এনআইটি শিলচরে পাঁচ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত: সংঘর্ষ, মাদক ও চিকিৎসাধীন আহতদের নিয়ে চাঞ্চল্য
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: এনআইটি শিলচরের হোস্টেল ভবন, যেখানে সংঘর্ষ ও মাদক উদ্ধার হয়েছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেসংঘর্ষের পটভূমি
অসমের শিলচরে অবস্থিত জাতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (NIT Silchar)-এর ক্যাম্পাসে গত ৮ সেপ্টেম্বর এক গুরুতর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, তৃতীয় বর্ষের পাঁচ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাসে রড, ছুরি ও স্ক্রু-ড্রাইভার নিয়ে তাঁদেরই সিনিয়র সহপাঠীদের আক্রমণ করেন। এই ঘটনার জেরে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়ায় এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনায় তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসন তদন্ত শুরু করে।
মাদক উদ্ধার ও তল্লাশি
সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থীর হোস্টেল কক্ষ থেকে নেশাজাতীয় পদার্থ উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এই শিক্ষার্থীরা ভারত সরকারের আইসিসিআর বৃত্তির আওতায় পড়াশোনা করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে শুধু আক্রমণ নয়, মাদক ব্যবহারের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
এনআইটি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এনআইটি শিলচরের পরিচালক দিলীপ কুমার বৈদ্য জানান, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে যে ওই পাঁচ ছাত্র ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁরা দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কৃত এবং শীঘ্রই তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে।”
আহত শিক্ষার্থীদের অবস্থা
সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁরা বর্তমানে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। অন্যান্য আহতরা সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
শিলচর পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা ঘটনায় FIR দায়ের করেছেন এবং মাদক উদ্ধারসহ আক্রমণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।
ভারত-বাংলাদেশ শিক্ষার্থী সম্পর্কের প্রভাব
এই ঘটনা ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইসিসিআর বৃত্তির আওতায় পড়াশোনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন শিক্ষার্থীর এই আচরণ শিক্ষাঙ্গনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আন্তঃদেশীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
- মাদক ব্যবহারের প্রবণতা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, বিচ্ছিন্নতা ও পারিপার্শ্বিক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
- আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিং ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংলাপকে উৎসাহিত করতে হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এনআইটি শিলচরের প্রশাসন ইতিমধ্যেই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করছে। পুলিশ প্রশাসন, বিদেশ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে নিয়মিত তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান
বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এবং সহপাঠীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচির পরিকল্পনা চলছে।
উপসংহার
এনআইটি শিলচরের এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভারত-বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষা প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও সক্রিয় ভূমিকা দরকার। বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীদের ঘটনা যত দ্রুত সমাধান হবে, তত দ্রুত ক্যাম্পাস স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন