সেতু তুমি কার! মোদীর না গগৈয়ের! নরেঙ্গি-কুরুয়া সেতুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: নরেঙ্গি-কুরুয়া সেতুর শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত dignitaries।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেপ্রধানমন্ত্রীর শিলান্যাস ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অসমের মঙ্গলদৈ থেকে নরেঙ্গি-কুরুয়া সেতু প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানটি জাঁকজমকপূর্ণ হলেও রাজনৈতিক বিরোধীরা এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কংগ্রেস নেতৃত্ব দাবি করছে যে এই প্রকল্পের শিলান্যাস আগেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ করেছিলেন। তাঁদের মতে, ২০১৬ সালের ১ মার্চ গগৈ এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে প্রকল্প স্থগিত হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রকল্পের স্থবিরতা
কংগ্রেসের বক্তব্য অনুযায়ী, গগৈ সরকারের পতনের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রকল্প নিয়ে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এর ফলে সেতুর কাজ বহু বছর স্থগিত ছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী মোদীর উপস্থিতিতে এই প্রকল্পের নতুন শিলান্যাসকে বিরোধীরা ‘রাজনৈতিক প্রদর্শনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত কাজ শুরু না করেই নির্বাচনী স্বার্থে প্রকল্পের কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
হিমন্তবিশ্ব শর্মার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক
অসমের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সেতুর শিলান্যাস করালেও বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন যে এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারের অংশ। তাঁদের দাবি, নির্বাচনের আগে উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির উপর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রাহুল গান্ধী ও ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিতর্ক
রাজনৈতিক বিতর্ক এখানেই থেমে থাকেনি। কংগ্রেস নেতৃত্ব আরও দাবি করছে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় রাহুল গান্ধী ভারতীয় সেনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং পাকিস্তানি সেনাকে সমর্থন করেননি। যদিও বিজেপির সভায় রাহুলের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলে কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের মতে, মুখে দেশপ্রেমের কথা বলে বিজেপি ভোটের রাজনীতি করছে।
এশিয়া কাপ ও সেনার সম্মান নিয়ে বিতর্ক
কংগ্রেস আরও বলেছে যে বিজেপির ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা এশিয়া কাপে ফাঁস হয়ে গেছে। তাঁদের অভিযোগ, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে সেনাবাহিনীর মর্যাদাহানি ঘটানো হচ্ছে। বিশেষভাবে বলা হচ্ছে যে, অমিত শাহের পুত্র জয় শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার ঘনিষ্ঠ BCCI সচিব দেবজিৎ শইকিয়া এই ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছেন। এটি দেশের সেনাদের অসম্মানজনক বলে মনে করছে বিরোধী শিবির।
রাজনীতির মেরুকরণ ও জনমনে বিভ্রান্তি
এই ঘটনাগুলি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও মেরুকৃত করছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। একদিকে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্পের কৃতিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি নির্বাচনের আগে প্রচারণার অংশ হলেও বাস্তব উন্নয়নের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।
জনমতের প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া আসছে। কেউ কেউ সেতুর কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য প্রকল্পের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সেনাবাহিনীর সম্মান রক্ষায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে ভুল তথ্য ছড়ালে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক মর্যাদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। তাঁদের বক্তব্য, উন্নয়নের কাজের সঙ্গে রাজনৈতিক সুবিধা জড়ানো উচিত নয় এবং দেশপ্রেম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো দেশবিরোধী। সরকার দাবি করছে যে প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং সেনাবাহিনীর মর্যাদাহানির প্রশ্নে তারা সচেতন। তবে বিরোধী দলের অভিযোগের জবাব রাজনৈতিক মাঠে আরও তীব্র হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
- রাজনৈতিক প্রকল্পের কৃতিত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।
- দেশপ্রেমের ইস্যুকে ভোট রাজনীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করলে সেনাবাহিনীর মর্যাদায় আঘাত আসতে পারে।
- উন্নয়নের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।
উপসংহার
নরেঙ্গি-কুরুয়া সেতুকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে তা শুধু উন্নয়নের নয়, দেশের সেনা, নাগরিক সচেতনতা এবং নির্বাচনী রাজনীতির নানা দিককে সামনে এনেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার শিলান্যাসের পর থেকেই বিরোধীরা এই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী ও অপারেশন সিঁদুর নিয়ে অভিযোগ এবং এশিয়া কাপকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর সম্মান নিয়ে বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন