SSC নিয়োগ দুর্নীতির টাকা ফেরত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তাড়া, রাজ্যের ব্যাখ্যা চাইছে আদালত
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০০ IST
ছবির ক্যাপশন: স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতির শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের তাগিদে আলোড়ন ছড়িয়েছে রাজ্যে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বলবৎ, তবু টাকা ফেরত নয়
স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল—যাঁরা দাগি, যাঁরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের বেতন দ্রুত সুদসহ ফেরত দিতে হবে। এই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টেও বলবৎ রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে জেলাশাসকদের মাধ্যমে টাকা ফেরতের যে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, তা এখনও শুরু হয়নি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। আদালত জানতে চেয়েছে—কখন, কীভাবে টাকা ফেরতের কাজ শুরু হবে।
সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা
শুনানির সময় রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান, এখনও পর্যন্ত টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এই বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালত প্রশ্ন তোলেন, নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া শুরু হল না। রাজ্যকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় এবং দ্রুত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিরা বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ অর্থহীন হয়ে পড়বে।”
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে SSC
স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষায় দাগিদের উপস্থিতি নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠে। গত রবিবার নবম-দশমের পরীক্ষা হয়েছে, আগামী রবিবার একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষা। অভিযোগ আছে, কিছু অযোগ্য প্রার্থী পরীক্ষায় বসেছেন। সুপ্রিম কোর্ট এই অভিযোগের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে। আদালতের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা জরুরি।
রাজ্যের যুক্তি বনাম আদালতের অবস্থান
রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তদন্ত চলছে এবং সময় লাগছে। কিন্তু আদালত তা মানতে রাজি নয়। বিচারপতিরা স্পষ্ট বলেন, “দাগিদের টাকা ফেরত দেওয়া না হলে, এটি শুধু অর্থনৈতিক অনিয়ম নয়, যুব সমাজের ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।” আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্যের আইনজীবী বলেন, কখন এবং কীভাবে প্রক্রিয়া শুরু হবে তা জানানো হবে। আদালত আবারও জানিয়েছে—দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
দুর্নীতির সামাজিক প্রভাব
এই নিয়োগ দুর্নীতি শুধু কিছু ব্যক্তির আর্থিক সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বৃহত্তর সামাজিক বিশ্বাসের ওপর আঘাত হানছে। বহু শিক্ষার্থী বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় বসে, অথচ দুর্নীতির কারণে প্রকৃত যোগ্যরা সুযোগ হারাচ্ছে। অভিভাবকেরাও আতঙ্কিত। আদালতের ভাষায়, এটি “হাজার হাজার যুবকের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা।” ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রশাসনের সামনে চ্যালেঞ্জ
রাজ্য সরকারের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়েছে। প্রথমত, নির্দেশ মেনে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা। দ্বিতীয়ত, নতুন পরীক্ষায় অযোগ্য প্রার্থীদের প্রবেশ রোধ করা। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার, পরীক্ষায় কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুব সমাজের দাবি
চাকরির সুযোগ সীমিত হওয়ায় এবং দুর্নীতির কারণে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। বহু শিক্ষার্থী সুস্পষ্ট দাবি তুলেছেন—স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, দোষীদের শাস্তি দিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়ে আন্দোলনের আকারও নিয়েছে। আদালতের কঠোর মনোভাব যুব সমাজের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।
আগামী শুনানি ও আদালতের নির্দেশ
- রাজ্য সরকারকে দ্রুত টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
- প্রক্রিয়ার অগ্রগতি আদালতে জানাতে হবে।
- অযোগ্য প্রার্থীর পরীক্ষায় বসা নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
- স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে কঠোর পদক্ষেপ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
আইনজ্ঞরা বলছেন, আদালতের তাগিদ প্রশাসনের জন্য একটি সতর্কবার্তা। দেরি হলে শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, প্রশাসনের প্রতি আস্থাও নষ্ট হবে। অন্যদিকে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে কাজ করা গেলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির সুযোগ কমবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিরোধী দলগুলি এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করছে। তাদের বক্তব্য—রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা আদালতের কঠোর মনোভাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনরোষ বাড়বে।
পরবর্তী পদক্ষেপের প্রত্যাশা
বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের মতে, আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করা এবং পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধ করাই রাজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি বিভাগগুলিকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে এবং ডিজিটাল নজরদারি বাড়িয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। এছাড়া নাগরিকদের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট প্রকাশ করাও জরুরি।
এইভাবে সুপ্রিম কোর্টের তাগিদ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির গুরুত্ব আবার সামনে আনল।






















