ডিজিটাল ব্যুরো | Y বাংলা নিউজ
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য প্রশাসনে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লোকভবনের আধিকারিকদের ইমেলে আসে একটি হুমকি বার্তা। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল—রাজ্যপালকে “উড়িয়ে দেওয়া হবে”।
বার্তাটি নজরে আসতেই রাতেই তৎপর হয়ে ওঠেন লোকভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা। জরুরি বৈঠক ডাকা হয় এবং রাজ্যপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্ত শুরু হয়। হুমকি মেলের বিষয়টি দ্রুত জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে।
লোকভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যপালকে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ ও সিআরপিএফ। মাঝরাতেই শীর্ষস্তরে বৈঠকে বসেন বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর আধিকারিকরা। সম্ভাব্য ঝুঁকি, নিরাপত্তা বলয় আরও মজবুত করার কৌশল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি—সব দিকই খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যপালের জন্য ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও, এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। লোকভবনের আধিকারিকদের দাবি, এর আগেও রাজ্যপালকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হুমকি এসেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যপাল আনন্দ বোস শুক্রবার নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই রাস্তায় নামার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি বলেছেন,
“বাংলার মানুষই আমাকে রক্ষা করবেন।”
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
একই দিনে শহরের রাজনীতিতেও উত্তাপ রয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিলে নামছেন। আগের দিন আই-প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী সরব হন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। ফলে শহরের দুই শীর্ষ প্রশাসনিক মুখ আলাদা আলাদা পথে রাস্তায় নামায় পুলিশের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
ইডির তল্লাশি ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে রাজ্যপালও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,
“সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া অপরাধ। হুমকি বা আইনি ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাজ থেকে বিরত করা আরও গুরুতর অপরাধ। সংবিধানিক কর্তৃপক্ষ যদি সংবিধানের বাইরে যান, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
হুমকি মেলের উৎস কী, কারা এর পিছনে রয়েছে এবং রাজ্যপালের নিরাপত্তা আরও কীভাবে জোরদার করা হবে—সব দিকেই এখন নজর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন