যাদবপুরে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু: ‘বিশেষ বন্ধু’র আবেগঘন পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, দুপুর ১:২০ IST
ছবির ক্যাপশন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিলপাড় এলাকা, যেখানে উদ্ধার হয়েছিল অনামিকা মণ্ডলের দেহ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
ঘটনার সারাংশ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আবারও সংবাদ শিরোনামে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চার নম্বর গেটের কাছে ঝিলপাড় এলাকা থেকে উদ্ধার হয় ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃতদেহ। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শোক, আতঙ্ক ও নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। এখনও পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। লালবাজারের হোমিসাইড শাখা এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে।
বিশেষ বন্ধুর পোস্ট: আবেগ, অনুশোচনা নাকি রহস্য?
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার ভোর পাঁচটা নাগাদ অনামিকার এক ‘বিশেষ বন্ধু’ তাঁর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে আবেগমথিত বক্তব্য প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি লেখেন:
“আমার ভালবাসায় নিশ্চয়ই কোন খামতি ছিল। আমার পূর্বজন্মের নিশ্চয়ই ছিল কোনও পাপ। তাই শুধু আমাকে না, সকলকে ছেড়ে চলে গেলি। আর কোনও কথা নেই। রাগ নেই। হেসেও উঠবি না আর। আমাকে এই নরক থেকে নিয়ে যেতে পারতিস মিষ্টু।”
এই পোস্ট ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে প্রেমজনিত হতাশা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ সন্দেহ করছেন এটি হয়তো গভীর মানসিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁর বক্তব্য তদন্তের স্বার্থে বিবেচনায় নেবেন। তবে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় অনামিকা কোথায় ছিলেন বা কেন ঝিলপাড়ে গিয়েছিলেন, তা তাঁর জানা নেই।
অনামিকা মণ্ডল: পরিবারের শোক এবং সহপাঠীদের প্রতিক্রিয়া
অনামিকার মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহপাঠীরা বলেন, অনামিকা ছিল হাসিখুশি, মেধাবী এবং সহৃদয়। পরিবারের সদস্যরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হবে। তাঁরা তদন্তে পূর্ণ স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
তদন্তের অগ্রগতি
- লালবাজার হোমিসাইড শাখা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
- ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
- বিশেষ বন্ধুর পোস্ট সমাজমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে, তদন্তে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ: প্রেম, মানসিক চাপ নাকি অন্য কিছু?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে পড়ুয়াদের ওপর একাধিক চাপ থাকে—শিক্ষাগত প্রত্যাশা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক সমস্যা এবং সামাজিক চাপ। অনামিকার ক্ষেত্রে এই পোস্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি হয়তো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে এটি নিশ্চিত নয় যে তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে ঘটেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনা আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই দাবি করছেন ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং ব্যবস্থা নেই এবং একাকীত্ব ও বিষণ্ণতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পরবর্তী করণীয়
- ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃতি নিশ্চিত হবে।
- বিশেষ বন্ধুর বয়ান পুলিশ সংগ্রহ করছে।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি চালু হতে পারে।
- পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তদন্ত এগোবে।
সমাজের দায়িত্ব
অনামিকার মৃত্যু আমাদের সামনে তুলে ধরেছে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চূড়ান্ত সচেতনতার অভাব। সম্পর্কের টানাপোড়েন বা একাকীত্ব কখনও কখনও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই পরিবার, বন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—সবাইকে এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়াতে হবে। কেউ সমস্যায় পড়লে তাকে সমর্থন দেওয়া এবং পেশাদার সাহায্য নেয়ার সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের কর্তব্য।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন