নির্বাচন কমিশনের SIR নিয়ে শীর্ষ আদালতে হলফনামা: কমিশনের বিশেষ অধিকার রক্ষার দাবি
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নির্বাচন কমিশনের তরফে শীর্ষ আদালতে পেশ করা হলফনামা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা SIR।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
কী এই SIR বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন?
‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা SIR হল ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ঠিকঠাক রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে মৃত, স্থানান্তরিত বা অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয় এবং যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নির্বাচন কমিশনের মতে, সঠিক ভোটার তালিকা ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা সম্ভব নয়।
নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় দাবি
শীর্ষ আদালতে নির্বাচন কমিশনের তরফে পেশ করা হলফনামায় বলা হয়েছে, “দেশজুড়ে বিশেষ নিবিড় সংশোধন করানো আমাদের সংবিধানপ্রদত্ত বিশেষ অধিকার। সংবিধানের ৩২৪ ধারা অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরি করা এবং তা সংশোধনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব কমিশনের। এই ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ বা হস্তক্ষেপ আমাদের কর্তৃত্বের উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।”
কমিশন আরও জানিয়েছে, “ভোটার তালিকা সঠিক রাখা আমাদের কর্তব্য এবং আমরা এ ব্যাপারে সচেতন। এসআইআর ছাড়া ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা কঠিন। আদালত যদি এই বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেয় তবে তা কমিশনের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাবে।”
জনস্বার্থ মামলার পটভূমি
আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় সম্প্রতি শীর্ষ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি আবেদন করেন যে, “ভারতের যে কোনও নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হোক, যাতে ভোটার তালিকা শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের ভিত্তিতে তৈরি হয় এবং বিদেশি বা অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় না থাকে।”
তবে নির্বাচন কমিশনের মতে, আদালতের এই ধরনের নির্দেশ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টি করবে। কমিশনের বক্তব্য, তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ সচেতন এবং নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী তালিকা সংশোধন করছে। আদালতের নির্দেশ ছাড়াই কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
বিহার নির্বাচনের আগে বিতর্ক
সম্প্রতি বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে SIR নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে বিজেপির সুবিধার জন্য ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকদের (CEO) ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। অক্টোবরের যে কোনও দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
আধার যাচাই নিয়ে নির্দেশনা
এসআইআর নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভোটার তালিকায় আধার কার্ড যাচাই করানোর নির্দেশনা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সময় আধার নম্বর যাচাই করতে বলা হয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, “আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটি শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।”
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, আধার যাচাই করলে একাধিক ভোটার তালিকার নাম বাদ দেওয়া সহজ হবে। তবে এটি নাগরিকত্ব নির্ধারণের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এই অবস্থান নিয়েও দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
সংবিধানের ৩২৪ ধারা – নির্বাচন কমিশনের ভিত্তি
সংবিধানের ৩২৪ ধারা নির্বাচন কমিশনের ওপর ভোটার তালিকা তৈরি, নির্বাচন পরিচালনা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমের পূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছে। এই ধারার আলোকে নির্বাচন কমিশন একাধিকবার স্পষ্ট করেছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্তে অন্য কোনও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের এই ধারা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা বজায় রাখার অন্যতম ভিত্তি। গণতন্ত্রের স্বার্থে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই ধারা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আদালতের নির্দেশের ফলে কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে মনে করছে তারা।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ইতিমধ্যেই এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে শাসক পক্ষ কমিশনের অবস্থান সমর্থন করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা দাবি তুলেছে যে ভোটার তালিকার সংশোধনের নামে বিজেপির স্বার্থরক্ষার চেষ্টা চলছে। নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে, ভোটার তালিকা যাতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সংশোধন হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পরবর্তী সম্ভাবনা
শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি চলমান। নির্বাচন কমিশনের হলফনামা আদালতে দাখিলের পর আদালত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালত কমিশনের স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারে, আবার প্রয়োজনে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দেশও দিতে পারে।
উপসংহার
দেশজুড়ে বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা শুধু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নয়, সংবিধান ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় স্পষ্ট যে তারা নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে আদালতের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। বিহার নির্বাচন এবং আসন্ন অন্যান্য নির্বাচনের আগে এই ইস্যু আরও তীব্র হতে পারে। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, নাগরিক অধিকার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা – সবকিছুই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন