শান্তাকে 'চ্যালেঞ্জ' অভিরূপের, CU-তে সেন্সর নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ছাত্রনেতা অভিরূপ চক্রবর্তী উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর, ছাত্ররাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেসেন্সরের ঘোষণা এবং ছাত্ররাজনীতির বিস্ফোরণ
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে ছাত্ররাজনীতির উত্তেজনা ছড়িয়েছে। TMCP-এর সাধারণ সম্পাদক অভিরূপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উপাচার্য শান্তা দত্ত কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ এনে পাঁচ বছরের জন্য সেন্সর জারি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপাচার্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে বক্তব্য দেওয়ায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্তের পরেই ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অভিরূপ চক্রবর্তী পাল্টা আক্রমণ করে উপাচার্য শান্তা দত্তকে 'কেয়ারটেকার ভিসি' বলে কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন যে, তাঁকে এবং তাঁর মতাদর্শকে দমানোর জন্য বিভিন্ন অধ্যাপককে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমার কণ্ঠরোধ করা যাবে না। গলা কেটে দিলেও ‘জয় বাংলা’ এবং ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ বের হবেই।” এই বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও উত্তেজনা তৈরি করেছে।
শান্তা দত্তের অবস্থান
উপাচার্য শান্তা দত্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, “শিক্ষার মর্যাদা রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ছাত্রদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ থাকা উচিত, কিন্তু তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্টের দিকে না যায়।” তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছে, এই সেন্সর শুধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, ছাত্র রাজনীতির মতপ্রকাশের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। TMCP-র অন্যান্য নেতারা অভিরূপের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “এটি শিক্ষার স্বাধীনতার ওপর আঘাত। ছাত্রদের বক্তব্যকে দমন করার চেষ্টা চলছে।” তারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহে প্রতিবাদ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মতামত
সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ শান্তা দত্তের পদক্ষেপকে শৃঙ্খলার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতর্ক থাকা উচিত, কিন্তু তা যেন ব্যক্তিগত বিদ্বেষে না গড়ায়। অন্যদিকে, বড় অংশের ছাত্রছাত্রী এই সেন্সরকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। তাঁরা বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হলো মতাদর্শ বিনিময়ের জায়গা। এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়বে।”
রাজ্যের রাজনীতির প্রভাব
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে এই ঘটনায় সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অভিরূপ চক্রবর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর অগাধ সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দিক থেকে শাসক দলের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বিরোধী দলগুলির দাবি, এই ধরনের বক্তব্য শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির অস্বাস্থ্যকর প্রভাব বিস্তার করছে। তাঁরা বলেন, “শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় মনোনিবেশ করানোর বদলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম শৃঙ্খলার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করা। অন্যদিকে ছাত্র সংগঠনগুলিরও দায়িত্বশীলভাবে মত প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাঁরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করতে পারে এবং ছাত্রদের মনোসংযোগ বিচ্যুত হতে পারে।
আগামী দিনের পরিস্থিতি
বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। সেন্সরের বিরুদ্ধে ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিবাদ বাড়লে প্রশাসনকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। আবার অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়। তবে অভিরূপ চক্রবর্তীর মতো ছাত্র নেতাদের বক্তব্য যদি আরও আক্রমণাত্মক হয়, তবে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়বে।
উপসংহার
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তা দত্ত বনাম অভিরূপ চক্রবর্তী ঘটনাটি শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়লেও সমাধানের জন্য আলোচনা অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বজায় রাখার পাশাপাশি ছাত্রদের মত প্রকাশের অধিকার রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনার দিকে নজর রাখছে রাজ্য এবং জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষা মহল।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন