ইয়েমেনের হোদাইদা বন্দরে ইজরায়েলের হামলার জবাবে হুথিদের মিসাইল হামলা
হোদাইদা, ইয়েমেন: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন করে জ্বলে উঠেছে। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর হোদাইদায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এর জবাবে হুথি বিদ্রোহীরা ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়েছে। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ওই মিসাইল আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেহোদাইদায় বিমান হামলা: কী ঘটেছে?
মঙ্গলবার সকালে ইজরায়েলি বিমান বাহিনী হোদাইদা বন্দরে একের পর এক হামলা চালায়। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছিল। এরপর বিমান থেকে অন্তত ১২টি মিসাইল ও বোমা ছোড়া হয়। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হুদাইদা বন্দরের মাধ্যমে ইরানি অস্ত্র পাচার হয়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই হামলা সেই অস্ত্র পরিবহন কেন্দ্র ধ্বংসের জন্য চালানো হয়েছে।
হুথিদের পাল্টা হামলা
হামলার প্রতিক্রিয়ায় হুথি বিদ্রোহীরা ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়ে। যদিও ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ওই মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে, তবুও এই ঘটনা সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে। হুথিরা জানিয়েছে, ইজরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। হুথি নেতৃত্ব দাবি করেছে, তারা আত্মরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
হোদাইদা: অর্থনীতি ও যুদ্ধের কেন্দ্র
হোদাইদা বন্দর ইয়েমেনের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। খাদ্য, জ্বালানি এবং মানবিক সাহায্য এই বন্দর দিয়েই দেশে প্রবেশ করে। একে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। যুদ্ধের ফলে বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, অবরোধের কারণে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হবে।
ইজরায়েলের বক্তব্য
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ বলেছেন, “হুথিদের ওপর আমাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। তারা ইরানি অস্ত্র ব্যবহার করে আমাদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। নৌ ও আকাশ অবরোধ বজায় রেখে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেব।” তিনি আরও হুমকি দিয়েছেন যে, হুথিরা এ ধরনের হামলার জন্য উচ্চমূল্য চুকাতে বাধ্য হবে।
হুথিদের প্রতিক্রিয়া
হুথি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইজরায়েলের হামলা বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এবং এতে সাধারণ মানুষের দুর্দশা আরও বাড়ছে। তারা বলেছে, “আমরা আত্মরক্ষায় বাধ্য হয়েছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইজরায়েলের আগ্রাসনের নিন্দা করা এবং মানবিক সাহায্য নিশ্চিত করা।”
পূর্ববর্তী হামলা ও সংঘাতের পটভূমি
২০২৩ সালে ইজরায়েল ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে হুথিরা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিকবার ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায়। এছাড়া লোহিত সাগরে ইজরায়েলি জাহাজ চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারা।
গত দুই সপ্তাহে ইজরায়েল ইয়েমেনে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। একাধিক বিমান হামলায় বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ ১২ জন মন্ত্রী নিহত হন। অপরদিকে গত সপ্তাহে আরেক হামলায় অন্তত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই সহিংসতার ফলে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা চরমভাবে নষ্ট হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, খাদ্য, ওষুধ এবং মানবিক সাহায্য পৌঁছাতে বাধা দেওয়া উচিত নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ইজরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা করেছে।
পরিস্থিতির জটিলতা
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ইয়েমেন ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত নয়। এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের অংশ। ইরান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকাও সংঘাতকে জটিল করছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণ মানুষের জীবনযাপন
হামলার কারণে বন্দরের কাছাকাছি এলাকাগুলো প্রায় শূন্য হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলেছেন, হামলার আগেই বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়ায় বহু পরিবার রাতারাতি এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। যারা রয়ে গেছে তারা খাবার ও ওষুধের অভাবে বাঁচার লড়াই করছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল এবং ওষুধ নেই।
আগামী পরিস্থিতি
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষত লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মানবিক সহায়তা না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এছাড়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলি অঞ্চলজুড়ে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন