: নতুন বিতর্ক
কলকাতা হাই কোর্ট সম্প্রতি রাজ্যের বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ধর্মতলায় সেনাকর্মীদের ধরনা মঞ্চে রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণ না করার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও সেখানে উপস্থিতির অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার আদালতে রাজ্যের তরফে আদালত অবমাননার আবেদন জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, শুভেন্দু অধিকারীসহ কয়েকজন নেতার উপস্থিতি আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের সমান। যদিও পাল্টা যুক্তিতে বলা হয়, তিনি মঞ্চে ওঠেননি এবং নির্দেশ জানতে পেরে ঘটনাস্থল ছাড়েন। তবুও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
ধর্মতলায় সেনাকর্মীদের ধরনা: পটভূমি
ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তার অভিযোগ সামনে এনে গত ১ সেপ্টেম্বর ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধরনা মঞ্চ শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদে বসেন। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সেই মঞ্চ খুলে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপ নিয়ে তৎক্ষণাৎ রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে সেনাবাহিনী এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের জবাবে সেনাকর্মীরা প্রতিবাদ করেন এবং আদালতের দ্বারস্থ হন।
আদালতের শর্ত: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নিশ্চিত করতে নিয়ম কড়াকড়ি
আদালত অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের প্রতিবাদে সহানুভূতি প্রকাশ করলেও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নিশ্চিত করতে একাধিক শর্ত আরোপ করেন। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দেন, সর্বাধিক ২০০-২৫০ জন সেনাকর্মী ধরনা মঞ্চে অংশ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল বা নেতাদের সেখানে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়। আদালতের এই নির্দেশের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিবাদকে রাজনৈতিক রঙ না দিতে এবং শান্তির পরিবেশ বজায় রাখা।
শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং তাঁর জবাব
রাজ্যের অভিযোগে বলা হয়, শুভেন্দু অধিকারীসহ অনেক নেতা ধরনা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। যদিও তাঁর আইনজীবীর দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর নির্দেশ জানতে পেরে চলে যান। আদালতের কাছে এই যুক্তি পেশ করলেও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সন্তুষ্ট হননি। তিনি মন্তব্য করেন, “আপনাদের বলা উচিত ছিল প্রতিবাদে শুধুমাত্র সেনাকর্মীরা অংশ নেবেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে আদালত মেনে নেবে না।” আদালতের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে ভবিষ্যতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিচারকের কঠোর সতর্কবার্তা
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, “আদালতের সহানুভূতি অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের প্রতি আছে। তবে নির্দেশ মানতে হবে। আদালতের সঙ্গে জাগলারি করলে সমস্যা হবে। ভবিষ্যতে রং না দেখে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেটা শাসক হোক বা বিরোধী।” আদালতের এই বক্তব্য রাজনীতির অন্দরমহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গেরুয়া শিবিরের জন্য এটি বিশেষভাবে অস্বস্তিকর।
রাজনীতির উত্তাপ: আদালতের নির্দেশ মানা হবে কি?
আদালতের নির্দেশের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দল অভিযোগ করছে, আদালতের শর্ত অনুসরণ করেও তাঁদের প্রতিবাদ ঠেকানো হচ্ছে। অন্যদিকে শাসক দলের নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাকর্মীদের ব্যবহার করা ঠিক নয়। রাজ্য প্রশাসন সতর্ক যে আন্দোলনের নামে অরাজকতা ছড়ানো হতে পারে। ফলে আদালতের নির্দেশ মানা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
জনমনে প্রতিক্রিয়া
সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালতের এই পদক্ষেপে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, সেনাকর্মীদের প্রতিবাদ হওয়া উচিত, তবে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ঠিক নয়। আবার অন্যরা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতারা সেনাকর্মীদের পিছনে আশ্রয় নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের এই হস্তক্ষেপ আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য প্রয়োজনীয়।
আগামী দিনের জন্য সতর্কবার্তা
বিচারকের এই সতর্কবার্তা শুধু একটি আন্দোলনের ক্ষেত্রে নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিবাদ, গণআন্দোলন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য করা হলে প্রতিবাদ সংগঠকদের সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা—আইনের সীমা লঙ্ঘন করলে কঠোর পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।
শেষ কথা
কলকাতা হাই কোর্টের এই নির্দেশ ও সতর্কবার্তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সেনাকর্মীদের আন্দোলনের পেছনে সহানুভূতি থাকলেও আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সীমারেখা অতিক্রম করা যাবে না। শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া সতর্কবার্তা বিরোধী শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে, অন্যদিকে শাসক দল এই ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে। আগামী দিনগুলোতে আদালতের নির্দেশ পালিত হবে কি না তা নিয়েই নজর থাকবে সবার।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন