Sample Video Widget

Seo Services

Friday, 12 September 2025

মণিপুর সফরে মোদী: শোক ভুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ

মণিপুর সফরে মোদী: শোক ভুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ

মণিপুর সফরে মোদী: শোক ভুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

মণিপুরে প্রতিবাদ

মণিপুর সফরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে গাংতে ও মার সংগঠন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে উত্তাল রাজ্য।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য

মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংঘর্ষের ৮৬৪ দিন পর রাজ্যে তাঁর আগমন শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতেই সীমাবদ্ধ থাকায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ তুলেছে যে, এই সফর শোক ভাগ করা বা পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীলতা দেখানোর জন্য নয়। বরং এটি যেন এক ধরনের উপেক্ষার বার্তা।

গাংতে ও মার সংগঠনের প্রতিবাদ

গাংতে এবং মার সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফর বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, “মণিপুরের মানুষ এখনো আতঙ্কের মধ্যে বাস করছেন। বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, ধর্মস্থানে হামলা, এবং নারীদের উপর নিপীড়নের ঘটনা এখনো থামেনি। এই পরিস্থিতিতে নাচগানের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বার্তা নয়, এটি একটি নৈতিক ব্যর্থতা।” সংগঠনগুলির নেতৃত্ব দাবি করছে যে কেন্দ্রের কাছে তাঁদের বারবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হলেও তেমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

কংগ্রেসের তীব্র প্রতিক্রিয়া

কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে অন্তত ২৫৮ জন নিহত হয়েছেন। ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। প্রায় পাঁচ হাজার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় স্থাপনাগুলি ভাঙচুর করা হয়েছে। নারীদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যখন মানুষের শোক গভীর, তখন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন। এটি এক লজ্জাজনক ঘটনা।” তিনি আরও বলেন, “মণিপুরের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ দেখানো উচিত ছিল। শোক ভাগ করে নেওয়ার পরিবর্তে উৎসবের মতো আচরণ করা কেন্দ্রের চরম অবহেলার পরিচয়।”

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে মুখর হয়েছে। তাঁদের মতে, সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো সবচেয়ে জরুরি। অথচ প্রশাসনিক স্তরে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কিছু সংগঠনের বক্তব্য, “এই সফরের মাধ্যমে রাজ্যের সংকটকে আড়াল করা হচ্ছে। মানুষের মুখ বন্ধ করতে চাওয়া হচ্ছে। এই সময়ে শোক ও বেদনার প্রতি সংবেদনশীল হওয়া উচিত।”

রাজ্যের সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

মণিপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে আসছেন, এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে। আবার অন্যরা এই সফরকে এক ধরনের উপহাস হিসেবে দেখছেন। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে বাস করছি। বাড়িঘর পুড়ে গেছে। আমাদের জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি করা আমাদের দুঃখের প্রতি অসম্মান।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর মূলত কেন্দ্র সরকারের জন্য একটি ‘ইমেজ ম্যানেজমেন্ট’ কৌশল হতে পারে। তাঁরা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, সংঘর্ষের দীর্ঘস্থায়ী হওয়া এবং তাতে নাগরিকদের দুর্দশা বাড়লেও কেন্দ্রের কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া নিয়ে বিরোধিতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এতে বিপরীত প্রতিক্রিয়াও তৈরি হতে পারে।

মণিপুরের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ না নিলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তাঁদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে অর্থনৈতিক সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্য সাপোর্ট এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি, সামাজিক ঐক্য বজায় রাখতে সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ বাড়ানো উচিত। সরকারের প্রতি তাঁদের আহ্বান, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য সংকটকে ব্যবহার না করে প্রকৃত সমাধানের দিকে এগোতে হবে।

উপসংহার

মণিপুরের দগদগে ক্ষত এখনও শুকায়নি। হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত, বহু পরিবার নিঃস্ব। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর এবং একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রতিবাদ এবং ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। প্রশাসনের প্রতি নাগরিকদের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে হলে শোক ভাগ করে নেওয়া, সংবেদনশীলতা দেখানো এবং মানবাধিকার রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়াই একমাত্র পথ। বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog