বিহারে ১৫ লক্ষ নির্মাণ শ্রমিকের জন্য ৮০২ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: বিহারের নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সরকারের নতুন কল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেপ্রকল্পের পটভূমি
চলতি বছরের শেষে বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার শ্রমিক কল্যাণে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে বার্ষিক প্রকল্পের আওতায় ১৫ লক্ষ ৪০ হাজার নির্মাণ শ্রমিকের জন্য মোট ৮০২ কোটি টাকার অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
বিহারের অর্থনীতির একটি বড় অংশই নির্ভর করে নির্মাণ শিল্পের উপর। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে যুক্ত এই শ্রমিকরা বহুদিন ধরেই স্বাস্থ্য বীমা, দুর্ঘটনা সহায়তা এবং বাসস্থানের সুবিধার অভাবে পড়েছিলেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘোষণা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য
- মোট উপকারভোগী: ১৫ লক্ষ ৪০ হাজার নির্মাণ শ্রমিক।
- মোট অনুদান: ৮০২ কোটি টাকা।
- সহায়তার ধরন: স্বাস্থ্য, দুর্ঘটনা বীমা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা সহায়তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
- ডিজিটাল পদ্ধতি: ‘মুখ্যমন্ত্রী প্রতিজ্ঞা যোজনা’ পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধন ও সুবিধা প্রদান।
- লক্ষ্য: শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নত করা।
'মুখ্যমন্ত্রী প্রতিজ্ঞা যোজনা' পোর্টাল চালুর লক্ষ্য
রাজ্য সরকার শ্রমিকদের সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘মুখ্যমন্ত্রী প্রতিজ্ঞা যোজনা’ নামে একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে। এই পোর্টাল শ্রমিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করবে এবং বিভিন্ন ধরনের কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে তাদের সংযুক্ত করবে। পোর্টালে শ্রমিকরা নিম্নলিখিত সুবিধাগুলি পাবেন:
- সহজ অনলাইন নিবন্ধন
- স্বাস্থ্য বীমা ও দুর্ঘটনা সহায়তা সুবিধার আবেদন
- শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য
- সরকারি প্রকল্পে যোগদানের সুযোগ
- আর্থিক অনুদানের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া
সরকারের বক্তব্য, এই পোর্টাল শ্রমিকদের সময় ও অর্থ বাঁচাবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দূরে রাখবে। ফলে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে সরাসরি সরকারি সাহায্য পৌঁছে যাবে।
শ্রমিকদের বক্তব্য
এই ঘোষণা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বহু শ্রমিক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা স্বাস্থ্য বীমা এবং দুর্ঘটনা সহায়তা না পাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। একজন শ্রমিক, শ্যামল যাদব বলেন, “আমরা কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করি। দুর্ঘটনা হলে পরিবারের পাশে কেউ থাকে না। সরকারের এই উদ্যোগ আমাদের জন্য আশীর্বাদ।”
অন্যদিকে, নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলেছেন, “এই প্রকল্প যদি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে শ্রমিকদের জন্য এটি হবে যুগান্তকারী পরিবর্তন। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে শ্রমিকদের জন্য এই প্রকল্প ঘোষণা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বিহারের ভোটে গ্রামীণ শ্রমিকদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নীতিশ কুমারের এই উদ্যোগ শ্রমিকদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করতে সাহায্য করবে এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সহায়তা না পাওয়ার কারণে নানা অসুবিধায় পড়েছেন। এই প্রকল্প তাদের জন্য শুধু অর্থনৈতিক সাহায্য নয়, বরং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করবে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন:
- নিবন্ধনের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি।
- সঠিকভাবে প্রকৃত শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করতে হবে।
- মধ্যস্বত্বভোগীদের দূরে রেখে সরাসরি সুবিধা পৌঁছানো।
- প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিবন্ধন করানো হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা চালু করা হবে। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য মেডিকেল ক্যাম্প এবং জরুরি সহায়তা কেন্দ্রও খোলা হবে।
বিশ্বকর্মা পুজোর প্রেক্ষাপট
বিশ্বকর্মা পুজো শ্রমিক সমাজের কাছে এক বিশেষ উৎসব। প্রকৌশলী, নির্মাণ শ্রমিক, কারিগর, মিস্ত্রি—এরা সবাই এই দিনে তাদের কাজের যন্ত্রপাতি পূজা করেন। এই পুজো উপলক্ষে শ্রমিকদের জন্য প্রকল্প ঘোষণা তাদের সম্মান এবং অধিকার নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এই উৎসবের সময় প্রকল্প ঘোষণা করে শ্রমিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।
সরকারের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
সরকার জানিয়েছে, শ্রমিক কল্যাণের পাশাপাশি পরবর্তী পর্যায়ে নিম্নলিখিত উদ্যোগ নেওয়া হবে:
- দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে বিশেষ সহায়তা।
- শিশুদের শিক্ষার জন্য বৃত্তি।
- মহিলা শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা।
- শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
এই পদক্ষেপগুলি শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে।
উপসংহার
বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের এই ঘোষণা শ্রমিক সমাজের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশ্বকর্মা পুজোর বিশেষ দিনে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য ৮০২ কোটি টাকার প্রকল্প এবং 'মুখ্যমন্ত্রী প্রতিজ্ঞা যোজনা' পোর্টাল চালুর মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে চায় রাজ্য সরকার।
সরকারের এই উদ্যোগ যদি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি শুধু শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষাই নিশ্চিত করবে না, বরং তাদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি করবে। নির্বাচনের আগে এই প্রকল্প রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শ্রমিকদের জন্য এটি হবে উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়।






















