Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Tuesday, 30 December 2025

অমিত শাহের বঙ্গ সফরেও অটুট আদি-নব্য দ্বন্দ্ব, বৈঠক থেকে ব্রাত্য দিলীপ ঘোষ



অমিত শাহের বঙ্গ সফরেও অটুট আদি-নব্য দ্বন্দ্ব, বৈঠক থেকে ব্রাত্য দিলীপ ঘোষ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তিনদিনের বঙ্গ সফরেও রাজ্য বিজেপির আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সোমবার রাত আটটা নাগাদ সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে দলের সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেন শাহ। কিন্তু কোর কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সেই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার কোর কমিটি ও রাজ্য পদাধিকারীদের বৈঠকেও ডাক পাননি তিনি।

দলীয় সূত্রে অভিযোগ, শাহর এই রাজ্য সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বহু পুরনো ও আদি নেতাদের ডাকা হয়নি। একই সঙ্গে নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণাও হয়নি। ফলে দলের ক্ষমতাসীন ‘নব্য’ শিবিরের নেতারাই কার্যত শাহকে ঘিরে রাখছেন বলে বিজেপির অন্দরের একাংশের মত। বিক্ষুব্ধ ও ব্রাত্য আদি নেতাদের সিংহভাগকেই বৈঠকের বাইরে রাখা হয়েছে। শাহর সামনে যাতে সংগঠন নিয়ে কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ উঠে না আসে, সে কারণেই সায়েন্স সিটি থেকে শুরু করে হোটেলের বৈঠক—সব জায়গাতেই বাছাই করা নেতাদের উপস্থিত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

একদিকে গোষ্ঠীকোন্দল, অন্যদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা—এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ রাজ্য নেতৃত্বকে কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। কারণ, বাংলায় বিজেপির আদি-নব্য দ্বন্দ্ব নিয়ে যে শাহ নিজেও ওয়াকিবহাল, তা দলের অন্দরেই স্বীকার করা হয়।

রাজ্যে পৌঁছেই সোমবার রাতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি ছবি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি লেখেন,
“পশ্চিমবঙ্গ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। তিনদিনের সফরে কলকাতায় পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে কর্মী-সমর্থকদের ভালবাসায় অভিভূত।”

একই পোস্টে তিনি জানান, মঙ্গলবার কোর গ্রুপের বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক, পাশাপাশি কলকাতার দলীয় কর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি।

সোমবার রাতে কলকাতায় পা রেখেই বঙ্গ বিজেপির সংগঠনের হাল নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সল্টলেক পার্টি অফিসে রাজ্য পদাধিকারী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সঙ্গে দু’দফায় বৈঠক করেন তিনি। সেখানে উঠে আসে সংগঠনের দুর্বলতার চিত্র—প্রায় ৪০ শতাংশ বুথে এখনও কমিটি হয়নি। জেলায় জেলায় আদি-নব্য দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠীকোন্দলও অব্যাহত।

তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই শাহ বৈঠক থেকে বুথস্তরে জনসংযোগ বাড়ানো এবং সংঘবদ্ধভাবে মাঠে নামার বার্তা দেন। মতুয়া ভোট, এসআইআর বিতর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে শান্তনু ঠাকুরকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পথসভা, জনসভা ও রথযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।

রাতের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার সহ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। রাজ্য নেতারা সংগঠনের প্রস্তুতি, প্রচারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন শাহের সামনে। বৈঠকে শাহ আশাবাদী কণ্ঠে জানান, “সরকার গঠন হচ্ছেই।” একই সঙ্গে প্রচারে কোন কোন বিষয়কে সামনে আনতে হবে, তার দিকনির্দেশও দেন তিনি। অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প, কৃষি, সড়ক পরিবহণ, মহিলাদের ক্ষমতায়নের মতো বিকল্প উন্নয়ন মডেল তুলে ধরার কথা বলেন শাহ।

এদিকে ভোটের আগে অমিত শাহের বাংলা সফর নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন,
“নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের যাতায়াত নতুন নয়। ভোট এলেই ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করেন। কিন্তু নিট রেজাল্ট বাংলার মানুষই দেবে—বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।”

কুণাল ঘোষের ব্যাখ্যা,
“১) বাংলার প্রতি আর্থিক বৈষম্য, ২) বাংলাকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, ৩) বাংলা ভাষাকে অপমান, ৪) বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান, ৫) বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি বলে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা—এই সব কিছুর ফলেই বঙ্গবিরোধী বিজেপি প্রত্যাখ্যাত হবে।”

তাঁর কটাক্ষ,
“ওঁদের দলের অর্ধেক সংগঠনই নেই। ৩-৪টে গ্রুপে ভাগ হয়ে আছে। মানুষ কেন তাদের উপর আস্থা রাখবে?”
আরও ব্যঙ্গ করে কুণাল বলেন,
“বিজেপির আবার বাংলায় রণকৌশল কী? নেতারা আসবে, ঘুরবে, হোটেলে খরচা করবে, আর ভোটে হারবে।”

সূত্রের খবর, নির্বাচনী কৌশল ছাড়াও প্রচারের অভিমুখ কী হবে, তার প্রাথমিক দিকনির্দেশ শাহ দিয়ে যাবেন। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে এসআইআর ও সিএএ নিয়ে তিনি কী বলেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের বড় অংশের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা বিজেপিকে চাপে ফেলেছে। মতুয়া ঠাকুরবাড়ির দুই ভাই—বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ও বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের ভূমিকা ও বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই অবস্থায় মতুয়া ভোট ধরে রাখতে নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিশেষ বার্তা দিতে পারেন শাহ।

মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজনের পর হোটেলে নির্দিষ্ট কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক, বিকেলে সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বুধবার সায়েন্স সিটিতে কলকাতা মহানগরীর মণ্ডল, জোন, জেলা ও রাজ্যস্তরের নেতৃত্বদের নিয়ে সভা করবেন অমিত শাহ। তার আগে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে যাওয়ারও কর্মসূচি রয়েছে।

সব মিলিয়ে শাহর সফর ঘিরে একদিকে সাংগঠনিক বার্তা, অন্যদিকে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক তরজা—উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।

এসআইআর শুনানি ঘিরে হেনস্তার অভিযোগ, সুকান্তর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক



এসআইআর শুনানি ঘিরে হেনস্তার অভিযোগ, সুকান্তর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে হাতে ইনহেলার নিয়ে অপেক্ষা করছেন বয়স্ক মানুষ। কোথাও অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, কোথাও আবার ভাঙা হাত বা পা নিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্যজুড়ে এসআইআর (Special Intensive Revision) শুনানি কেন্দ্রগুলিতে এই ছবি এখন নিত্যদিনের। অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ, অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষমরা।

এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে হেনস্তার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টে বিতর্ক আরও উসকে দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর একটি মন্তব্যের ভিডিও সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।

ওই ভিডিওতে সুকান্ত মজুমদারকে বলতে শোনা যায়,
“ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে কীভাবে আসবেন, তখন অসুবিধা হবে না? যাদের ভোট দেওয়ার ইচ্ছা নেই, তারাই এসব কথা বলছে। ধরুন, আমার বাবা অসুস্থ মানুষ, তিনি ভোট দিতে যেতে পারেন না। তাই এসআইআর নিয়ে মাথা ঘামান না। আপনি যদি ভোট দিতে যেতে পারেন, তাহলে এসআইআর করাতে যেতে পারবেন না কেন—আমি এটা বুঝতে পারছি না।”

এই মন্তব্যের ভিডিও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে শেয়ার করেছে। এরপরই শাসক শিবিরের তরফে সুকান্তের বক্তব্যকে ‘অমানবিক’ ও ‘কটূক্তিপূর্ণ’ বলে আক্রমণ করা হয়।

তৃণমূলের বক্তব্য,
“এটা নাকি একজন জনপ্রতিনিধির ভাষা! বয়সের ভারে ন্যুব্জ, অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষকে শুনানির নামে হেনস্তা করছে নির্বাচন কমিশন। কেউ হুইলচেয়ারে বসে, কেউ অ্যাম্বুল্যান্সে শুয়ে শুনানিতে যাচ্ছেন। আর সেই দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের দেখে কটূক্তি করছেন বিজেপির মাতব্বর নেতা তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।”

শাসক দলের আরও কড়া প্রশ্ন,
“এরা আদৌ মানুষ? বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষকে সম্মান তো দূরের কথা, অন্যের অক্ষমতাকেও বিদ্রূপ করা হচ্ছে।”

এর আগে এসআইআর শুনানিতে সাধারণ মানুষের হেনস্তার অভিযোগে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এভাবে হেনস্তা বরদাস্ত করা হবে না।”

এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে সোমবার পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। ওই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন—পার্থ ভৌমিক, শশী পাঁজা, বাপি হালদার, পুলক হালদার এবং বীরবাহা হাঁসদা।

এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে একদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, অন্যদিকে শাসক-বিরোধীর রাজনৈতিক তরজা—সব মিলিয়ে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যু এখন ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া



প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

জীবন-মৃত্যুর সূক্ষ্ম সুতোয় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর অবশেষে হার মানলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চিকিৎসকরাই তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি বহু বছর ধরেই গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন খালেদা জিয়া। কিডনি, লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, আর্থ্রাইটিস, চোখের সমস্যা—সব মিলিয়ে শেষ কয়েক বছর তাঁর জীবন ছিল যন্ত্রণাবিদ্ধ। উন্নত চিকিৎসার আশায় লন্ডনে প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা চললেও আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও বয়সজনিত জটিলতা ও একাধিক অঙ্গের দুর্বলতার কারণে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাঝেমধ্যে চিকিৎসায় সামান্য সাড়া মিললেও শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার রাতেও তাঁর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মাকে দেখতে হাসপাতালে যান। তার আগে দলের দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে মায়ের আরোগ্য কামনায় প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, অবিভক্ত দিনাজপুরে। জন্মনাম ছিল খানুম পুতুল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করার পর তিনি বেগম খালেদা জিয়া নামে পরিচিত হন। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করার পর রাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৮১ সালে মেজর জিয়ার হত্যার পর দলের নেতৃত্বে উঠে এসে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি দু’দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন—১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয় বলে সমর্থকদের দাবি।

তবে পরবর্তীকালে আওয়ামি লিগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি ও খালেদা জিয়া দু’জনেই প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন। একাধিক মামলায় জর্জরিত হন তিনি, দীর্ঘদিন কারাবন্দিও ছিলেন। এরই মধ্যে ক্রমশ অবনতি হতে থাকে তাঁর শারীরিক অবস্থার।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপি রাজনীতিতে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল ফের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও বয়স ও অসুস্থতা তাঁর সক্রিয় নেতৃত্বকে আর সম্ভব করে তোলেনি।

অবশেষে দীর্ঘ এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। পদ্মাপাড়ের রাজনীতির আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল তারা। সমর্থক ও বিরোধী—সব মহলেই শোকের ছায়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এক দৃঢ়চেতা নেত্রী ও সংগ্রামী রাজনীতিক হিসেবে।

Monday, 29 December 2025

শিলিগুড়িতে বাংলার বৃহত্তম মহাকাল মন্দির: জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলান্যাস, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী




শিলিগুড়িতে বাংলার বৃহত্তম মহাকাল মন্দির: জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলান্যাস, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

নিউটাউন:
কিছুদিন আগেই শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই ঘোষণার বাস্তব রূপের দিনক্ষণ জানিয়ে দিলেন তিনি। সোমবার নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করা হবে

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,

“জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলান্যাস করব। মনে মনে উদ্বোধনের দিনও ঠিক করে ফেলেছি।”


🌄 উত্তরবঙ্গ সফরেই ঘোষণার সূচনা

চলতি বছরের অক্টোবরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল উত্তরবঙ্গ। সেই সময় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে একাধিকবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সফরের মাঝেই তিনি দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দিরে পুজো দেন। এরপরই শিলিগুড়িতে বাংলার সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দির তৈরির ঘোষণা করেন তিনি।


🛕 কেমন হবে শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির?

মুখ্যমন্ত্রীর আগের ঘোষণায় জানা গিয়েছিল—

  • শিলিগুড়িতে একটি কনভেনশন সেন্টার তৈরি হবে

  • তার পাশেই গড়ে উঠবে মহাকাল মন্দির

  • মন্দিরে থাকবে বাংলার সবচেয়ে বড় শিবমূর্তি

  • সরকার বিনামূল্যে জমি দেবে

  • মন্দির পরিচালনার জন্য গঠন করা হবে ট্রাস্টি বোর্ড

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়,

“শিলিগুড়িতে ডিএমকে একটা জমি দেখতে বলেছি। সেখানে কনভেনশন সেন্টার হবে। তার পাশেই মহাকাল মন্দির তৈরি করা হবে। করতে একটু সময় লাগবে, তবে পরিকল্পনা সম্পূর্ণ।”


📌 গুরুত্ব কী?

এই মহাকাল মন্দির শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে চলেছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

এবার জানুয়ারিতে শিলান্যাসের মাধ্যমে সেই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবের পথে এক ধাপ এগোতে চলেছে।

পুরুলিয়া , এসআইআর শুনানির আতঙ্কে প্রাণ গেল বৃদ্ধের? পুরুলিয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর



 Y বাংলা নিউজ পুরুলিয়া:


এসআইআর শুনানিতে সময়মতো পৌঁছতে পারবেন কি না—এই চিন্তাই কি প্রাণ কেড়ে নিল ৮২ বছরের বৃদ্ধের? এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরুলিয়ায়। এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই চরম মানসিক চাপে ছিলেন পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের আনাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌতালা গ্রামের বাসিন্দা দুর্জন মাঝি। সোমবার সকালে ব্লক অফিসে যাওয়ার জন্য টোটো খুঁজতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বাড়ির অদূরে আনাড়া–রুকনি রেললাইন থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মৃতদেহ।


📌 কী ঘটেছিল?

  • দুর্জন মাঝির নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল

  • এসআইআর প্রক্রিয়ায় তিনি যথাযথভাবে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন

  • তবুও ২৫ ডিসেম্বর তাঁর কাছে শুনানির নোটিস আসে

  • জানানো হয়, সোমবার দুপুর ১টায় পাড়া ব্লক অফিসে হাজির হতে হবে

  • বাড়ি থেকে ব্লক অফিসের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার, টোটোই ছিল একমাত্র ভরসা


😔 পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ

পরিবারের দাবি, নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন দুর্জন মাঝি। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছিলেন না। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ তিনি জানান, টোটো ডাকতে যাচ্ছেন। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

খোঁজ শুরু হয়। পরে দুর্জনের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রেলট্র্যাকের ধারে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।


🏛️ তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া

খবর পেয়ে দুর্জনের বাড়িতে যান—

  • টিএমসিপি জেলা সভাপতি কিরীটি আচার্য

  • পাড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি মনোজ সাহা

  • জেলা সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো

  • সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়

তাঁদের অভিযোগ,

“২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও, এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার পরও কেন একজন ৮২ বছরের বৃদ্ধকে শুনানিতে ডাকা হল? এটা স্পষ্ট হয়রানি।”

তাঁদের স্পষ্ট ঘোষণা, এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে


❗ প্রশ্নের মুখে এসআইআর প্রক্রিয়া

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—

  • প্রবীণ ও দরিদ্র মানুষদের জন্য এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা মানবিক?

  • অপ্রয়োজনীয় শুনানির নোটিস মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে না তো?

একটি শুনানির নোটিস—আর তার জেরে হারিয়ে গেল একটি প্রাণ। পুরুলিয়ার এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উন্নাও গণধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তিতে আপাতত না, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

 


উন্নাও গণধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তিতে আপাতত না, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: উন্নাও গণধর্ষণ মামলায় প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার-এর সাজা স্থগিত করে জামিনের যে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্ট দিয়েছিল, তাতে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে এই মুহূর্তে সেঙ্গারের মুক্তি হচ্ছে না।

সোমবার সিবিআইয়ের আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বে বিচারপতি জে কে মহেশ্বরীঅগাস্টিন জর্জ মাসিহ—এই তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, মামলার বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে না।


🔍 কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

  • সাধারণত দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্তের মুক্তির নির্দেশ শুনানি ছাড়া স্থগিত করা হয় না

  • তবে এই মামলার ক্ষেত্রে “বিশেষ পরিস্থিতি” বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে

  • আপাতত সেঙ্গারকে মুক্তি দেওয়া যাবে না

  • সেঙ্গারকে নোটিস পাঠিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ


📌 পটভূমি

  • ২৩ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট সেঙ্গারের যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছিল

  • যুক্তি ছিল, তিনি ইতিমধ্যেই সাড়ে সাত বছরের বেশি কারাবাস করেছেন

  • এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই


⚖️ সিবিআইয়ের বক্তব্য

  • সিবিআইয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মামলাটিকে “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করেন

  • বলেন, “আমরা নির্যাতিতার কাছে দায়বদ্ধ”

  • জানান, আইন সংশোধনের পরে এই ধরনের অপরাধে ন্যূনতম সাজা ২০ বছর

  • যদিও বেঞ্চ স্পষ্ট করে, সংশোধনীটি অপরাধের পরে কার্যকর হওয়ায় তা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়


❗ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

  • দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ—অপরাধের সময় জনপ্রতিনিধি হলেও সেঙ্গারকে পকসো আইনে সরকারি কর্মচারী ধরা যাবে না—এ নিয়ে আপত্তি তোলে সিবিআই

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারকদের ছবি ছড়িয়ে ‘এই বিচারকদের চিহ্নিত করুন’ ধরনের প্রচারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বেঞ্চ

  • প্রধান বিচারপতির মন্তব্য:

    • “আদালত আইভরি টাওয়ারে বসে নেই”

    • “বিচার ব্যবস্থায় পর্যালোচনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া”

    • “আদালতকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন না—যুক্তি আদালতের ভিতরেই দিতে হবে”


📝 বর্তমান অবস্থা

➡️ কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তি এই মুহূর্তে স্থগিত
➡️ পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় দেশজুড়ে নজর

হুমায়ুন কবীরের পুত্র গ্রেফতার, পাশে শুভেন্দু! নাম না করে মমতা–অভিষেককে নিশানা বিরোধী দলনেতার


ডিজিটাল ডেস্ক:
জন উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের পুত্র রবিন কবীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরের পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, “পুলিশ বেআইনি কাজ করেছে। সারা রাজ্যের আধিকারিকদের ভুলভাবে ব্যবহার করছে পিসি–ভাইপো।” তাঁর দাবি, হুমায়ুন কবীরের ছেলেকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কী অভিযোগে গ্রেফতার?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীরের পুত্র রবিন কবীরের বিরুদ্ধে এক পুলিশ কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। ওই কনস্টেবল হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রবিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।

ঘটনার পেছনের কাহিনি
যতদূর জানা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীরের এক নিরাপত্তারক্ষী ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি দিতে চাননি হুমায়ুন। তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে হাজির হন হুমায়ুনের পুত্র রবিন কবীর। অভিযোগ, এরপরই তিনি হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়কের বাড়ি থেকে হুমায়ুন কবীর বেরিয়ে গেলে সেখানে পৌঁছয় বিরাট পুলিশ বাহিনী। এরপরই হুমায়ুনের পুত্রকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে থানায় যান হুমায়ুন কবীর নিজেও এবং পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথা হয়।

বিরোধী শিবিরে ভিন্ন সুর
এই ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারীর আগেই মুখ খুলেছেন কংগ্রেস ও বিজেপির অন্যান্য নেতারাও। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “পুলিশ কেন গেল, কেন পুলিশের বিরুদ্ধে কেস হল—এ সব কিছুই তদন্তের পর জানা যাবে। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে, বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তিনি বলেন, “হুমায়ুন কবীরকে তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনার মাধ্যমে তাঁকে আরও প্রমিনেন্ট করে তোলা হচ্ছে।”

তবে শুভেন্দু অধিকারী একেবারেই উল্টো সুরে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, গোটা ঘটনাটিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পুলিশ বেআইনিভাবে কাজ করেছে।
কেন চর্চায় হুমায়ুন কবীর
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়েই একাধিক কারণে চর্চায় রয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বাবরি মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত মন্তব্য তাঁকে প্রথম আলোচনায় নিয়ে আসে। পরে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন তিনি এবং বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণাও করেন।
 রাজনৈতিকভাবে যখন তিনি সক্রিয় ও ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই তাঁর পুত্রের গ্রেফতারি ঘিরে নতুন করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।

এসআইআর শুনানির নামে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অন্তঃসত্ত্বাদের হেনস্তা! কমিশনে যাবে তৃণমূল, হুঁশিয়ারি অভিষেকের


ডিজিটাল ডেস্ক:
রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর-এর শুনানি পর্ব। দীর্ঘদিনের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলা নোটিস পাওয়ায় চরম হয়রানির অভিযোগ উঠছে। নাম কাটা যাওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়েই শুনানি কেন্দ্রে হাজিরা দিতে হচ্ছে অনেককেই। এই পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদে ফুঁসে উঠলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।


অভিষেক জানান, এসআইআর-এর নামে আমজনতাকে যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, তার প্রতিবাদে আগামিকাল অর্থাৎ সোমবার সকালে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে যাবে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রবিবার বিএলএ-২ দের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই এসআইআরের একাধিক গলদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শুনানির নামে প্রবীণদের হেনস্তার প্রসঙ্গ উঠে আসে।
শনিবার শুনানি শুরু হতেই কলকাতার চেতলা গার্লস স্কুলের শুনানি কেন্দ্রে প্রবল ঠান্ডার মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এক ৯০ বছরের বৃদ্ধকে। অথচ নির্বাচন কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে না। শুধু তাই নয়, জানা গিয়েছে এক মহিলাকে প্রসবের দিনেই হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হিয়ারিং ঘিরে প্রবল ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।


বৃদ্ধদের হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বলেন, “বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এভাবে হেনস্তা বরদাস্ত করব না। তৃণমূলের তরফে আগামিকাল প্রতিনিধিদল কমিশনে যাবে।” একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, “যদি প্রবীণদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে হিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে তা কেন থাকবে না?”


এদিন বিজেপিকেও তীব্র আক্রমণ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। অভিষেকের বক্তব্য, “বিজেপির কাছে এজেন্সি আছে, তৃণমূলের কাছে কর্মী আছে। বিজেপি আজ পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেনি। তৃণমূল সরকার উন্নয়নের পাঁচালি প্রকাশ করেছে। আমরা দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করি, আর বিজেপি দোষীদের সাদরে গ্রহণ করে।”


হুঙ্কার দিয়ে অভিষেক বলেন, “বিজেপি বাংলার ডিএনএ বোঝে না। দাঙ্গা করে ভাগাভাগি করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলার ডিএনএ বদল করতে পারবে না।”
উল্লেখ্য, শনিবারই সিইও দপ্তরে গিয়ে বৃদ্ধদের হেনস্তার প্রতিবাদে চিঠি দেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। সেই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

বাংলা বলার অপরাধে হেনস্তা, তৃণমূলের উদ্যোগে ঘরে ফিরলেন ২ শ্রমিক

বাংলা বলার অপরাধে হেনস্তা, তৃণমূলের উদ্যোগে ঘরে ফিরলেন ২ শ্রমিক

বাংলা বলার ‘অপরাধে’ জেল! মহারাষ্ট্রে হেনস্তার শিকার বালুরঘাটের ২ শ্রমিক, তৃণমূলের উদ্যোগে ঘরে ফেরা

ডিজিটাল ডেস্ক | রবিবার

বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন বালুরঘাটের দুই পরিযায়ী শ্রমিক। অভিযোগ, তাঁদের অবৈধ অভিবাসী তকমা দিয়ে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। স্থানীয় সাংসদকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগেই ঘরে ফিরলেন সেই দুই শ্রমিক।

কারা ওই দুই শ্রমিক

জানা গিয়েছে, বালুরঘাটের বাসিন্দা ওই দুই শ্রমিক হলেন অসিত সরকারগৌতম বর্মন। তাঁরা মহারাষ্ট্রের মুম্বইতে শ্রমিকের কাজ করতেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলা বলার অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসী আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ। এরপরই গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে হয় দু’জনকে।

সাংসদের দ্বারস্থ হয়েও মেলেনি সমাধান

পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে গৌতম বর্মনের স্ত্রী স্থানীয় সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দ্বারস্থ হন বলে অভিযোগ। কিন্তু তাতেও কোনও সমাধান মেলেনি। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকতে হয় ওই দুই শ্রমিককে।

তৃণমূলের উদ্যোগে মুক্তি

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পাশে দাঁড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাংসদ সামিরুল ইসলাম-সহ তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্যোগে অবশেষে মুক্তি পান অসিত সরকার ও গৌতম বর্মন। নিরাপদে নিজেদের বাড়িতেও ফিরেছেন তাঁরা।

রবিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন দুই শ্রমিক। ঘটনার বিস্তারিত শুনে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

পরিযায়ী শ্রমিক হেনস্তা নিয়ে উদ্বেগ

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। কখনও মারধর, কখনও হামলা, লুটপাট, উপার্জন কেড়ে নেওয়া বা পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথে নেমে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন এবং ‘ভাষা আন্দোলন’-এর সূচনা করেছেন। অন্যদিকে, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংবিধান মেনেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড

চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড

চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু ১

ডিজিটাল ডেস্ক | রবিবার মধ্যরাত

আবারও চলন্ত ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। রবিবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশে চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে ভয়াবহ আগুন লাগে। এই দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের অনকাপল্লী জেলায়। রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ ট্রেনটি ইলামানচিলি রেল স্টেশনে ঢোকার সময় লোকো পাইলট আগুনের শিখা দেখতে পান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেন।

প্রথমে বি১ এসি কোচে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এম১ এসি কোচ এবং সংলগ্ন বি২ এসি কোচে। তিনটি কোচই আগুনে সম্পূর্ণভাবে ঝলসে যায়।

আগুনের ঘটনা বুঝতে পেরেই যাত্রীরা চেন টানতে শুরু করেন। ট্রেনের ভিতরে শুরু হয় আতঙ্ক, চিৎকার ও হুড়োহুড়ি। তবে রেলকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় ধীরে ধীরে সকল যাত্রীকে নিরাপদে ট্রেন থেকে নামানো হয়।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি কোচে ছিলেন ৮২ জন এবং অন্য কোচে ছিলেন ৭৬ জন যাত্রী। এক এক করে সকলকেই নিরাপদে নামানো সম্ভব হয়।

তবে ভয়াবহ আগুনের মধ্যে প্রাণ হাতে করে নামার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা বি১ কোচ থেকে নামার সময় এক যাত্রীর গায়ে আগুন ধরে যায়। তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় তাঁর।

মৃত যাত্রীর নাম চন্দ্রশেখর সুন্দরম। তিনি সেই বি১ কোচেই ছিলেন, যেখানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

টাটানগর থেকে এরনাকুলামের উদ্দেশে যাত্রা করছিল ট্রেনটি। মাঝপথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হলেও বাকি সকল যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে রেলের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog