Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Friday, 9 January 2026

আইপ্যাক দপ্তর থেকে ‘নির্বাচনী নথি চুরি’র অভিযোগ, ইডির বিরুদ্ধে থানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার লিখিত নালিশ

 


আইপ্যাক দপ্তর থেকে ‘নির্বাচনী নথি চুরি’র অভিযোগ, ইডির বিরুদ্ধে থানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার লিখিত নালিশ

Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক:
তল্লাশির নামে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি চুরির অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) বিরুদ্ধে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। আচমকাই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। সেই খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ১৫ মিনিট প্রতীক জৈনের বাড়িতে ছিলেন তিনি। বেরোনোর সময় একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন, ইডির এই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল হাতিয়ে নেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।

এর মধ্যেই খবর আসে, সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পৌঁছে যান আইপ্যাকের দপ্তরে। অভিযোগ, সেখান থেকে কিছু নথি, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিজের গাড়িতে তোলেন তিনি।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী বারবার দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কৌশল ‘চুরি’ করতেই কেন্দ্র ইডিকে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, ইডির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে—মুখ্যমন্ত্রী অনৈতিকভাবে তদন্তে বাধা দিয়েছেন।

গোটা বিষয়টি গড়িয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইডির বিরুদ্ধে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির সময় ঠিক কী ঘটেছিল, মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন কোন আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন—তা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ইডির তরফে একটি রিপোর্ট অর্থমন্ত্রকে জমা দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টই পরবর্তী পর্যায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হবে।

মোদির ফোন না পেয়ে ইগোতে আঘাত’, সেই কারণেই ভারতের উপর ৫০% শুল্ক—বিস্ফোরক দাবি মার্কিন বাণিজ্য সচিবের

 



Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক:
ভারতের উপর বিপুল মার্কিন শুল্ক চাপার নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনমনীয় অবস্থানই বড় কারণ—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। একটি পডকাস্টে তিনি জানান, ভারত–আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় সেই চুক্তি ভেস্তে যায়।

লুটনিকের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিতে সই করার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরাসরি ফোনালাপকে অপরিহার্য শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের কাছে মোদির ফোন এলেই বাণিজ্য চুক্তিতে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ত। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। ভারতীয় আধিকারিকরা এই শর্ত মানতে চাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর ফলেই শেষ পর্যন্ত ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। লুটনিকের দাবি, মোদির ফোন না পাওয়ায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অসন্তোষ বেড়ে যায় এবং সেই ‘ইগো’ থেকেই ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আলোচনা হলেও আর চুক্তি এগোয়নি।

এখানেই থামেননি মার্কিন বাণিজ্য সচিব। তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই এমন একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার ফলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির উপর ভবিষ্যতে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের উপর নতুন করে আরও শুল্কের বোঝা চাপার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

লুটনিকের কথায়, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ফোন না আসায় তিনি যথেষ্ট হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন। সেই অসন্তোষই শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে ভারত–আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে।

তৃণমূল সাংসদদের হেনস্থার ঘটনায় ক্ষোভ, ‘ধর্ষকদের বেল, প্রতিবাদীদের জেল’ মন্তব্য অভিষেকের

 


ব্যুরো রিপোর্ট | Y বাংলা নিউজ

কলকাতায় আইপ্যাক (IPAC)-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়ি ও সল্টলেকের অফিসে ইডি অভিযানের (ED Raid) রেশ এবার ছড়াল জাতীয় রাজনীতিতেও। বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতরের বাইরে ধর্না-বিক্ষোভে বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) একাধিক সাংসদ। তবে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভের অভিযোগ তুলে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তৃণমূলের অভিযোগ, বিক্ষোভরত সাংসদদের টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। বাসে তুলে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মিত্র, কীর্তি আজাদ, শতাব্দী রায়-সহ একাধিক সাংসদ। পরে প্রশাসনিক কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন,
“এরা ধর্ষকদের জামিন দেয়, আর প্রতিবাদীদের জেলে পুরে দেয়।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে অভিষেক আরও লেখেন,
“আজ গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, আর অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ভোট লুটের চেষ্টা চলছে। এটাই বিজেপির ‘নতুন ভারত’।”

এখানেই থামেননি তিনি। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূল নেতা। অভিষেকের বক্তব্য,
“গোটা দেশ বিজেপির চাপে আত্মসমর্পণ করলেও বাংলা করবে না। বাংলা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেই। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে বিজেপির সব দাঁত-নখ ভেঙে দেব।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আইপ্যাক ও প্রতীক জৈনকে ঘিরে ইডি অভিযানের পর যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল, দিল্লিতে সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা ও বিরোধী কণ্ঠ দমনের অভিযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে চলেছে তৃণমূল—এমন ইঙ্গিতই মিলছে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, প্রথমে সাংসদদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই অনুরোধ মানা না হওয়াতেই বিক্ষোভ সরাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

মমতার সবুজ ফাইলে কী ছিল? ইডি অভিযানের মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা কতটা বৈধ—প্রশ্নের মুখে রাজনীতি

 



ডিজিটাল ব্যুরো | Y বাংলা নিউজ

বৃহস্পতিবারের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা নিঃসন্দেহে আই-প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র অভিযান। সেই তল্লাশি চলাকালীনই নাটকীয়ভাবে প্রতীকের ফ্ল্যাটে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পর বুকে আগলে একটি সবুজ ফোল্ডার হাতে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আই-প্যাকের অফিসেও যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও তাঁর গাড়িতে এক সহযোগীকে কয়েকটি ফাইল তুলতে দেখা যায়।

দিনভর এই ঘটনাপ্রবাহের পর সাধারণ মানুষের মনে মূলত দু’টি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
এক, মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা ওই সবুজ ফাইলে আসলে কী ছিল?
দুই, ইডি-র তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী কি এভাবে ঢুকে পড়ে ফাইল নিয়ে আসতে পারেন?

দ্বিতীয় প্রশ্নটি নতুন নয়। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির সময়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সিবিআই ও কলকাতা পুলিশের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বড় কোনও আইনি পরিণতিতে গড়ায়নি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, এই প্রশ্ন আদতে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছবে না। বিরোধীরা যেমন সমালোচনায় সরব, তেমনই শাসক শিবির এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেই দেখছে।

এবার আসা যাক সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নে—সবুজ ফাইলে কী ছিল?

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রতীক জৈনের বাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ছিল। তাঁর দাবি, বিজেপি ইডি-কে ব্যবহার করে সেই তালিকা হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল। সেই কারণেই তিনি ওই নথি সেখান থেকে সরিয়ে এনেছেন। মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সবুজ ফোল্ডারের মধ্যেই ছিল তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।

এই একটি বক্তব্যই মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ বদলে দিয়েছে। সবুজ ফোল্ডার বুকে আগলে বেরিয়ে আসার সেই ছবি কার্যত দিনের সবচেয়ে আলোচিত ফ্রেম হয়ে উঠেছে।

বাস্তবে ওই ফাইলে কী ছিল, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না। হতে পারে তাতে কেবল সাদা কাগজই ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূলের কোর সমর্থক, দলের কর্মী ও বিজেপি-বিরোধী একাংশের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে।

আই-প্যাক তৃণমূলের সংগঠনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, তা অজানা নয়। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পর প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বে আই-প্যাক বাংলায় সক্রিয় হয়। বর্তমানে বুথ স্তর থেকে শুরু করে সংগঠনের ডেটা, সমীক্ষা, প্রার্থী বাছাইয়ের খসড়া, প্রচারের নকশা—সবই পেশাদারভাবে আই-প্যাকের কাছে থাকা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সেই অর্থে প্রতীক জৈনের বাড়ি বা আই-প্যাকের অফিসে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে?

তৃণমূল বিরোধীদের একাংশ এই ঘটনায় স্বস্তি পেলেও, শাসক দলের ভিতরের যে অংশ আই-প্যাকের প্রভাব নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাঁদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে বৃহত্তর রাজনৈতিক চিত্রে এই ঘটনা পক্ষ-বিপক্ষের অবস্থানকে আরও তীক্ষ্ণ করবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

সংবিধানের ৩৫৫ বা ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের প্রশ্নও উঠেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়ার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। তবে অতীতে অরুণাচল ও উত্তরাখণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় মাথায় রেখে কেন্দ্র সেই পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে এটুকু স্পষ্ট, এই ঘটনা এখানেই শেষ হচ্ছে না। সূত্রের খবর, প্রতীক জৈনকে ইডি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস দিতে পারে। অতীতে যেমন রাজীব কুমারকে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তেমন পরিস্থিতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, আই-প্যাক ইডি অভিযান, সবুজ ফাইল এবং মুখ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ—এই ত্রয়ী আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রাজ্যপালকে খুনের হুমকি! ইমেলে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ বার্তা, লোকভবনে হাই অ্যালার্ট

 



ডিজিটাল ব্যুরো | Y বাংলা নিউজ

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য প্রশাসনে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লোকভবনের আধিকারিকদের ইমেলে আসে একটি হুমকি বার্তা। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল—রাজ্যপালকে “উড়িয়ে দেওয়া হবে”।

বার্তাটি নজরে আসতেই রাতেই তৎপর হয়ে ওঠেন লোকভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা। জরুরি বৈঠক ডাকা হয় এবং রাজ্যপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্ত শুরু হয়। হুমকি মেলের বিষয়টি দ্রুত জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে।

লোকভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যপালকে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ ও সিআরপিএফ। মাঝরাতেই শীর্ষস্তরে বৈঠকে বসেন বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর আধিকারিকরা। সম্ভাব্য ঝুঁকি, নিরাপত্তা বলয় আরও মজবুত করার কৌশল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি—সব দিকই খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে।

বর্তমানে রাজ্যপালের জন্য ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও, এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। লোকভবনের আধিকারিকদের দাবি, এর আগেও রাজ্যপালকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হুমকি এসেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যপাল আনন্দ বোস শুক্রবার নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই রাস্তায় নামার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি বলেছেন,
“বাংলার মানুষই আমাকে রক্ষা করবেন।”
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

একই দিনে শহরের রাজনীতিতেও উত্তাপ রয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিলে নামছেন। আগের দিন আই-প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী সরব হন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। ফলে শহরের দুই শীর্ষ প্রশাসনিক মুখ আলাদা আলাদা পথে রাস্তায় নামায় পুলিশের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

ইডির তল্লাশি ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে রাজ্যপালও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,
“সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া অপরাধ। হুমকি বা আইনি ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাজ থেকে বিরত করা আরও গুরুতর অপরাধ। সংবিধানিক কর্তৃপক্ষ যদি সংবিধানের বাইরে যান, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”

হুমকি মেলের উৎস কী, কারা এর পিছনে রয়েছে এবং রাজ্যপালের নিরাপত্তা আরও কীভাবে জোরদার করা হবে—সব দিকেই এখন নজর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের।

Thursday, 8 January 2026

I-PAC ইডি রেড: ‘ভোটের সঙ্গে কোনও যোগ নেই’, ফাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে ইডি

 


🔴 I-PAC ইডি রেড: ‘ভোটের সঙ্গে কোনও যোগ নেই’, ফাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে ইডি

ডিজিটাল ডেস্ক | Y বাংলা নিউজ

কয়লা পাচার মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি-সহ দেশের মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আই-প্যাকের (I-PAC ED Raid) অফিসে অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠলেও, ইডি সাফ জানিয়ে দিয়েছে—এই তল্লাশির সঙ্গে ভোট বা কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সম্পর্ক নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকের আই-প্যাকের কলকাতা অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। একই সঙ্গে সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতেও অভিযান চলে। তল্লাশি শেষে আই-প্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাসভবন থেকে একাধিক নথির বান্ডিল নিয়ে বেরোতে দেখা যায় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের।

তল্লাশির পর সেখান থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোট কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের কাগজপত্র ও তথ্য ‘লুট’ করা হয়েছে। হার্ড ডিস্ক, আর্থিক নথি এবং রাজনৈতিক কাজকর্ম সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজ বাজেয়াপ্ত করার কথাও তিনি জানান। পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামার সাহস না থাকায় এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ইডির অভিযানকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলেও মন্তব্য করেন।

তবে বেলা গড়াতেই ইডির তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করে,
“সাংবিধানিক পদে থাকা এক ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন। দু’টি জায়গায় বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চলছিল।”
ইডি আরও জানায়, কোনও রাজনৈতিক কার্যালয়কে টার্গেট করা হয়নি এবং এই অভিযানের সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।

এই বিবৃতির পরই আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশিতে ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। আগামী দিনে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাউডন স্ট্রিটে যাওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অনৈতিক। যদিও তদন্ত বা ইডির তল্লাশি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, তদন্তের বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি কথা বলবেন না, তবে অতীতেও সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেস দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একইভাবে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির সময়েও তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান করেছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে, আই-প্যাক ইডি রেড ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপানউতর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। হাইকোর্টে মামলার শুনানি এই বিতর্কে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

SIR শুনানি ঘিরে নতুন জটিলতা: বাইরে থাকা ভোটারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব সিইও দফতরের

 


 SIR শুনানি ঘিরে নতুন জটিলতা: বাইরে থাকা ভোটারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব সিইও দফতরের

ডিজিটাল ডেস্ক | Y বাংলা নিউজ

পশ্চিমবঙ্গে চলতি স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR in West Bengal) প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব ঘিরে একের পর এক জটিলতা সামনে আসছে। ইতিমধ্যেই বহু ভোটার শুনানির নোটিস পেয়েছেন। নির্ধারিত নথি নিয়ে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও, রাজ্যের বাইরে কিংবা বিদেশে থাকা ভোটার এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সেই নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর—তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন ভাবনায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। সূত্রের খবর, ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক ও বিদেশে থাকা ভোটারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আলাদা কোনও অনলাইন পোর্টাল বা ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যাতে এই ভোটারদের শুনানি নেওয়া যায় বা তাঁরা প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে পারেন, সেই বিষয়টি বিবেচনায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হবে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনই।

এদিকে, এসআইআর সংক্রান্ত নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথির পাশাপাশি সিএএ (CAA) সার্টিফিকেটকে প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন মঙ্গলবারই কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কোনওভাবেই এসআইআর শুনানিতে গ্রাহ্য হবে না।

কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই যাঁরা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন, তাঁদের ফের শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হতে পারে। মঙ্গলবারই এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুরুতে কমিশনের অবস্থান ছিল—ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO)। সেই কারণেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিল, কোন স্তরের আধিকারিক এই শংসাপত্র ইস্যু করেন।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জেলাশাসকরাই ইস্যু করতেন। পরবর্তীতে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয় অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) এবং মহকুমা শাসক বা এসডিওদের। ঘটনাচক্রে, এসআইআর পর্বে এই এসডিওরাই নির্বাচনী নথিভুক্তিকরণ আধিকারিক (ERO)-র দায়িত্বেও রয়েছেন।

এই ব্যাখ্যা পাওয়ার পরই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আদৌ এসআইআর-এর ক্ষেত্রে প্রমাণ্য নথি কি না, তা জানতে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠায় রাজ্য সিইও দফতর। কমিশন সূত্রে খবর, সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এসআইআর শুনানিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

সব মিলিয়ে, এসআইআর শুনানি পর্বে বাইরে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য প্রশাসন ও ভোটাররা।

Wednesday, 7 January 2026

এসআইআর আতঙ্কে মতুয়ারা, ‘সহ্য করতে হবে’ বিতর্কের পর বনগাঁয় ড্যামেজ কন্ট্রোলে শুভেন্দু



এসআইআর আতঙ্কে মতুয়ারা, ‘সহ্য করতে হবে’ বিতর্কের পর বনগাঁয় ড্যামেজ কন্ট্রোলে শুভেন্দু

 Y বাংলা নিউজ   ডিজিটাল ডেস্ক  

প্রথম থেকেই এসআইআর (SIR in Bengal) নিয়ে আতঙ্কে মতুয়া সম্প্রদায়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বহুদিন আগেই। সেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের ‘সহ্য করতে হবে’ মন্তব্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতেই বুধবার মতুয়াগড় হিসেবে পরিচিত বনগাঁয় দাঁড়িয়ে মতুয়াদের আশ্বস্ত করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় এসআইআর শুরু হওয়াকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে বারবার দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয় তর্কবিতর্ক। বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে আতঙ্ক ছড়ায়। বিজেপির তরফে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় বহু মতুয়ার নাম তাতে নেই।

এই আবহেই সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর মন্তব্য করেন,
“ভোটার তালিকা থেকে ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ গেলে, সেখানে ১ লক্ষ আমাদের লোক (মতুয়া) যদি বাদ যায়, তাহলে সেটুকু সহ্য করতে হবে।”
এই মন্তব্য ঘিরেই মতুয়া সমাজে ক্ষোভ ও উদ্বেগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একাংশ আন্দোলনের পথেও হাঁটেন।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মতুয়াদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। তবে তাতেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। বুধবার মতুয়াদের একাংশ রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হন বলেও জানা গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই এদিন বনগাঁয় সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চ থেকে তিনি বলেন,
“প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখুন। কোনও মতুয়া উদ্বাস্তুর নাম বাদ যাবে না।”

শুভেন্দু আরও দাবি করেন,
“হিন্দুদের বাঁচাতেই আমি তৃণমূল ছেড়েছি। বাংলায় এখন জামাতের সরকার চলছে।”
এরপর তিনি মতুয়াদের আশ্বস্ত করে বলেন, কেন্দ্র সবসময় মতুয়াদের কথা ভাবে বলেই সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। কারও ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শান্তনু ঠাকুরের ‘সহ্য করতে হবে’ মন্তব্যে যে বিতর্ক ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, বনগাঁর সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য সেই ক্ষতি সামাল দেওয়ারই চেষ্টা। ছাব্বিশের আগে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখাই যে বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ, তা এই ঘটনাপ্রবাহেই স্পষ্ট।

বাংলায় SIR শুনানি: নথির ‘ত্রুটি’তে নোটিস নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে, বিতর্ক তুঙ্গে

 


🔴 বাংলায় SIR শুনানি: নথির ‘ত্রুটি’তে নোটিস নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে, বিতর্ক তুঙ্গে

ডিজিটাল ডেস্ক | Y বাংলা নিউজ

পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর (SIR in West Bengal) শুনানি পর্বে এবার নজরে এল চাঞ্চল্যকর নাম। এনুমারেশন ফর্মে ত্রুটি ধরা পড়ায় নোটিস গিয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনের (Amartya Sen) নামে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এনুমারেশন ফর্মে অমর্ত্য সেনের সঙ্গে তাঁর পিতা বা মাতার বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম উল্লেখ থাকায় তা ‘সাধারণভাবে প্রত্যাশিত নয়’ বলে ধরা হয়েছে। সেই কারণেই নথি যাচাইয়ের জন্য নোটিস পাঠানো হয়। যদিও কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, অমর্ত্য সেনকে কোনও শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দিতে হবে না। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেই সংশোধন সম্ভব।

মঙ্গলবার এই ইস্যুতে বীরভূমের রামপুরহাটে জনসভা থেকে সরব হন তৃণমূল সাংসদ ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,
“নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকেও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। দেশের জন্য নোবেল পুরস্কার এনে দেওয়া মানুষকেও এরা হেনস্তা করতে ছাড়ছে না। অভিনেতা-সাংসদ দেব, ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে—এগুলো কি নিছক কাকতালীয়?”

অভিষেকের মন্তব্যের পরই কমিশনের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শান্তিনিকেতনের প্রতীচী বাড়িতে গিয়ে নোটিস পৌঁছে দেয়। অমর্ত্য সেন বর্তমানে আমেরিকার বোস্টন শহরে অবস্থান করছেন।

নোবেলজয়ীর ভাই শান্তভানু সেন বলেন,
“কাগজপত্রে কিছু গরমিল আছে বলেই নোটিস দেওয়া হয়েছে। এটা স্পষ্টতই হয়রানি। সবাই যাঁকে চেনে, তাঁকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হচ্ছে।”

প্রতীচী বাড়ির দায়িত্বে থাকা গীতিকণ্ঠ মজুমদার জানান,
“অমর্ত্য সেনের সমস্ত বৈধ নথি আমাদের কাছে রয়েছে। কমিশনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হবে। কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে দুর্ভাগ্যজনক যে ওঁর মতো মানুষকেও বারবার এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, অমর্ত্য সেন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। তারপরও নোটিস পাঠানোয় প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী শিবির। বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা নিয়েই এখন জোর তরজা রাজ্য রাজনীতিতে।

প্রকাশ্যে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য কমিটি, ৩৫ জনের তালিকায় নেই দিলীপ–শুভেন্দু–সুকান্ত, সহ সভাপতি হলেন তাপস রায়

 


প্রকাশ্যে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য কমিটি, ৩৫ জনের তালিকায় নেই দিলীপ–শুভেন্দু–সুকান্ত, সহ সভাপতি হলেন তাপস রায়

ব্যুরো রিপোর্ট | Y Bangla News

অবশেষে প্রকাশ্যে এল বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি। ৩৫ জনের এই রাজ্য কমিটি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা। কারণ, তালিকায় নেই বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নাম। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নামও রাখা হয়নি এই কমিটিতে।

দীর্ঘদিন রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা একাধিক শীর্ষ নেতার নাম বাদ পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও জল্পনা বেড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়কে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন কমিটিতে। শুধু রাজ্য কমিটির সদস্যই নন, তাঁকে রাজ্য সহ সভাপতি পদেও নিয়োগ করা হয়েছে। বিজেপির অন্দরে তাপস রায়ের এই উত্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

নতুন রাজ্য কমিটিতে পুরনো কয়েকজন মুখও ফিরেছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম তনুজা চক্রবর্তী। একসময় বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব সামলালেও পরে তাঁকে পদ থেকে সরানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন কোনও উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক দায়িত্বে না থাকলেও এবার শমীক ভট্টাচার্যের উদ্যোগে তাঁর পুনর্বাসন হল। তনুজা চক্রবর্তীকেও রাজ্য সহ সভাপতি পদে আনা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রকাশ্যেই দিলীপ ঘোষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার বার্তা দিয়ে যান। তার পর থেকেই নতুন উদ্যমে জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে দিলীপকে। কিন্তু সেই আবহেই রাজ্য কমিটির তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় দিলীপ অনুগামীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ভোটের আগে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল কোন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নতুন কমিটি কি ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস, না কি কৌশলগত সিদ্ধান্ত—তা নিয়ে এখন থেকেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog