বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস, তীব্র যানজট — বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হুমায়ুন কবীর
প্রতিবেদন | বিভাগঃ রাজ্য সংবাদ | স্থানঃ বেলডাঙা, মুর্শিদাবাদ
বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
শনিবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পাশাপাশি চরম নাজেহাল হয়েছেন সাধারণ মানুষ
এবং নিত্যযাত্রীরা। অনুষ্ঠানের ভিড়ে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জাতীয় সড়ক ১২ নম্বর। পরপর দাঁড়িয়ে পড়ে যাত্রীবাহী বাস,
ট্রাক, গাড়ি—গড়ে ওঠে দীর্ঘ যানজট। অনেককেই সাত থেকে আট কিলোমিটার পর্যন্ত হেঁটে পৌঁছতে হয়েছে নিজের গন্তব্যে।
অবরুদ্ধ ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, দুর্ভোগ চরমে
স্থানীয় সূত্রে খবর, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহরের মূল রাস্তায় নেমে আসেন।
যেখানে অনুষ্ঠানটি হয়, সেই জায়গা থেকে জাতীয় সড়ক খুব একটা দূরে নয়। ফলে প্রবল জনসমাগমে সড়কের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়
এবং গাড়ি চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। কলকাতামুখী রাস্তায় যানজট সবচেয়ে তীব্র হয়ে ওঠে এবং সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি
স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে আশঙ্কা।
অন্যদিকে শিলিগুড়িমুখী লেনে অপেক্ষাকৃতভাবে যানজট কিছুটা কম হলেও যানবাহন চলাচলে সমস্যার কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হঠাৎ এমন পরিস্থিতির ফলে স্কুল ছাত্রছাত্রী, অফিসগামী কর্মী ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও ব্যাপক সমস্যায় পড়ে।
কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া — “ধর্মের মোড়কে রাজনীতি হলে তা ধর্ম থাকে না”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে উত্তাল আলোচনা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান যে, কোনও ব্যক্তি বা দল যদি মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা উপাসনার স্থাপনা
গড়ে তুলতে চান, তার জন্য কাউকে বহিষ্কার বা শাস্তি দেওয়ার প্রশ্ন নেই।
“বাংলায় কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ তাঁদের কোনও জায়গায় মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা তাঁদের ধর্মের কোনও আরাধনা,
প্রার্থনার জায়গা করতেই পারেন। তার জন্য তাঁকে বহিস্কার বা তাঁর প্রতি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে না। এটা
তৃণমূল কংগ্রেস করেনি এবং করবেও না।”
— কুণাল ঘোষ
তবে তিনি দাবি করেন, যদি ধর্মীয় আবেগের ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে মেরুকরণের পরিস্থিতি
তৈরি করা হয়, তবে তা ধর্মীয় কর্মসূচির আওতার বাইরে চলে যায় এবং দল বিরোধী কাজ হিসেবে দেখা হয়।
“যদি কোনও ব্যক্তি অন্য রাজনৈতিক দলের চক্রান্তের ফাঁদে পড়ে, প্ররোচিত হয়ে ধর্মের মোড়কে রাজনৈতিক অঙ্কে
ভোটের রাজনীতির বিষাক্ত মেরুকরণের মায়াজাল তৈরি করতে চান কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন, দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেন—
তাহলে বিষয়টি ধর্মের মধ্যে থাকে না।”
— কুণাল ঘোষ
পাশাপাশি তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস প্রত্যেকের ধর্ম ও অধিকারকে সম্মান করে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সমর্থন করে।
ব্রিগেডে অনুষ্ঠিত গীতাপাঠ কর্মসূচি সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন এবং নাম না করে হুমায়ুন কবীরকে কটাক্ষ করে বলেন,
“কেউ যদি বলে অমুক তৈরির জন্য ব্যবস্থা, তা একেবারেই মিথ্যা। মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা আরাধ্য স্থান তৈরির জন্য
ব্যবস্থা নেয়নি, নেবে না।”
— কুণাল ঘোষ
কর্মসূচি ঘিরে বিতর্ক বাড়ছে
যদিও হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত মালুম হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিষয়টি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত
ব্যতীত করা হয়েছে বলেই দলের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। দলের তরফে তাঁকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
এই শিলান্যাস রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা নিয়ে এখন জোর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বিরোধীদের মতে, এ ধরনের ইস্যু অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এমন আয়োজনের ফলে জনজীবনে প্রভাব পড়বে, সেটাই স্বাভাবিক।
তাই যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছাড়া এমন অনুষ্ঠান করা দায়িত্বজ্ঞানহীন।
জানতে চাইছে মানুষ — নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায়?
ঘটনার পরে বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, বিপুল ভিড় ও যানজটের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেন আগাম ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থা
নেওয়া হয়নি। অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালগামী মানুষ ও জরুরি পরিষেবার যান পর্যন্ত আটকে পড়েছে,
যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
স্থানীয়দের মতে, জনসমাগমের অনুমতি থাকলেও, ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
এখনও পাওয়া যায়নি।
উপসংহার
বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের
ভোগান্তি সামনে এসে পড়েছে খবরের প্রধান বিষয় হিসেবে। পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হয় বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী দিকে যায়—
তা এখন সময়ই বলবে। আপাতত যানজটে অবরুদ্ধ হওয়া মানুষদের দুর্ভোগের চিত্র সামাজিক-মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং
ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে।