কোচবিহারে ৭৩টি ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের ছড়াছড়ি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
কোচবিহার পুরসভায় একসঙ্গে ৭৩টি ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ধরা পড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেডিজিটালাইজেশনের আড়ালে ভুয়ো নথির ছড়াছড়ি
কোচবিহার পুরসভায় নাগরিক পরিষেবা উন্নত করতে বহুদিন ধরেই ডিজিটালাইজেশন চলছে। নাগরিকদের জন্ম শংসাপত্র, মৃত্যু শংসাপত্রসহ বিভিন্ন নথিকে অনলাইনে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ভুয়ো নথি জমা পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন এক-দুটো করে ধরা পড়লেও সম্প্রতি সংখ্যাটি আচমকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩-এ। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
অগস্ট মাসে সর্বাধিক ভুয়ো নথি ধরা
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে অগস্ট মাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র শনাক্ত হয়। কারণ, রাজ্যে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া শুরুর আগেই নাগরিকরা দ্রুত নথি জমা দিতে ছুটেছেন। ফলে যাচাই না করেই একাধিক আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রশাসনের একাংশ মনে করছে। এই সুযোগেই অনেকেই ভুয়ো তথ্য দিয়ে নথি তৈরির চেষ্টা করেছেন।
নির্বাচনপূর্ব সময়ে উত্তপ্ত পরিবেশ
রাজ্যে শীঘ্রই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে জন্ম শংসাপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে অনিয়ম ধরা পড়ায় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভোটার তালিকা বা সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার জন্য ভুয়ো শংসাপত্র তৈরির চেষ্টা চলছে। প্রশাসন এই ঘটনা নিয়ে সতর্ক হলেও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে এখনো তেমন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
চিহ্নিত না হওয়া অভিযুক্তরা
পুরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এতগুলি ভুয়ো নথি জমা পড়লেও এখনও পর্যন্ত কাউকেই শনাক্ত করা যায়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের হয়নি। এই অবস্থায় নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? কেন যাচাই প্রক্রিয়ায় ত্রুটি রয়ে গেল? তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাইয়ের যে প্রক্রিয়া চালু হয়েছে, তা কতটা কার্যকর তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।
আমিনা আহমেদের দাবি ও বিতর্ক
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান আমিনা আহমেদ সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছেন, “ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রগুলিতে আমার নামে যে সই রয়েছে, সেগুলোর একটাও আমার সই নয়।” তাঁর এই বক্তব্যের পর বিতর্ক আরও বাড়ে। নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে প্রশাসনের অভ্যন্তরে কোথায় গাফিলতি হয়েছে? নথি যাচাইয়ের সময় কি নজরদারি ছিল না? কেউ কি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর নাম ব্যবহার করেছে? এই প্রশ্নগুলি এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা
রাজ্যের বিভিন্ন মহল থেকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্রগুলির প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্ম শংসাপত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। এটি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা, শিক্ষায় ভর্তি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া এবং নাগরিকত্ব প্রমাণ করা হয়। ফলে এই ধরনের অনিয়ম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি আবেদন যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য বায়োমেট্রিক বা মুখের ছাপের মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। নাগরিকদের সচেতন করাও জরুরি। কারণ, ভুয়ো নথির মাধ্যমে সুবিধা পেতে চাইলে তা শেষ পর্যন্ত আইনগত ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন