Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Tuesday, 30 December 2025

বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিক নিধনের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ অধীর চৌধুরী




 Y BANGLA NEWS ব্যুরো:

বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে লাগাতার অত্যাচারের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন রাজ্যের কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। এদিন নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অধীর।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ঠিক যে সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় অনুপ্রবেশ রোধ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন, সেই সময়েই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। বৈঠকে অধীর মোদীর সামনে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণেই বহু পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে হেনস্তা, মারধর এমনকী হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে।

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া একটি আর্জিপত্রে অধীর চৌধুরী ওড়িশার সম্বলপুরের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। সেখানে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুয়েল শেখ নামে এক যুবককে বাংলাদেশি সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গত ২৪ ডিসেম্বর ওই ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় মুর্শিদাবাদের আরও দুই যুবক মারধরের শিকার হন, যদিও তাঁরা কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।

অধীর চিঠিতে লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছেন এবং খেটে খাওয়ার অধিকার তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বাংলাভাষী হওয়ার কারণেই তাঁদের নির্দিষ্ট করে নিশানা করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাভাষী নাগরিক ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অধীর চৌধুরীর আবেদন, দেশের সব রাজ্য সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হোক, যাতে কোনও নিরীহ পরিযায়ী শ্রমিক ভাষার কারণে হেনস্তা বা সহিংসতার শিকার না হন। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, দেশের সংবিধান ও বহুত্ববাদী চরিত্রেরও পরিপন্থী।

🔴 ২০২৬ সালেই ফের ভারত–পাক সংঘাত? কাশ্মীর ঘিরে বড় সতর্কবার্তা মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের

 📲 ডিজিটাল নিউজ | Y BANGLA NEWS




Y BANGLA NEWS ব্যুরো:
২০২৬ সালেই ফের ভারত–পাকিস্তান সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না মার্কিন বিদেশনীতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (CFR)। কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে ফের উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলে তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

🗂️ ‘Conflicts to Watch in 2026’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা নতুন করে সামরিক সংঘর্ষের জন্ম দিতে পারে। এই সম্ভাবনাকে সিএফআর ‘মাঝারি মাত্রার ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী বছরেও অস্থির থাকার সম্ভাবনা প্রবল।


⚔️ অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ নয়, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের তরফে আগেই জানানো হয়েছে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি
গত মাসে দিল্লির লালকেল্লার অদূরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট করে বলেন—

“প্রয়োজনে ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর পথে হাঁটতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। অপারেশন সিঁদুর-১ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের যে কোনও অভিযানে সেনাকে আরও শক্তিশালী করবে।”


💥 পহেলগাম হামলা ও ভারতের প্রত্যাঘাত

📌 ২২ এপ্রিল, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
ভারতের কাছে ওই হামলায় পাকিস্তানের যোগসাজশের অকাট্য প্রমাণ আসে বলে দাবি করা হয়।

➡️ ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’
➡️ ৬ মে গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি জঙ্গিঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী।

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী,
🚀 ভারত কমপক্ষে ২৪টি মিসাইল ছোড়ে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে।


🚨 চার দিনের যুদ্ধ-উত্তেজনা, তারপর সংঘর্ষবিরতি

এর পর টানা চার দিন সীমান্তে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টা জবাবে ভারত পাকিস্তানের একাধিক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে আঘাত হানে

📅 ১০ মে শেষ পর্যন্ত দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর মধ্যস্থতাতেই নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ সংঘর্ষবিরতিতে পৌঁছয়।


🔎 ২০২৬ নিয়েই কেন বাড়ছে আশঙ্কা?

সব মিলিয়ে—
🔺 কাশ্মীরের অস্থির পরিস্থিতি
🔺 সাম্প্রতিক সামরিক অভিজ্ঞতা
🔺 অপারেশন সিঁদুর এখনও চালু থাকার ইঙ্গিত

এই সমস্ত কিছুর নিরিখেই ২০২৬ সালেও ভারত–পাক সম্পর্ক অগ্নিগর্ভ থাকতে পারে, এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে সিএফআর-এর রিপোর্ট।


📌 আপডেট পেতে চোখ রাখুন Y BANGLA NEWS-এ
👍 লাইক | 🔁 শেয়ার | 💬 মতামত জানান

এখন অনলাইনে রেশন কার্ড ফ্যামিলি স্প্লিট

 


📌 বড় সুখবর! এখন অনলাইনে রেশন কার্ড ফ্যামিলি স্প্লিট 🔥

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য দপ্তর চালু করল রেশন কার্ড Family Split (Form-13) অনলাইন পরিষেবা
এখন থেকে পরিবারের রেশন কার্ড আলাদা করতে আর অফিসে দৌড়ঝাঁপের দরকার নেই—সব হবে ঘরে বসেই অনলাইনে।


📰 বাংলা নিউজ আপডেট

Form-13 চালু | দালাল ছাড়াই আবেদন | সম্পূর্ণ অনলাইন পরিষেবা

রাজ্য সরকারের খাদ্য দপ্তরের উদ্যোগে রেশন কার্ডের ফ্যামিলি স্প্লিট পরিষেবা পুরোপুরি অনলাইনে চালু হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই সহজে আলাদা রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে।


✅ রেশন কার্ড ফ্যামিলি আলাদা করার অনলাইন পদ্ধতি (West Bengal)

🔹 ধাপ–১

গুগলে যান 👉 food.wb.gov.in

🔹 ধাপ–২

👉 Citizen’s Home এ ক্লিক করুন
👉 Ration Card Related Corner নির্বাচন করুন

🔹 ধাপ–৩

👉 Apply Online অপশনে ক্লিক করুন

🔹 ধাপ–৪

👉 Login through Aadhaar নির্বাচন করুন
✔️ পরিবারের যেকোনো একজন সদস্যের আধার নম্বর দিন
✔️ OTP দিয়ে লগইন করুন


🔹 ধাপ–৫ : Form-13 নির্বাচন

👉 Service Type অপশনে
➡️ Splitting of Family (Form-13) সিলেক্ট করুন

📌 স্ক্রিনে বার্তা দেখাবে—
Splitting is allowed only for families with seven (7) or more members


🔹 ধাপ–৬ : গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

AAY রেশন কার্ডে Family Split করা যাবে না
✅ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭ জন বা তার বেশি হতে হবে


🔹 ধাপ–৭ : Aadhaar Verification

👉 পরিবারের একজন সদস্যের আধার নম্বর দিন
👉 OTP দিয়ে ভেরিফাই করুন


🔹 ধাপ–৮ : Family Members নির্বাচন

👉 বর্তমান পরিবারের সদস্যদের তালিকা দেখাবে
👉 যাদের আলাদা রেশন কার্ড করতে চান, তাঁদের নির্বাচন করুন

ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া—
1️⃣ Family Members
2️⃣ Select Beneficiaries
3️⃣ Aadhaar Verification
4️⃣ Upload Documents


🔹 ধাপ–৯ : ডকুমেন্ট আপলোড

প্রয়োজন অনুযায়ী—
✔️ আধার কার্ড
✔️ জন্মতারিখ / সম্পর্কের প্রমাণ
✔️ ঠিকানার প্রমাণ (যদি চাওয়া হয়)


🔹 ধাপ–১০ : Final Submit

👉 সব তথ্য ঠিক থাকলে Submit করুন
📌 একটি Acknowledgement / Reference Number পাবেন
👉 ভবিষ্যতে স্ট্যাটাস চেকের জন্য এটি সংরক্ষণ করুন


📌 অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

✔️ সম্পূর্ণ সরকারি ওয়েবসাইট
✔️ কোনো ফি লাগে না
✔️ দালাল বা এজেন্টের প্রয়োজন নেই
✔️ আবেদন অনুমোদনের পর নতুন আলাদা রেশন কার্ড ইস্যু হবে
✔️ আনুমানিক সময়: ১৫–৩০ দিন


👉 তথ্যটি উপকারী হলে
👍 LIKE করুন | 💬 COMMENT করুন | 🔁 SHARE করুন
যাতে আরও মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারেন 🙏

সীমান্ত, অনুপ্রবেশ ও ভোটার তালিকা নিয়ে অমিত শাহকে তীব্র পাল্টা মমতার

 


শিরোনাম: সীমান্ত, অনুপ্রবেশ ও ভোটার তালিকা নিয়ে অমিত শাহকে তীব্র পাল্টা মমতার

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য রাজ্য সরকার বিএসএফ-কে জমি দিচ্ছে না— কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়া বিধানসভা এলাকায় জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “রাজ্য যদি জমিই না দিত, তা হলে রেললাইন বা কয়লা প্রকল্পগুলো হল কীভাবে?”

এদিন দুপুরে হাওড়ার ডুমুরজলা থেকে হেলিকপ্টারে বাঁকুড়ায় পৌঁছে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চ থেকেই শাহের নাম না করে কড়া বার্তা দেন তিনি। মমতার কটাক্ষ, “আমরা চাইলে আপনাকে এক পা-ও বেরোতে দিতাম না।”

এর আগে মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে অমিত শাহ বলেছিলেন, বাংলার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ শুধু রাজ্যের নয়, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন। তিনি দাবি করেন, শক্ত সরকার এলেই অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব।

এই বক্তব্যের জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুধু বাংলাতেই অনুপ্রবেশ হয়? কাশ্মীরে হয় না?” একই সঙ্গে পহেলগামে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, “পহেলগামে কী ঘটেছিল, তখন আপনারা কী করছিলেন?”

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে প্রায় ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দফতরের মধ্যেই বিজেপির আইটি সেলের কর্মীরা বসে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, নামের ইংরেজি বানানে সামান্য অমিল থাকলেই ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।

এদিন রাজ্য সফরে এসে অমিত শাহ ‘স্বপ্নের বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার পাল্টা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “ভোট এলেই ওরা সোনার বাংলা গড়ার কথা বলে। কিন্তু সোনার বাংলা নয়, ওরা ধ্বংসের বাংলা গড়তে চায়।”

পাশাপাশি বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগও তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বাংলায় কথা বললেই পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ধরনের আচরণ শুধু বাংলার মানুষের প্রতি অবমাননাই নয়, দেশের সংবিধান ও বহুত্ববাদী চরিত্রেরও পরিপন্থী।

অমিত শাহের বঙ্গ সফরেও অটুট আদি-নব্য দ্বন্দ্ব, বৈঠক থেকে ব্রাত্য দিলীপ ঘোষ



অমিত শাহের বঙ্গ সফরেও অটুট আদি-নব্য দ্বন্দ্ব, বৈঠক থেকে ব্রাত্য দিলীপ ঘোষ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তিনদিনের বঙ্গ সফরেও রাজ্য বিজেপির আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সোমবার রাত আটটা নাগাদ সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে দলের সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেন শাহ। কিন্তু কোর কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সেই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার কোর কমিটি ও রাজ্য পদাধিকারীদের বৈঠকেও ডাক পাননি তিনি।

দলীয় সূত্রে অভিযোগ, শাহর এই রাজ্য সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বহু পুরনো ও আদি নেতাদের ডাকা হয়নি। একই সঙ্গে নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণাও হয়নি। ফলে দলের ক্ষমতাসীন ‘নব্য’ শিবিরের নেতারাই কার্যত শাহকে ঘিরে রাখছেন বলে বিজেপির অন্দরের একাংশের মত। বিক্ষুব্ধ ও ব্রাত্য আদি নেতাদের সিংহভাগকেই বৈঠকের বাইরে রাখা হয়েছে। শাহর সামনে যাতে সংগঠন নিয়ে কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ উঠে না আসে, সে কারণেই সায়েন্স সিটি থেকে শুরু করে হোটেলের বৈঠক—সব জায়গাতেই বাছাই করা নেতাদের উপস্থিত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

একদিকে গোষ্ঠীকোন্দল, অন্যদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা—এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ রাজ্য নেতৃত্বকে কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। কারণ, বাংলায় বিজেপির আদি-নব্য দ্বন্দ্ব নিয়ে যে শাহ নিজেও ওয়াকিবহাল, তা দলের অন্দরেই স্বীকার করা হয়।

রাজ্যে পৌঁছেই সোমবার রাতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি ছবি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি লেখেন,
“পশ্চিমবঙ্গ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। তিনদিনের সফরে কলকাতায় পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে কর্মী-সমর্থকদের ভালবাসায় অভিভূত।”

একই পোস্টে তিনি জানান, মঙ্গলবার কোর গ্রুপের বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক, পাশাপাশি কলকাতার দলীয় কর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি।

সোমবার রাতে কলকাতায় পা রেখেই বঙ্গ বিজেপির সংগঠনের হাল নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সল্টলেক পার্টি অফিসে রাজ্য পদাধিকারী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সঙ্গে দু’দফায় বৈঠক করেন তিনি। সেখানে উঠে আসে সংগঠনের দুর্বলতার চিত্র—প্রায় ৪০ শতাংশ বুথে এখনও কমিটি হয়নি। জেলায় জেলায় আদি-নব্য দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠীকোন্দলও অব্যাহত।

তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই শাহ বৈঠক থেকে বুথস্তরে জনসংযোগ বাড়ানো এবং সংঘবদ্ধভাবে মাঠে নামার বার্তা দেন। মতুয়া ভোট, এসআইআর বিতর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে শান্তনু ঠাকুরকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পথসভা, জনসভা ও রথযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।

রাতের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার সহ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। রাজ্য নেতারা সংগঠনের প্রস্তুতি, প্রচারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন শাহের সামনে। বৈঠকে শাহ আশাবাদী কণ্ঠে জানান, “সরকার গঠন হচ্ছেই।” একই সঙ্গে প্রচারে কোন কোন বিষয়কে সামনে আনতে হবে, তার দিকনির্দেশও দেন তিনি। অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প, কৃষি, সড়ক পরিবহণ, মহিলাদের ক্ষমতায়নের মতো বিকল্প উন্নয়ন মডেল তুলে ধরার কথা বলেন শাহ।

এদিকে ভোটের আগে অমিত শাহের বাংলা সফর নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন,
“নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের যাতায়াত নতুন নয়। ভোট এলেই ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করেন। কিন্তু নিট রেজাল্ট বাংলার মানুষই দেবে—বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।”

কুণাল ঘোষের ব্যাখ্যা,
“১) বাংলার প্রতি আর্থিক বৈষম্য, ২) বাংলাকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, ৩) বাংলা ভাষাকে অপমান, ৪) বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান, ৫) বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি বলে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা—এই সব কিছুর ফলেই বঙ্গবিরোধী বিজেপি প্রত্যাখ্যাত হবে।”

তাঁর কটাক্ষ,
“ওঁদের দলের অর্ধেক সংগঠনই নেই। ৩-৪টে গ্রুপে ভাগ হয়ে আছে। মানুষ কেন তাদের উপর আস্থা রাখবে?”
আরও ব্যঙ্গ করে কুণাল বলেন,
“বিজেপির আবার বাংলায় রণকৌশল কী? নেতারা আসবে, ঘুরবে, হোটেলে খরচা করবে, আর ভোটে হারবে।”

সূত্রের খবর, নির্বাচনী কৌশল ছাড়াও প্রচারের অভিমুখ কী হবে, তার প্রাথমিক দিকনির্দেশ শাহ দিয়ে যাবেন। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে এসআইআর ও সিএএ নিয়ে তিনি কী বলেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের বড় অংশের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা বিজেপিকে চাপে ফেলেছে। মতুয়া ঠাকুরবাড়ির দুই ভাই—বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ও বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের ভূমিকা ও বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই অবস্থায় মতুয়া ভোট ধরে রাখতে নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিশেষ বার্তা দিতে পারেন শাহ।

মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজনের পর হোটেলে নির্দিষ্ট কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক, বিকেলে সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বুধবার সায়েন্স সিটিতে কলকাতা মহানগরীর মণ্ডল, জোন, জেলা ও রাজ্যস্তরের নেতৃত্বদের নিয়ে সভা করবেন অমিত শাহ। তার আগে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে যাওয়ারও কর্মসূচি রয়েছে।

সব মিলিয়ে শাহর সফর ঘিরে একদিকে সাংগঠনিক বার্তা, অন্যদিকে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক তরজা—উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।

এসআইআর শুনানি ঘিরে হেনস্তার অভিযোগ, সুকান্তর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক



এসআইআর শুনানি ঘিরে হেনস্তার অভিযোগ, সুকান্তর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে হাতে ইনহেলার নিয়ে অপেক্ষা করছেন বয়স্ক মানুষ। কোথাও অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, কোথাও আবার ভাঙা হাত বা পা নিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্যজুড়ে এসআইআর (Special Intensive Revision) শুনানি কেন্দ্রগুলিতে এই ছবি এখন নিত্যদিনের। অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ, অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষমরা।

এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে হেনস্তার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টে বিতর্ক আরও উসকে দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর একটি মন্তব্যের ভিডিও সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।

ওই ভিডিওতে সুকান্ত মজুমদারকে বলতে শোনা যায়,
“ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে কীভাবে আসবেন, তখন অসুবিধা হবে না? যাদের ভোট দেওয়ার ইচ্ছা নেই, তারাই এসব কথা বলছে। ধরুন, আমার বাবা অসুস্থ মানুষ, তিনি ভোট দিতে যেতে পারেন না। তাই এসআইআর নিয়ে মাথা ঘামান না। আপনি যদি ভোট দিতে যেতে পারেন, তাহলে এসআইআর করাতে যেতে পারবেন না কেন—আমি এটা বুঝতে পারছি না।”

এই মন্তব্যের ভিডিও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে শেয়ার করেছে। এরপরই শাসক শিবিরের তরফে সুকান্তের বক্তব্যকে ‘অমানবিক’ ও ‘কটূক্তিপূর্ণ’ বলে আক্রমণ করা হয়।

তৃণমূলের বক্তব্য,
“এটা নাকি একজন জনপ্রতিনিধির ভাষা! বয়সের ভারে ন্যুব্জ, অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষকে শুনানির নামে হেনস্তা করছে নির্বাচন কমিশন। কেউ হুইলচেয়ারে বসে, কেউ অ্যাম্বুল্যান্সে শুয়ে শুনানিতে যাচ্ছেন। আর সেই দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের দেখে কটূক্তি করছেন বিজেপির মাতব্বর নেতা তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।”

শাসক দলের আরও কড়া প্রশ্ন,
“এরা আদৌ মানুষ? বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষকে সম্মান তো দূরের কথা, অন্যের অক্ষমতাকেও বিদ্রূপ করা হচ্ছে।”

এর আগে এসআইআর শুনানিতে সাধারণ মানুষের হেনস্তার অভিযোগে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এভাবে হেনস্তা বরদাস্ত করা হবে না।”

এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে সোমবার পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। ওই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন—পার্থ ভৌমিক, শশী পাঁজা, বাপি হালদার, পুলক হালদার এবং বীরবাহা হাঁসদা।

এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে একদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, অন্যদিকে শাসক-বিরোধীর রাজনৈতিক তরজা—সব মিলিয়ে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যু এখন ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া



প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

জীবন-মৃত্যুর সূক্ষ্ম সুতোয় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর অবশেষে হার মানলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চিকিৎসকরাই তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি বহু বছর ধরেই গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন খালেদা জিয়া। কিডনি, লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, আর্থ্রাইটিস, চোখের সমস্যা—সব মিলিয়ে শেষ কয়েক বছর তাঁর জীবন ছিল যন্ত্রণাবিদ্ধ। উন্নত চিকিৎসার আশায় লন্ডনে প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা চললেও আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও বয়সজনিত জটিলতা ও একাধিক অঙ্গের দুর্বলতার কারণে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাঝেমধ্যে চিকিৎসায় সামান্য সাড়া মিললেও শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার রাতেও তাঁর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মাকে দেখতে হাসপাতালে যান। তার আগে দলের দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে মায়ের আরোগ্য কামনায় প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, অবিভক্ত দিনাজপুরে। জন্মনাম ছিল খানুম পুতুল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করার পর তিনি বেগম খালেদা জিয়া নামে পরিচিত হন। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করার পর রাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৮১ সালে মেজর জিয়ার হত্যার পর দলের নেতৃত্বে উঠে এসে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি দু’দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন—১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয় বলে সমর্থকদের দাবি।

তবে পরবর্তীকালে আওয়ামি লিগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি ও খালেদা জিয়া দু’জনেই প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন। একাধিক মামলায় জর্জরিত হন তিনি, দীর্ঘদিন কারাবন্দিও ছিলেন। এরই মধ্যে ক্রমশ অবনতি হতে থাকে তাঁর শারীরিক অবস্থার।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপি রাজনীতিতে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল ফের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও বয়স ও অসুস্থতা তাঁর সক্রিয় নেতৃত্বকে আর সম্ভব করে তোলেনি।

অবশেষে দীর্ঘ এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। পদ্মাপাড়ের রাজনীতির আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল তারা। সমর্থক ও বিরোধী—সব মহলেই শোকের ছায়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এক দৃঢ়চেতা নেত্রী ও সংগ্রামী রাজনীতিক হিসেবে।

Monday, 29 December 2025

শিলিগুড়িতে বাংলার বৃহত্তম মহাকাল মন্দির: জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলান্যাস, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী




শিলিগুড়িতে বাংলার বৃহত্তম মহাকাল মন্দির: জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলান্যাস, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

নিউটাউন:
কিছুদিন আগেই শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই ঘোষণার বাস্তব রূপের দিনক্ষণ জানিয়ে দিলেন তিনি। সোমবার নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করা হবে

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,

“জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলান্যাস করব। মনে মনে উদ্বোধনের দিনও ঠিক করে ফেলেছি।”


🌄 উত্তরবঙ্গ সফরেই ঘোষণার সূচনা

চলতি বছরের অক্টোবরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল উত্তরবঙ্গ। সেই সময় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে একাধিকবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সফরের মাঝেই তিনি দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দিরে পুজো দেন। এরপরই শিলিগুড়িতে বাংলার সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দির তৈরির ঘোষণা করেন তিনি।


🛕 কেমন হবে শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির?

মুখ্যমন্ত্রীর আগের ঘোষণায় জানা গিয়েছিল—

  • শিলিগুড়িতে একটি কনভেনশন সেন্টার তৈরি হবে

  • তার পাশেই গড়ে উঠবে মহাকাল মন্দির

  • মন্দিরে থাকবে বাংলার সবচেয়ে বড় শিবমূর্তি

  • সরকার বিনামূল্যে জমি দেবে

  • মন্দির পরিচালনার জন্য গঠন করা হবে ট্রাস্টি বোর্ড

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়,

“শিলিগুড়িতে ডিএমকে একটা জমি দেখতে বলেছি। সেখানে কনভেনশন সেন্টার হবে। তার পাশেই মহাকাল মন্দির তৈরি করা হবে। করতে একটু সময় লাগবে, তবে পরিকল্পনা সম্পূর্ণ।”


📌 গুরুত্ব কী?

এই মহাকাল মন্দির শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে চলেছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

এবার জানুয়ারিতে শিলান্যাসের মাধ্যমে সেই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবের পথে এক ধাপ এগোতে চলেছে।

পুরুলিয়া , এসআইআর শুনানির আতঙ্কে প্রাণ গেল বৃদ্ধের? পুরুলিয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর



 Y বাংলা নিউজ পুরুলিয়া:


এসআইআর শুনানিতে সময়মতো পৌঁছতে পারবেন কি না—এই চিন্তাই কি প্রাণ কেড়ে নিল ৮২ বছরের বৃদ্ধের? এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরুলিয়ায়। এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই চরম মানসিক চাপে ছিলেন পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের আনাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌতালা গ্রামের বাসিন্দা দুর্জন মাঝি। সোমবার সকালে ব্লক অফিসে যাওয়ার জন্য টোটো খুঁজতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বাড়ির অদূরে আনাড়া–রুকনি রেললাইন থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মৃতদেহ।


📌 কী ঘটেছিল?

  • দুর্জন মাঝির নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল

  • এসআইআর প্রক্রিয়ায় তিনি যথাযথভাবে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন

  • তবুও ২৫ ডিসেম্বর তাঁর কাছে শুনানির নোটিস আসে

  • জানানো হয়, সোমবার দুপুর ১টায় পাড়া ব্লক অফিসে হাজির হতে হবে

  • বাড়ি থেকে ব্লক অফিসের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার, টোটোই ছিল একমাত্র ভরসা


😔 পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ

পরিবারের দাবি, নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন দুর্জন মাঝি। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছিলেন না। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ তিনি জানান, টোটো ডাকতে যাচ্ছেন। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

খোঁজ শুরু হয়। পরে দুর্জনের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রেলট্র্যাকের ধারে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।


🏛️ তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া

খবর পেয়ে দুর্জনের বাড়িতে যান—

  • টিএমসিপি জেলা সভাপতি কিরীটি আচার্য

  • পাড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি মনোজ সাহা

  • জেলা সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো

  • সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়

তাঁদের অভিযোগ,

“২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও, এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার পরও কেন একজন ৮২ বছরের বৃদ্ধকে শুনানিতে ডাকা হল? এটা স্পষ্ট হয়রানি।”

তাঁদের স্পষ্ট ঘোষণা, এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে


❗ প্রশ্নের মুখে এসআইআর প্রক্রিয়া

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—

  • প্রবীণ ও দরিদ্র মানুষদের জন্য এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা মানবিক?

  • অপ্রয়োজনীয় শুনানির নোটিস মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে না তো?

একটি শুনানির নোটিস—আর তার জেরে হারিয়ে গেল একটি প্রাণ। পুরুলিয়ার এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উন্নাও গণধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তিতে আপাতত না, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

 


উন্নাও গণধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তিতে আপাতত না, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: উন্নাও গণধর্ষণ মামলায় প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার-এর সাজা স্থগিত করে জামিনের যে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্ট দিয়েছিল, তাতে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে এই মুহূর্তে সেঙ্গারের মুক্তি হচ্ছে না।

সোমবার সিবিআইয়ের আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বে বিচারপতি জে কে মহেশ্বরীঅগাস্টিন জর্জ মাসিহ—এই তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, মামলার বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে না।


🔍 কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

  • সাধারণত দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্তের মুক্তির নির্দেশ শুনানি ছাড়া স্থগিত করা হয় না

  • তবে এই মামলার ক্ষেত্রে “বিশেষ পরিস্থিতি” বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে

  • আপাতত সেঙ্গারকে মুক্তি দেওয়া যাবে না

  • সেঙ্গারকে নোটিস পাঠিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ


📌 পটভূমি

  • ২৩ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট সেঙ্গারের যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছিল

  • যুক্তি ছিল, তিনি ইতিমধ্যেই সাড়ে সাত বছরের বেশি কারাবাস করেছেন

  • এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই


⚖️ সিবিআইয়ের বক্তব্য

  • সিবিআইয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মামলাটিকে “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করেন

  • বলেন, “আমরা নির্যাতিতার কাছে দায়বদ্ধ”

  • জানান, আইন সংশোধনের পরে এই ধরনের অপরাধে ন্যূনতম সাজা ২০ বছর

  • যদিও বেঞ্চ স্পষ্ট করে, সংশোধনীটি অপরাধের পরে কার্যকর হওয়ায় তা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়


❗ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

  • দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ—অপরাধের সময় জনপ্রতিনিধি হলেও সেঙ্গারকে পকসো আইনে সরকারি কর্মচারী ধরা যাবে না—এ নিয়ে আপত্তি তোলে সিবিআই

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারকদের ছবি ছড়িয়ে ‘এই বিচারকদের চিহ্নিত করুন’ ধরনের প্রচারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বেঞ্চ

  • প্রধান বিচারপতির মন্তব্য:

    • “আদালত আইভরি টাওয়ারে বসে নেই”

    • “বিচার ব্যবস্থায় পর্যালোচনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া”

    • “আদালতকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন না—যুক্তি আদালতের ভিতরেই দিতে হবে”


📝 বর্তমান অবস্থা

➡️ কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তি এই মুহূর্তে স্থগিত
➡️ পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় দেশজুড়ে নজর

হুমায়ুন কবীরের পুত্র গ্রেফতার, পাশে শুভেন্দু! নাম না করে মমতা–অভিষেককে নিশানা বিরোধী দলনেতার


ডিজিটাল ডেস্ক:
জন উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের পুত্র রবিন কবীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরের পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, “পুলিশ বেআইনি কাজ করেছে। সারা রাজ্যের আধিকারিকদের ভুলভাবে ব্যবহার করছে পিসি–ভাইপো।” তাঁর দাবি, হুমায়ুন কবীরের ছেলেকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কী অভিযোগে গ্রেফতার?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীরের পুত্র রবিন কবীরের বিরুদ্ধে এক পুলিশ কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। ওই কনস্টেবল হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রবিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।

ঘটনার পেছনের কাহিনি
যতদূর জানা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীরের এক নিরাপত্তারক্ষী ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি দিতে চাননি হুমায়ুন। তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে হাজির হন হুমায়ুনের পুত্র রবিন কবীর। অভিযোগ, এরপরই তিনি হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়কের বাড়ি থেকে হুমায়ুন কবীর বেরিয়ে গেলে সেখানে পৌঁছয় বিরাট পুলিশ বাহিনী। এরপরই হুমায়ুনের পুত্রকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে থানায় যান হুমায়ুন কবীর নিজেও এবং পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথা হয়।

বিরোধী শিবিরে ভিন্ন সুর
এই ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারীর আগেই মুখ খুলেছেন কংগ্রেস ও বিজেপির অন্যান্য নেতারাও। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “পুলিশ কেন গেল, কেন পুলিশের বিরুদ্ধে কেস হল—এ সব কিছুই তদন্তের পর জানা যাবে। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে, বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তিনি বলেন, “হুমায়ুন কবীরকে তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনার মাধ্যমে তাঁকে আরও প্রমিনেন্ট করে তোলা হচ্ছে।”

তবে শুভেন্দু অধিকারী একেবারেই উল্টো সুরে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, গোটা ঘটনাটিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পুলিশ বেআইনিভাবে কাজ করেছে।
কেন চর্চায় হুমায়ুন কবীর
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়েই একাধিক কারণে চর্চায় রয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বাবরি মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত মন্তব্য তাঁকে প্রথম আলোচনায় নিয়ে আসে। পরে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন তিনি এবং বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণাও করেন।
 রাজনৈতিকভাবে যখন তিনি সক্রিয় ও ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই তাঁর পুত্রের গ্রেফতারি ঘিরে নতুন করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।

এসআইআর শুনানির নামে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অন্তঃসত্ত্বাদের হেনস্তা! কমিশনে যাবে তৃণমূল, হুঁশিয়ারি অভিষেকের


ডিজিটাল ডেস্ক:
রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর-এর শুনানি পর্ব। দীর্ঘদিনের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলা নোটিস পাওয়ায় চরম হয়রানির অভিযোগ উঠছে। নাম কাটা যাওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়েই শুনানি কেন্দ্রে হাজিরা দিতে হচ্ছে অনেককেই। এই পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদে ফুঁসে উঠলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।


অভিষেক জানান, এসআইআর-এর নামে আমজনতাকে যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, তার প্রতিবাদে আগামিকাল অর্থাৎ সোমবার সকালে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে যাবে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রবিবার বিএলএ-২ দের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই এসআইআরের একাধিক গলদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শুনানির নামে প্রবীণদের হেনস্তার প্রসঙ্গ উঠে আসে।
শনিবার শুনানি শুরু হতেই কলকাতার চেতলা গার্লস স্কুলের শুনানি কেন্দ্রে প্রবল ঠান্ডার মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এক ৯০ বছরের বৃদ্ধকে। অথচ নির্বাচন কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে না। শুধু তাই নয়, জানা গিয়েছে এক মহিলাকে প্রসবের দিনেই হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হিয়ারিং ঘিরে প্রবল ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।


বৃদ্ধদের হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বলেন, “বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এভাবে হেনস্তা বরদাস্ত করব না। তৃণমূলের তরফে আগামিকাল প্রতিনিধিদল কমিশনে যাবে।” একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, “যদি প্রবীণদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে হিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে তা কেন থাকবে না?”


এদিন বিজেপিকেও তীব্র আক্রমণ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। অভিষেকের বক্তব্য, “বিজেপির কাছে এজেন্সি আছে, তৃণমূলের কাছে কর্মী আছে। বিজেপি আজ পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেনি। তৃণমূল সরকার উন্নয়নের পাঁচালি প্রকাশ করেছে। আমরা দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করি, আর বিজেপি দোষীদের সাদরে গ্রহণ করে।”


হুঙ্কার দিয়ে অভিষেক বলেন, “বিজেপি বাংলার ডিএনএ বোঝে না। দাঙ্গা করে ভাগাভাগি করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলার ডিএনএ বদল করতে পারবে না।”
উল্লেখ্য, শনিবারই সিইও দপ্তরে গিয়ে বৃদ্ধদের হেনস্তার প্রতিবাদে চিঠি দেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। সেই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

বাংলা বলার অপরাধে হেনস্তা, তৃণমূলের উদ্যোগে ঘরে ফিরলেন ২ শ্রমিক

বাংলা বলার অপরাধে হেনস্তা, তৃণমূলের উদ্যোগে ঘরে ফিরলেন ২ শ্রমিক

বাংলা বলার ‘অপরাধে’ জেল! মহারাষ্ট্রে হেনস্তার শিকার বালুরঘাটের ২ শ্রমিক, তৃণমূলের উদ্যোগে ঘরে ফেরা

ডিজিটাল ডেস্ক | রবিবার

বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন বালুরঘাটের দুই পরিযায়ী শ্রমিক। অভিযোগ, তাঁদের অবৈধ অভিবাসী তকমা দিয়ে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। স্থানীয় সাংসদকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগেই ঘরে ফিরলেন সেই দুই শ্রমিক।

কারা ওই দুই শ্রমিক

জানা গিয়েছে, বালুরঘাটের বাসিন্দা ওই দুই শ্রমিক হলেন অসিত সরকারগৌতম বর্মন। তাঁরা মহারাষ্ট্রের মুম্বইতে শ্রমিকের কাজ করতেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলা বলার অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসী আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ। এরপরই গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে হয় দু’জনকে।

সাংসদের দ্বারস্থ হয়েও মেলেনি সমাধান

পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে গৌতম বর্মনের স্ত্রী স্থানীয় সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দ্বারস্থ হন বলে অভিযোগ। কিন্তু তাতেও কোনও সমাধান মেলেনি। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকতে হয় ওই দুই শ্রমিককে।

তৃণমূলের উদ্যোগে মুক্তি

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পাশে দাঁড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাংসদ সামিরুল ইসলাম-সহ তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্যোগে অবশেষে মুক্তি পান অসিত সরকার ও গৌতম বর্মন। নিরাপদে নিজেদের বাড়িতেও ফিরেছেন তাঁরা।

রবিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন দুই শ্রমিক। ঘটনার বিস্তারিত শুনে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

পরিযায়ী শ্রমিক হেনস্তা নিয়ে উদ্বেগ

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। কখনও মারধর, কখনও হামলা, লুটপাট, উপার্জন কেড়ে নেওয়া বা পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথে নেমে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন এবং ‘ভাষা আন্দোলন’-এর সূচনা করেছেন। অন্যদিকে, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংবিধান মেনেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড

চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড

চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু ১

ডিজিটাল ডেস্ক | রবিবার মধ্যরাত

আবারও চলন্ত ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। রবিবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশে চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে ভয়াবহ আগুন লাগে। এই দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের অনকাপল্লী জেলায়। রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ ট্রেনটি ইলামানচিলি রেল স্টেশনে ঢোকার সময় লোকো পাইলট আগুনের শিখা দেখতে পান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেন।

প্রথমে বি১ এসি কোচে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এম১ এসি কোচ এবং সংলগ্ন বি২ এসি কোচে। তিনটি কোচই আগুনে সম্পূর্ণভাবে ঝলসে যায়।

আগুনের ঘটনা বুঝতে পেরেই যাত্রীরা চেন টানতে শুরু করেন। ট্রেনের ভিতরে শুরু হয় আতঙ্ক, চিৎকার ও হুড়োহুড়ি। তবে রেলকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় ধীরে ধীরে সকল যাত্রীকে নিরাপদে ট্রেন থেকে নামানো হয়।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি কোচে ছিলেন ৮২ জন এবং অন্য কোচে ছিলেন ৭৬ জন যাত্রী। এক এক করে সকলকেই নিরাপদে নামানো সম্ভব হয়।

তবে ভয়াবহ আগুনের মধ্যে প্রাণ হাতে করে নামার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা বি১ কোচ থেকে নামার সময় এক যাত্রীর গায়ে আগুন ধরে যায়। তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় তাঁর।

মৃত যাত্রীর নাম চন্দ্রশেখর সুন্দরম। তিনি সেই বি১ কোচেই ছিলেন, যেখানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

টাটানগর থেকে এরনাকুলামের উদ্দেশে যাত্রা করছিল ট্রেনটি। মাঝপথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হলেও বাকি সকল যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে রেলের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Sunday, 28 December 2025

নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের অভিযোগে উত্তাল শক্তিপুর

নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের অভিযোগে উত্তাল শক্তিপুর

নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের অভিযোগে উত্তাল শক্তিপুর, আটক বিধায়ক-পুত্র সহেল

অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা বিস্ফোরক দাবি হুমায়ুন কবীরের

Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের শক্তিপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। রবিবার সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নিরাপত্তারক্ষী। অভিযোগের ভিত্তিতেই হুমায়ুন কবীরের শক্তিপুরের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ এবং আটক করা হয় বিধায়ক-পুত্র গোলাম নবি আজাদ ওরফে সহেলকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল জুম্মা খান সম্প্রতি কয়েকদিনের ছুটির আবেদন করেন। অভিযোগ, সেই আবেদন ঘিরেই বচসা শুরু হয় এবং হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ তাঁকে মারধর করেন। এই ঘটনার পর রবিবার সকালেই শক্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জুম্মা খান।

অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবেই হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বিধায়ক-পুত্র সহেলকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উলটে তিনি নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধেই দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।

হুমায়ুন কবীর বলেন, “নিরাপত্তারক্ষী বিনা অনুমতিতে আমার অফিস ঘরে ঢুকে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি আমাকে মারধরের চেষ্টাও করেন। সেই সময় আমার ছেলে শুধু ওকে ঘর থেকে বার করে দিয়েছে। মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।”

তিনি আরও দাবি করেন, ওই নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে আগেও অসহযোগিতার অভিযোগ তিনি পুলিশের কাছে জানিয়েছিলেন। “আমি আগেই বহরমপুরের আইসি-কে বলেছিলাম নিরাপত্তারক্ষী বদলানোর কথা। কিন্তু তাতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি,” বলেন হুমায়ুন কবীর।

হুমায়ুন কবীরের দাবি অনুযায়ী, গোটা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। তিনি বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ আছে। তদন্ত হলে সব দেখিয়ে দেব। পুলিশ তদন্ত করুক, আমার কোনও আপত্তি নেই।”

এছাড়াও বিনা নোটিসে পুলিশ তাঁর বাড়িতে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, “বিনা নোটিসে কেন পুলিশ আমার বাড়িতে গেল, তার জবাব চাইব। আমি বৃহস্পতিবার ফিরে সব প্রশ্নের উত্তর দেব।”

এই ঘটনার প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদের এসপি অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। ফলে এই ইস্যুতে আগামী দিনে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বর্তমানে পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

এসআইআর শুনানিতে নথির জট, কান্নায় ভেঙে পড়লেন রানাঘাটের যুবতী

এসআইআর শুনানিতে নথির জট, কান্নায় ভেঙে পড়লেন রানাঘাটের যুবতী

এসআইআর শুনানিতে নথির জট, কান্নায় ভেঙে পড়লেন রানাঘাটের যুবতী

ডিজিটাল ডেস্ক | শনিবার

শনিবার থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত শুনানি। সেই শুনানিতেই ডাক পান নদিয়ার রানাঘাটের বাসিন্দা ২৮ বছরের মানু মিত্র। নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট স্থানে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নিলেও, একটি নথি ঘিরে চরম সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে।

শুনানির সময় মানুর কাছে তাঁর জন্মদাতা বাবার ডেথ সার্টিফিকেট জমা দিতে বলা হয়। এই কথা শুনেই ভেঙে পড়েন তিনি। মানুর দাবি, জন্মদাতা বাবার সঙ্গে তাঁর মায়ের বিচ্ছেদ বহু বছর আগেই হয়ে গিয়েছিল এবং সেই বাবার কোনও নথিপত্র তাঁর কাছে নেই। এমনকি সেই মৃত্যুর শংসাপত্র কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন, সেটিও তাঁর অজানা।

জানা গিয়েছে, মানু মিত্রের জন্ম ১৯৯৭ সালের এপ্রিল মাসে। সেই সময় তাঁর জন্ম সার্টিফিকেট ও স্কুলে ভর্তির নথিতে বাবা হিসেবে প্রবীর দাসের নাম ছিল। পরে তাঁর মা ও জন্মদাতা বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে মানুর মা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন রানাঘাট দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা তিমির ঘোষকে। সেই সময় থেকেই তিমির ঘোষের পরিচয় অনুযায়ী মানুর ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড তৈরি হয়।

সমস্যার মূল কারণ ২০০২ সালের ভোটার তালিকা। ওই তালিকায় মানুর মায়ের নাম না থাকায়, এসআইআর শুনানিতে মানুর জন্ম সংক্রান্ত নথি নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।

বর্তমানে মানু বিবাহিত। তাঁর দ্বিতীয় বাবার নাম অনুযায়ী সমস্ত পরিচয়পত্র ও ঠিকানা সংশোধন করা হলেও, জন্ম সার্টিফিকেটে এখনও আগের বাবার নাম রয়ে গিয়েছে। এই কারণেই তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা।

শনিবার রানাঘাটের এসডিও অফিসে শুনানি শেষে বাইরে বেরিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন মানু। তাঁর আশঙ্কা, জন্মদাতা বাবার ডেথ সার্টিফিকেট জমা দিতে না পারলে তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।

এসআইআর সংক্রান্ত এই যাচাই প্রক্রিয়ায় এমন জটিলতা বহু সাধারণ মানুষকেই মানসিক চাপে ফেলছে বলে মত স্থানীয়দের।

Saturday, 27 December 2025

বছর শেষের মুখে ‘পাওয়ার প্লে’ খেলছে শীত, কলকাতায় পারদ ১২.৯—আরও কয়েক দিন হাড় কাঁপানো ঠান্ডা

বছর শেষের মুখে ‘পাওয়ার প্লে’ খেলছে শীত, কলকাতায় পারদ ১২.৯—আরও কয়েক দিন হাড় কাঁপানো ঠান্ডা<\P> কলকাতা:

বছর শেষের আগে ঝড়ো ইনিংস খেলছে শীত। একেবারে পাওয়ার প্লে ব্যাটিং—এমনটাই বলছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তার জেরেই কলকাতা সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই হু হু করে নামছে তাপমাত্রা।

শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা এই মরসুমে শহরের সবচেয়ে ঠান্ডা দিন। আর এই হাড় কাঁপানো শীত আরও কিছুদিন থাকবে বলেই পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের।

❄️ কেন এত ঠান্ডা? এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে রয়েছে শুষ্ক আবহাওয়া। ফলে উত্তুরে হাওয়া বাধাহীনভাবে ঢুকছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায়। উত্তর থেকে দক্ষিণ—সব জায়গাতেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাপমাত্রায়। সাধারণত শীতের এই দাপটের মাঝে কোনও না কোনও নিম্নচাপ বা ঝঞ্ঝা এসে তাল কাটে। কিন্তু এখন তেমন কোনও সিস্টেম সক্রিয় নেই। সেই কারণেই উত্তুরে হাওয়ার এমন দাপট চলছে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন থাকবে। ফলে শুধু রাত নয়, আগামী দিনে দিনের তাপমাত্রাও আরও কমতে পারে। 🌡️ আজ কেমন থাকবে আবহাওয়া? ২৭ ডিসেম্বর, শনিবারও 🔹 উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ—দু’জায়গাতেই তাপমাত্রা কমার ধারা বজায় থাকবে 🔹 শীতের আমেজ থাকবে বেশ ভালোই তবে রবিবার থেকে আবহাওয়ার চরিত্রে সামান্য বদল আসতে পারে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। যদিও শীত একেবারে কমবে না, তবে যেভাবে তাপমাত্রা নামছিল, সেই ধারায় কিছুটা ছেদ পড়তে পারে। তবে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনাও নেই। 🥶 মরসুমের শীতলতম দিন শুক্রবার শুক্রবারই এই শীতের সবচেয়ে ঠান্ডা দিন উপভোগ করেছে কলকাতা। এ দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস—যা এই বছরের রেকর্ড। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বরও কলকাতার তাপমাত্রা নেমেছিল ঠিক ১২.৯ ডিগ্রিতে। এবার সেই পুরনো রেকর্ডে আবার হাত দিল শহর। 🏔️ রাজ্যে সবচেয়ে ঠান্ডা কোথায়? শুক্রবার রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে দার্জিলিংয়ে। সেখানে পারদ নেমেছিল ৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় অবশ্য বেশ খুশিই পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা।

হাদির হত্যার বিচার চেয়ে উত্তাল ঢাকা

হাদির হত্যার বিচার চেয়ে উত্তাল ঢাকা

হাদির হত্যার বিচার চেয়ে উত্তাল ঢাকা

ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক | ঢাকা

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাতভর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ও সমর্থকেরা। শনিবারও সারাদিন এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ ঘেরাও করা হবে। পাশাপাশি সরকারের উপদেষ্টাদের শাহবাগে এসে আন্দোলনকারীদের সামনে উপস্থিত হওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভের সময় সংগঠিত গণরোষের জেরে একাধিক সরকারি ও সাংস্কৃতিক ভবন, সংবাদপত্রের দফতরেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।

মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা

হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশ পুলিশ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ এখনও অধরা। ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ, তারা ভারতে পালিয়ে গিয়েছে।

“রাজপথ ছাড়ব না”

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “যতক্ষণ না হাদির হত্যাকারী, হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকলকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা রাজপথ ছাড়ব না। সারা বাংলাদেশ থেকে মানুষ আসছে। অবস্থান চলবে।”
হাদির ভাই ওমর বলেন, “বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব। আমাদের বাধ্য করবেন না ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে।”

রাজনৈতিক উপস্থিতি বাড়ছে

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, গভীর রাত পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান চলেছে। নারী ও শিশুরাও হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগানে অংশ নেন। শনিবার হাদির সমাধিস্থলে যাওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। এই কর্মসূচিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

© ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক | তথ্যসূত্র: স্থানীয় সংবাদমাধ্যম

বঙ্গে শুরু SIR প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ, আজ থেকে ভোটারদের ‘হিয়ারিং’—কোন নথি লাগবে জানুন

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়ে গেল আজ, শনিবার থেকে। এই ধাপে নির্বাচন কমিশন যাদের ‘ম্যাপিং’-এ পাওয়া যায়নি, তাদের একে একে ডেকে পাঠানো শুরু করেছে। কমিশনের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে ‘হিয়ারিং’। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— 👉 হিয়ারিংয়ের পর ভোটার তালিকায় নাম রাখতে হলে কী কী নথি লাগবে? 👉 কারা প্রথম দফায় ডাক পাচ্ছেন? এই সব প্রশ্নের উত্তরই রইল এই প্রতিবেদনে। 📌 কারা ডাক পাচ্ছেন প্রথম দফায়? নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সালে শেষবার হওয়া SIR প্রক্রিয়ায় যাদের নিজের বা পরিবারের কোনও সদস্যের নাম পাওয়া যায়নি, তাদেরই প্রথম দফায় সন্দেহজনক তালিকায় রাখা হয়েছে। এই ভোটারদের কাছে ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হবে। প্রয়োজনে তাঁদের কিছু প্রশ্নও করা হতে পারে। এই যাচাইয়ের পরেই ঠিক হবে ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে কি না। 📊 কত জনকে ডাকা হচ্ছে? কমিশন সূত্রে খবর, 🔹 প্রথম দফায় মোট ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৪ জন ভোটারকে হিয়ারিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। 🔹 তাঁদের ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। 🔹 রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই এই শুনানি হবে। প্রতিটি শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। 🚫 শুনানিতে কারা থাকতে পারবেন না? 🔸 শুনানির সময় বাইরের কোনও ব্যক্তি থাকতে পারবেন না। 🔸 শুধু সংশ্লিষ্ট ভোটার এবং কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরাই উপস্থিত থাকবেন। 🔸 ভোটারের নথি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রশ্নও করা হতে পারে। একটি টেবিলে দিনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন ভোটারের শুনানি হতে পারে। শুনানির সময় প্রত্যেক ভোটারের ছবি তোলা হবে বলেও জানা গিয়েছে। 📄 কোন কোন নথি লাগবে? নির্বাচন কমিশন শুরুতেই মোট ১৩টি নথির তালিকা প্রকাশ করেছিল। এই নথিগুলির মধ্যে আধার কার্ড বাদ দিয়ে যে কোনও একটি নথি দেখাতে পারলেই হবে। তবে প্রয়োজনে কমিশন একাধিক নথি চাইতে পারে। ✅ গ্রহণযোগ্য নথিগুলি হল— ১৯৮৭ সালের আগের ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস বা LIC-এর নথি সরকারি চাকরির আইডি কার্ড জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate) পাসপোর্ট মাধ্যমিক বা তার ঊর্ধ্বে শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট SC / ST / OBC সার্টিফিকেট স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া বাসস্থানের সার্টিফিকেট NRC সার্টিফিকেট পারিবারিক রেজিস্টার জমি বা বাড়ির দলিল আধার কার্ড 🗳️ ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নির্বাচন কমিশনের বার্তা স্পষ্ট— 👉 এখন থেকেই প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করে রাখুন। 👉 নির্ধারিত দিনে হিয়ারিংয়ে হাজির হন। সব ঠিকঠাক থাকলে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকায় আপনার নাম থাকা নিশ্চিত করা যাবে।

Friday, 26 December 2025

রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক! বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন পার্ণো মিত্র

রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক! বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন পার্ণো মিত্র

রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক! বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন অভিনেত্রী পার্ণো মিত্র

রাজ্য রাজনীতিতে শুক্রবার সকালেই বড় চমকের ইঙ্গিত মিলেছিল টলিমহলসূত্রে। আচমকাই জানা যায়, গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী হওয়া এক অভিনেত্রী এবার তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন। গুঞ্জন সত্যি করে বেলা বাড়তেই তৃণমূল ভবনের পথে রওনা দেন অভিনেত্রী পার্ণো মিত্র।

খবর অনুযায়ী, রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন পার্ণো। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বরানগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। সে সময় তৃণমূল প্রার্থী তাপস রায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও জয়ের মুখ দেখেননি অভিনেত্রী।

উনিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন একঝাঁক টলিউড তারকা। সেই তালিকায় পার্ণো মিত্রও ছিলেন। তবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। এমনকী ঘনিষ্ঠ মহলের কাছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলেও কানাঘুষো শোনা যায়।

আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পার্ণোর তৃণমূলে যোগদানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, প্রতিটি নির্বাচনের আগে টলিপাড়ার কোন কোন পরিচিত মুখ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সামনে আসবেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকেই।

পার্ণো মিত্রের দলবদল সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিয়েছে। তাহলে কি ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে? নাকি আপাতত তিনি সংগঠনিক ভূমিকাতেই থাকবেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়ই।

তবে একথা নিশ্চিত, পার্ণো মিত্রের তৃণমূলে যোগদান ছাব্বিশের ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও সমীকরণের জন্ম দিল।

বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা— মঞ্চেই শুভেন্দুকে থামালেন শমীক

বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা— মঞ্চেই শুভেন্দুকে থামালেন শমীক

বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা— মঞ্চেই শুভেন্দুকে থামালেন শমীক

Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক | কলকাতা

দলের পুরনো কর্মীদের ফের সক্রিয় করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ কর্মসূচি। কিন্তু সেই সভামঞ্চেই প্রকাশ্যে উঠে এল বিজেপির অন্দরের সূক্ষ্ম টানাপড়েন। বৃহস্পতিবার জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথা মাঝপথে থামিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য— ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের বক্তব্য আর না বলা হয়।

সভায় শুভেন্দু বিজেপির অন্দরে বিভিন্ন ‘গোত্র’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কেউ অন্য দলে কিছু না পেয়ে বিজেপিতে এসেছেন, আবার কেউ স্বেচ্ছায় সব ছেড়ে এই দলে যোগ দিয়েছেন। নিজেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে রেখে শুভেন্দু বলেন, একাধিক মন্ত্রিত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে তিনি বিজেপিতে এসেছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আমন্ত্রণই ছিল মূল কারণ।

এই বক্তব্যের পরেই মঞ্চে উঠে কোনও ভূমিকা না বেঁধে সরাসরি শুভেন্দুর উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে ‘আগে’ ও ‘পরে’র বিভাজন টানা অনুচিত। দলে সবাই সমান— শান্ত সুরে হলেও বার্তাটি ছিল স্পষ্ট।

শমীকের এই হস্তক্ষেপে সভাস্থলে করতালি পড়ে। পরে তিনি আর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও দলের অন্দরে শুরু হয় নানা ব্যাখ্যা। শমীক-ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, রাজ্য সভাপতি বোঝাতে চেয়েছেন— শুভেন্দু এখন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাঁকে বারবার নিজের ত্যাগ বা অতীত পরিচয় আলাদা করে তুলে ধরতে হবে না।

তবে দলের একাংশ এই ব্যাখ্যায় একমত নন। তাঁদের মতে, শুভেন্দু আগেও একাধিকবার নিজেকে অন্য দল থেকে আসা নেতাদের থেকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবারের বক্তব্যেও সেই প্রবণতারই পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। আর ঠিক সেখানেই ‘গোত্র’-বিভাজনের সম্ভাবনা দেখেই অঙ্কুরে হস্তক্ষেপ করেন শমীক।

বিধানসভা ভোটের আগে দলীয় ঐক্যে কোনও ফাটল দেখতে চান না রাজ্য বিজেপি সভাপতি— এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। তাই ‘অনুরোধ’-এর ভাষায় হলেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের বক্তব্য তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

একই সঙ্গে পুরনো ও নতুন— দুই পক্ষের প্রতিই সমান বার্তা দেন শমীক ভট্টাচার্য। ভাষণের শেষ দিকে তিনি বলেন, নতুনদের বাদ দিয়ে দলের বিস্তার সম্ভব নয়। সমাজ থেকেই মানুষ আসবে, কোনও অলৌকিক জায়গা থেকে নয়। বিজেপিতে আদি-নব্য ভেদ নেই— সবাই একটাই পরিচয় বহন করে, বিজেপি।

অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মূলত আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সেই সব নেতাদের, যাঁরা অতীতে রাজ্য বা জেলা স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে সক্রিয় নন। উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের ফের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত করা এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের শক্তি বাড়ানো।

সভায় শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। শেষ পর্যন্ত, কর্মসূচির মূল বার্তা ছিল একটাই— বিভাজন নয়, ঐক্যই বিজেপির পথ।

© Y বাংলা ডিজিটাল | এই প্রতিবেদনটি তথ্যভিত্তিক সংবাদ রূপে প্রস্তুত

ওড়িশায় পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে খুন

ওড়িশায় পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে খুন

ওড়িশায় পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে খুন, বিড়ি নিয়ে বচসার জের: পুলিশ

Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক | সম্বলপুর, ওড়িশা

ওড়িশার সম্বলপুরে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুয়েল শেখ বুধবার রাতে মারধরের শিকার হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, বাংলা বলার কারণেই তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। যদিও ওড়িশা পুলিশ এই দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, ভাষা বা বাংলাদেশি সন্দেহ নয়, বিড়ি নিয়ে বচসার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুয়েল শেখ সম্বলপুরের শান্তিনগর এলাকায় একটি নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েক জন শ্রমিক ওই প্রকল্পে কাজ করতেন। বুধবার রাতে কাজ সেরে ফেরার পথে ছ'জনের একটি দলের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়।

ওই দলের এক ব্যক্তি একটি বিড়ি চাইলে তা নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বচসা হাতাহাতিতে পরিণত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেই সময় জুয়েল শেখকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সম্বলপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশি পদক্ষেপ:
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছ'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওড়িশা পুলিশের নর্দান রেঞ্জের আইজি হিমাংশুকুমার লাল সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, “এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।”

এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়েছে। দলটি সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেছে, বিজেপির কথিত বাংলাবিরোধী প্রচারের ফলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।

তবে এই অভিযোগ প্রসঙ্গে ওড়িশা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তি বাঙালি না বাংলাদেশি—এই পরিচয়ের সঙ্গে হত্যার কোনও সম্পর্ক নেই। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বিড়ি নিয়ে ঝামেলা থেকেই এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

এদিকে নিহত শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মুর্শিদাবাদের তাঁর বাড়িতে যান সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানী বিশ্বাস। তিনি পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলাভাষীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মণিপুরে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

মণিপুরে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

মণিপুরে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, বেড়েছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ

ডিজিটাল ডেস্ক | মণিপুর | সর্বশেষ আপডেট

মণিপুরে অবৈধ অস্ত্রের চলাচল রুখতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্যের দুই জেলায় চালানো পৃথক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইম্ফল পশ্চিম জেলার লাম্বল ও হাওরাং কেইরেল এলাকায় লামসাং থানার আওতায় প্রথম দফার অভিযান চালানো হয়। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি যৌথ দল।

ইম্ফল পশ্চিম জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী:
  • ১টি সিঙ্গেল-ব্যারেল বন্দুক
  • ৩টি পিস্তল ও একাধিক ম্যাগাজিন
  • ৩টি বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল
  • ৭টি হোয়াইট ফসফরাস গ্রেনেড
  • ১টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রেনেড
  • ২৩টি মিনি ফ্লেয়ার কার্টিজ
  • ৮টি ১২-বোর কার্টিজ
  • বিভিন্ন ক্যালিবারের ২৮টি তাজা গুলি
  • ১টি খালি ৭.৬২ এসএলআর কার্টিজ কেস
  • ২টি বাওফেং ওয়্যারলেস রেডিয়ো (চার্জার-সহ)

উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলি কোথা থেকে এল এবং কারা এগুলি মজুত করেছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। পাশাপাশি, যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ওয়্যারলেস রেডিয়ো সেটগুলি সংগঠিত কার্যকলাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মনে করছেন আধিকারিকরা।

এর পাশাপাশি, মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলাতেও আরও একটি অভিযান চালানো হয়। থানজিং অরণ্যের পাদদেশে চালানো এই তল্লাশি অভিযানে ফের একাধিক অস্ত্র উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

চূড়াচাঁদপুর জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী:
  • ১টি আট ফুট লম্বা পাম্পি
  • ১২টি পাম্পি শেল
  • ৯টি খালি ৭.৬২×৩৯ কার্টিজ কেস
  • ১টি পরিবর্তিত এমপি৫ রাইফেল (গুলিভরা ম্যাগাজিন-সহ)
  • ১টি একনলা বন্দুক

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সমস্ত অস্ত্র ও বিস্ফোরক যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মণিপুরে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসছে। ফলে অবৈধ অস্ত্রের জোগান ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রশাসনের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে বলে নিরাপত্তা সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

Thursday, 25 December 2025

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ল, ইউনূস সরকারের বিশেষ সহকারীর পদত্যাগে জল্পনা

ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট বাংলাদেশে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, একের পর এক সহিংস ঘটনা এবং প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ বাড়ছে। এই আবহেই নতুন করে অস্বস্তিতে পড়ল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক শীর্ষ ব্যক্তি পদত্যাগ করায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন খোদা বকশ চৌধুরী। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করছিলেন। বুধবার রাতে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে। পদত্যাগের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তবে কী কারণে হঠাৎ এই পদত্যাগ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সরকারিভাবে কোনও কারণ জানানো হয়নি। খোদা বকশ চৌধুরী নিজেও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ফলে এই পদত্যাগ নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, না কি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের ফল— তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদত্যাগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল খোদা বকশ চৌধুরীর হাতে। তিনি পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হওয়ায় তাঁকে এই দায়িত্বে আনা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো মহম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে কয়েকজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা— এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রতিমন্ত্রীর সমতুল্য পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী নিয়োগ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান খোদা বকশ চৌধুরী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সায়েদুর রহমানকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাঠামোতেই ফাটল ধরতে শুরু করে। কয়েক মাস আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল খোদা বকশ চৌধুরীর নাম। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চাপ বাংলাদেশে সম্প্রতি একাধিক হত্যাকাণ্ড এবং হিংসাত্মক ঘটনার জেরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। এরই মধ্যে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ইউনূস সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা হলে সরকারের দায়িত্বশীলদের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। এই পরিস্থিতিতে খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, ওই চাপের কারণেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। যদিও সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষ এখনও এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলেনি। নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই মুহূর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ আধিকারিকের পদত্যাগ সেই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনের আগে প্রশাসনের মধ্যে এই ধরনের পরিবর্তন ভোট পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিশেষ করে, ভোটের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভিতরেই মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে। আবার কারও মতে, ক্রমবর্ধমান চাপ ও সমালোচনার মুখে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে উঠছিল। এও প্রশ্ন উঠছে, তাঁর পদত্যাগের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে সামলাবেন। নতুন কাউকে নিয়োগ করা হবে, নাকি দায়িত্ব সাময়িকভাবে অন্য কোনও উপদেষ্টার হাতে দেওয়া হবে— সে বিষয়ে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। নির্বাচনের মুখে এই ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন সরকার পরিচালনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও জটিলতার দিকে এগোচ্ছে, তা বলাই যায়। খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগ সেই অস্থিরতারই আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভোটার শুনানি প্রক্রিয়ায় নজরদারিতে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিল নির্বাচন কমিশ

ডেস্ক রিপোর্ট রাজ্যে আসন্ন ভোটার তালিকা সংশোধন ও চূড়ান্তকরণের আগে ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিল নির্বাচন কমিশন। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হল। ভোটারদের শুনানির প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালানোই হবে এই মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার শুনানির সময় ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-রা মূল দায়িত্বে থাকলেও, গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা। তাঁদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যাতে কোনও অনিয়ম, পক্ষপাত বা তথ্যগত ত্রুটি থেকে না যায়। নজরুল মঞ্চে প্রশিক্ষণ শিবির বুধবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে দুই দফায় এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। প্রথম দফার প্রশিক্ষণ শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ, দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হয় দুপুর ২টো থেকে। প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত-সহ সিইও দফতরের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। প্রশিক্ষণ পর্বে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও আচরণবিধি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। কী ভাবে শুনানি প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালাতে হবে, কোথায় রিপোর্ট করতে হবে এবং কোনও সমস্যা দেখা দিলে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে— সেই সব বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে নজরদারি কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১১টি করে শুনানির টেবিল বসানো হবে। প্রতিটি টেবিলের জন্য থাকবেন একজন করে মাইক্রো অবজ়ার্ভার। অর্থাৎ, রাজ্যজুড়ে চার হাজারেরও বেশি মাইক্রো অবজ়ার্ভার এই শুনানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। এই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মূল কাজ হবে ভোটারদের জমা দেওয়া এনুমারেশন ফর্ম, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলি সঠিক ভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা। ভোটার তালিকা প্রস্তুত বা সংশোধনের সময় যাতে কোনও নিয়মবহির্ভূত কাজ না হয়, সেটিই তাঁদের দায়িত্বের অন্যতম অংশ। এনুমারেশন ফর্ম যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রশিক্ষণ শিবিরে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় এনুমারেশন ফর্ম যাচাইয়ের পদ্ধতির উপর। ভোটারদের নাম সংযোজন, বিয়োজন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে যে ডিজিটাল এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়ে, তা ব্লক লেভেল অফিসার (বিএলও)-রা সংগ্রহ করেন। সেই তথ্য সঠিক ভাবে ডিজিটাইজ়ড হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব থাকবে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের উপর। এ ছাড়া জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য, ঠিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য সরকারি নথির সঙ্গে ভোটার তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখতে বলা হয়েছে। মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ৯টি নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের তরফে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের জন্য মোট ৯টি নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলি হল— ১. বিএলও-দের জমা দেওয়া ডিজিটাইজ়ড এনুমারেশন ফর্মের তথ্য যাচাই করা। ২. জন্ম-মৃত্যুর নথি ও অন্যান্য সরকারি তথ্যের সঙ্গে ভোটার তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখা। ৩. ইআরও বা এইআরও-রা যাঁদের নোটিস পাঠিয়েছেন, সেই ভোটারদের জমা দেওয়া নথি পরীক্ষা করা। ৪. ভোটারের দাবির সঙ্গে জমা দেওয়া নথির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা। ৫. পুরো শুনানি প্রক্রিয়ার উপর সার্বিক নজরদারি চালানো। ৬. ভোটার তালিকা তৈরির বা সংশোধনের সময় কোথাও কোনও বিচ্যুতি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা। ৭. পর্যবেক্ষক ও বিশেষ পর্যবেক্ষকদের পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। ৮. সিইও, পর্যবেক্ষক বা বিশেষ পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। ৯. নজরদারির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো। শনিবার থেকেই শুরু শুনানি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী শনিবার থেকেই রাজ্যে ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই শুনানির উপরেই অনেকাংশে নির্ভর করবে কোনও ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে কি না। ফলে এই পর্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন। এই কারণেই আগেভাগে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ জন মাইক্রো অবজ়ার্ভারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের দায়িত্ব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের আশা, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য হবে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ রাজ্যের ভোটারদের আস্থা বাড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog