গাজায় ইজরায়েলি হামলা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ, রাষ্ট্রপুঞ্জে নিন্দাপ্রস্তাব পাশ
আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ছবি: গাজার ধ্বংসস্তূপে সাধারণ মানুষের দুর্দশা, যেখানে ইজরায়েলি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
গাজার ভূখণ্ডে ইজরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতির অবনতি
সম্প্রতি ইজরায়েল গাজার ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করেছে। তাদের লক্ষ্য, সম্পূর্ণভাবে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং হামাসকে নিরস্ত্র করা। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, "হামাস যদি আত্মসমর্পণ না করে তবে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।" অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, "স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।" এই দ্বন্দ্বের ফলে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন বিপর্যস্ত হয়েছে।
দোহায় ইজরায়েলি বিমান হামলার নিন্দায় রাষ্ট্রপুঞ্জ
বিগত কয়েকদিন আগেই কাতারের রাজধানী দোহায় ইজরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামাসের নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো এই অভিযানে বহু হতাহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকে নিন্দাপ্রস্তাব পাশ করেছে। অনেক দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জ সাধারণ পরিষদে প্যালেস্তাইনকে স্বীকৃতির সমর্থন
রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির পক্ষে ১৪২টি দেশ ভোট দিয়েছে। ভারতসহ বহু দেশ এই প্রস্তাবের সমর্থন দিয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্যালেস্তাইনের স্বীকৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ইজরায়েল এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে।
মানবিক সংকট: শিশু ও সাধারণ মানুষের দুর্দশা
গাজার সাধারণ মানুষের ওপর ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। তৃষ্ণার্ত শিশুদের ওপর পর্যন্ত হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেছে। এখন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামাসের আড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ
ইজরায়েলের সেনা দাবি করছে তারা শুধু হামাসের অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হানছে। তবে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা অভিযোগ তুলেছে যে, হামাসের নাম করে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো হচ্ছে। চিকিৎসা কেন্দ্র, স্কুল, আশ্রয় শিবির পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর ফলে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও সমঝোতার চাপ
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইকি জমির সম্প্রতি বলেছেন, "হামাসের সঙ্গে সমঝোতা করা প্রয়োজন। বন্দি বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হলে যুদ্ধের উত্তেজনা কমবে। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই সমাধান চায়।" যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর হাতে, তবুও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। নাগরিকদের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবও জোরালো হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলি দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ভারতের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদের নিন্দাপ্রস্তাব আন্তর্জাতিক সমালোচনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ
- গাজার সাধারণ মানুষের মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা।
- যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু করতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা জোরদার করা।
- হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা।
- রাষ্ট্রপুঞ্জের নিন্দাপ্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি।
- শরণার্থী সংকট সমাধানে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি।
উপসংহার
গাজার পরিস্থিতি আজ বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয়। ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিন্দাপ্রস্তাব পাশ যুদ্ধবিরতির দাবি আরও জোরালো করেছে। একই সঙ্গে প্যালেস্তাইনের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য সমাধানের দিকে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন