ওড়িশায় নিখোঁজ বাঙালি শ্রমিক: ভাষাগত নিপীড়নের শিকার, ‘এক ডাকে অভিষেক’ হেল্পলাইনে উদ্ধার
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ওড়িশায় আটকে পড়া এক বাঙালি শ্রমিক। ভাষাগত নিপীড়নের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের ‘এক ডাকে অভিষেক’ হেল্পলাইনে উদ্ধার।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেনিখোঁজ শ্রমিকের পরিবারে আতঙ্ক
ওড়িশার এক প্রত্যন্ত গ্রামে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক। দিন পাঁচেক ধরে তাঁর কোনো খোঁজ নেই। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি সেখানে কাজ করছিলেন। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ স্থানীয়দের হাতে আটক হন তিনি এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নিপীড়নের শিকার হন। পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে খোঁজ চালালেও প্রশাসনের দিক থেকে প্রথমে কোনো সহায়তা মেলেনি।
চা খেতে গিয়েও নিরাপত্তাহীনতা
শ্রমিকের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, তাঁরা সেখানে চা খেতে গেলেও নিরাপদ ছিলেন না। স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অভিযোগ করতে গিয়েও পুলিশ তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি। একাধিক থানায় ঘুরে প্রশাসনের অনীহার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। পরিবারের সদস্যরা জানান, “আমরা শুধু তাঁকে ফিরিয়ে আনতে চাই। কিন্তু কেউ সাহায্য করছে না।”
‘এক ডাকে অভিষেক’ হেল্পলাইনে আশার আলো
চরম হতাশার মধ্যে পরিবার শেষমেশ ভরসার জায়গা হিসেবে বেছে নেয় তৃণমূল কংগ্রেসের ‘এক ডাকে অভিষেক’ হেল্পলাইন। ফোন করতেই দ্রুত নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ শ্রমিককে। এই ঘটনায় পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও ক্ষোভ থামেনি। তাঁরা দাবি করছেন, ভাষাগত বৈষম্যের নামে এই নির্যাতনের বিচার হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে ঘটনাটি
ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, “বাঙালিকে দেশেই পরবাসী করে দিচ্ছে বিজেপি। বাংলার অস্তিত্ব, আত্মমর্যাদা মুছে ফেলতে উঠেপড়ে লেগেছে ওরা।” কেন্দ্রীয় রাজনীতির মঞ্চে এই ঘটনা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিষেকের কড়া মন্তব্য
পরিযায়ী ইস্যু নিয়ে সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “এই বাংলা ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ছিঁড়েছে, জাতীয় সঙ্গীত উপহার দিয়েছে ভারতকে। আজ সেই বাঙালিকে অপমান, নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে নিজের দেশেই।” তাঁর বক্তব্যে বাঙালির আত্মমর্যাদা ও ঐতিহ্যের কথা উঠে আসে। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই বক্তব্য ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
ভাষাগত বৈষম্যের চিত্র
ভাষা শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নয়, তা পরিচয়ের অংশ। এই ঘটনার মাধ্যমে উঠে এসেছে ভাষাগত বৈষম্যের নির্মম চিত্র। অভিযোগ, স্থানীয়রা বাংলায় কথা বলায় ওই শ্রমিককে ‘অপর’ হিসেবে দেখেছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের বৈষম্য শুধু ব্যক্তির ওপর নির্যাতন নয়, বরং বৃহত্তর সাংস্কৃতিক সংঘাতের লক্ষণ। আন্তঃরাজ্য শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভাষাগত সহিষ্ণুতা বাড়ানো জরুরি।
পর্যবেক্ষকদের মতামত
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি শ্রমিক নিখোঁজের ঘটনা নয়। এটি কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের টানাপোড়েন, শ্রমিক অধিকার, ভাষাগত অসহিষ্ণুতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের প্রতিচ্ছবি। তাঁরা মনে করেন, ঘটনাটি ভবিষ্যতে আন্তঃরাজ্য শ্রমিকদের নিরাপত্তা নীতির পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলতে পারে।
পরবর্তী করণীয়
- ভাষাগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।
- পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য জরুরি সহায়তা হেল্পলাইন ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
- রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বয়ে শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন জরুরি।
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বাড়াতে জনমাধ্যমে প্রচার চালানো প্রয়োজন।
পরবর্তী সময়ে এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাও আরও তীব্র হতে পারে। তবে এই সংকটের মানবিক দিকটি যেন ভুলে না যাওয়া হয়—এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে





















