Sample Video Widget

Seo Services

Saturday, 13 September 2025

দুর্গাপুজোর পর বাংলায় রাহুল গান্ধী: মালদহে বড় রাজনৈতিক সম্মেলনের প্রস্তুতি

দুর্গাপুজোর পর বাংলায় রাহুল গান্ধী: মালদহে বড় রাজনৈতিক সম্মেলনের প্রস্তুতি

দুর্গাপুজোর পর বাংলায় রাহুল গান্ধী: মালদহে বড় রাজনৈতিক সম্মেলনের প্রস্তুতি

আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

রাহুল গান্ধীর মালদহ সফরের প্রস্তুতি

ছবি: মালদহে কংগ্রেসের সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

রাজ্যে রাহুলের আগমন: রাজনৈতিক বার্তার নতুন অধ্যায়

দুর্গাপুজোর পর পশ্চিমবঙ্গে আসছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা এবং লোকসভায় দলের নেতা রাহুল গান্ধী। সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) তরফে শনিবার প্রদেশ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর তিনি বাংলায় পৌঁছবেন। যদিও তাঁর সফরের পূর্ণ সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কলকাতার পরিবর্তে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-মধ্য বাংলার দিকে ফোকাস করতে চাইছে কংগ্রেস। বিশেষ করে মালদহ জেলাকে কেন্দ্র করেই আয়োজন করা হচ্ছে একটি বড় রাজনৈতিক সম্মেলন, যেখানে রাহুল অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।

কেন মালদহ গুরুত্বপূর্ণ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালদহের প্রতি কংগ্রেসের এই মনোযোগ নিছক কাকতালীয় নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে কেবলমাত্র মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্র থেকেই জয় লাভ করে কংগ্রেস। সেখানে দলের প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী জয়ী হন। এই জয়ের পিছনে স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা ছাড়াও ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল এবং গ্রামীণ জনতার সমর্থন কাজ করেছে। ফলে দলের একাংশ মনে করছে, মালদহেই আবার সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করা সম্ভব।

প্রদেশ নেতৃত্বের বক্তব্য, মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রের মধ্যেই সম্মেলনের আয়োজন হবে। সেখানে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হবে। রাহুলের সফর কংগ্রেস কর্মীদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক বার্তা ও ভোটের প্রস্তুতি

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রাহুলের সফর শুধু সাংগঠনিক পরিধিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করার প্রচেষ্টা। বর্তমানে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই চলছে। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নিজেদের মতাদর্শিক অবস্থান এবং স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি করতে চাইছে। রাহুলের সফরের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে এবং ভোটের আগে সংগঠন পুনর্গঠনের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল সম্প্রতি জানিয়েছেন, ‘‘কংগ্রেস মতাদর্শের লড়াই লড়ছে এবং রাহুল গান্ধী নিজে রাজ্যে এসে সেই লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে চান।’’ তাঁর এই বক্তব্য সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।

সম্ভাব্য কর্মসূচি

  • মালদহে বড় রাজনৈতিক সম্মেলন
  • জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক
  • সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করার কৌশল নির্ধারণ
  • রাজ্যব্যাপী গণস্বাক্ষর অভিযানের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ
  • রাজনৈতিক বার্তা ও মতাদর্শের প্রচার

যদিও সফরের সম্পূর্ণ সময়সূচি এখনও প্রকাশ হয়নি, তবে কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে যে সফরের দিনক্ষণে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও প্রাথমিকভাবে ১৫ অক্টোবর মালদহ সফর নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।

গণস্বাক্ষর অভিযান: ‘ভোট চোর-গোদি ছোড়’ স্লোগান নিয়ে আন্দোলন

রাহুলের সফরের পাশাপাশি শনিবার বিধান ভবন থেকে শুরু হয়েছে ‘ভোট চোর-গোদি ছোড়’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে গণস্বাক্ষর অভিযান। এই কর্মসূচি আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও এটি বড় পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। গণস্বাক্ষর অভিযানের শেষ দিনে রাহুল উপস্থিত থেকে কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি কংগ্রেসের মতাদর্শিক অবস্থান এবং বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী জনমত তৈরি করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

রাজ্যে কংগ্রেসের অবস্থান শক্তিশালী করতে রাহুলের ভূমিকা

রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বহু বছর ধরে তৃণমূল এবং বিজেপির প্রভাবেই রাজ্যের ভোটের লড়াই সীমাবদ্ধ। কংগ্রেসের সংগঠন দুর্বল হওয়ায় রাজনৈতিক পরিসরে প্রভাব কমেছে। তবে মালদহের মতো নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে আবারও সংগঠনের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর সফর এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের মাধ্যমে কংগ্রেস বাংলায় একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে চাইছে, যেখানে দল শুধু নির্বাচনী লড়াই নয়, মতাদর্শিক সংগ্রামের ওপরও গুরুত্ব দেবে। এটি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে এবং ভোটের আগে সংগঠনের কাঠামো পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।

স্থানীয় জনতার প্রতিক্রিয়া

মালদহের সাধারণ মানুষ এবং কংগ্রেস কর্মীরা রাহুলের সফর নিয়ে ইতিবাচক। তাঁদের মতে, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠে নামলে কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। স্থানীয় নেতৃত্বও আশাবাদী যে এই সম্মেলনের মাধ্যমে দল সংগঠিত হবে এবং গ্রামীণ এলাকায় নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে। তবে কিছু রাজনৈতিক মহল এটিকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছে এবং প্রশ্ন তুলছে, এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে কি না।

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, কংগ্রেসের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে তৃণমূলের জনভিত্তি এবং অন্যদিকে বিজেপির শক্তিশালী সংগঠন। এই দুইয়ের মাঝে নিজস্ব জায়গা তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ। রাহুলের সফর যদি কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে পারে এবং মতাদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে, তবেই এটি ফলপ্রসূ হবে। এছাড়া স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা, গ্রামীণ এলাকার সমস্যাগুলি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা এবং নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

দুর্গাপুজোর পর রাহুল গান্ধীর বাংলায় আসা নিছক একটি সফর নয়। এটি কংগ্রেসের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যেখানে মালদহকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং মতাদর্শিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হতে পারে। গণস্বাক্ষর অভিযান থেকে শুরু করে সম্মেলনের আয়োজন—সব মিলিয়ে রাহুলের সফর কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। সময়ই বলে দেবে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কংগ্রেসের জন্য কতটা কার্যকর হবে।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog