আর জি করের চিকিৎসক ছাত্রীর রহস্য মৃত্যু: প্রেমঘটিত বিরোধ না খুন?
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ছবি: অনিন্দিতা সোরেন, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীর রহস্য মৃত্যু নিয়ে তীব্র প্রশ্ন।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
ঘটনার পটভূমি
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী অনিন্দিতা সোরেনের মৃত্যু পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক মহলে গভীর শোক ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের বাসিন্দা অনিন্দিতা এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারী ছিলেন। মেডিক্যাল কলেজে তাঁর পড়াশোনা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সুসম্পর্কপূর্ণ। তবে হঠাৎ তাঁর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও তাঁর পরিবার স্পষ্টভাবে দাবি করেছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং খুন।
প্রেমঘটিত বিরোধ কি মৃত্যুর কারণ?
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, অনিন্দিতার প্রেমিক মালদহ মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সূত্রের খবর, কিছুদিন আগে অনিন্দিতা গোপনে মালদহে গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করেন। পরিবার জানত না তিনি কোথায় গেছেন। এরপর গতকাল পরিবারকে ফোন করে জানানো হয় অনিন্দিতার শারীরিক অসুস্থতার কথা এবং মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। তবে ভর্তি করানোর প্রকৃত কারণ জানানো হয়নি। এই অস্পষ্টতাই সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবার হাসপাতালে পৌঁছে জানতে পারে, অনিন্দিতার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তাঁকে দ্রুত কলকাতায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। কিন্তু কলকাতায় পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। পরিবার দাবি করছে, এই ঘটনার নেপথ্যে প্রেমিকের হাত রয়েছে এবং তাঁদের মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের তদন্ত
মৃত চিকিৎসক ছাত্রী অনিন্দিতার পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, অনিন্দিতাকে তাঁর প্রেমিক নির্যাতন করেছেন এবং সেই নির্যাতনের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের কাছে তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং খুন।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রেমিকের ভূমিকা, হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময়ের তথ্য এবং চিকিৎসার রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের সাক্ষী ও হাসপাতালের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। আত্মহত্যা নাকি খুন—এটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা তদন্ত চালিয়ে যাব।”
সহপাঠীদের প্রতিক্রিয়া
অনিন্দিতার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, তিনি শান্ত স্বভাবের এবং পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। তবে ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলতেন না। কিছু সহপাঠীর বক্তব্য, সম্প্রতি তাঁর মানসিক অবস্থা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কেউ কেউ জানিয়েছেন, প্রেমঘটিত কিছু সমস্যা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে তিনি খোলাখুলি আলোচনা করেননি।
চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া
চিকিৎসক সমাজের মধ্যে অনিন্দিতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোক ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর সহপাঠী থেকে শুরু করে শিক্ষকরা পর্যন্ত গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শিক্ষক জানান, “আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না এমন একটি প্রতিভাবান ছাত্রীকে হারালাম। তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন।”
মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনা একাধিক প্রশ্ন তুলেছে—কীভাবে সম্পর্কজনিত সমস্যা এত ভয়াবহ রূপ নিল? শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন কিনা তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বনাম সামাজিক চাপ
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কজনিত বিরোধ, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক চাপ অনেক সময় মানসিক অবসাদ তৈরি করতে পারে। চিকিৎসক হওয়ার চাপ, পড়াশোনার দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনে তরুণ-তরুণীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। অনিন্দিতার ক্ষেত্রে এমন মানসিক চাপ কাজ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পরিবারের অভিযোগ অনুসারে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হওয়াও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আইনি প্রক্রিয়া ও আগামী দিন
আইন বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ঘটনার তদন্তে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। শারীরিক আঘাতের চিহ্ন, বিষক্রিয়া বা অন্য কোনও উপাদান পরীক্ষা করে আত্মহত্যা নাকি খুন তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু হতে পারে। তদন্তের গতি বাড়ানোর জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হতে পারে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেডিক্যাল কলেজগুলোতে পরামর্শ কেন্দ্র, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং অভ্যন্তরীণ অভিযোগ প্রক্রিয়া আরো শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে।
উপসংহার
অনিন্দিতা সোরেনের মৃত্যু শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সম্পর্কজনিত সমস্যার গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। আত্মহত্যা না খুন—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তৎপর পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, সহপাঠীদের উদ্বেগ এবং চিকিৎসক মহলের শোক—সব মিলিয়ে অনিন্দিতার মৃত্যু রাজ্যের আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। সত্য উদঘাটনের জন্য প্রয়োজন সততা, বৈজ্ঞানিক তদন্ত এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীলতা।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন