ভোটচুরি নিয়ে বিস্ফোরক অখিলেশ যাদব: নেপালের মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
অখিলেশ যাদবের বিস্ফোরক মন্তব্য
সমাজবাদী পার্টির (সপা) প্রধান অখিলেশ যাদব ভোটচুরি নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, অযোধ্যা বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির বিজয় নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাঁর দাবি, ভোট দেওয়ার জন্য বাইরে থেকে প্রায় পাঁচ হাজার লোককে এনে ভোট করানো হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের উচিত ভোট যাতে চুরি না হয় তা নিশ্চিত করা। কমিশনকে ভোটচুরি ও ডাকাতি রুখতে হবে।”
ভোটচুরির অভিযোগে নেপালের পরিস্থিতির ইঙ্গিত
অখিলেশ যাদব আরো বলেন, যদি এই ধরনের ভোটচুরি বন্ধ না হয়, তবে ভারতেও নেপালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি সতর্ক করেন যে, জনতা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “আমার বক্তব্য স্পষ্ট—যদি এভাবে ভোট ডাকাতি চলতে থাকে, তাহলে এখানকার মানুষও প্রতিবেশী দেশগুলির পথে হাঁটতে পারে। দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে পড়তে পারেন।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অযোধ্যা উপনির্বাচনের পরিস্থিতি
অযোধ্যায় উপনির্বাচনে ভোট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অখিলেশের দাবি, বাইরে থেকে এনে ভোট দেওয়ানো ছাড়াও এক মন্ত্রীর সহযোগী ভোটচুরির সময় ধরা পড়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য বিজেপির জয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে তিনি কুন্দারকি, রামপুর ও মীরাপুরের মতো উপনির্বাচনের ঘটনাও উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি বলেন, “ওরা যখন ভোটচুরি করতে পারেনি তখন রিভলভার বের করে ভোট বন্ধ করেছে।”
নেপাল ও বাংলাদেশে প্রতিবাদের ইতিহাস
অখিলেশ যাদব যে নেপালের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন, তা সাম্প্রতিককালের একাধিক ঘটনার দিকে ইঙ্গিত। গত ৪ সেপ্টেম্বর নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করা হলে ‘জেন জি’ সহ হাজার হাজার তরুণ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েন। কাঠমান্ডুর রাস্তায় আন্দোলন রাতারাতি হিংসাত্মক রূপ নেয়। সরকারি ভবনে আগুন লাগানো হয় এবং চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো সরকার ইস্তফা দেন। এর আগে বাংলাদেশেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে জনতা হাসিনা সরকারের পতন ঘটায়। অখিলেশ এই ঘটনাগুলি উল্লেখ করে ভোটচুরির কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
রাহুল গান্ধীর ভোটচুরির অভিযোগ
ভোটচুরি নিয়ে অখিলেশ একা নন। গত ৭ আগস্ট লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ছয় ধরনের পদ্ধতিতে ভোটচুরি হচ্ছে এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বহু আসনে ভোটচুরি হয়েছে। বিহারে ‘ভোট অধিকার যাত্রা’ শুরু করে তিনি জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও পাল্টা বক্তব্য আসে এবং ‘ভোটচুরি’র মতো শব্দ ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তোলা হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নাম না করে রাহুলকে কটাক্ষ করেন।
রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়ছে
অখিলেশ যাদবের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শাসক ও বিরোধী দল পরস্পরকে দোষারোপ করছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটচুরি নিয়ে সন্দেহ ও অভিযোগ বাড়লে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হতে পারে। সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত এই সংকট সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়া।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। ভোটচুরি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবুও বিরোধী শিবিরের চাপ বাড়ছে। গণতন্ত্র রক্ষায় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনাও তীব্র হয়েছে। অখিলেশের মতো নেতারা বলছেন, “কমিশন যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে জনগণের বিশ্বাস উঠে যেতে পারে।”
আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি
রাজনীতির অভ্যন্তরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ভোটচুরি নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। বিভিন্ন রাজ্যে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ভোটাধিকার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে প্রশাসনের উচিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পদক্ষেপ নেওয়া।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন