Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Monday, 6 October 2025

দিল্লির আদর্শ নগরে হোটেলে ডেকে ১৮ বছরের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল অভিযোগ

দিল্লির আদর্শ নগরে হোটেলে ডেকে ১৮ বছরের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল অভিযোগ

দিল্লির আদর্শ নগরে হোটেলে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগ, ১৮ বছরের ডাক্তারি পড়ুয়া বলছেন— ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে

Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক | আপডেট: | রিপোর্টার: Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির আদর্শ নগরের একটি হোটেলে ডেকে এক ১৮ বছর বয়সি ডাক্তারি পড়ুয়াকে ধর্ষণ এবং পরে ভিডিও/ছবির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পলাতক মূল অভিযুক্তকে খুঁজছে।

ঘটনার সারমর্ম: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নির্যাতিতা এবং অভিযুক্ত উভয়ের বাড়ি হরিয়ানা, জিন্দে। পড়াশোনা সূত্রে তারা দিল্লির একটি হস্টেলে থাকতেন এবং তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্ব ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী ৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত ওই তরুণীকে আদর্শ নগরের একটি হোটেলে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে জোরপূর্বক মদ্যপ অবস্থায় রাখা হয় এবং পরে ধর্ষণ করা হয় বলে নির্যাতিতা অভিযোগ করেছেন। পরে রেকর্ড করা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে অভিযুক্ত তাঁকে প্রায় এক মাস ধরে যৌন কার্যকলাপে বাধ্য করে এবং ব্ল্যাকমেল করা হয়—এমনটাই বলা হচ্ছে অভিযোগপত্রে।

ব্ল্যাকমেল সহ্য করতে না পেরে নির্যাতিতা ঘটনাটি তাঁর পরিবারের কাছে জানান। এরপর গত বৃহস্পতিবার নির্যাতিতা একটি লিখিত অভিযোগে দিল্লি পুলিশে মামলা করেছেন। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল, হোটেল কর্মচারী ও ভিডিও-প্রমাণ যাচাইসহ মোবাইল কল ডিটেইলস সংগ্রহ করছেন।

পুলিশি উদ্যোগ ও তদন্ত

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পেয়ে আদর্শ নগর থানা এই ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ধারা যুক্ত করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, হোস্টেল-এ থাকার রেকর্ড, মোবাইল ফোন-সংক্রান্ত ডেটা ও অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত ওই যুবক এলাকায় নেই—তাই তাঁকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, "আমরা সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শেষ করে আইনগত ব্যবস্থা নেব। যেকোনো ধরনের ভয় দেখানো বা প্ররোচনার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেব।"

নির্যাতিতার সুরক্ষা ও সহায়তা

পরিবার ও স্থানীয় সেবা সংস্থাগুলো নির্যাতিতার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে মনসিক ও চিকিৎসাগত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেলে নির্যাতিতার নিরাপত্তা, আইনি পরামর্শ এবং মনোস্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করে দেয়া হবে বলে বলা হয়েছে।

আপনি যদি এধরনের কোনো তথ্য জানতে বা সহায়তা চান তবে:

  • অরিজিনাল থানায় অভিযোগ (আদর্শ নগর এলাকার সংশ্লিষ্ট থানা) করুন।
  • দরকার হলে মহিলা সেল বা ভিকটিম সাপোর্ট গ্রুপের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • জরুরি হটলাইন: আপনার স্থানীয় পুলিশের নম্বর/নারী হেল্পলাইন — আপনার পূর্ণসংখ্যক স্থানীয় নম্বর এখানে যুক্ত করুন।

আইনি প্রসঙ্গ ও সতর্কতা

ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল — উভয়ই ভারতীয় দণ্ডবিধির অন্তর্ভুক্ত গুরুতর অপরাধ। ঘটনার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হবে এবং প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

নির্যাতিতার মহত্ত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে মামলার সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিল পুলিশ ও ভিকটিম সাপোর্ট সেবা।

কী ঘটেছে — দ্রুত তথ্য

  • ঘটনা স্থান: দিল্লি, আদর্শ নগর এলাকার একটি হোটেল।
  • তারিখ (আশ্রিত): অভিযুক্ত ৯ সেপ্টেম্বর ঘটনায় অভিযুক্ত বলে অভিযোগ।
  • নির্যাতিতার বয়স: ১৮ বছর (প্রাপ্তবয়স্ক)।
  • অভিযুক্ত: নির্ধারিতভাবে পলাতক; উভয়ের বাড়ি: হরিয়ানা, জিন্দ।
  • প্রাথমিক ব্যবস্থা: পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে; সিসিটিভি ও মোবাইল ডেটা সংগ্রহ চলছে।

রিপোর্ট: Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক | এই প্রতিবেদনটি স্থানীয় থানার অভিযোগ ও ক্লায়েন্ট-বর্ণনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। তদন্ত এখনো lauf (চলমান)। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্য প্রকৃত তদন্তপ্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে হালনাগাদ হতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

বিহারে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা

বিহারে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা

বিহারে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন

লেখক: মৃদুল কান্তি দাস

নির্বাচন কমিশন সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করল বিহারে বিধানসভা ভোটের দিন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানালেন, এইবার বিধানসভা নির্বাচন শুরু হবে ৬ নভেম্বর থেকে। নির্বাচনের প্রক্রিয়া দুই দফায় সম্পন্ন হবে; প্রথম দফা ৬ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় দফা ১১ নভেম্বর। ফলাফল ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১৪ নভেম্বর। সব নির্বাচনী প্রক্রিয়া ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ হবে। নির্বাচন কমিশন একইসঙ্গে বিহারে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

বিহারে মোট ২৪৩ আসনের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ১২১টি আসনে প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বাকি ১২২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে দ্বিতীয় দফায়। প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শুরু হচ্ছে ১০ অক্টোবর থেকে, শেষ হচ্ছে ১৭ অক্টোবর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ অক্টোবর। দ্বিতীয় দফার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে ১৩ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সময়সীমা ২৩ অক্টোবর।

নির্বাচনের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন এইবার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সব বুথ পর্যায়ের এজেন্টদের দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বুথের কর্মকর্তাদের জন্য ফটো আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ভোটারদের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে নিজের মোবাইল ফোন জমা রাখতে হবে।

এইবার বিহারে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭.৪৩ কোটি। মোট বুথ সংখ্যা ৯০,৭১২। নির্বাচনের সময় কোন ধরনের অশান্তি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সমস্ত নির্বাচনী অ্যাপকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা হয়েছে এবং নতুন অ্যাপের নাম রাখা হয়েছে ‘ECI Net’। যেকোনো সমস্যা হলে ভোটাররা সরাসরি ১৯৫০ নম্বরে কল করতে পারবেন।

বিহারে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। এই তালিকা থেকে অন্তত ৬৫ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। যদিও কমিশনার জানিয়েছেন, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তারা যোগ্য ভোটার হলে মনোনয়নের সময়সীমার ১০ দিন আগে ফর্ম ৬ বা ফর্ম ৭ পূরণ করে জমা দিতে পারবেন।

নির্বাচনের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার জন্য কমিশন সব ধরনের তদারকি ও নজরদারি কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষক ও আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে। এছাড়া নির্বাচনের সময় বিশেষ মনিটরিং সিস্টেম এবং মোবাইল নজরদারি ব্যবহার করা হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ভোটারদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং কোন ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াতে দেওয়া হবে না।

#বিহারবিধানসভা #নির্বাচন২০২৫ #ভোটারতালিকা #নির্বাচনকমিশন #শান্তিপূর্ণভোট

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

নাগরাকাটায় বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষকে নিরাপদে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন

উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতিতে সরজমিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতিতে সরজমিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শংকর ঘোষের উপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটেও সোমবার সরজমিনে এলাকায় পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

উত্তরবঙ্গে বন্যার প্রভাব লক্ষণীয়। ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জলে নদী-নালা উজাড় হয়েছে। রাস্তা ধ্বংস এবং বিচ্ছিন্ন সেতুতে বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সকালেই এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও ডিজিপি রাজীব কুমার।

মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছেই নাগরাকাটায় দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান, “রাজনীতি ভুলে এই সময় আমাদের দায়িত্ব দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো।” পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন, কোনও প্ররোচনায় পা না দিতে।

ত্রাণ কার্যক্রম ও নিরাপত্তা

নাগরাকাটার কালীখোলা এলাকা পরিদর্শনকালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী দু-একদিনের মধ্যে ফের জোয়ার আসতে পারে। এখানে রাস্তার ধারে সরকারের তরফে ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। যারা এসেছেন, তারা ভালো করেছেন। যারা এখনও নিজের বাড়িতে রয়েছেন, দ্রুত এখানে চলে আসুন। নিরাপদে থাকবেন। খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে চিন্তা করতে হবে না।”

ভাঙা রাস্তা, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও বিচ্ছিন্ন সেতু মেরামতের দায়িত্ব রাজ্য সরকার নিজে নেবে। যেসব বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, সেগুলোও পুনর্নির্মাণ করা হবে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মূল বার্তা: রাজনীতি ভুলে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকার ভাঙা রাস্তা মেরামত এবং বাড়ি পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব নিচ্ছে। স্থানীয় মানুষদের নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদী ও স্রোতের উপর নজর রাখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ত্রাণকর্মীরা খাদ্য, পানীয়, এবং চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ত্রাণ কার্যক্রমে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। প্রশাসন এবং সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে যাতে কেউ বিপদে না পড়ে।” পাহাড়ি ঢল ও প্লাবনের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা দ্রুত পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, “রাস্তাঘাট ভেঙে, সেতু বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। সরকার ও প্রশাসনের ত্রাণশিবির অনেক সাহায্য করছে, তবে প্রাথমিক সেবা দ্রুত পৌঁছানো প্রয়োজন।” মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকায় তাদের আশা বেড়েছে।

ত্রাণ কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গতি রাখার জন্য স্থানীয় বাহিনী এবং সেনা কর্মীরাও এলাকায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা এবং খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত

নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের উপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এ সময় রাজনীতি ভুলে আমরা শুধু দুর্গতদের পাশে থাকতে হবে।” রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও প্রশাসন কাজ করছে যাতে মানুষ নিরাপদে থাকে।

মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, “ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হবে। কারো ঘর ভেঙে গেলে তা পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব সরকার নেবে। রাজ্য সরকার এবং প্রশাসন সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।”

সার্বিক পরিস্থিতি

উত্তরবঙ্গের দুর্গত এলাকা দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। নদী, স্রোত ও পাহাড়ি এলাকার প্রভাবিত অংশে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ত্রাণ কার্যক্রম, রাস্তা মেরামত, বাড়ি পুনর্নির্মাণ এবং প্রশাসনিক নজরদারির মাধ্যমে রাজ্য সরকার এবং প্রশাসন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরজমিন পরিদর্শন সেই প্রচেষ্টাকে আরও দৃঢ় করেছে।

উত্তরবঙ্গের এই বন্যা পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসন, সেনা এবং ত্রাণকর্মীরা একযোগে কাজ করছে। স্থানীয় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি রাজ্য সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিচ্ছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫: ওপিনিয়ন পোল অনুযায়ী এনডিএ-র শক্তিশালী অবস্থান

বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫: ওপিনিয়ন পোল অনুযায়ী এনডিএ-র শক্তিশালী অবস্থান

বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫: ওপিনিয়ন পোল অনুযায়ী এনডিএ-র শক্তিশালী অবস্থান

বিহার নির্বাচন ২০২৫
ছবি: বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এর জন্য প্রকাশিত ওপিনিয়ন পোলের চিত্র।
সংক্ষেপ: বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এর চারটি সম্প্রতি প্রকাশিত ওপিনিয়ন পোল এনডিএকে ৪০-৫২% ভোট শেয়ার এবং ১৩০-১৫৮টি আসন পেতে পারে বলে দেখিয়েছে। নীতীশ কুমারের শাসনের প্রতি জনসন্তুষ্টি ৭৬%।

বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এর প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত চারটি ওপিনিয়ন পোলের তথ্য অনুযায়ী, নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে এনডিএ বিহারে শক্তিশালী অবস্থান করছে। এই ওপিনিয়ন পোলগুলির মধ্যে ম্যাট্রিক্স, জেভিসি, স্পিক মিডিয়া নেটওয়ার্ক এবং ভোট ভাইব-এর পোল অন্তর্ভুক্ত।

পোলগুলির ফলাফলের অনুযায়ী, এনডিএ ৪০-৫২% ভোট শেয়ার পেতে পারে এবং ১৩০-১৫৮টি আসন দখল করতে পারে। এটি ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পারফরম্যান্সের তুলনায় অনেক ভালো। বিশেষ করে ২০১০ সালের নির্বাচনে এনডিএ ৩৯% ভোট শেয়ার নিয়ে ২০৬টি আসন জিতেছিল। তাই এবারের অনুমান রাজনৈতিক মহলে বড় প্রভাব ফেলছে।

পোল অনুযায়ী, এনডিএ-র জোটের মধ্যে রয়েছে জনতা দল (ইউনাইটেড) বা জেডিইউ, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), লোক জনশক্তি পার্টি এবং হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (সেক্যুলার)। নীতীশ কুমারের শাসনের প্রতি জনসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ৭৬% মানুষ। এর মধ্যে ৪০% মানুষ “খুব সন্তুষ্ট” এবং ৩৬% “সন্তুষ্ট” বলেছেন।

এই ওপিনিয়ন পোল অনুযায়ী, যদি আজ নির্বাচন হয়, তাহলে ৫২% মানুষ এনডিএকে ভোট দিতে পারে। এছাড়া ৩৫% মানুষ বিজেপিকে এবং ১৮% মানুষ জেডিইউকে ভালো শাসনদাতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। নীতীশ কুমার এখনও মুখ্যমন্ত্রী পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন, ৪২% মানুষ চাইছেন তিনি আবার মুখ্যমন্ত্রী হোন।

পোলগুলি এনডিএকে ৪১-৪৫% ভোট শেয়ার এবং ১৩১-১৫০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছে। আর জাতীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন ৪০% ভোট এবং ৮১-১০৩টি আসন পেতে পারে। জন সুরজ ১০-১১% ভোট শেয়ার এবং ৪-৬টি আসন পেতে পারে।

ভোটারদের মতামত অনুযায়ী, নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদে ২৭% ভোট পেয়ে সবচেয়ে এগিয়ে, তেজস্বী যাদব ২৫% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে। এটি প্রমাণ করে বিহারে ভোটাররা দুই যুগের অভিজ্ঞ নেতার মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

পোল অনুযায়ী, নীতীশ কুমারের শাসনের প্রতি জনগণের সন্তুষ্টি এখনও উচ্চ; ৭৬% মানুষ তার কাজের প্রশংসা করছে। যা এনডিএ-কে নির্বাচনী লড়াইয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রাখছে।

চারটি ওপিনিয়ন পোল মোটামুটি একমত যে, নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে এনডিএ বিহারে ক্ষমতা শক্তিশালী করেছে। মহাগঠবন্ধন ও অন্যান্য দল কড়া চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে, তবে বর্তমানে এনডিএর অবস্থান বেশ শক্ত। পোলের ফলাফলের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক সমীকরণ এখনও অনেকাংশে এনডিএর অনুকূলে।

ভোট শেয়ার ও আসন অনুমান প্রকাশ করেছে যে, এনডিএ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিহারে সবচেয়ে বড় শক্তি। জনসাধারণের ভোটার মনোভাব ও সন্তুষ্টি সূচক অনুযায়ী, এনডিএ এবার ২০১০ সালের ঐতিহাসিক জয় পুনরাবৃত্তি করতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

উত্তরবঙ্গের বন্যা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও হোমগার্ড চাকরির ঘোষণা

উত্তরবঙ্গের বন্যা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও হোমগার্ড চাকরির ঘোষণা

উত্তরবঙ্গের বন্যা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও হোমগার্ড চাকরির ঘোষণা

উত্তরবঙ্গ বন্যা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্যোগ কবলিত এলাকায় পৌঁছেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন।
সংক্ষেপ: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে পৌঁছে দুর্যোগ পরিদর্শন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, দুর্যোগ পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সমতলভূমি এলাকা টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। শনিবার রাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভুটান থেকে নেমে আসা জল, পাহাড়ি ঢল ও নদীর জলস্রোতের কারণে নাগরাকাটা ও ধূপগুড়ি এলাকা তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে অন্তত ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সোমবার সকালে এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দমদম বিমানবন্দর থেকে রওনা দেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ কখনই যথেষ্ট হয় না। তবে বেঁচে থাকা পরিবারের জন্য আমরা পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করব। পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরিও দেওয়া হবে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, “উত্তরবঙ্গে পৌঁছে নাগরাকাটা ও হাসিমারার প্রান্ত পর্যন্ত যাব। যতদূর সম্ভব দুর্গত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। কতটা জল সামলাব? বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে জল আসছে। গঙ্গা টইটম্বুর। ডিভিসি ইচ্ছেমতো জল ছেড়ে চলেছে। মাইথন, ডিভিসন, পাঞ্চেতের জন্য জলযন্ত্রণা ভোগ করছি। কলকাতার কী অবস্থা হয়েছিল তা আমরা জানি। ভুটান ও সিকিমের জল নাগরাকাটা ও ধূপগুড়িতে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আটকে পড়া পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য রাজ্য সরকার সমস্ত হোটেলকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে কোনওরকম অতিরিক্ত খরচ না নেওয়া হয়। সরকার পর্যটকদের এবং স্থানীয়দের ঘরে ফেরানোর সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

শুক্রবার ও শনিবার রাতে লাগাতার বৃষ্টির ফলে নদী ও খাল উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তলিয়ে গেছে বহু এলাকা। জনগণ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। পাহাড়ি ও নিম্নাঞ্চলে মৃতদের সংখ্যা বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় অনেককে উদ্ধার করা গেছে, তবে অনেক মানুষ এখনও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দমকল, সেনা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রাতভর কাজ করছেন। খাদ্য, পানি এবং মেডিকেল সাপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। স্থানীয় স্কুল ও কলেজে জরুরি শেল্টার ক্যাম্প খোলা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: “উত্তরবঙ্গের মানুষদের সাহায্য করাই আমাদের প্রধান কর্তব্য। দুর্ঘটনা ও বন্যার কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে থাকতে হবে। সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে।”

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ছাড়াও হোমগার্ডের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে পরিবার নিজের জীবিকা বজায় রাখতে পারে। এই পদক্ষেপকে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

সংবাদ অনুযায়ী, নাগরাকাটা ও ধূপগুড়ি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আহত ও দুর্গতরা স্থানীয় হাসপাতাল ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিতে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

দুর্গত এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের ফলে ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। নদীর বাঁধ, খাল ও নদীস্রোতের ওপর নজর রাখা হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যবেক্ষণ চালাবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রমকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া উচিত নয়। দুর্যোগ কবলিত এলাকায় তৎপর থাকা স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সহায়তা জরুরি। বন্যায় আক্রান্তদের পুনর্বাসন এবং মৃতদের পরিবারের সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করা আবশ্যক।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদীভাঙন ও পাহাড়ি ঢলে রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীরা উক্ত এলাকায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি সাহায্যকর্মীরা মিলে খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণ করছেন।

পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর এবং জেলা প্রশাসন ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোট: প্রতিবেদনটি কপি রাইট মুক্ত; প্রকাশের আগে স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্র ও হাসপাতালের তথ্য যাচাই করা সুরক্ষিত।
#NorthBengalFlood #MamataBanerjee #Nagarakata #Dhupguri #DisasterRelief

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

দুর্যোগ পরিদর্শনে হামলা: রক্তাক্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শংকর ঘোষ হাসপাতালে

দুর্যোগ পরিদর্শনে হামলা: রক্তাক্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শংকর ঘোষ হাসপাতালে

দুর্যোগ পরিদর্শনে গিয়ে রক্তাক্ত বিজেপি সাংসদ ও বিধায়ক — ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ফেসবুক লাইভে ভয়াবহ সূচনা

নাগরাকাটা দুর্যোগ পরিদর্শন ও হামলার চিত্র (ফাইল ছবি)
ছবি: ঘটনাস্থল — দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় হামলার শিকার বিজেপি নেতা-নেত্রীদের গাড়ি ও আহত অবস্থার ভিডিও থেকে নেওয়া ফ্রেম।
সংক্ষিপ্ত: মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ দুর্যোগ কবলিত নাগরাকাটা পরিদর্শনে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় শংকর ঘোষের ফেসবুক লাইভে হামলার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়; তিনি দাবি করেন, কিছু লোক ‘দিদি দিদি’ বলে এগিয়ে এসে প্রথমে গালাগালি করেছিলেন এবং পরে পিঠে ও মাথায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে মারধর চালান। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার সকালে নাগরাকাটা, বামনডাঙা ও নেউটিয়া অঞ্চলে ত্রাণ ও দুর্যোগ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীপথ ও বিস্তীর্ণ প্লাবিত এলাকা সরেজমিন যাচাই করতে গেলে হঠাৎই কিছু প্রতিহিংসাপরায়ণ ব্যক্তি তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে ইট, লাঠি ও জুতো নিক্ষেপ করা হয়; সেই আঘাতে খগেন মুর্মু ও শংকর ঘোষ দু’জনেই রক্তাক্ত হন। কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে দ্রুতই তাঁদের শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হামলার সময় গৃহীত একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে শংকর ঘোষ নিজের কণ্ঠে বিশদ বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, “আমরা ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়েছিলাম; এক পর্যায়ে কিছু মানুষ ‘দিদি দিদি’ বলে এসে আমাদের ওপর চড়াও হয়। শুরুতে গালাগালি—পরে ইট ছোঁড়া শুরু হয়। আমার গাড়ির কাচ ভেঙে যায়, সারাটা শরীর কাচে ভর্তি; খগেনদার মাথায় রক্ত পড়ছে। মূলত নিরস্ত মানুষদের সাহায্যে গিয়েছিলাম—কেন এই আচরণ, সেটাই আমাদের বুঝে ওঠা যাচ্ছে না।” তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তিনি গাড়ির সিটের তলায় শুয়ে না পড়লে হতে পারত মারাত্মক আঘাত।

স্থানীয় হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, খগেন মুর্মুকে প্রাথমিকভাবে স্ট্যাপলিং ও ব্যান্ডেজ সহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শংকর ঘোষের শরীরেও প্রচুর কেটে-আঘাত ও কাচের আঘাত লক্ষ করা গেছে; তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সরকারি শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও ঘটনার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি; তবে বিজেপি দাবি করেছে যে আক্রমণের সঙ্গে তৃণমূলের কোনো লোক সম্পৃক্ত থাকতে পারে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এলাকায় তদন্ত শুরু করেছে।

হামলার পর মহল্লার বেশ কয়েকটি বাড়িতেই ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় স্থানীয়রা ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় বন্যার প্রভাব এখনও রয়ে গেছে—রাস্তা, ঘরবাড়ি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বড় ক্ষতিগ্রস্ত। ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে—বিশেষত যেখানে সাহায্যার্থীদের নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দুর্যোগপরবর্তী উত্তেজনা ও পাল্টা রাজনৈতিক অভিযোগ কখনো কখনো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

স্থানীয় বিএনপি/ত্রাণকর্মী ও সাধারণ মানুষ একদিকে বলছেন—এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবদ্ধ সহযোদ্ধা থাকা দরকার এবং ত্রাণ কার্যক্রমকে রাজনৈতিক রং দেয়া উচিত নয়। অপরদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ঘটনার তদন্ত চলছে, বোমা-স্কোয়াড বা অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে যদি পরিস্থিতি অশান্ত হয়।

শংকর ঘোষ (ফেসবুক লাইভে): “আমি জানি না কেন তারা আমাদের উপর এতটা আক্রোশ দেখিয়েছে। আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলাম—কেউ কি সাহায্য নিতে পছন্দ করেনি? তাদের প্রশ্ন ছিল—'কেন এসেছ'—অন্যায়ভাবে এগিয়ে এসে তারা মারধর শুরু করে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্যোগের সময় ভুল তথ্য, বিশৃঙ্খলা এবং স্থানীয় আবেগের উত্তেজনা সহিংসতা বাড়াতে পারে। দ্রুত, স্বচ্ছ ও সংবেদনশীলভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো যাতে থাকে—এগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি। এছাড়া, ঘটনার সত্যতা ও দোষীদের চিহ্নিত করতে কড়া তদন্তভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান করা হয়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া মাত্রি আমরা আপডেট করে দেব। এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের স্তরে বিবৃতি প্রত্যাশিত; ঘটনার ব্যাখ্যা ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উত্থাপিত হয়েছে।

পরিস্থিতি শান্ত হলে ঘূর্ণিঝড়-প্রভাবিত ও প্লাবিত এলাকার মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে দ্রুত পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সহায়ক সংস্থাগুলো এবং প্রশাসনের তদ্বিরেই মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার যাতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে পারে এবং রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে মানুষের ক্ষতিটি আরও বেড়ে না যায়।

নোট: রিপোর্ট কপি রাইট মুক্ত—প্রকাশের পূর্বে স্থানীয় হাসপাতাল বা প্রশাসনিক সূত্র থেকে তারিখ-সময় ও আহতদের নির্দিষ্ট বিবরণ যাচাই করে নেওয়া সুরক্ষিত।
#KhagenMurmu #ShankarGhosh #Nagarakata #FloodRelief #WestBengal

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

সোনম ওয়াংচুক গ্রেফতারের বিরুদ্ধে হেবিয়াস কর্পাস: সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে নোটিস

সোনম ওয়াংচুক গ্রেফতারের বিরুদ্ধে হেবিয়াস কর্পাস: সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে নোটিস

সোনম ওয়াংচুকের এনএসএ-আটক: গীতাঞ্জলির হেবিয়াস কর্পাস আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে নোটিস

Sonam Wangchuk
ছবি: সোনম ওয়াংচুক (ফাইল ছবি) — মূল রিপোর্টিং সূত্র: বিভিন্ন সংবাদসংস্থা। 0
সংক্ষিপ্ত: লাদাখে হওয়া হিংসাত্মক ঘটনার পরে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) গ্রেফতার হওয়া পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে ওয়াংমো সুপ্রিম কোর্টে হাবিয়াস কর্পাস আবেদন দায়ের করেছেন। শীর্ষ আদালত কেন্দ্র, জম্মু ও কাশ্মীর ও রাজস্থান প্রশাসনকে নোটিস জারি করেছে; মামলার পরবর্তী শুনানি ১৪ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে। 1

লাদাখের রাজধানী লেহে ২৪-২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংঘটিত সহিংস ঘটনার পর পরিবেশকর্মী ও জনজীবন-সংলগ্ন আন্দোলনের মুখপাত্র সোনম ওয়াংচুকে ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারায় (এনএসএ) গ্রেফতার করে কর্তৃপক্ষ এবং পরে তাঁকে যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। ওই ঘটনার তদন্ত ও গ্রেফতার সংক্রান্ত আইনি বৈধতা নিয়ে বর্তমানে শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুলেছে। 2

গীতাঞ্জলি জে ওয়াংমো সুপ্রিম কোর্টে অভিষিক্ত হেবিয়াস কর্পাস আবেদনে যুক্তি দিয়েছেন যে, তাঁর বা তাঁর স্বামীর প্রতি গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে তাঁকে কোনো নোটিস বা অনুলিপি জানানো হয়নি এবং গ্রেফতারের পর থেকে তাঁকে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। আবেদনটি (আর্টিকেল ৩২ এর অধীনে) ৩২ নম্বর ধারার ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছে এবং এতে ২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গ্রেফতারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর এবং রাজস্থান প্রশাসনকে নোটিস পাঠিয়েছে। 3

আদালত-এ ঘটনার সারমর্ম: শুনানিতে কপিল সিবাল (আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী) বলেন যে, গ্রেফতারের নোটিশের একটি অনুলিপি না পেলে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও আইনজীবীরা আটকের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেন না; ফলে যথাযথ আইনি প্রতিরক্ষা বন্ধনে তারা দুর্বল হয়ে পড়েন। পাল্টা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উল্লেখ করেন যে, গ্রেফতারের কারণ ইতিমধ্যেই আটক ব্যক্তিকে জানানো হয়েছে এবং পরিবারের কিছু সদস্য (উদাহরণস্বরূপ ভাই) স্বরকে সাক্ষাৎ করে। রাষ্ট্রপক্ষ নোটিস সম্প্রদানের feasibility যাচাই করার কথাও জানান। 4

বিষয়টি যে মাত্র আইনি নয়, তা রয়ে গেছে রাজনৈতিক ও মানবাধিকারগত প্রেক্ষাপটেও — লাদাখের এক বড় অংশই দীর্ঘকাল ধরে পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্তির দাবি তুলছে। বহু মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের মধ্যেই সোনম ওয়াংচুক অনশন ও জনসংযোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করছিলেন; কেন্দ্র বলছে যে আন্দোলনকে ভ্রান্তভাবে তীব্র করা ও সহিংসতা উস্কানির অভিযোগ রয়েছে, এমনকি কেন্দ্রীয়ভাবে 'Arab Spring' রূপক ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতেও আছে। অপরদিকে সমর্থকরা বলেন, তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক আন্দোলনের মুখ্য কণ্ঠস্বর ছিলেন। 5

হেবিয়াস কর্পাস আবেদনটি শুধুই ব্যক্তিগত মুক্তির অনুরোধ নয়—এটি গ্রেফতারের প্রক্রিয়া, নোটিশ প্রদান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্র ও শাখা-নিবন্ধন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের ওপর একটি বিস্তৃত আইনি প্রশ্নও তুলে ধরছে। আবেদনপত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, যদি গ্রেফতারের কারণ পরিবারের কাছে ও আইনজীবীদের কাছে না জানানো হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উপযুক্ত আইনি প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে পারবেন না এবং সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বোর্ড/কর্তৃপক্ষের সামনে যথাযথ প্রতিনিধিত্বও বাধাগ্রস্ত হবে। 6

সুপ্রিম কোর্টে পর্যবেক্ষণ করে বেঞ্চ (বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়া) কেন্দ্রকে কড়া প্রশ্ন করেছে — কেন গীতাঞ্জলি জে ওয়াংমোকে নোটিস বা অনুলিপি আগাম দেওয়া হয়নি এবং কেন তাঁকে স্বামীর সঙ্গে প্রাথমিক সাক্ষাৎকার ও পুনরাবৃত্তি দেখা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। আদালত এই দিকগুলো সরকারি জবাব দাবি করেছে এবং শুনানি ১৪ অক্টোবর নির্ধারণ করে বেশ কয়েকটি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নোটিস জারি করেছে। 7

আইন-বিশ্লেষকরা বলছেন, এনএসএ ধারায় গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কবে এবং কোথায় নোটিস দিতে হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার বিধান বিবেচ্য; একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার—দুটি পরস্পরবিরোধী দিকও আদালত দেখতে পারেন। মামলার ফলাফল কেবল ব্যক্তিগত মুক্তি নির্ধারণ করবে না, বরং ভবিষ্যতে অনুরূপ এনএসএ প্রয়োগ ও পারিবারিক-নোটিশ সংক্রান্ত প্রশাসনিক আচরণে আইনগত একটি প্রিসিডেন্ট স্থাপন করতে পারে। 8

বাকিতে বলা যায়, লাদাখে চলমান আন্দোলনের পটভূমি, ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনার তীব্রতা, সার্বিক নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্ত এবং নাগরিক নাগরিকদের বক্তব্যের সীমা—এই সব কিছুকে এখন আদালত গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করবে। ১৪ অক্টোবর হাই-প্রোফাইল এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও রায় সরকারি নীতিনির্ধারণে ও ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র(শীর্ষ): Mint, Times of India, Wikipedia (সংকলিত প্রতিবেদন)।
#SonamWangchuk #NSA #SupremeCourt #Ladakh

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Sunday, 5 October 2025

উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের মান নিয়ে বড় পদক্ষেপ, হেল্যাক্স হেলথ ব্ল্যাকলিস্ট

উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের মান নিয়ে বড় পদক্ষেপ, হেল্যাক্স হেলথ ব্ল্যাকলিস্ট

উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের মান নিয়ে বড় পদক্ষেপ, হেল্যাক্স হেলথ ব্ল্যাকলিস্ট

Y বাংলা ব্যুরো — আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৫
TELMISARTAN 40 ওষুধের মান পরীক্ষা
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর TELMISARTAN 40 ওষুধের মান যাচাই করল। ফলাফল সন্তোষজনক নয়। (ছবি: প্রতিনিধি)

কলকাতা, ৫ অক্টোবর: রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হেল্যাক্স হেলথকেয়ার প্রাইভেট লিমিটেডকে তিন বছরের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করেছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে সরবরাহ করা TELMISARTAN 40 ওষুধের গুণমান ঠিক না থাকার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও খবর পড়ুন , উত্তরবঙ্গের বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সমালোচনা

হেল্যাক্স হেলথকেয়ার দীর্ঘদিন রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই ওষুধ সরবরাহ করত। সম্প্রতি একাধিক রোগী অভিযোগ করেছেন যে ট্যাবলেটটি সহজেই গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে এবং কার্যকারিতা কম। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর স্বাস্থ্য দফতর ১৪টি ব্যাচের ওষুধ ল্যাবে পাঠিয়ে পরীক্ষা করায়। ফলাফল নেগেটিভ; কোন ব্যাচই মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি।

স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ:

• হেল্যাক্স হেলথকেয়ারের সব সরকারি হাসপাতালের সরবরাহ বন্ধ।

• সংস্থাটিকে তিন বছরের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।

• ভবিষ্যতে সমস্ত সরকারি ওষুধের মান পরীক্ষা আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।

চিকিৎসক আশিস মিত্র বলেন, “উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ শুধু এই সমস্যার জন্য নয়, ডায়াবেটিস, কিডনি বা হার্ট রোগীর ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুণমান ঠিক না থাকলে, রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।”

এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে কারণ দেশে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার হার বাড়ছে। প্রতিদিন নিয়মিত ওষুধ না খাওয়ার ফলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শিশুদের সর্দি-কাশির ওষুধের মান নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি হয়েছে, এবং এখন ক্রনিক রোগে ব্যবহৃত ওষুধের মান নিয়েও সতর্কতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালের ওষুধের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা অপরিহার্য। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়াতে স্বচ্ছভাবে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য দফতরের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা সমস্ত ওষুধের মান পরীক্ষায় কোনও ছাড় থাকবে না। রোগীদের সুরক্ষা এবং ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত পরীক্ষা ও নজরদারি চালানো হবে।

এদিকে হেল্যাক্স হেলথকেয়ারের তিন বছরের ব্ল্যাকলিস্টের ফলে তারা সরকারি টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে না। ফলে অন্যান্য ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর উপর চাপ বাড়বে যাতে মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত হয়।

সামগ্রিকভাবে, এই পদক্ষেপ রোগীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে যাতে তারা মানহীন ওষুধ ব্যবহার না করেন এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রশাসনকে অবহিত করেন।

আরও খবর পড়ুন ভারতে লা নিনার প্রভাবে ভয়ঙ্কর শীত: ২০২৫ সালের শেষের দিকে হাড়কাঁপানো শীতের পূর্বাভাস

Y বাংলা ব্যুরো © ২০২৫। সকল অধিকার সংরক্ষিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

উত্তরবঙ্গের বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সমালোচনা

উত্তরবঙ্গের বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সমালোচনা

উত্তরবঙ্গের বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সমালোচনা

Y বাংলা ব্যুরো — আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৫
উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ধস
দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জলদাপাড়া ও কোচবিহার এলাকায় বন্যার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। (ছবি: প্রতিনিধি)

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সমতল এলাকা টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। বৃষ্টির কারণে ধস ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জলদাপাড়া, কোচবিহার-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ এখনও আশ্রয়হীন এবং পর্যটক আটকা পড়েছেন। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল তাদের সমতলে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় দুর্গাপুজো কার্নিভালের আয়োজন নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রশ্ন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কেন উত্তরবঙ্গকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না?’ তিনি বলেন, ‘কার্নিভাল নাকি বাংলার ঐতিহ্য! তা দশমীর চার দিন পর সরকারি অনুদান আর প্রশাসনিক চোখ রাঙানির কারণে প্রতিমা নিরঞ্জন আটকে রেখে, মিছিল করিয়ে ঘাটে যাওয়া কবে থেকে বাংলার ঐতিহ্য হয়ে গেল?’

শুভেন্দুর মন্তব্য:

‘কলকাতা ভেসে যাওয়া ও কিছু নিরীহ মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী পুজো উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এখন কার্নিভাল নিয়ে ব্যস্ত। এক বছর আগের কথা মনে পড়ে যায়, যখন বলেছিলেন ‘উৎসবে ফিরুন’, তবেই তো লোকে আনন্দে মেতে থাকবে, ন্যায্য প্রশ্ন করবে না।’

উত্তরবঙ্গের বন্যার জন্য প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন শুভেন্দু। তাঁর প্রশ্ন, ‘মুখ্যমন্ত্রী চটজলদি উত্তরবঙ্গ যেতে আগ্রহী নন কেন? সেখানে ডিভিসি নামক বলির পাঁঠা নেই দোষারোপ করার জন্যে? নাকি ওখানে গিয়েও চিন, ভুটান, নেপালের বহিরাগত জলের তত্ত্ব দেবেন?’

এই বিষয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এক মুখপাত্র জানান, ‘উত্তরবঙ্গ বিপুল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত। সিকিম, ভুটান থেকে আসা নদীগুলিও বিপদ বাড়াচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পুরো নজর রাখছেন, বৈঠক করেছেন, নির্দেশ দিয়েছেন এবং মনিটর করছেন। সোমবার নিজে যাচ্ছেন। প্রশাসন এবং দল সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেমে পড়েছে। মানুষের পাশে আছে।’

উত্তরবঙ্গের এই বন্যা শুধু মানুষের জীবনই বিপন্ন করছে না, পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকা ও সমতল এলাকার অবকাঠামোও ধ্বংস হচ্ছে। নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় রাস্তা বন্ধ, ঘরবাড়ি ও হোমস্টে ক্ষতিগ্রস্ত, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

দার্জিলিং, মিরিক ও আলিপুরদুয়ারে পর্যটকরা এখনো আটকা পড়েছেন। প্রশাসন বিকল্প রুট ব্যবহার করে তাদের সমতলে আনার চেষ্টা করছে। শিলিগুড়ি-কালিম্পঙ রুট খোলা থাকলেও নদীর পানি বৃদ্ধি ও ধসের কারণে যানবাহনের চলাচল সীমিত।

বন্যার কারণে বনাঞ্চলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাতি, গন্ডার ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী নদী পার হওয়ার সময় প্রাণ হারাচ্ছে। বন সংরক্ষণ সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। প্রশাসন জনসচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন, রেডিও ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সতর্কতা জারি করেছে।

শিশু, মহিলা ও প্রবীণদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ, সেনা ও NDRF টিম উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত আছে।

পর্যটক ও স্থানীয় মানুষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকুন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন। সরকার বিকল্প রুট ব্যবহার করে দ্রুত সমাধান করছে।

উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ধস প্রমাণ করছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কতটা হঠাৎ এবং ভয়ংকর হতে পারে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ত্রাণ কার্যক্রমে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

Y বাংলা ব্যুরো © ২০২৫। সকল অধিকার সংরক্ষিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

উত্তরবঙ্গের ধস ও বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, পর্যটক আটকা, বিপর্যস্ত রাস্তা ও বনাঞ্চল

উত্তরবঙ্গের ধস ও বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, পর্যটক আটকা, বিপর্যস্ত রাস্তা ও বনাঞ্চল

উত্তরবঙ্গের ধস ও বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, পর্যটক আটকা, বিপর্যস্ত রাস্তা ও বনাঞ্চল

Y বাংলা ব্যুরো — আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৫
উত্তরবঙ্গে ধস ও বন্যা
দার্জিলিং ও মিরিক অঞ্চলে ধস ও বৃষ্টির কারণে রাস্তা বন্ধ ও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। (ছবি: প্রতিনিধি)

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল টানা বৃষ্টি ও ধসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে দার্জিলিং, মিরিক এবং কালিম্পঙের বহু এলাকা জলের তলায় তলিয়ে গেছে। পাহাড় ধসে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন। সরকারিভাবে এখনও পর্যটকের সঠিক সংখ্যা জানানো হয়নি, তবে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, এটি খুব কম নয়। পর্যটকদের বিভিন্ন পকেট রুট ব্যবহার করে সমতলে আনার চেষ্টা চলছে।

দুধিয়া ব্রিজ ভাঙায় শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে মূল সড়কপথ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, মিরিক সৌরেনিতে আটকে থাকা পর্যটকদের নল-পটং-লোহাগড় হয়ে শিলিগুড়িতে পাঠানো হচ্ছে। ধসের কারণে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং রোহিণী রোডও বন্ধ রয়েছে। বিপর্যস্ত হয়েছে হিলকার্ট রোড। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। শিলিগুড়ি-দার্জিলিং পর্যন্ত কিছু পকেট রুট খোলা থাকায় যানবাহন চলাচল সম্ভব, তবে সরাসরি যোগাযোগ এখন বন্ধ।

জাতীয় সড়ক ও যোগাযোগ:

তিস্তা নদীর উর্ধ্বমুখী ফুঁসের কারণে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ। শিলিগুড়ি থেকে সিকিম-কালিম্পঙের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তবে লাভা-গরুবাথান ও শিলিগুড়ি-কালিম্পঙের পানবু রোড খোলা রয়েছে। এই সব রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য বিকল্প রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছে।

শনিবার রাত বালাসন নদীর উপর দুধিয়ার লোহার সেতুর একাংশ ভেঙে শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সৌরেনির কাছে দারাগাঁওয়ে ধস নামে এবং একটি বাড়ি ধসে যায়। আপার দুধিয়া বা ডাম্ফেডার এলাকায় চার থেকে পাঁচটি বাড়ি ধসে জলের তলায় চলে গেছে। দার্জিলিঙের হোমস্টে এবং বিএসএফ ক্যাম্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মিরিক অঞ্চলে ৯ জন, সুকিয়াপোখরিতে ৭ জন এবং বিজনবাড়ি এলাকায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও খবর পড়ুন , এনডিএর সমন্বয় বৈঠক — আসনবণ্টন ঘিরে উসকি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যস্থতা

উত্তরবঙ্গের বন্যাপ্রাণও বিপর্যস্ত। গরুমারার জঙ্গল লাগোয়া জলঢাকা নদীতে একটি গন্ডারের মৃতদেহ ভেসে এসেছে। নকশালবাড়িতে মেচি নদীর প্রবাহে একটি হস্তিশাবক তলিয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে নদীর জল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় হস্তিশাবকটি প্রাণ হারিয়েছে। ৩০টি হাতির দল নদী পেরোচ্ছিল, যার মধ্যে একটি দলছুট হয়ে পড়েছে।

রাতভর বৃষ্টিতে দার্জিলিং, মিরিক, সুখিয়াপোখরির অবস্থা বেহাল। উত্তরবঙ্গের প্রায় সব নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ডুয়ার্স এবং উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকা বন্যার কবলে পড়েছে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান থেকে ভেসে আসা একটি গন্ডারের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা দৃশ্যমান করে দিয়েছে বিপর্যয়ের পরিসর।

বন্যা ও বিপর্যয়ের মাত্রা:

বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, রাস্তা বন্ধ, যানবাহন চলাচল ব্যাহত, পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ আতঙ্কিত। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা জল সমতলে বিপর্যয় তৈরি করেছে। প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তৎপর।

শিলিগুড়ি, মিরিক ও দার্জিলিংয়ে পর্যটকরা এখনও আটকে রয়েছেন। প্রশাসন তাদের নিরাপদে সমতলে নামানোর জন্য বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। এতে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যদিও কয়েকশো পর্যটক ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে উদ্ধার হয়েছেন।

ধসের ফলে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ থাকায় নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেনা ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছে এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি নদী ও খালগুলি ফেটে গিয়ে জল ঢেউয়ের সৃষ্টি করেছে। তিস্তা, দুধিয়া, মেচি নদী এবং অন্যান্য নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সমতল এলাকার অনেক জায়গা প্লাবিত হয়েছে। পর্যটকরা তাদের হোটেল, হোমস্টে বা খোলা জায়গা থেকে নিরাপদ স্থানে চলে আসার চেষ্টা করছে।

দার্জিলিং জেলার বহু এলাকা এখনও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে। পানীয় জল সরবরাহ সীমিত। প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে পানীয় জল ও খাবার বিতরণ করছে। পাহাড়ি অঞ্চলে স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকরা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারীরা ২০ জনের বেশি ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছেন। তবে পাহাড়ি এলাকার ধসের প্রকোপ এবং নদীর জলবৃদ্ধির কারণে উদ্ধার অভিযান খুব ধীরগতিতে চলছে। পাহাড়ি রাস্তাগুলো এখনো বিপজ্জনক।

শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পঙ, মিরিক পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল সীমিত। প্রশাসন প্রতিদিন নতুন বিকল্প রুট খোলার চেষ্টা করছে। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি সেনা ও NDRF টিম উদ্ধারকাজে নিয়োজিত। পর্যটক ও স্থানীয় মানুষদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলও এই বন্যার কবলে পড়েছে। জল ঢুকেছে বনাঞ্চলে, যার ফলে বন্যপ্রাণীর বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত। হাতি, গন্ডার ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী নদী পেরোতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩-৪ দিনে আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকা ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রশাসন জনসচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন, রেডিও ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সতর্কতা জারি করেছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জরুরি ভিত্তিতে উত্তরবঙ্গের স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটকদের হোটেল এবং হোমস্টে থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে। নদীর ধারের বসবাসকারী মানুষদেরও স্থানান্তর করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। পাহাড়ি অঞ্চল ও সমতল এলাকায় বন্যা, ধস ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে বিপর্যয় চলতে পারে। প্রশাসন, সেনা, NDRF এবং স্থানীয় জনগণ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকুন, বিকল্প রুট ব্যবহার করুন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে সমতলে নামতে পারে, তা নিশ্চিত করতে রাস্তাগুলো পুনরায় খোলা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ধসের এই দুঃসাহসিক পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, প্রকৃতির অপ্রত্যাশিত শক্তি কতটা ভয়ংকর হতে পারে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য।

আরও খবর পড়ুন , বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫: সময়সীমা ঘোষণা, NDA বনাম মহাগঠবন্ধনের লড়াই

Y বাংলা ব্যুরো © ২০২৫। সকল অধিকার সংরক্ষিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog