জেন জির দ্বন্দ্বে নেপাল অনিশ্চিত: কার নেতৃত্বে ফিরবে স্থিরতা?
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: নেপালের তরুণ বিপ্লবীরা নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করছেন
জেন জির বিপ্লবে সরকারের পতন
নেপালে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিপ্লব দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে। গোটা সরকার পদত্যাগ করেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে প্রাক্তন বিচারপতি সুশীলা কারকির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও তিনি এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন এবং সেনার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন, তবুও তরুণদের মধ্যেই নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
তরুণদের মধ্যে ‘গৃহযুদ্ধ’?
যে জেন জি দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের মুখ হয়ে উঠেছিল, সেই তরুণদের মধ্যেই এখন মতভেদ চরমে। কেউ চাইছেন বর্তমান সংসদ ভেঙে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নতুন শাসন কাঠামো তৈরি হোক। অন্যদিকে একাংশ বলছেন তাঁরা সরকারের অংশ হবেন না, বরং নজরদারির মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের দাবি তুলবেন। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে একমত হতে পারছেন না বিপ্লবীরা।
আত্মসম্মান ও ঐক্যের আহ্বান
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তরুণ বিপ্লবীরা জানিয়েছেন, “কোনও রাজনৈতিক দল যেন এই বিদ্রোহের সুযোগ না নেয়। আমাদের আত্মসম্মান বজায় রেখে দেশের অখণ্ডতা ও ঐক্য রক্ষা করতে হবে। নেপালি জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষায় সচেষ্ট।
নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধের বিস্তার
কার নেতৃত্বে নেপালের শাসনভার নেওয়া হবে তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সুশীলা কারকির নাম আলোচনায় এলেও আন্দোলনকারীদের মধ্যে একমত হতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি সেনাপ্রধান এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারকির পাশাপাশি আরও চারজনের নাম উঠে এসেছে—
- কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ
- ধারানের মেয়র হারকা সামপাং
- প্রাক্তন সাংবাদিক রবি লামিছানে
- নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির অধিকর্তা কুল মান ঘিসিং
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি গত মঙ্গলবার পদত্যাগ করার পর দু’দিন কেটে গেলেও নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে মতভেদ কাটেনি। সেনা ও তরুণ বিপ্লবীদের আলোচনায় সমাধান না আসায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মতবিরোধ যদি আরো গভীর হয় তবে নেপাল আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
নেপালের জন্য এক কঠিন মোড়
বিশ্বের নজর এখন নেপালের দিকে। একদিকে তরুণদের আশাবাদী নেতৃত্ব দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে চায়। অন্যদিকে মতভেদের কারণে অনিশ্চয়তার ছায়া। যে দেশ পাহাড়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবির পাশাপাশি ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তরুণদের বুঝতে হবে।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
নেপালের এই রাজনৈতিক সংকট আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই তরুণ নেতৃত্বের উদ্দীপনা প্রশংসা করলেও স্থিরতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিদেশি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতৃত্ব সংকট দ্রুত সমাধান না হলে দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।
আগামী দিনে নজর রাখার বিষয়
- অন্তর্বর্তী সরকারের চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্বাচন হবে কি না।
- তরুণ বিপ্লবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগোবেন নাকি মতবিরোধ বাড়বে।
- সেনা, প্রেসিডেন্ট এবং আন্দোলনকারীদের আলোচনার অগ্রগতি।
- সংবিধান সংশোধনের দাবি কতটা বাস্তবায়িত হবে।
- নেপালের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কতটা ভূমিকা রাখবে।
নেপালের তরুণ প্রজন্মের হাতে পালাবদলের স্বপ্ন থাকলেও, নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ তাদের সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করছে ঐক্যের ওপর।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন