ভোটারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত: ইভিএমে এবার প্রার্থীদের রঙিন ছবি ছাপা হবে
Y বাংলা ব্যুরো: নির্বাচন কমিশন ভোটারদের সুবিধার্থে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগের তুলনায় এবার আরও সহজ হবে ভোটারদের জন্য প্রার্থীকে চিনে নেওয়া। নির্বাচনের সময় বহুবার দেখা গেছে প্রার্থীর ছবি স্পষ্ট বোঝা যায় না, নাম ছোট ফন্টে থাকে—এই সমস্যা দূর করতে এবার ইভিএমের ব্যালট পেপারে প্রার্থীর রঙিন ছবি ছাপা হবে। একই সঙ্গে সিরিয়াল নম্বর ও নাম বড় ও বোল্ড অক্ষরে থাকবে।
বিহার থেকেই শুরু হবে নতুন নিয়ম
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন নিয়ম প্রথমবার চালু হবে বিহারের নির্বাচনে। সফল হলে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ধাপে ধাপে এটি কার্যকর হবে। কমিশনের লক্ষ্য স্পষ্ট—ভোটাররা যেন সহজেই প্রার্থী সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় যেখানে শিক্ষার হার তুলনামূলক কম, সেখানে প্রার্থীর ছবি দেখে চিনে নেওয়া অত্যন্ত কার্যকর হবে।
নতুন নিয়মে কী পরিবর্তন আসছে?
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নিয়ম অনুসারে এবার ব্যালট পেপারে নিম্নলিখিত পরিবর্তন আসবে:
- ইভিএমে প্রার্থীর রঙিন ছবি ছাপা হবে।
- ছবির আকার হবে মোট জায়গার তিন-চতুর্থাংশ।
- সিরিয়াল নম্বর ও প্রার্থীর নাম থাকবে ৩০ ফন্ট সাইজে, বোল্ড অক্ষরে।
- ইভিএম পেপার হবে ৭০ জিএসএম মানের।
- বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রঙের।
ভোটারদের জন্য সুবিধা
এই নতুন নিয়মে ভোটাররা সহজেই প্রার্থী চিনতে পারবেন। অনেক সময় দেখা গেছে একই নামের একাধিক প্রার্থী থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আবার প্রার্থীর নাম ছোট ফন্টে থাকার কারণে পড়তে অসুবিধা হয়। বিশেষত প্রবীণ, শিক্ষাবঞ্চিত ও গ্রামীণ ভোটাররা আগে এই সমস্যায় পড়তেন। রঙিন ছবি ও বড় অক্ষরের নাম এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নেবে।
কমিশনের বক্তব্য
নির্বাচন কমিশনের এক মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা ভোট প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। গত ছ’মাসে ভোটারদের সুবিধার্থে ২৮টি নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ইভিএম ব্যালটে রঙিন ছবি যুক্ত করা হচ্ছে। এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হবেন না এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।”
প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে
কমিশন জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ভোটের পরিবেশ আরও উন্নত করা হচ্ছে। আগের তুলনায় ইভিএমের নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে সাহায্য ডেস্ক, সিসিটিভি নজরদারি এবং পর্যাপ্ত আলো ও পরিবহন সুবিধাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রার্থীর পরিচিতির এই নতুন উদ্যোগ ভোটারের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন ভোটারদের জন্য বড় সুবিধা এনে দেবে। বিশেষ করে যেখানে শিক্ষার হার কম, সেখানে ভোটাররা ছবি দেখে সহজেই প্রার্থী চিনে ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া একই নামের একাধিক প্রার্থী থাকলেও ভোট দেওয়ার সময় ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমবে। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা বাড়বে।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
গ্রামীণ এলাকার এক ভোটার বলেন, “আমরা আগে প্রার্থীর নাম পড়ে চিনতে পারতাম না। অনেকে ভুল করে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিত। এবার ছবি দেখে চিনে নেওয়া সহজ হবে।” অন্যদিকে শহরের ভোটারদের মতে, এই উদ্যোগ প্রযুক্তির সাহায্যে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াবে।
আগামী নির্বাচন থেকে কার্যকর
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। নির্বাচন কমিশনের আশা, বিহারের সফল প্রয়োগের ভিত্তিতে অন্যান্য রাজ্যেও এটি চালু করা হবে। এটি শুধু ভোট প্রক্রিয়াকে সহজ করবে না, বরং নির্বাচনী স্বচ্ছতা বাড়াবে।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা এবং অংশগ্রহণ বাড়ানো। প্রযুক্তির সাহায্যে ভোটারদের জন্য সহজবোধ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটাই কমিশনের উদ্দেশ্য।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন