হীরাবেন মোদীর ডিপফেক ভিডিও: কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির তীব্র অভিযোগ
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবি: প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা হীরাবেন মোদী। বিতর্কিত ডিপফেক ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা।
প্রয়াত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা হীরাবেন মোদীকে কেন্দ্র করে একটি বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠেছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেসের আইটি সেল ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ডিপফেক ভিডিও তৈরি করেছে যেখানে AI প্রযুক্তির সাহায্যে হীরাবেনের কণ্ঠ নকল করে তাঁকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানো হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওর বিষয়বস্তু কী?
১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৬টা ১২ মিনিটে কংগ্রেসের বিহার শাখার অফিসিয়াল এক্স (পুরোনো টুইটার) হ্যান্ডলে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, হীরাবেনের মতো দেখতে এক বৃদ্ধা বক্তব্য রাখছেন। তিনি বলছেন:
“নরেন, আমি স্বর্গ থেকে বলছি, দেশের মানুষ রেগে আছে তোমার উপর। তুমি গরিবদের টাকা আম্বানিদের দিয়ে দিচ্ছো। তোমার অহংকার চরমে পৌঁছেছে। মানুষ ক্ষমা করবে না তোমায়।”
ভিডিওটি প্রকাশের পরই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিজেপির অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই নয়, প্রয়াত মায়ের সম্মানকেও আঘাত করেছে।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
বিজেপির আইটি সেলের পক্ষ থেকে দিল্লি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পাশাপাশি ইংরেজবাজার থানায়ও FIR দায়ের করা হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য:
- ভিডিওটি একটি ডিপফেক, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হীরাবেনের কণ্ঠ নকল করা হয়েছে।
- এটি পরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করতে তৈরি।
- এতে মৃত ব্যক্তির মর্যাদা নষ্ট করা হয়েছে।
- ভুল তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিজেপির প্রবীণ নেতা অনুরাগ ঠাকুর বলেন, “যে মা সন্তানকে শৃঙ্খলা শিখিয়েছিলেন, সেই মায়ের কণ্ঠ নকল করে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। এটি নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।”
আইনি দৃষ্টিকোণ
বিজেপির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিডিওটি ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধ। পাশাপাশি আইটি আইন এবং ডিজিটাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট ২০২৩-এর আওতায় এটি দণ্ডনীয়। FIR-এর সঙ্গে ভিডিও, পোস্টের স্ক্রিনশট এবং কংগ্রেসের হ্যান্ডেলের প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত শুরু
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভিডিওটি কোথা থেকে প্রকাশিত হয়েছে, কে বা কারা এটি তৈরি করেছে এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার করা হয়েছে কি না, সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল অপরাধ, ডিপফেক প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়েও তদন্ত চলছে।
রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা
এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিজেপি এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিজেপি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, প্রয়াত মায়ের সম্মান রক্ষার্থে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।
ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ডিপফেক ভিডিও তৈরি করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। রাজনৈতিক প্রচারে এর অপব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে এই ধরনের কনটেন্ট নজরদারি করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
জনমনে প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। অনেকে এটিকে মানবিকতা বিরোধী কাজ বলে উল্লেখ করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ের নামে প্রযুক্তির অপব্যবহার গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে
উপসংহার
হীরাবেন মোদীকে কেন্দ্র করে তৈরি ডিপফেক ভিডিও শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের কারণ নয়, বরং এটি প্রযুক্তির অপব্যবহারের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। প্রয়াত ব্যক্তির মর্যাদা, প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার এবং গণতন্ত্রে তথ্যের সততার প্রশ্ন এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে এটি কেবল রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা নাকি সুপরিকল্পিত ডিজিটাল অপরাধ। তবে বিজেপির অবস্থান পরিষ্কার – তারা এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং প্রয়াত মায়ের সম্মান রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে





















