‘ভাগ্যিস ছবিগুলোকে লাথি মারেনি’, সুকান্ত মজুমদারের পায়ের কাছে রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিমের ছবি প্রসঙ্গে আক্রমণ ব্রাত্যর
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ঘটনার সূত্রপাত
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-এর একটি জনসভার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় তাঁর পায়ের কাছে রাখা রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞার অভিযোগ তুলেছেন।
ব্রাত্য বসুর তীব্র আক্রমণ
ব্রাত্য বসু সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “বিজেপি কখনওই বাঙালির দল নয়। শান্তিনিকেতনের ফলক থেকে রবীন্দ্রনাথের নাম বাদ দেওয়া, সিলেবাস থেকে তাঁর লেখা বাদ দেওয়া কিংবা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা— সবই প্রমাণ করছে বাংলার সংস্কৃতি ও গর্বকে আঘাত করছে তারা।” তিনি আরও বলেন, “আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সবার উপরে রাখি। আর বিজেপি তাঁদেরকে পায়ের নীচে রাখে!”
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “দিল্লির প্রভুদের তৈল মর্দনে এতই ব্যস্ত যে নিজেদের বাংলার ঐতিহ্যকে পর্যন্ত পরিত্যাগ করেছে। মনীষীদের ছবিতে ভাগ্যিস লাথি মারেনি।”
সংস্কৃতি বনাম রাজনীতি
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই ঘটনাকে শুধু একটি ছবি নয়, বরং বৃহত্তর সাংস্কৃতিক আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “বাংলার ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। অথচ বিজেপি ক্ষমতার লোভে দেবদেবীকেও কলুষিত করছে। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের নির্দেশ দিচ্ছেন প্যান্ডেলে সর্বত্র মোদীজির ছবি টাঙাতে হবে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪০ হাজারের বেশি দুর্গাপুজো কমিটিকে অর্থসাহায্য দিয়েছেন, কোথাও তাঁর ছবি ঝোলানোর নির্দেশ দেননি।”
বিজেপির পাল্টা চ্যালেঞ্জ
তৃণমূলের এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ করছি এই সভার ভিডিয়ো প্রকাশ করুক তৃণমূল। ভিডিয়োতেই বোঝা যাবে ছবিগুলো মোটেও আমার পায়ের কাছে ছিল না। আমি যেখানে কথা বলছিলাম সেখান থেকে অনেক দূরে রাখা ছিল। ভিডিয়ো প্রকাশ হলে থ্রি ডাইমেনশনাল ভিউ-তে বোঝা যাবে আমি যেখানে ছিলাম তার থেকে ছবিগুলো কত দূরে ছিল। পুরোটাই আসলে তৃণমূলের অপপ্রচার।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে শাসক-বিরোধী তরজা আরও তীব্র হয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি কেবল একটি ছবি ঘিরে বিতর্ক নয়। বরং বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এটি একটি প্রতীকী সংঘাত। একদিকে তৃণমূল বাংলা সংস্কৃতির রক্ষাকবচ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিজেপিকে সংস্কৃতি অবজ্ঞার দায়ে অভিযুক্ত করছে। একই সঙ্গে বিজেপি পাল্টা যুক্তি দেখাচ্ছে যে এটি অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন