যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের রহস্যমৃত্যু, ছাত্রী উদ্ধার ঝিলপাড় থেকে
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিলপাড় থেকে ইংরেজি বিভাগের ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয় অচৈতন্য অবস্থায়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেঘটনার বিস্তারিত
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আবারও এক রহস্যমৃত্যু নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিলপাড় এলাকা থেকে ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন তুলেছে।
প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী সকালে ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই ক্যাম্পাসের নিরিবিলি এলাকায় যান। এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা পরবর্তীতে ঝিলপাড়ের কাছে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।
অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, আরও তিন ছাত্রী অসুস্থ
এই ঘটনার কিছু সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে দু’জন বমি এবং মাথা ঘোরা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা তাঁদের পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তবে তাঁরা আপাতত স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই এই ঘটনার জন্য প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন। একজন ছাত্র বলেন, “আমরা অনেকবার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছি। নিরিবিলি এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি নেই। আজ যে ঘটনা ঘটল তাতে প্রমাণ হল আমাদের দাবি কতটা যুক্তিসঙ্গত।” আরেকজন ছাত্রী জানান, “ক্যাম্পাসের পরিবেশ আগের মতো নিরাপদ নেই। আমরা চাই তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ হোক।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তদন্ত চলছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করা হয়েছে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সে জন্য ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
পুলিশের তদন্ত শুরু
স্থানীয় থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। ছাত্রীটির পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
গত কয়েক বছরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক রহস্যমৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের নিরিবিলি এলাকাগুলি যথেষ্ট আলো এবং নিরাপত্তার আওতায় নেই। অনেক সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা সীমিত থাকে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার দাবি তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনার পরে ক্যাম্পাসে মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন কেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরি।
রাজ্য রাজনীতির প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরই রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিরাপত্তা এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শাসক দল শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী দল এই ঘটনাকে প্রশাসনের ব্যর্থতা বলে চিহ্নিত করেছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, “শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা দরকার। নিরাপত্তা জোরদার না হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়বে।”
বিশেষজ্ঞদের মতামত
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনার পরে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং কাউন্সেলিং পরিষেবা চালু করা গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাড়ালেই হবে না, শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।
উপসংহার
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও এক রহস্যমৃত্যু শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা এবং ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। প্রশাসন, পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন