মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে পথে ইরান, ফের ইতিহাসের মোড় ঘোরার ইঙ্গিত?
🔴 কী ঘটছে ইরানে
সাড়ে চার দশক পর ফের অগ্নিগর্ভ ইরান। যে তেহরানের রাজপথে এক সময় রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল জনতা, এ বার সেই রাস্তাতেই ইসলামিক শাসনের বিরুদ্ধেই নেমেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। বিক্ষোভকারীদের স্লোগান— ‘মোল্লাতন্ত্র নিপাত যাক’।
🔴 আন্দোলনের শুরু ও বিস্তার
২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আলবোর্জ, কারমানশাহ, মারকাজ়, এসফাহান, হামেদান-সহ একাধিক প্রদেশে। প্রথমে বাজারের ব্যবসায়ীরা আন্দোলনের সূচনা করলেও পরে তাতে যোগ দেন পড়ুয়ারা ও সাধারণ মানুষ।
🔴 ক্ষোভের মূল কারণ কী
ডলারের তুলনায় রিয়ালের মূল্য ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে হু হু করে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ,
-
পকেটে টাকা নেই
-
ঘরে খাবার নেই
-
পর্যাপ্ত পানীয় জলের অভাব
এই পরিস্থিতির জন্য দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকেই দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ।
🔴 সংঘর্ষে প্রাণহানি
গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে এক জন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ চলছে।
🔴 ২০২২-এর আন্দোলনের স্মৃতি
২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পরে হিজাব-বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল ইরান। সেই সময় সংঘর্ষে পাঁচশোরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি। তিন বছর পর ফের পথে নামলেন সাধারণ মানুষ, যদিও এ বার মূল কারণ মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও জলসংকট।
🔴 যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব
গত বছর ইজরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষ এবং তার পর আমেরিকার মদতে পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে। যুদ্ধ থামলেও আর্থিক সঙ্কট কাটেনি।
🔴 আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা
এই আন্দোলনে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে। নারী স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে সরকারের কড়া অবস্থানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এ বার প্রকাশ্যে এসেছে।
অনেক মহিলা বিক্ষোভকারী ইসলামিক বিপ্লবের আগের ইরানের কথা তুলে ধরছেন, যখন হিজাব ছিল ব্যক্তিগত পছন্দ, বাধ্যবাধকতা নয়।
🔴 নীতিপুলিশ ও বিতর্ক
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরে বাধ্যতামূলক হয় হিজাব। পোশাকবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য তৈরি করা হয় নীতিপুলিশ গস্ত-এ-এরশাদ। মাহসা আমিনির মৃত্যুর পরে এই বাহিনী প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও বাস্তবে নীতিপুলিশি ব্যবস্থার অবসান হয়নি বলেই অভিযোগ।
🔴 পাহলভি রাজতন্ত্র ফিরছে?
বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে এখন শোনা যাচ্ছে— ‘একনায়কের মৃত্যু’, ‘খামেনেইয়ের পতন চাই’। ফলে ফের আলোচনায় এসেছে পাহলভি বংশের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা। রেজা শাহ পাহলভির পুত্র রেজা পাহলভি বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন এবং নিজেকে ইরানের বৈধ শাসক বলে দাবি করেন।
🔴 আন্তর্জাতিক চাপ
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার তরফে হুঁশিয়ারি এসেছে— শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করা হলে ওয়াশিংটন নীরব থাকবে না। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। ফলে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।






.png)
.png)






.png)
.png)






