Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Friday, 12 September 2025

শান্তাকে চ্যালেঞ্জ অভিরূপের, CU-তে সেন্সর নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর

শান্তাকে চ্যালেঞ্জ অভিরূপের, CU-তে সেন্সর নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর

শান্তাকে 'চ্যালেঞ্জ' অভিরূপের, CU-তে সেন্সর নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

অভিরূপ চক্রবর্তী প্রতিবাদে

ছাত্রনেতা অভিরূপ চক্রবর্তী উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর, ছাত্ররাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

সেন্সরের ঘোষণা এবং ছাত্ররাজনীতির বিস্ফোরণ

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে ছাত্ররাজনীতির উত্তেজনা ছড়িয়েছে। TMCP-এর সাধারণ সম্পাদক অভিরূপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উপাচার্য শান্তা দত্ত কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ এনে পাঁচ বছরের জন্য সেন্সর জারি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপাচার্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে বক্তব্য দেওয়ায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্তের পরেই ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অভিরূপ চক্রবর্তী পাল্টা আক্রমণ করে উপাচার্য শান্তা দত্তকে 'কেয়ারটেকার ভিসি' বলে কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন যে, তাঁকে এবং তাঁর মতাদর্শকে দমানোর জন্য বিভিন্ন অধ্যাপককে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমার কণ্ঠরোধ করা যাবে না। গলা কেটে দিলেও ‘জয় বাংলা’ এবং ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ বের হবেই।” এই বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও উত্তেজনা তৈরি করেছে।

শান্তা দত্তের অবস্থান

উপাচার্য শান্তা দত্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, “শিক্ষার মর্যাদা রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ছাত্রদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ থাকা উচিত, কিন্তু তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্টের দিকে না যায়।” তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছে, এই সেন্সর শুধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, ছাত্র রাজনীতির মতপ্রকাশের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। TMCP-র অন্যান্য নেতারা অভিরূপের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “এটি শিক্ষার স্বাধীনতার ওপর আঘাত। ছাত্রদের বক্তব্যকে দমন করার চেষ্টা চলছে।” তারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহে প্রতিবাদ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মতামত

সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ শান্তা দত্তের পদক্ষেপকে শৃঙ্খলার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতর্ক থাকা উচিত, কিন্তু তা যেন ব্যক্তিগত বিদ্বেষে না গড়ায়। অন্যদিকে, বড় অংশের ছাত্রছাত্রী এই সেন্সরকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। তাঁরা বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হলো মতাদর্শ বিনিময়ের জায়গা। এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়বে।”

রাজ্যের রাজনীতির প্রভাব

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে এই ঘটনায় সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অভিরূপ চক্রবর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর অগাধ সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দিক থেকে শাসক দলের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বিরোধী দলগুলির দাবি, এই ধরনের বক্তব্য শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির অস্বাস্থ্যকর প্রভাব বিস্তার করছে। তাঁরা বলেন, “শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় মনোনিবেশ করানোর বদলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম শৃঙ্খলার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করা। অন্যদিকে ছাত্র সংগঠনগুলিরও দায়িত্বশীলভাবে মত প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাঁরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করতে পারে এবং ছাত্রদের মনোসংযোগ বিচ্যুত হতে পারে।

আগামী দিনের পরিস্থিতি

বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। সেন্সরের বিরুদ্ধে ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিবাদ বাড়লে প্রশাসনকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। আবার অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়। তবে অভিরূপ চক্রবর্তীর মতো ছাত্র নেতাদের বক্তব্য যদি আরও আক্রমণাত্মক হয়, তবে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়বে।

উপসংহার

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তা দত্ত বনাম অভিরূপ চক্রবর্তী ঘটনাটি শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়লেও সমাধানের জন্য আলোচনা অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বজায় রাখার পাশাপাশি ছাত্রদের মত প্রকাশের অধিকার রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনার দিকে নজর রাখছে রাজ্য এবং জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষা মহল।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Thursday, 11 September 2025

ভাগ্যিস ছবিগুলোকে লাথি মারেনি’, সুকান্ত মজুমদারের পায়ের কাছে রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিমের ছবি প্রসঙ্গে আক্রমণ ব্রাত্যর

‘ভাগ্যিস ছবিগুলোকে লাথি মারেনি’, সুকান্ত মজুমদারের পায়ের কাছে রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিমের ছবি প্রসঙ্গে আক্রমণ ব্রাত্যর

‘ভাগ্যিস ছবিগুলোকে লাথি মারেনি’, সুকান্ত মজুমদারের পায়ের কাছে রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিমের ছবি প্রসঙ্গে আক্রমণ ব্রাত্যর

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

সুকান্ত মজুমদারের জনসভায় মনীষীদের ছবি
সুকান্ত মজুমদারের জনসভায় পায়ের কাছে রাখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্রাত্য বসুর।

ঘটনার সূত্রপাত

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-এর একটি জনসভার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় তাঁর পায়ের কাছে রাখা রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞার অভিযোগ তুলেছেন।

ব্রাত্য বসুর তীব্র আক্রমণ

ব্রাত্য বসু সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “বিজেপি কখনওই বাঙালির দল নয়। শান্তিনিকেতনের ফলক থেকে রবীন্দ্রনাথের নাম বাদ দেওয়া, সিলেবাস থেকে তাঁর লেখা বাদ দেওয়া কিংবা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা— সবই প্রমাণ করছে বাংলার সংস্কৃতি ও গর্বকে আঘাত করছে তারা।” তিনি আরও বলেন, “আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সবার উপরে রাখি। আর বিজেপি তাঁদেরকে পায়ের নীচে রাখে!”

তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “দিল্লির প্রভুদের তৈল মর্দনে এতই ব্যস্ত যে নিজেদের বাংলার ঐতিহ্যকে পর্যন্ত পরিত্যাগ করেছে। মনীষীদের ছবিতে ভাগ্যিস লাথি মারেনি।”

সংস্কৃতি বনাম রাজনীতি

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই ঘটনাকে শুধু একটি ছবি নয়, বরং বৃহত্তর সাংস্কৃতিক আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “বাংলার ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। অথচ বিজেপি ক্ষমতার লোভে দেবদেবীকেও কলুষিত করছে। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের নির্দেশ দিচ্ছেন প্যান্ডেলে সর্বত্র মোদীজির ছবি টাঙাতে হবে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪০ হাজারের বেশি দুর্গাপুজো কমিটিকে অর্থসাহায্য দিয়েছেন, কোথাও তাঁর ছবি ঝোলানোর নির্দেশ দেননি।”

বিজেপির পাল্টা চ্যালেঞ্জ

তৃণমূলের এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ করছি এই সভার ভিডিয়ো প্রকাশ করুক তৃণমূল। ভিডিয়োতেই বোঝা যাবে ছবিগুলো মোটেও আমার পায়ের কাছে ছিল না। আমি যেখানে কথা বলছিলাম সেখান থেকে অনেক দূরে রাখা ছিল। ভিডিয়ো প্রকাশ হলে থ্রি ডাইমেনশনাল ভিউ-তে বোঝা যাবে আমি যেখানে ছিলাম তার থেকে ছবিগুলো কত দূরে ছিল। পুরোটাই আসলে তৃণমূলের অপপ্রচার।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে শাসক-বিরোধী তরজা আরও তীব্র হয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি কেবল একটি ছবি ঘিরে বিতর্ক নয়। বরং বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এটি একটি প্রতীকী সংঘাত। একদিকে তৃণমূল বাংলা সংস্কৃতির রক্ষাকবচ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিজেপিকে সংস্কৃতি অবজ্ঞার দায়ে অভিযুক্ত করছে। একই সঙ্গে বিজেপি পাল্টা যুক্তি দেখাচ্ছে যে এটি অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে
© ২০২৫ Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

নেপালি কংগ্রেস নয়, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দায়ী! বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাটের অভিযোগ

নেপালি কংগ্রেস নয়, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দায়ী! বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাটের অভিযোগ

নেপালি কংগ্রেস নয়, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দায়ী! বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাটের অভিযোগ

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

সম্রাট চৌধরি
বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি – নেপালের অশান্তির জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করলেন।

কাঠমান্ডুতে সাম্প্রতিক অশান্তি, রক্তাক্ত পালাবদল এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য নেপালি কংগ্রেস নয়, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর নেতাদের দায়ী করলেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধরি। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খড়্গের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের ভুল নীতির কারণেই নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

সম্রাট চৌধরির বক্তব্য

সম্রাট বলেন, “কংগ্রেসের ভুলের জন্যই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এত বছর ধরে কংগ্রেস এসব দেশকে আলাদা রেখেছে। নেপাল যদি ভারতের অংশ হত, তবে সে দেশ সুখী ও সমৃদ্ধিশালী হত। নেপালের পাশাপাশি পাকিস্তানকেও ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে না পারা কংগ্রেসের ভুল।”

সম্রাটের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। কূটনৈতিক সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তাঁর মন্তব্য ভারতের সঙ্গে নেপালের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজেপির নির্দেশিকা

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের সব মন্ত্রী, সাংসদ এবং বিধায়কদের নেপাল বিষয়ে মন্তব্য করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নেপাল সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করার আগে বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডা-র কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। বিশেষভাবে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গসহ নেপাল সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির নেতাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

নেপালের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত ভাগ করা রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম বিহার হওয়ায় সম্রাটের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এটি শুধু রাজ্য রাজনীতির বিষয় নয়, বরং ভারতের প্রতিবেশী নীতির জন্যও তা একটি বড় সংকেত।

© ২০২৫ Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

নেপালের নেতৃত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে ‘শক্তিদাতা’ কুল মান ঘিসিং, কার হাতে ফিরবে স্থিরতা?

নেপালের নেতৃত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে ‘শক্তিদাতা’ কুল মান ঘিসিং, কার হাতে ফিরবে স্থিরতা?

নেপালের নেতৃত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে ‘শক্তিদাতা’ কুল মান ঘিসিং, কার হাতে ফিরবে স্থিরতা?

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কুল মান ঘিসিং, নেপালের সম্ভাব্য নেতৃত্ব

ছবি: নেপালের বিদ্যুৎ সংকট দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া কুল মান ঘিসিং

রাজনৈতিক শূন্যতায় নতুন নাম উঠে আসছে

তিন দিনের হিংসাত্মক আন্দোলনের পর কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগ নেপালের রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে গেছে। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা তরুণ প্রজন্ম রাতারাতি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি-র নাম অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে প্রস্তাব করলেও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে আরেক গুরুত্বপূর্ণ নাম—কুল মান ঘিসিং, যিনি নেপালের বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

‘শক্তিদাতা’ হিসেবে জনপ্রিয় কুল মান ঘিসিং

জেন জি বিপ্লবীদের একাংশের মতে, কুল মান ঘিসিং “একজন দেশপ্রেমী, সবার পছন্দের।” যদিও কারকির নাম আগে আলোচিত হচ্ছিল, হঠাৎই ঘিসিংয়ের নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান তাঁকে তরুণদের কাছে আস্থার মুখ করে তুলেছে।

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে অবদান

নেপালের দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে কুল মান ঘিসিংয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি তাঁকে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (NEA)-এর অধিকর্তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়নি। ঘিসিং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে একাধিক উদ্যোগ নিয়ে জনগণের সমর্থন অর্জন করেন। তাঁর দক্ষতা ও পরিষ্কার ভাবমূর্তি এখন তাঁকে নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

কারকির নাম প্রস্তাব হলেও আন্দোলনকারী তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে মতভেদ বাড়ছে। সেনা ও আন্দোলনকারীরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ইতিমধ্যেই কারকির সঙ্গে সেনার আলোচনা শুরু হলেও ঘিসিংয়ের নাম নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—নেপালের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে?

অন্তর্বর্তী সরকারের দৌড়ে কারা?

নেপালের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় বর্তমানে যেসব নাম উঠে আসছে:

  • সুশীলা কারকি: প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির জন্য জনপ্রিয়
  • কুল মান ঘিসিং: বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব
  • বলেন্দ্র শাহ: কাঠমান্ডুর মেয়র
  • হারকা সামপাং: ধারানের মেয়র
  • রবি লামিছানে: প্রাক্তন সাংবাদিক

রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের আশা

নেপালের সাধারণ জনগণ এখন স্থিতিশীল নেতৃত্বের আশায় দিন গুনছে। দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর তাঁদের ভরসা। জেন জির আন্দোলন শুধু সরকারের পতন ঘটায়নি, বরং জনগণের মধ্যে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আশাও জাগিয়েছে। কুল মান ঘিসিংকে তারা দেখতে চাইছে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে।

হিংসার পটভূমি

গত সোমবার কেপি শর্মা ওলির সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু হয়। পরদিন মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগ করেন। আন্দোলনের উত্তাপে বহু নেতামন্ত্রীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, রাস্তায় তাঁদের মারধর করা হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে সেনার নিয়ন্ত্রণে। ভারতসহ আন্তর্জাতিক মহল এই অস্থিরতার দিকে নজর রাখছে।

আগামী পথ কোনদিকে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেপালের নেতৃত্ব সংকট দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও দুর্বল হতে পারে। তরুণদের ঐক্য বজায় রাখা এবং পরিষ্কার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নেপাল ভবিষ্যতের দিকে এগোতে পারবে। তবে মতভেদ বাড়লে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

জেন জির দ্বন্দ্বে নেপাল অনিশ্চিত: কার নেতৃত্বে ফিরবে স্থিরতা?

জেন জির দ্বন্দ্বে নেপাল অনিশ্চিত: কার নেতৃত্বে ফিরবে স্থিরতা?

জেন জির দ্বন্দ্বে নেপাল অনিশ্চিত: কার নেতৃত্বে ফিরবে স্থিরতা?

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নেপালের তরুণ বিপ্লবীদের বৈঠক

ছবি: নেপালের তরুণ বিপ্লবীরা নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করছেন

জেন জির বিপ্লবে সরকারের পতন

নেপালে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিপ্লব দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে। গোটা সরকার পদত্যাগ করেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে প্রাক্তন বিচারপতি সুশীলা কারকির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও তিনি এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন এবং সেনার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন, তবুও তরুণদের মধ্যেই নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

তরুণদের মধ্যে ‘গৃহযুদ্ধ’?

যে জেন জি দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের মুখ হয়ে উঠেছিল, সেই তরুণদের মধ্যেই এখন মতভেদ চরমে। কেউ চাইছেন বর্তমান সংসদ ভেঙে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নতুন শাসন কাঠামো তৈরি হোক। অন্যদিকে একাংশ বলছেন তাঁরা সরকারের অংশ হবেন না, বরং নজরদারির মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের দাবি তুলবেন। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে একমত হতে পারছেন না বিপ্লবীরা।

আত্মসম্মান ও ঐক্যের আহ্বান

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তরুণ বিপ্লবীরা জানিয়েছেন, “কোনও রাজনৈতিক দল যেন এই বিদ্রোহের সুযোগ না নেয়। আমাদের আত্মসম্মান বজায় রেখে দেশের অখণ্ডতা ও ঐক্য রক্ষা করতে হবে। নেপালি জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষায় সচেষ্ট।

নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধের বিস্তার

কার নেতৃত্বে নেপালের শাসনভার নেওয়া হবে তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সুশীলা কারকির নাম আলোচনায় এলেও আন্দোলনকারীদের মধ্যে একমত হতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি সেনাপ্রধান এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারকির পাশাপাশি আরও চারজনের নাম উঠে এসেছে—

  • কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ
  • ধারানের মেয়র হারকা সামপাং
  • প্রাক্তন সাংবাদিক রবি লামিছানে
  • নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির অধিকর্তা কুল মান ঘিসিং

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি গত মঙ্গলবার পদত্যাগ করার পর দু’দিন কেটে গেলেও নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে মতভেদ কাটেনি। সেনা ও তরুণ বিপ্লবীদের আলোচনায় সমাধান না আসায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মতবিরোধ যদি আরো গভীর হয় তবে নেপাল আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

নেপালের জন্য এক কঠিন মোড়

বিশ্বের নজর এখন নেপালের দিকে। একদিকে তরুণদের আশাবাদী নেতৃত্ব দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে চায়। অন্যদিকে মতভেদের কারণে অনিশ্চয়তার ছায়া। যে দেশ পাহাড়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবির পাশাপাশি ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তরুণদের বুঝতে হবে।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

নেপালের এই রাজনৈতিক সংকট আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই তরুণ নেতৃত্বের উদ্দীপনা প্রশংসা করলেও স্থিরতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিদেশি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতৃত্ব সংকট দ্রুত সমাধান না হলে দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।

আগামী দিনে নজর রাখার বিষয়

  • অন্তর্বর্তী সরকারের চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্বাচন হবে কি না।
  • তরুণ বিপ্লবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগোবেন নাকি মতবিরোধ বাড়বে।
  • সেনা, প্রেসিডেন্ট এবং আন্দোলনকারীদের আলোচনার অগ্রগতি।
  • সংবিধান সংশোধনের দাবি কতটা বাস্তবায়িত হবে।
  • নেপালের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কতটা ভূমিকা রাখবে।

নেপালের তরুণ প্রজন্মের হাতে পালাবদলের স্বপ্ন থাকলেও, নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ তাদের সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করছে ঐক্যের ওপর।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

রাষ্ট্রসংঘে সুইজারল্যান্ডের খোঁচায় পাল্টা দিল ভারত, পাকিস্তানকেও আক্রমণ

রাষ্ট্রসংঘে সুইজারল্যান্ডের খোঁচায় পাল্টা দিল ভারত, পাকিস্তানকেও আক্রমণ

রাষ্ট্রসংঘে সুইজারল্যান্ডের খোঁচায় পাল্টা দিল ভারত, পাকিস্তানকেও আক্রমণ

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

রাষ্ট্রসংঘে ভারত সুইজারল্যান্ডের খোঁচায় পাল্টা জবাব দিচ্ছে

ছবি: রাষ্ট্রসংঘে আলোচনার সময় ভারতীয় প্রতিনিধির পাল্টা বক্তব্য

রাষ্ট্রসংঘে বিতর্কের সূত্রপাত

রাষ্ট্রসংঘে সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি ভারতের সংখ্যালঘু অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “ভারতে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা উচিত এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ভারতকে উদ্যোগী হতে হবে।” সুইজারল্যান্ডের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও ভারত পাল্টা জবাব দিতে পিছিয়ে থাকেনি।

ভারতের পাল্টা বার্তা

ভারতের প্রতিনিধি ক্ষিতিজ তিয়াগি সুইজারল্যান্ডের বক্তব্যের তীব্র জবাব দেন। তিনি বলেন, “বর্ণবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য এবং গোষ্ঠীভীতির মতো সমস্যায় জর্জরিত সুইজারল্যান্ড। তাদের উচিত আগে নিজ দেশের সমস্যাগুলি সমাধান করা।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় গণতন্ত্র ভারত। বহুত্ববাদের ভিত্তিতে এখানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই অন্য দেশের কাছ থেকে উপদেশ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।”

ভারতের সহায়তার বার্তা

ক্ষিতিজ তিয়াগি আরও জানান, “ভারতের দরজা সবসময় খোলা আছে। যদি সুইজারল্যান্ড সত্যিই তাদের সমস্যাগুলি সমাধান করতে চায়, ভারত তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।” তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি করেছে।

পাকিস্তানকেও আক্রমণ

সুইজারল্যান্ডের পাশাপাশি পাকিস্তানকেও আক্রমণ করেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, “পহেলগাঁও হামলার যোগ্য জবাব আমরা দিয়েছি। সন্ত্রাসে মদত দেওয়া কোনও দেশের কাছ থেকে আমরা উপদেশ শুনতে রাজি নই। সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কোনও দেশের নির্দেশ গ্রহণ করব না। ভারত তার নাগরিকদের রক্ষায় অটল সংকল্প নিয়ে এগোবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনও আপস করবে না।” তিনি আরও পাকিস্তানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে তোপ দাগেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টা বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করবে। সংখ্যালঘু অধিকার বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না ভারতের নেতৃত্ব। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভারতীয় কূটনীতির কঠিন বার্তা।

ভারতের বহুত্ববাদের ওপর জোর

ভারতের প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন, ভারতের গণতন্ত্র বহুত্ববাদকে সম্মান করে। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ মিলেমিশে বাস করেন। আন্তর্জাতিক মহলে এই বার্তা ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সংখ্যালঘু সুরক্ষায় ভারতের অবস্থান

সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় ভারত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আইন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ক্ষিতিজ তিয়াগির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরে থেকে নির্দেশ বা সমালোচনা গ্রহণের প্রয়োজন নেই। বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলে ভারত তা দিতে প্রস্তুত।

আগামী দিনের সম্ভাবনা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমালোচনার মুখেও ভারতের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেশীয় ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

৩২০০০ চাকরি বাতিল মামলায় বাড়তি ৫ নম্বরের সওয়াল, প্রশিক্ষিত বনাম অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের নিয়োগে নতুন টানাপোড়েন

৩২০০০ চাকরি বাতিল মামলায় বাড়তি ৫ নম্বরের সওয়াল, প্রশিক্ষিত বনাম অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের নিয়োগে নতুন টানাপোড়েন আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ প্রতিবেদন: কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক আবারও নতুন মোড় নিল। ২০২৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগে অপ্রশিক্ষিতদের চাকরি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ে ৪২ হাজার নিয়োগের মধ্যে ৩২ হাজার চাকরি বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলাকারীরা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে নতুন দাবি তুলেছেন—অ্যাপটিটিউড টেস্টের জন্য অপ্রশিক্ষিতদের বাড়তি ৫ নম্বর দেওয়া হোক অথবা সবার এই নম্বর শূন্য করে দেওয়া হোক। এতে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই পরীক্ষায় ১৫ নম্বর বেশি পেয়েছেন, ফলে অপ্রশিক্ষিতদের অতিরিক্ত সুযোগ না দিলে তারা চাকরির যোগ্যতা হারাবেন। মামলার পটভূমি ২০২৩ সালে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার নিয়ম ভেঙে অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই নিয়োগের বৈধতা নিয়ে মামলা হয়। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে তদন্তের পর ৩২ হাজার চাকরি বাতিল করা হয়। আদালতের মতে, নিয়ম লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়া শিক্ষকদের চাকরি রাখা যায় না। মামলাকারীদের নতুন দাবি ডিভিশন বেঞ্চে মামলাকারীদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন— ✔ অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীরা অ্যাপটিটিউড টেস্টে সুযোগ পাননি। ✔ প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর পেয়েছেন। ✔ এই পরিস্থিতিতে অপ্রশিক্ষিতদের জন্য অন্তত ৫ নম্বর যোগ করা হোক, অথবা সকলের জন্য এই অংশ শূন্য করে দেওয়া হোক। ✔ এতে অনেক কম সংখ্যক প্রার্থী চাকরি হারাবেন এবং বাস্তবিক সমাধান আসবে। মামলাকারীরা আদালতে বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা দরকার, তবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও জরুরি। নিয়ম ভাঙার দায় নির্ধারণ করলেও সব অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীর জীবন নষ্ট করা উচিত নয়।” আদালতের পরবর্তী শুনানি ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি স্থির করেছে ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে। সেখানে আদালত মামলার আইনি ও মানবিক দিক বিচার করবে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত শিক্ষাঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। শিক্ষাঙ্গনের প্রতিক্রিয়া এই মামলার আলোচনায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ✔ কেউ বলছেন, দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ✔ আবার অনেকে মানবিক কারণ তুলে ধরে অপ্রশিক্ষিতদের জন্য নম্বর বাড়ানোর দাবিকে সমর্থন করছেন। ✔ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে এই মামলা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। শাসক দল দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও বিরোধীরা মানবিক কারণ তুলে ধরছে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মত শিক্ষাবিদরা বলছেন, “পরীক্ষায় যোগ্যতা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুর্নীতির কারণে শিক্ষকদের জীবনের উপর প্রভাব পড়লে তা গভীর সামাজিক সংকটে পরিণত হতে পারে। আদালতের উচিত মানবিক দিকও বিবেচনা করা।” আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার চূড়ান্ত রায় শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ আইনকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন দিশা তৈরি হতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিতর্ক: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কটূক্তির অভিযোগে ছাত্রনেতা সেন্সর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিতর্ক: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কটূক্তির অভিযোগে ছাত্রনেতা সেন্সর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিতর্ক: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কটূক্তির অভিযোগে ছাত্রনেতা সেন্সর

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেখানে ছাত্র আন্দোলন ও বিতর্কের সূত্রপাত

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ঘটনার পটভূমি

গত ২৮শে অগাস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এই পরীক্ষার সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ এবং অশিক্ষক কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়ায়। তাঁরা দাবি জানান পরীক্ষার দিন পরিবর্তনের। তাঁদের যুক্তি ছিল, প্রতিষ্ঠা দিবসে ছাত্রদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে এবং তা ছাত্র রাজনীতির পরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য শান্তা দত্ত তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন পরীক্ষার দিন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আন্দোলনের পথে হাঁটেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিরূপ চক্রবর্তী, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত।

কী অভিযোগ উঠল অভিরূপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে

অভিরূপ চক্রবর্তী উপাচার্য শান্তা দত্তকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করেন এবং তাঁকে ‘বুঝে নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দেন। শুধু তাই নয়, যাঁরা উপাচার্যকে সমর্থন করছেন তাদেরও হুমকি দেন। এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অভিযোগ ওঠে যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি পৌঁছানোর পর তদন্ত শুরু হয়। প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে সেন্সরের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সেন্সর করা হয়েছে। এর অর্থ হল:

  • তিনি আর কোনো কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন না।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক বা প্রশাসনিক কোনও কার্যকলাপে যুক্ত হতে পারবেন না।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না।
  • দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির আবেদনেও তাঁর বাধা সৃষ্টি হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা রক্ষার জন্য এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে, তবে তা প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপাচার্যকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা এবং তাঁকে ও তাঁর সহযোগীদের হুমকি দেওয়া শিক্ষাঙ্গনের মূল্যবোধের পরিপন্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, যারা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেয় তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়ে, তবে তা যেন আইনবিরুদ্ধ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্য।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

এই ঘটনার মধ্যে রাজনীতির ছায়া স্পষ্ট। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ রাজ্যের শাসক দলের ছাত্র সংগঠন। তাদের প্রতিষ্ঠা দিবসে পরীক্ষা হওয়ায় ছাত্রদের মধ্যে প্রতিবাদের সুর ওঠে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষা স্থগিত করতে রাজি হয়নি। এর ফলে সংঘাত তীব্র হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতি অনেক সময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয় এবং তা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে। তবে একই সঙ্গে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় না ঘটলে সংঘাত বাড়ে। অভিরূপ চক্রবর্তীর আচরণ এই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

শিক্ষাবিদদের প্রতিক্রিয়া

অনেক শিক্ষাবিদ এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের অধিকার থাকা উচিত। তবে সেটি যেন আক্রমণাত্মক না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষও যুক্তি দিয়েছেন যে শিক্ষাঙ্গনের শান্তি বজায় রাখতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, “ছাত্রদের প্রতিবাদ স্বাভাবিক, কিন্তু নেতৃত্বের দায়িত্ব আরও বড়। আবেগের বশবর্তী হয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে। অভিরূপের ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে।”

পরবর্তী কী হতে পারে?

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সেন্সরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে না। তবে অভিরূপ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। আপিলের ভিত্তিতে তাঁর শাস্তির মেয়াদ কমানো বা স্থগিত করার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন পড়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতারা ঘটনাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

ছাত্রদের মধ্যে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া

কিছু ছাত্র বলছে, অভিরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্য অনভিপ্রেত হলেও পরীক্ষার সময় নির্ধারণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যুক্তিসঙ্গত ছিল। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, উপাচার্যকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া শিক্ষাঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকেই চাইছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে আগাম আলোচনা করবে। ছাত্রদের মতামত নিয়েই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হোক—এমন দাবি উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্ররাজনীতির জন্য শিক্ষণীয় ঘটনা

এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্র সংগঠন এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক কার্যকলাপ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও তা যেন শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত না করে তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের আবেগের সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত আচরণ ও সহনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনকে ছাত্রদের কথা শুনতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী সংলাপ ব্যবস্থা গড়ে তুললে এ ধরনের সংঘাত কমানো সম্ভব হবে। ছাত্রদের শিক্ষার পরিবেশ এবং মত প্রকাশের অধিকার দুটোই সমানভাবে রক্ষা করা উচিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

শুধু আধার কার্ডে হবে না ভোটার তালিকা! বাংলায় শুরু হচ্ছে SIR অভিযান

শুধু আধার কার্ডে হবে না ভোটার তালিকা! বাংলায় শুরু হচ্ছে SIR অভিযান

শুধু আধার কার্ডে হবে না ভোটার তালিকা! বাংলায় শুরু হচ্ছে SIR অভিযান

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

SIR নিয়ে বাংলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত

ছবি: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ বৈঠক নিয়ে আলোচনা

কেন শুধু আধার কার্ডে নাম উঠবে না ভোটার তালিকায়?

নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন বা SIR-এর আওতায় ভোটার তালিকা সংশোধন করা হবে। বিহারের ধাঁচেই এখানে প্রয়োগ হতে যাচ্ছে এই পদ্ধতি। বিহারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে আধার কার্ডকে অতিরিক্ত একটি নথি হিসেবে যুক্ত করা হলেও, একমাত্র আধার কার্ডের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলা সম্ভব নয়।

বিহারে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে আধার কার্ডের পাশাপাশি আরও ১১টি ডকুমেন্টের যে কোনও একটি জমা দিতে হয়। পশ্চিমবঙ্গেও একই নিয়ম প্রয়োগ হতে চলেছে বলে নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই সংশোধনের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে।

রাজ্যের প্রস্তুতি এবং নির্বাচন কমিশনের বৈঠক

সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে এসআইআর নিয়ে আলোচনা হয় এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে নির্বাচনী সংশোধনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং পশ্চিমবঙ্গেও অক্টোবরের যে কোনও দিন SIR শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেষবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হয়েছিল ২০০২ সালে। সেই তালিকাকে ভিত্তি ধরে কমিশন এবার সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। যেখানে কোনও কেন্দ্রের তালিকা অনুপস্থিত হলে ২০০৩ সালের খসড়া তালিকাকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হতে পারে।

জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন

বিহারে এসআইআর নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি জাতীয় রাজনীতির আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও এই বিতর্কের ছায়া পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে—বিশেষ করে কোন কোন ডকুমেন্ট গ্রহণ করা হবে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হবে, এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলির ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলায় এসআইআর নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা

এসআইআর শুরু হলে নাগরিকদের নিম্নলিখিত কাজ করতে হবে:

  • আধার কার্ডের পাশাপাশি অন্যান্য বৈধ নথি প্রস্তুত রাখতে হবে।
  • নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হবে।
  • অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলেও সরাসরি ভোটার কেন্দ্রেও আবেদন করা যাবে।
  • ভোটার তালিকা সংশোধনের শেষ তারিখের আগে আবেদন জমা দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কোনও সমস্যা না হয়।

আগামী পথ

এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা, সমর্থন এবং সন্দেহ—সব মিলিয়ে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হলেও, যথাযথ স্বচ্ছতা ও নাগরিকদের সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী মাসগুলোতে বাংলায় এসআইআর নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ভারতে লুকিয়ে নাশকতার ছক? পাঁচ সন্দেহভাজন আইএসআইএস জঙ্গি গ্রেফতার

ভারতে লুকিয়ে নাশকতার ছক? পাঁচ সন্দেহভাজন আইএসআইএস জঙ্গি গ্রেফতার

ভারতে লুকিয়ে নাশকতার ছক? ফের দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে গ্রেফতার পাঁচ সন্দেহভাজন জঙ্গি

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস-এর সক্রিয় সদস্য। তারা ভারতে লুকিয়ে বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজ পরিচালনা করছিল। এমনকি সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার লক্ষ্যে একাধিক অনলাইন গ্রুপও পরিচালনা করত ওই পাঁচ ধৃত।

দিল্লি পুলিস সূত্রে খবর, গতকাল বুধবার মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং দিল্লি পুলিসের যৌথবাহিনী দিল্লি-সহ ভারতের একাধিক রাজ্যে তল্লাশি অভিযান চালায়। এরপরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আটক করা হয় তাদের। পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে রাজধানী দিল্লি থেকে, বাকি তিনজনকে মধ্যপ্রদেশ, হায়দ্রাবাদ ও রাঁচি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক বৈদ্যুতিন যন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি। পাশাপাশি বিপুল অস্ত্র এবং আইইডি তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া রাসায়নিক দ্রব্য তদন্তকারীদের প্রাথমিকভাবে মনে করাচ্ছে যে বিস্ফোরক তৈরির কাজে এগুলি ব্যবহার করা হত। উৎসবের মরশুমেই বড় ধরনের নাশকতার ছক ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

সূত্রের আরও খবর, আটক পাঁচজনই সমাজমাধ্যমে একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখত পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে। তলেতলে ভারতের তরুণ-যুব সমাজের ছেলে-মেয়েদের টার্গেট করে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টাও চালানো হত। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এরকম আরও অনেক জঙ্গি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে থাকতে পারে। তাদের খুঁজে বের করতে নতুন তল্লাশি অভিযান শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গতকালই দিল্লি পুলিস এবং ঝাড়খণ্ড এটিএসের যৌথ অভিযানে ঝাড়খণ্ড ও দিল্লি থেকে দানিশআফতাব নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে দেশের একাধিক রাজ্যে অভিযান চালানো হয়।

© ২০২৫ Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো. সকল অধিকার সংরক্ষিত।

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog