নবান্ন অভিযানে নিষেধাজ্ঞা জারি করল রাজ্য সরকার – হাওড়ায় স্ট্যান্ডার্ড ওপারেটিং প্রসিডিওর ঘোষণা
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
নবান্ন অভিযানের জেরে পরিবহণ বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার।
নবান্নের সামনে প্রতিবাদ নিষিদ্ধ
রাজ্য সরকার নবান্ন অভিযানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। হাওড়া পুলিশ আজ একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, নবান্নের সামনে প্রতিবাদ, ধরনা, মিটিং বা মিছিল করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, নবান্ন রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর এবং সেখানে সব সময় ১৬৩ ধারা (বিএনএসএস) কার্যকর থাকে। ফলে নবান্নের অভিমুখে যে কোনো আন্দোলন, মিছিল বা সভা-সমাবেশ আইনত নিষিদ্ধ।
স্ট্যান্ডার্ড ওপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) ঘোষণা
হাওড়া জুড়ে এই ধরনের প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণে একটি স্ট্যান্ডার্ড ওপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবহণ বিপর্যয় কমাতে প্রশাসনের এই উদ্যোগ। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের আন্দোলন যাতে শহরের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত না করে সে দিকে নজর রাখতে হবে।
হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত হাইকোর্টে একটি আবেদন জানান। তাঁর দাবি ছিল, প্রতিবাদ ও অবস্থান গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তিনি আদালতে বলেন, প্রতিবার নবান্ন অভিযান হলে হাওড়ার প্রায় ৪০ লক্ষ বাসিন্দার জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, পরিবহণ কেন্দ্র সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। হাওড়া স্টেশন, শালিমার স্টেশন, ময়দান মেট্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ ক্ষেত্র বিপর্যস্ত হয়। ফরশর রোড থেকে জি টি রোড এবং কোনা এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন।
হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যের হলফনামা তলব
এই মামলার শুনানির সময় হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামা তলব করেন। আদালত জানতে চান, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের কোনো স্ট্যান্ডার্ড ওপারেটিং প্রসিডিওর রয়েছে কি না। আদালতের এই নির্দেশের পরেই হাওড়া পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসন মিলিতভাবে এসওপি ঘোষণা করে।
নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানোই মূল লক্ষ্য
সরকারের মতে, নবান্ন অভিযান বা প্রতিবাদ আন্দোলনের কারণে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া নাগরিকদের জন্য বড় সমস্যা। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রভাবিত হয়। তাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানো এবং পরিবহণ ব্যবস্থা সচল রাখা।
গণতান্ত্রিক অধিকার বনাম জনস্বার্থ
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকা উচিত বলে অনেকে মত প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে, নাগরিকের নিরাপত্তা, পরিবহণের স্থিতিশীলতা এবং জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে প্রশাসনের দাবি। দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবহণ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের প্রভাব
প্রতিবাদ বা মিছিলের সময় হাওড়ায় যানজটের কারণে হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হয়। স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। রেলস্টেশন ও মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে ওঠে। ব্যবসায়িক কাজকর্মও স্থবির হয়ে পড়ে। প্রশাসনের মতে, নাগরিকদের জীবনযাত্রায় এই চাপ কমানোই এসওপির প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রশাসনের আশ্বাস
হাওড়া পুলিশ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো প্রতিবাদ যাতে জনস্বার্থ বিঘ্নিত না করে সেই দিকে নজর রাখা হবে। পাশাপাশি আইন মেনে চলা এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখার জন্য সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের নির্দেশিকা নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে সাহায্য করবে। তবে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই এই সমস্যার সমাধানের পথ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন