দুই সুদান গুরুং নিয়ে বিভ্রান্তি: নেপাল ও দার্জিলিংয়ে আলাদা পরিচয়, তবু সমাজমাধ্যমে ছড়াচ্ছে ভুল প্রচার
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ছবি: নেপালের সুদান গুরুং ও দার্জিলিংয়ের সুদান গুরুং – একই নাম হলেও ভিন্ন ব্যক্তিত্ব। বিভ্রান্তির জেরে সমাজমাধ্যমে উত্তাপ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
নেপালের আন্দোলনের মুখ: সুদান গুরুং
নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন সমাজকর্মী সুদান গুরুং। ‘হামি নেপাল’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়া সুদান ছাত্র-যুবদের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে তাঁর এক সন্তানকে হারানোর পর তিনি সমাজের জন্য কাজ শুরু করেন। ডিসকো জকি হিসেবে জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও তিনি গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের কাজ শুরু করেন।
সুদানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘জেনারেশন জি’ বা ‘জেন জি’ আন্দোলন নেপালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বৃহৎ জনমত তৈরি করেছিল। সরকারি দপ্তরে স্বজনপোষণ, আর্থিক বৈষম্য এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে ছাত্র-যুবরা তাঁর নেতৃত্বে একত্রিত হন। সমাজমাধ্যমে বাধা দেওয়া হলে তাঁদের ক্ষোভ বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত নেপালের কমিউনিস্ট সরকারের পতন ঘটে।
দার্জিলিংয়ের সুদান গুরুং: শিক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদী
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়ে আরেক সুদান গুরুং সক্রিয় সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত। তাকদাহ লামাহাট্টার বাসিন্দা এই যুবক অনীত থাপার কট্টর বিরোধী। শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রতিবাদে তাঁর নেতৃত্বে পাহাড়ে একাধিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। সম্প্রতি তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলেও তিনি পিছিয়ে যাননি। বরং পাহাড়ের তরুণদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে।
এই সুদান গুরুং ভারতের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন এবং শিক্ষা সংস্কারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর আন্দোলনের লক্ষ্য দুর্নীতি রোধ, সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করা।
বিভ্রান্তির সূত্র: একই নাম, আলাদা জীবন
দুই ভিন্ন ব্যক্তি হলেও তাঁদের নাম এক হওয়ায় সমাজমাধ্যমে বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে। বিশেষত নেপালের অভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনা ছড়াতে শুরু করলে বহু মাওবাদী মতাদর্শী ইউটিউবার এবং প্রোপাগান্ডাকারীরা দার্জিলিংয়ের সুদান গুরুংয়ের ছবি ব্যবহার করে তাঁকে নেপালের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে যে, তিনি নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন।
এই বিভ্রান্তির লক্ষ্য শুধু ব্যক্তি নির্যাতন নয়, বরং ভারত-নেপালের সুসম্পর্ক নষ্ট করা। কিছু মহল এই প্রচারের মাধ্যমে ভারতবিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সুদানের প্রতিবাদ: এক্স হ্যান্ডেলে স্পষ্টীকরণ
অপপ্রচারের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন দার্জিলিংয়ের সুদান গুরুং। তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন:
“নেপালের প্রিয় মানুষ দার্জিলিংয়ের সুদান গুরুং এবং নেপালের সুদান গুরুং এক নয়। মনে হচ্ছে নেপাল ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক নষ্ট করার জন্য কিছু মানুষ দার্জিলিংয়ের সুদান গুরুংয়ের মুখ ব্যবহার করে দাবি করছেন নেপালের সুদান গুরুং আদতে ভারতের। কিন্তু তারা দু’জন ভিন্ন মানুষ।”
তিনি আরও বলেছেন:
“আমার নজরে এসেছে কিছু সংবাদমাধ্যম প্রতিবেশী নেপালে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিক্ষোভের সঙ্গে আমার ছবি প্রচার করেছে। আমি বলছি ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ‘সুদান গুরুং’ একজন নেপালের নাগরিক এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। আমার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। ঘটনাক্রমে আমাদের দুজনের একই নাম এবং এখানেই শেষ। আমি ভারত প্রজাতন্ত্রের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক। দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা।”
বিশেষজ্ঞদের মত: নামের মিলেই বিভ্রান্তির বিস্তার
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নামের মিল একটি সহজ হাতিয়ার, যার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো সম্ভব। সমাজমাধ্যমের দ্রুত সংযোগ ও ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর কারণে অনেক সময় যাচাই না করেই ভুল খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের বিভ্রান্তির রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, ব্যক্তির পরিচয় বিকৃত করা একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। এটি শুধু ওই ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করে না, বরং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। তাই সংবাদ যাচাই এবং দায়িত্বশীল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
উপসংহার: নামের মিল মানেই পরিচয়ের মিল নয়
নেপালের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সুদান গুরুং এবং দার্জিলিং পাহাড়ের শিক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদী সুদান গুরুং – দুইজনই সমাজের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তবে তাঁদের জীবন, কাজ এবং অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা। সমাজমাধ্যমে বিভ্রান্তির মাধ্যমে তাঁদের এক করে দেখানোর প্রচেষ্টা শুধু ভুল তথ্য ছড়ায় না, বরং দুই দেশের সম্পর্কেও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
সঠিক তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল প্রচার এবং নাগরিক সচেতনতা নিশ্চিত করা জরুরি। দুই সুদান গুরুং তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রেই অনুপ্রেরণার উৎস, এবং তাঁদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের সকলের কর্তব্য।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন