হিংসাবিধ্বস্ত মণিপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, রাজনৈতিক সমাধানের পথে নতুন উদ্যোগ
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
দু’বছর ধরে অশান্ত মণিপুর
মণিপুরে গত দু’বছর ধরে চলা সংঘর্ষ ও হিংসায় বহু সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত এতটাই গভীর হয়েছে যে গোটা রাজ্যজুড়ে সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। সাধারণ মানুষ বারবার কেন্দ্রের কাছে শান্তির আবেদন জানালেও কার্যকর সমাধান আসেনি। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করতে থাকেন।
মোদির সফরের ঘোষণা
অবশেষে জানা গেছে, আগামী ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদি উত্তর-পূর্বের পাঁচটি রাজ্যে সফর করবেন। এর মধ্যে রয়েছে মণিপুর, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য ভোটমুখী রাজ্য। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর হবে মণিপুরের চুরাচাঁদপুর ও ইম্ফল এলাকায়। ২০২৩ সালের মে মাসে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী সেখানে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই সফরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি উন্নয়নের বার্তা দিতে চাইছে।
চুরাচাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী
মণিপুরের মুখ্য সচিব পুনীত কুমার গোয়েল জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২.৩০ নাগাদ মিজোরামের আইজল থেকে চুরাচাঁদপুর পৌঁছবেন। সেখানে তিনি বাস্তুচ্যুত মানুষদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। রাজ্যজুড়ে ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ‘পিস গ্রাউন্ডে’ এক সমাবেশে ভাষণ দিয়ে তিনি শান্তি স্থাপনের আহ্বান জানাবেন। চুরাচাঁদপুর জেলা সংঘর্ষের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে অন্তত ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়েছেন। ফলে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইম্ফলে মোদির উপস্থিতি
চুরাচাঁদপুর সফরের পর প্রধানমন্ত্রী দুপুর ২.৩০ নাগাদ ইম্ফলে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। শহরে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়ে শান্তি, উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা দেবেন। ইম্ফল শহরে মেইতেই সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে সফরের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক ভারসাম্যের চেষ্টা
মণিপুরের চুরাচাঁদপুর এলাকা কুকি সম্প্রদায়-অধ্যুষিত হলেও, ইম্ফলে মেইতেই সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের জন্য এই দুই এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, সফরের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার সংঘর্ষে জর্জরিত দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এটি শুধু উন্নয়নের প্রকল্প নয়, বরং শান্তি ও সমঝোতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ত্রিপাক্ষিক চুক্তির তাৎপর্য
এই সফরের পাশাপাশি কেন্দ্র এবং মণিপুর সরকার কুকি-জো সম্প্রদায়ের সঙ্গে একটি নতুন ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ভিত্তিতে কুকি সম্প্রদায় জাতীয় সড়ক-২ অবাধ চলাচলের জন্য খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। নয়াদিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুকি-জো কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের একাধিক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করে জাতীয় সড়ক-২-এ শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কুকি গোষ্ঠী। এই উদ্যোগ সংঘর্ষ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হিংসার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মণিপুরের সংঘর্ষ শুধু স্থানীয় নয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধীসহ বহু নেতার সফরেও সমস্যার সমাধান আসেনি। মোদির সফরের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এই সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলছে—এই সফর কতটা স্থায়ী শান্তির আশ্বাস দিতে পারবে?
উন্নয়নের প্রকল্প বনাম শান্তির বার্তা
৭ হাজার ৩০০ কোটি এবং ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও সাধারণ মানুষের দাবি আরও গভীর। তাঁরা চান নিরাপত্তা, জীবিকা, শিক্ষার সুযোগ এবং সামাজিক পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে এই দাবিগুলি কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে এই সফর একদিকে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হলেও অন্যদিকে উন্নয়নের প্রকল্পের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ
মণিপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু রাজনৈতিক সফর যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন, শিক্ষায় ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ
মণিপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু রাজনৈতিক সফর যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন, শিক্ষায় ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়গুলির সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর একটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বাস্তবায়নের দক্ষতার ওপর।
রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও উত্তরের দায়িত্ব
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফর উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য একটি সংকেত। নির্বাচনের আগে এটি কেন্দ্র সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, আবার শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হলে বাস্তব উন্নয়নের পথও খোলা রাখতে হবে। বিরোধীরা যেমন সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে শান্তির আকাঙ্ক্ষা আরও প্রবল। এই সফরের মাধ্যমে মোদি সরকার কি রাজনৈতিক সমাধানের পথে এক ধাপ এগোতে পারবে, নাকি এটি শুধু প্রতীকী সফর হয়ে থাকবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন