তামিলনাড়ুতে হেনস্থার শিকার মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকরা – বাড়ি ফেরার দাবি জোরালো
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
তামিলনাড়ুতে আটকে পড়েছেন মুর্শিদাবাদের বহু পরিযায়ী শ্রমিক। খাবার, টাকা ও নিরাপত্তাহীনতার মাঝে বেঁচে থাকার লড়াই।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেসংকটে পরিযায়ী শ্রমিকেরা
মুর্শিদাবাদের লালগোলা, ভগবানগোলা, নবগ্রামসহ একাধিক এলাকা থেকে কয়েকশো শ্রমিক তামিলনাড়ুতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। তাঁরা নির্মাণ শ্রমিক, কারখানায় কাজ করা শ্রমিক, পরিষেবা খাতে যুক্ত শ্রমিক। বহুজন সেখানে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ, স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী তাঁদের মারধর করেছে, তাঁদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, এমনকি খাবারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বহুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি নন, তাঁরা ভাড়া করা ছোট ঘরে বা নির্মাণস্থলের পাশে দিন কাটাচ্ছেন অনাহারে, অর্থাভাব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে।
বাড়ি ফেরার উপায় বন্ধ
পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হল—এখন তাঁরা বাড়ি ফেরার কোনো উপায় পাচ্ছেন না। বহু শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, যাঁরা তাঁদের টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাঁরা এখন আর ফোন ধরছেন না। একজন শ্রমিক, মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের মারধর করা হয়েছে, সব জিনিস কেড়ে নিয়েছে। টাকা নেই, খাবার নেই। জেলাশাসক বলছেন, টিকিট দেবে না। সামিরুল ইসলাম ফোন করেছিলেন, এখন তিনিও ফোন ধরছেন না।” তাঁর কণ্ঠে আতঙ্ক, ক্লান্তি এবং অসহায়ত্ব স্পষ্ট।
‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি
রাজ্য সরকারের ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার টিকিট দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অভিযোগ, শ্রমিকেরা তাঁদের আধার কার্ড পাঠিয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পরে জানানো হয়, টিকিট নিজেদের খরচে কাটতে হবে। জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র এই অভিযোগ খণ্ডন করেন। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে টিকিট কেটে দেওয়ার কথা বলিনি। কেউ এই ধরনের আবেদনও করেননি। বাড়ি ফিরলে শ্রমশ্রী প্রকল্পের আওতায় যা যা সুবিধা রয়েছে, তা দেওয়া হবে। এটি ভুল প্রচার।”
অন্যদিকে, রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম বলেন, “শ্রমশ্রী প্রকল্পে সাহায্য পেতে হলে অ্যাপ্লিকেশন করতে হয়। ডকুমেন্টসহ আবেদন করতে হয়। কিন্তু ওরা সেটা করেনি।” তাঁর মতে, শ্রমিকেরা যথাযথ আবেদন করেননি বলে প্রকল্পের সুবিধা পাননি।
শ্রমিকদের বাস্তবতা বনাম সরকারি বক্তব্য
সরকারি ব্যাখ্যার সঙ্গে শ্রমিকদের বক্তব্যের বিস্তর ফারাক। মাঠপর্যায়ে শ্রমিকেরা জানাচ্ছেন, তাঁদের কাছে আবেদন করার সময়ই দেওয়া হয়নি। তাঁদের ফোন নম্বর নিয়েও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শ্রমিকদের একাংশ বলছেন, তাঁদের ভুল বুঝিয়ে বলা হয়েছিল, আবেদন জমা হলেই টিকিটের ব্যবস্থা হবে। এখন তাঁরা তামিলনাড়ুর অপরিচিত শহরে একাকী পড়ে আছেন।
পরিস্থিতির মানবিক দিক
পরিযায়ী শ্রমিকরা সাধারণত গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম নির্ভরশীল অংশ। তাঁদের শ্রমে বহু নির্মাণ প্রকল্প, কারখানা, পরিষেবা খাত এগিয়ে চলে। কিন্তু সামাজিক নিরাপত্তার অভাব তাঁদের অনিরাপদ করে তুলেছে। রোগাক্রান্ত হলে চিকিৎসার অভাব, আয়ের অনিশ্চয়তা, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং স্থানীয় সহযোগিতার অভাব তাঁদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পরিবারে থাকা সন্তান, স্ত্রী বা বয়স্ক পিতামাতার কথা ভেবে তাঁরা বাড়ি ফেরার জন্য ছটফট করছেন। তবুও সরকারি সাহায্যের অভাব তাঁদের হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রাজ্যের কাছে শ্রমিকদের আবেদন
শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেছেন। কেউ কেউ স্থানীয় পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবুও এখন পর্যন্ত তাঁদের বাড়ি ফেরানোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেকেই চাইছেন কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ হোক। আবার কেউ কেউ দাবি করছেন, আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের অভাবের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বলেন, “আমরা কাজ করতে গিয়েছিলাম, এখন মরার জন্য পড়ে আছি।” এই কথার মধ্যে তাঁদের যন্ত্রণা স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন কিছু সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি নিয়মিত ঘটছে। শ্রমিকদের জন্য যথাযথ তথ্য প্রদান, আবেদন গ্রহণ এবং নিরাপদ পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকলে তাঁদের জীবনে এই ধরনের সংকট বারবার ঘটবে। তাঁরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন, শ্রমশ্রী প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যকর করতে, শ্রমিকদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য মোবাইল হেল্পলাইন চালু করতে এবং আন্তঃরাজ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে।
আগামী দিনের পথ
এখন প্রশ্ন—এই সংকটের সমাধান হবে কীভাবে? একদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, অন্যদিকে শ্রমিকদের হতাশা। এই পরিস্থিতিতে সমন্বয় দরকার। শ্রমিকদের আবেদন গ্রহণ, টিকিটের ব্যবস্থা, চিকিৎসা সহায়তা এবং নিরাপত্তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শ্রমিকদের নিজস্ব সংগঠন গড়ে তুলতে হবে যাতে তাঁরা একত্রিত হয়ে দাবি তুলতে পারেন। একইসঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
পরবর্তী কয়েক দিনে শ্রমিকদের পরিবার, রাজ্য সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাঁদের বাঁচাতে চাইলে তাৎক্ষণিক সাহায্য এবং দীর্ঘমেয়াদী নীতির সংস্কার অপরিহার্য।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন