Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Monday, 6 October 2025

উত্তরবঙ্গের বন্যা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও হোমগার্ড চাকরির ঘোষণা

উত্তরবঙ্গের বন্যা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও হোমগার্ড চাকরির ঘোষণা

উত্তরবঙ্গের বন্যা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও হোমগার্ড চাকরির ঘোষণা

উত্তরবঙ্গ বন্যা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্যোগ কবলিত এলাকায় পৌঁছেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন।
সংক্ষেপ: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে পৌঁছে দুর্যোগ পরিদর্শন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, দুর্যোগ পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সমতলভূমি এলাকা টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। শনিবার রাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভুটান থেকে নেমে আসা জল, পাহাড়ি ঢল ও নদীর জলস্রোতের কারণে নাগরাকাটা ও ধূপগুড়ি এলাকা তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে অন্তত ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সোমবার সকালে এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দমদম বিমানবন্দর থেকে রওনা দেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ কখনই যথেষ্ট হয় না। তবে বেঁচে থাকা পরিবারের জন্য আমরা পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করব। পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরিও দেওয়া হবে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, “উত্তরবঙ্গে পৌঁছে নাগরাকাটা ও হাসিমারার প্রান্ত পর্যন্ত যাব। যতদূর সম্ভব দুর্গত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। কতটা জল সামলাব? বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে জল আসছে। গঙ্গা টইটম্বুর। ডিভিসি ইচ্ছেমতো জল ছেড়ে চলেছে। মাইথন, ডিভিসন, পাঞ্চেতের জন্য জলযন্ত্রণা ভোগ করছি। কলকাতার কী অবস্থা হয়েছিল তা আমরা জানি। ভুটান ও সিকিমের জল নাগরাকাটা ও ধূপগুড়িতে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আটকে পড়া পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য রাজ্য সরকার সমস্ত হোটেলকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে কোনওরকম অতিরিক্ত খরচ না নেওয়া হয়। সরকার পর্যটকদের এবং স্থানীয়দের ঘরে ফেরানোর সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

শুক্রবার ও শনিবার রাতে লাগাতার বৃষ্টির ফলে নদী ও খাল উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তলিয়ে গেছে বহু এলাকা। জনগণ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। পাহাড়ি ও নিম্নাঞ্চলে মৃতদের সংখ্যা বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় অনেককে উদ্ধার করা গেছে, তবে অনেক মানুষ এখনও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দমকল, সেনা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রাতভর কাজ করছেন। খাদ্য, পানি এবং মেডিকেল সাপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। স্থানীয় স্কুল ও কলেজে জরুরি শেল্টার ক্যাম্প খোলা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: “উত্তরবঙ্গের মানুষদের সাহায্য করাই আমাদের প্রধান কর্তব্য। দুর্ঘটনা ও বন্যার কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে থাকতে হবে। সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে।”

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ছাড়াও হোমগার্ডের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে পরিবার নিজের জীবিকা বজায় রাখতে পারে। এই পদক্ষেপকে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

সংবাদ অনুযায়ী, নাগরাকাটা ও ধূপগুড়ি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আহত ও দুর্গতরা স্থানীয় হাসপাতাল ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিতে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

দুর্গত এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের ফলে ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। নদীর বাঁধ, খাল ও নদীস্রোতের ওপর নজর রাখা হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যবেক্ষণ চালাবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রমকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া উচিত নয়। দুর্যোগ কবলিত এলাকায় তৎপর থাকা স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সহায়তা জরুরি। বন্যায় আক্রান্তদের পুনর্বাসন এবং মৃতদের পরিবারের সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করা আবশ্যক।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদীভাঙন ও পাহাড়ি ঢলে রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীরা উক্ত এলাকায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি সাহায্যকর্মীরা মিলে খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণ করছেন।

পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর এবং জেলা প্রশাসন ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোট: প্রতিবেদনটি কপি রাইট মুক্ত; প্রকাশের আগে স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্র ও হাসপাতালের তথ্য যাচাই করা সুরক্ষিত।
#NorthBengalFlood #MamataBanerjee #Nagarakata #Dhupguri #DisasterRelief

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

দুর্যোগ পরিদর্শনে হামলা: রক্তাক্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শংকর ঘোষ হাসপাতালে

দুর্যোগ পরিদর্শনে হামলা: রক্তাক্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শংকর ঘোষ হাসপাতালে

দুর্যোগ পরিদর্শনে গিয়ে রক্তাক্ত বিজেপি সাংসদ ও বিধায়ক — ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ফেসবুক লাইভে ভয়াবহ সূচনা

নাগরাকাটা দুর্যোগ পরিদর্শন ও হামলার চিত্র (ফাইল ছবি)
ছবি: ঘটনাস্থল — দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় হামলার শিকার বিজেপি নেতা-নেত্রীদের গাড়ি ও আহত অবস্থার ভিডিও থেকে নেওয়া ফ্রেম।
সংক্ষিপ্ত: মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ দুর্যোগ কবলিত নাগরাকাটা পরিদর্শনে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় শংকর ঘোষের ফেসবুক লাইভে হামলার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়; তিনি দাবি করেন, কিছু লোক ‘দিদি দিদি’ বলে এগিয়ে এসে প্রথমে গালাগালি করেছিলেন এবং পরে পিঠে ও মাথায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে মারধর চালান। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার সকালে নাগরাকাটা, বামনডাঙা ও নেউটিয়া অঞ্চলে ত্রাণ ও দুর্যোগ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীপথ ও বিস্তীর্ণ প্লাবিত এলাকা সরেজমিন যাচাই করতে গেলে হঠাৎই কিছু প্রতিহিংসাপরায়ণ ব্যক্তি তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে ইট, লাঠি ও জুতো নিক্ষেপ করা হয়; সেই আঘাতে খগেন মুর্মু ও শংকর ঘোষ দু’জনেই রক্তাক্ত হন। কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে দ্রুতই তাঁদের শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হামলার সময় গৃহীত একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে শংকর ঘোষ নিজের কণ্ঠে বিশদ বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, “আমরা ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়েছিলাম; এক পর্যায়ে কিছু মানুষ ‘দিদি দিদি’ বলে এসে আমাদের ওপর চড়াও হয়। শুরুতে গালাগালি—পরে ইট ছোঁড়া শুরু হয়। আমার গাড়ির কাচ ভেঙে যায়, সারাটা শরীর কাচে ভর্তি; খগেনদার মাথায় রক্ত পড়ছে। মূলত নিরস্ত মানুষদের সাহায্যে গিয়েছিলাম—কেন এই আচরণ, সেটাই আমাদের বুঝে ওঠা যাচ্ছে না।” তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তিনি গাড়ির সিটের তলায় শুয়ে না পড়লে হতে পারত মারাত্মক আঘাত।

স্থানীয় হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, খগেন মুর্মুকে প্রাথমিকভাবে স্ট্যাপলিং ও ব্যান্ডেজ সহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শংকর ঘোষের শরীরেও প্রচুর কেটে-আঘাত ও কাচের আঘাত লক্ষ করা গেছে; তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সরকারি শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও ঘটনার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি; তবে বিজেপি দাবি করেছে যে আক্রমণের সঙ্গে তৃণমূলের কোনো লোক সম্পৃক্ত থাকতে পারে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এলাকায় তদন্ত শুরু করেছে।

হামলার পর মহল্লার বেশ কয়েকটি বাড়িতেই ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় স্থানীয়রা ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় বন্যার প্রভাব এখনও রয়ে গেছে—রাস্তা, ঘরবাড়ি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বড় ক্ষতিগ্রস্ত। ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে—বিশেষত যেখানে সাহায্যার্থীদের নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দুর্যোগপরবর্তী উত্তেজনা ও পাল্টা রাজনৈতিক অভিযোগ কখনো কখনো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

স্থানীয় বিএনপি/ত্রাণকর্মী ও সাধারণ মানুষ একদিকে বলছেন—এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবদ্ধ সহযোদ্ধা থাকা দরকার এবং ত্রাণ কার্যক্রমকে রাজনৈতিক রং দেয়া উচিত নয়। অপরদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ঘটনার তদন্ত চলছে, বোমা-স্কোয়াড বা অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে যদি পরিস্থিতি অশান্ত হয়।

শংকর ঘোষ (ফেসবুক লাইভে): “আমি জানি না কেন তারা আমাদের উপর এতটা আক্রোশ দেখিয়েছে। আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলাম—কেউ কি সাহায্য নিতে পছন্দ করেনি? তাদের প্রশ্ন ছিল—'কেন এসেছ'—অন্যায়ভাবে এগিয়ে এসে তারা মারধর শুরু করে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্যোগের সময় ভুল তথ্য, বিশৃঙ্খলা এবং স্থানীয় আবেগের উত্তেজনা সহিংসতা বাড়াতে পারে। দ্রুত, স্বচ্ছ ও সংবেদনশীলভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো যাতে থাকে—এগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি। এছাড়া, ঘটনার সত্যতা ও দোষীদের চিহ্নিত করতে কড়া তদন্তভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান করা হয়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া মাত্রি আমরা আপডেট করে দেব। এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের স্তরে বিবৃতি প্রত্যাশিত; ঘটনার ব্যাখ্যা ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উত্থাপিত হয়েছে।

পরিস্থিতি শান্ত হলে ঘূর্ণিঝড়-প্রভাবিত ও প্লাবিত এলাকার মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে দ্রুত পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সহায়ক সংস্থাগুলো এবং প্রশাসনের তদ্বিরেই মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার যাতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে পারে এবং রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে মানুষের ক্ষতিটি আরও বেড়ে না যায়।

নোট: রিপোর্ট কপি রাইট মুক্ত—প্রকাশের পূর্বে স্থানীয় হাসপাতাল বা প্রশাসনিক সূত্র থেকে তারিখ-সময় ও আহতদের নির্দিষ্ট বিবরণ যাচাই করে নেওয়া সুরক্ষিত।
#KhagenMurmu #ShankarGhosh #Nagarakata #FloodRelief #WestBengal

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

সোনম ওয়াংচুক গ্রেফতারের বিরুদ্ধে হেবিয়াস কর্পাস: সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে নোটিস

সোনম ওয়াংচুক গ্রেফতারের বিরুদ্ধে হেবিয়াস কর্পাস: সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে নোটিস

সোনম ওয়াংচুকের এনএসএ-আটক: গীতাঞ্জলির হেবিয়াস কর্পাস আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে নোটিস

Sonam Wangchuk
ছবি: সোনম ওয়াংচুক (ফাইল ছবি) — মূল রিপোর্টিং সূত্র: বিভিন্ন সংবাদসংস্থা। 0
সংক্ষিপ্ত: লাদাখে হওয়া হিংসাত্মক ঘটনার পরে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) গ্রেফতার হওয়া পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে ওয়াংমো সুপ্রিম কোর্টে হাবিয়াস কর্পাস আবেদন দায়ের করেছেন। শীর্ষ আদালত কেন্দ্র, জম্মু ও কাশ্মীর ও রাজস্থান প্রশাসনকে নোটিস জারি করেছে; মামলার পরবর্তী শুনানি ১৪ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে। 1

লাদাখের রাজধানী লেহে ২৪-২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংঘটিত সহিংস ঘটনার পর পরিবেশকর্মী ও জনজীবন-সংলগ্ন আন্দোলনের মুখপাত্র সোনম ওয়াংচুকে ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারায় (এনএসএ) গ্রেফতার করে কর্তৃপক্ষ এবং পরে তাঁকে যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। ওই ঘটনার তদন্ত ও গ্রেফতার সংক্রান্ত আইনি বৈধতা নিয়ে বর্তমানে শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুলেছে। 2

গীতাঞ্জলি জে ওয়াংমো সুপ্রিম কোর্টে অভিষিক্ত হেবিয়াস কর্পাস আবেদনে যুক্তি দিয়েছেন যে, তাঁর বা তাঁর স্বামীর প্রতি গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে তাঁকে কোনো নোটিস বা অনুলিপি জানানো হয়নি এবং গ্রেফতারের পর থেকে তাঁকে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। আবেদনটি (আর্টিকেল ৩২ এর অধীনে) ৩২ নম্বর ধারার ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছে এবং এতে ২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গ্রেফতারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর এবং রাজস্থান প্রশাসনকে নোটিস পাঠিয়েছে। 3

আদালত-এ ঘটনার সারমর্ম: শুনানিতে কপিল সিবাল (আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী) বলেন যে, গ্রেফতারের নোটিশের একটি অনুলিপি না পেলে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও আইনজীবীরা আটকের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেন না; ফলে যথাযথ আইনি প্রতিরক্ষা বন্ধনে তারা দুর্বল হয়ে পড়েন। পাল্টা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উল্লেখ করেন যে, গ্রেফতারের কারণ ইতিমধ্যেই আটক ব্যক্তিকে জানানো হয়েছে এবং পরিবারের কিছু সদস্য (উদাহরণস্বরূপ ভাই) স্বরকে সাক্ষাৎ করে। রাষ্ট্রপক্ষ নোটিস সম্প্রদানের feasibility যাচাই করার কথাও জানান। 4

বিষয়টি যে মাত্র আইনি নয়, তা রয়ে গেছে রাজনৈতিক ও মানবাধিকারগত প্রেক্ষাপটেও — লাদাখের এক বড় অংশই দীর্ঘকাল ধরে পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্তির দাবি তুলছে। বহু মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের মধ্যেই সোনম ওয়াংচুক অনশন ও জনসংযোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করছিলেন; কেন্দ্র বলছে যে আন্দোলনকে ভ্রান্তভাবে তীব্র করা ও সহিংসতা উস্কানির অভিযোগ রয়েছে, এমনকি কেন্দ্রীয়ভাবে 'Arab Spring' রূপক ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতেও আছে। অপরদিকে সমর্থকরা বলেন, তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক আন্দোলনের মুখ্য কণ্ঠস্বর ছিলেন। 5

হেবিয়াস কর্পাস আবেদনটি শুধুই ব্যক্তিগত মুক্তির অনুরোধ নয়—এটি গ্রেফতারের প্রক্রিয়া, নোটিশ প্রদান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্র ও শাখা-নিবন্ধন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের ওপর একটি বিস্তৃত আইনি প্রশ্নও তুলে ধরছে। আবেদনপত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, যদি গ্রেফতারের কারণ পরিবারের কাছে ও আইনজীবীদের কাছে না জানানো হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উপযুক্ত আইনি প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে পারবেন না এবং সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বোর্ড/কর্তৃপক্ষের সামনে যথাযথ প্রতিনিধিত্বও বাধাগ্রস্ত হবে। 6

সুপ্রিম কোর্টে পর্যবেক্ষণ করে বেঞ্চ (বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়া) কেন্দ্রকে কড়া প্রশ্ন করেছে — কেন গীতাঞ্জলি জে ওয়াংমোকে নোটিস বা অনুলিপি আগাম দেওয়া হয়নি এবং কেন তাঁকে স্বামীর সঙ্গে প্রাথমিক সাক্ষাৎকার ও পুনরাবৃত্তি দেখা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। আদালত এই দিকগুলো সরকারি জবাব দাবি করেছে এবং শুনানি ১৪ অক্টোবর নির্ধারণ করে বেশ কয়েকটি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নোটিস জারি করেছে। 7

আইন-বিশ্লেষকরা বলছেন, এনএসএ ধারায় গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কবে এবং কোথায় নোটিস দিতে হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার বিধান বিবেচ্য; একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার—দুটি পরস্পরবিরোধী দিকও আদালত দেখতে পারেন। মামলার ফলাফল কেবল ব্যক্তিগত মুক্তি নির্ধারণ করবে না, বরং ভবিষ্যতে অনুরূপ এনএসএ প্রয়োগ ও পারিবারিক-নোটিশ সংক্রান্ত প্রশাসনিক আচরণে আইনগত একটি প্রিসিডেন্ট স্থাপন করতে পারে। 8

বাকিতে বলা যায়, লাদাখে চলমান আন্দোলনের পটভূমি, ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনার তীব্রতা, সার্বিক নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্ত এবং নাগরিক নাগরিকদের বক্তব্যের সীমা—এই সব কিছুকে এখন আদালত গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করবে। ১৪ অক্টোবর হাই-প্রোফাইল এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও রায় সরকারি নীতিনির্ধারণে ও ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র(শীর্ষ): Mint, Times of India, Wikipedia (সংকলিত প্রতিবেদন)।
#SonamWangchuk #NSA #SupremeCourt #Ladakh

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Sunday, 5 October 2025

উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের মান নিয়ে বড় পদক্ষেপ, হেল্যাক্স হেলথ ব্ল্যাকলিস্ট

উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের মান নিয়ে বড় পদক্ষেপ, হেল্যাক্স হেলথ ব্ল্যাকলিস্ট

উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের মান নিয়ে বড় পদক্ষেপ, হেল্যাক্স হেলথ ব্ল্যাকলিস্ট

Y বাংলা ব্যুরো — আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৫
TELMISARTAN 40 ওষুধের মান পরীক্ষা
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর TELMISARTAN 40 ওষুধের মান যাচাই করল। ফলাফল সন্তোষজনক নয়। (ছবি: প্রতিনিধি)

কলকাতা, ৫ অক্টোবর: রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হেল্যাক্স হেলথকেয়ার প্রাইভেট লিমিটেডকে তিন বছরের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করেছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে সরবরাহ করা TELMISARTAN 40 ওষুধের গুণমান ঠিক না থাকার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও খবর পড়ুন , উত্তরবঙ্গের বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সমালোচনা

হেল্যাক্স হেলথকেয়ার দীর্ঘদিন রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই ওষুধ সরবরাহ করত। সম্প্রতি একাধিক রোগী অভিযোগ করেছেন যে ট্যাবলেটটি সহজেই গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে এবং কার্যকারিতা কম। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর স্বাস্থ্য দফতর ১৪টি ব্যাচের ওষুধ ল্যাবে পাঠিয়ে পরীক্ষা করায়। ফলাফল নেগেটিভ; কোন ব্যাচই মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি।

স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ:

• হেল্যাক্স হেলথকেয়ারের সব সরকারি হাসপাতালের সরবরাহ বন্ধ।

• সংস্থাটিকে তিন বছরের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।

• ভবিষ্যতে সমস্ত সরকারি ওষুধের মান পরীক্ষা আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।

চিকিৎসক আশিস মিত্র বলেন, “উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ শুধু এই সমস্যার জন্য নয়, ডায়াবেটিস, কিডনি বা হার্ট রোগীর ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুণমান ঠিক না থাকলে, রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।”

এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে কারণ দেশে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার হার বাড়ছে। প্রতিদিন নিয়মিত ওষুধ না খাওয়ার ফলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শিশুদের সর্দি-কাশির ওষুধের মান নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি হয়েছে, এবং এখন ক্রনিক রোগে ব্যবহৃত ওষুধের মান নিয়েও সতর্কতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালের ওষুধের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা অপরিহার্য। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়াতে স্বচ্ছভাবে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য দফতরের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা সমস্ত ওষুধের মান পরীক্ষায় কোনও ছাড় থাকবে না। রোগীদের সুরক্ষা এবং ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত পরীক্ষা ও নজরদারি চালানো হবে।

এদিকে হেল্যাক্স হেলথকেয়ারের তিন বছরের ব্ল্যাকলিস্টের ফলে তারা সরকারি টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে না। ফলে অন্যান্য ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর উপর চাপ বাড়বে যাতে মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত হয়।

সামগ্রিকভাবে, এই পদক্ষেপ রোগীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে যাতে তারা মানহীন ওষুধ ব্যবহার না করেন এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রশাসনকে অবহিত করেন।

আরও খবর পড়ুন ভারতে লা নিনার প্রভাবে ভয়ঙ্কর শীত: ২০২৫ সালের শেষের দিকে হাড়কাঁপানো শীতের পূর্বাভাস

Y বাংলা ব্যুরো © ২০২৫। সকল অধিকার সংরক্ষিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

উত্তরবঙ্গের বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সমালোচনা

উত্তরবঙ্গের বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সমালোচনা

উত্তরবঙ্গের বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সমালোচনা

Y বাংলা ব্যুরো — আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৫
উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ধস
দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জলদাপাড়া ও কোচবিহার এলাকায় বন্যার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। (ছবি: প্রতিনিধি)

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সমতল এলাকা টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। বৃষ্টির কারণে ধস ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জলদাপাড়া, কোচবিহার-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ এখনও আশ্রয়হীন এবং পর্যটক আটকা পড়েছেন। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল তাদের সমতলে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় দুর্গাপুজো কার্নিভালের আয়োজন নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রশ্ন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কেন উত্তরবঙ্গকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না?’ তিনি বলেন, ‘কার্নিভাল নাকি বাংলার ঐতিহ্য! তা দশমীর চার দিন পর সরকারি অনুদান আর প্রশাসনিক চোখ রাঙানির কারণে প্রতিমা নিরঞ্জন আটকে রেখে, মিছিল করিয়ে ঘাটে যাওয়া কবে থেকে বাংলার ঐতিহ্য হয়ে গেল?’

শুভেন্দুর মন্তব্য:

‘কলকাতা ভেসে যাওয়া ও কিছু নিরীহ মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী পুজো উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এখন কার্নিভাল নিয়ে ব্যস্ত। এক বছর আগের কথা মনে পড়ে যায়, যখন বলেছিলেন ‘উৎসবে ফিরুন’, তবেই তো লোকে আনন্দে মেতে থাকবে, ন্যায্য প্রশ্ন করবে না।’

উত্তরবঙ্গের বন্যার জন্য প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন শুভেন্দু। তাঁর প্রশ্ন, ‘মুখ্যমন্ত্রী চটজলদি উত্তরবঙ্গ যেতে আগ্রহী নন কেন? সেখানে ডিভিসি নামক বলির পাঁঠা নেই দোষারোপ করার জন্যে? নাকি ওখানে গিয়েও চিন, ভুটান, নেপালের বহিরাগত জলের তত্ত্ব দেবেন?’

এই বিষয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এক মুখপাত্র জানান, ‘উত্তরবঙ্গ বিপুল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত। সিকিম, ভুটান থেকে আসা নদীগুলিও বিপদ বাড়াচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পুরো নজর রাখছেন, বৈঠক করেছেন, নির্দেশ দিয়েছেন এবং মনিটর করছেন। সোমবার নিজে যাচ্ছেন। প্রশাসন এবং দল সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেমে পড়েছে। মানুষের পাশে আছে।’

উত্তরবঙ্গের এই বন্যা শুধু মানুষের জীবনই বিপন্ন করছে না, পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকা ও সমতল এলাকার অবকাঠামোও ধ্বংস হচ্ছে। নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় রাস্তা বন্ধ, ঘরবাড়ি ও হোমস্টে ক্ষতিগ্রস্ত, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

দার্জিলিং, মিরিক ও আলিপুরদুয়ারে পর্যটকরা এখনো আটকা পড়েছেন। প্রশাসন বিকল্প রুট ব্যবহার করে তাদের সমতলে আনার চেষ্টা করছে। শিলিগুড়ি-কালিম্পঙ রুট খোলা থাকলেও নদীর পানি বৃদ্ধি ও ধসের কারণে যানবাহনের চলাচল সীমিত।

বন্যার কারণে বনাঞ্চলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাতি, গন্ডার ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী নদী পার হওয়ার সময় প্রাণ হারাচ্ছে। বন সংরক্ষণ সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। প্রশাসন জনসচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন, রেডিও ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সতর্কতা জারি করেছে।

শিশু, মহিলা ও প্রবীণদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ, সেনা ও NDRF টিম উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত আছে।

পর্যটক ও স্থানীয় মানুষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকুন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন। সরকার বিকল্প রুট ব্যবহার করে দ্রুত সমাধান করছে।

উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ধস প্রমাণ করছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কতটা হঠাৎ এবং ভয়ংকর হতে পারে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ত্রাণ কার্যক্রমে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

Y বাংলা ব্যুরো © ২০২৫। সকল অধিকার সংরক্ষিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

উত্তরবঙ্গের ধস ও বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, পর্যটক আটকা, বিপর্যস্ত রাস্তা ও বনাঞ্চল

উত্তরবঙ্গের ধস ও বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, পর্যটক আটকা, বিপর্যস্ত রাস্তা ও বনাঞ্চল

উত্তরবঙ্গের ধস ও বন্যা: ১৭ জনের মৃত্যু, পর্যটক আটকা, বিপর্যস্ত রাস্তা ও বনাঞ্চল

Y বাংলা ব্যুরো — আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৫
উত্তরবঙ্গে ধস ও বন্যা
দার্জিলিং ও মিরিক অঞ্চলে ধস ও বৃষ্টির কারণে রাস্তা বন্ধ ও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। (ছবি: প্রতিনিধি)

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল টানা বৃষ্টি ও ধসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে দার্জিলিং, মিরিক এবং কালিম্পঙের বহু এলাকা জলের তলায় তলিয়ে গেছে। পাহাড় ধসে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন। সরকারিভাবে এখনও পর্যটকের সঠিক সংখ্যা জানানো হয়নি, তবে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, এটি খুব কম নয়। পর্যটকদের বিভিন্ন পকেট রুট ব্যবহার করে সমতলে আনার চেষ্টা চলছে।

দুধিয়া ব্রিজ ভাঙায় শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে মূল সড়কপথ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, মিরিক সৌরেনিতে আটকে থাকা পর্যটকদের নল-পটং-লোহাগড় হয়ে শিলিগুড়িতে পাঠানো হচ্ছে। ধসের কারণে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং রোহিণী রোডও বন্ধ রয়েছে। বিপর্যস্ত হয়েছে হিলকার্ট রোড। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। শিলিগুড়ি-দার্জিলিং পর্যন্ত কিছু পকেট রুট খোলা থাকায় যানবাহন চলাচল সম্ভব, তবে সরাসরি যোগাযোগ এখন বন্ধ।

জাতীয় সড়ক ও যোগাযোগ:

তিস্তা নদীর উর্ধ্বমুখী ফুঁসের কারণে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ। শিলিগুড়ি থেকে সিকিম-কালিম্পঙের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তবে লাভা-গরুবাথান ও শিলিগুড়ি-কালিম্পঙের পানবু রোড খোলা রয়েছে। এই সব রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য বিকল্প রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছে।

শনিবার রাত বালাসন নদীর উপর দুধিয়ার লোহার সেতুর একাংশ ভেঙে শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সৌরেনির কাছে দারাগাঁওয়ে ধস নামে এবং একটি বাড়ি ধসে যায়। আপার দুধিয়া বা ডাম্ফেডার এলাকায় চার থেকে পাঁচটি বাড়ি ধসে জলের তলায় চলে গেছে। দার্জিলিঙের হোমস্টে এবং বিএসএফ ক্যাম্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মিরিক অঞ্চলে ৯ জন, সুকিয়াপোখরিতে ৭ জন এবং বিজনবাড়ি এলাকায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও খবর পড়ুন , এনডিএর সমন্বয় বৈঠক — আসনবণ্টন ঘিরে উসকি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যস্থতা

উত্তরবঙ্গের বন্যাপ্রাণও বিপর্যস্ত। গরুমারার জঙ্গল লাগোয়া জলঢাকা নদীতে একটি গন্ডারের মৃতদেহ ভেসে এসেছে। নকশালবাড়িতে মেচি নদীর প্রবাহে একটি হস্তিশাবক তলিয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে নদীর জল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় হস্তিশাবকটি প্রাণ হারিয়েছে। ৩০টি হাতির দল নদী পেরোচ্ছিল, যার মধ্যে একটি দলছুট হয়ে পড়েছে।

রাতভর বৃষ্টিতে দার্জিলিং, মিরিক, সুখিয়াপোখরির অবস্থা বেহাল। উত্তরবঙ্গের প্রায় সব নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ডুয়ার্স এবং উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকা বন্যার কবলে পড়েছে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান থেকে ভেসে আসা একটি গন্ডারের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা দৃশ্যমান করে দিয়েছে বিপর্যয়ের পরিসর।

বন্যা ও বিপর্যয়ের মাত্রা:

বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, রাস্তা বন্ধ, যানবাহন চলাচল ব্যাহত, পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ আতঙ্কিত। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা জল সমতলে বিপর্যয় তৈরি করেছে। প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তৎপর।

শিলিগুড়ি, মিরিক ও দার্জিলিংয়ে পর্যটকরা এখনও আটকে রয়েছেন। প্রশাসন তাদের নিরাপদে সমতলে নামানোর জন্য বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। এতে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যদিও কয়েকশো পর্যটক ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে উদ্ধার হয়েছেন।

ধসের ফলে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ থাকায় নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেনা ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছে এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি নদী ও খালগুলি ফেটে গিয়ে জল ঢেউয়ের সৃষ্টি করেছে। তিস্তা, দুধিয়া, মেচি নদী এবং অন্যান্য নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সমতল এলাকার অনেক জায়গা প্লাবিত হয়েছে। পর্যটকরা তাদের হোটেল, হোমস্টে বা খোলা জায়গা থেকে নিরাপদ স্থানে চলে আসার চেষ্টা করছে।

দার্জিলিং জেলার বহু এলাকা এখনও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে। পানীয় জল সরবরাহ সীমিত। প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে পানীয় জল ও খাবার বিতরণ করছে। পাহাড়ি অঞ্চলে স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকরা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারীরা ২০ জনের বেশি ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছেন। তবে পাহাড়ি এলাকার ধসের প্রকোপ এবং নদীর জলবৃদ্ধির কারণে উদ্ধার অভিযান খুব ধীরগতিতে চলছে। পাহাড়ি রাস্তাগুলো এখনো বিপজ্জনক।

শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পঙ, মিরিক পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল সীমিত। প্রশাসন প্রতিদিন নতুন বিকল্প রুট খোলার চেষ্টা করছে। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি সেনা ও NDRF টিম উদ্ধারকাজে নিয়োজিত। পর্যটক ও স্থানীয় মানুষদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলও এই বন্যার কবলে পড়েছে। জল ঢুকেছে বনাঞ্চলে, যার ফলে বন্যপ্রাণীর বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত। হাতি, গন্ডার ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী নদী পেরোতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩-৪ দিনে আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকা ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রশাসন জনসচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন, রেডিও ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সতর্কতা জারি করেছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জরুরি ভিত্তিতে উত্তরবঙ্গের স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটকদের হোটেল এবং হোমস্টে থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে। নদীর ধারের বসবাসকারী মানুষদেরও স্থানান্তর করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। পাহাড়ি অঞ্চল ও সমতল এলাকায় বন্যা, ধস ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে বিপর্যয় চলতে পারে। প্রশাসন, সেনা, NDRF এবং স্থানীয় জনগণ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকুন, বিকল্প রুট ব্যবহার করুন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে সমতলে নামতে পারে, তা নিশ্চিত করতে রাস্তাগুলো পুনরায় খোলা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ধসের এই দুঃসাহসিক পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, প্রকৃতির অপ্রত্যাশিত শক্তি কতটা ভয়ংকর হতে পারে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য।

আরও খবর পড়ুন , বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫: সময়সীমা ঘোষণা, NDA বনাম মহাগঠবন্ধনের লড়াই

Y বাংলা ব্যুরো © ২০২৫। সকল অধিকার সংরক্ষিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ভারতে লা নিনার প্রভাবে ভয়ঙ্কর শীত: ২০২৫ সালের শেষের দিকে হাড়কাঁপানো শীতের পূর্বাভাস

ভারতে লা নিনার প্রভাবে ভয়ঙ্কর শীত: ২০২৫ সালের শেষের দিকে হাড়কাঁপানো শীতের পূর্বাভাস

ভারতে লা নিনার প্রভাবে ভয়ঙ্কর শীত: ২০২৫ সালের শেষের দিকে হাড়কাঁপানো শীতের পূর্বাভাস

Y বাংলা ব্যুরো, লেখক: ফারিয়া মন্ডল — আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৫
লা নিনার প্রভাবে ভারতে শীতের পূর্বাভাস
অবৈতনিক আবহাওয়ার খেলায় লা নিনা ভারতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং অতিবৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে। (ছবি: প্রতিনিধি)

ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ে শেখা ছয় ঋতু আজকাল আর দেখা যায় না। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও কিছুটা শীতের মধ্যে মানিয়ে নিতে হচ্ছে ভারতবাসীকে। সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার চরম অস্থিরতাই ‘নিউ নর্ম্যাল’। কখনও প্রচণ্ড গরম, কখনও দেরিতে আসা বর্ষা, আবার হঠাৎ থামতে না চাওয়া বৃষ্টি—এসবই এখন সাধারণ দৃশ্য। তবে এবার আবহাওয়ার অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভয়ঙ্কর শীতের পূর্বাভাস, যার পোশাকি নাম ‘লা নিনা’।

আরও খবর পড়ুন , অবিরাম বর্ষণে জলস্ফীতি, পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যার আশঙ্কা

হিসাব অনুযায়ী বর্ষাকাল অগস্টে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষেও ভারী বৃষ্টি থেকে রেহাই পাওয়া যায়নি। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বান ও ধসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কলকাতাও পুজোর আগে ভয়ঙ্কর বৃষ্টিতে নাজেহাল। ভাসছে উত্তরবঙ্গ। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার দুর্ভোগের পর কলকাতার জন্য আরও কঠিন শীতের সময় আসতে চলেছে।

মৌসম ভবন এবং মার্কিন আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি শীত পড়তে চলেছে। বিশেষ করে উত্তর ভারতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ‘লা নিনা’ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৭১ শতাংশ। মার্কিন ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টারও এই পূর্বাভাসকে সমর্থন দিয়েছে।

লা নিনা কী?

লা নিনা শব্দটি স্প্যানিশ ভাষার, যার অর্থ ‘ছোট মেয়ে’। এটি এক ধরনের জলবায়ুগত অবস্থা, যখন প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশ অস্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে অতিবৃষ্টি বা তীব্র শীত দেখা দেয়। বিপরীতে, জল যদি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়, তাকে বলা হয় এল নিনো, যা খরা ও অনাবৃষ্টি ডেকে আনে।

লা নিনার সময় দক্ষিণ আমেরিকার কাছাকাছি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জল ঠান্ডা হয়, আর ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে জল উষ্ণ হয়। ফলে বৈশ্বিক আবহাওয়ার প্যাটার্নে বিরাট প্রভাব পড়ে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে উত্তর ভারতে শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারপাত বেড়ে যায়।

ভারতে লা নিনার প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়। কৃষিনির্ভর দেশের জন্য এতে কৃষিকাজে সুবিধা থাকে, পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণও বাড়ে। একই সঙ্গে শীতও তীব্র হয়ে ওঠে। পাহাড়ি অঞ্চলে বেশি তুষারপাত হয়। তবে সাম্প্রতিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লা নিনার চরিত্রও অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বর্ষার সময়ে ভারী বৃষ্টি এবং অন্য অঞ্চলে অনাবৃষ্টি এর প্রমাণ।

মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা এনওএএ জানিয়েছে, বর্তমানে লা নিনা সক্রিয়। অতীতে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ট্রিপল ডিপ লা নিনা সক্রিয় ছিল। ২০২৩ সালে এল নিনো সক্রিয় হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ওঠানামার প্রভাব আরও স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বেশি থাকবে। ফলে শীতের আমেজ আগেভাগেই অনুভূত হতে পারে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে উত্তর ভারতের উপরিভাগে জেট স্ট্রিম প্রবাহিত হবে। এর ফলে বাংলা ও গোটা দেশজুড়ে কনকনে হাড়কাঁপানো শীত পড়তে পারে। পাহাড়ি এলাকায় রেকর্ড তুষারপাতও হওয়ার আশঙ্কা আছে।

গত বছর লা নিনার প্রভাবে দিল্লি, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে ১৭ দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহ ও শীতল দিনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবারের পূর্বাভাস আরও ভয়ঙ্কর।

আরও খবর পড়ুন , অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তে উত্তেজনা: জালাল বস্তিতে ৯৩টি পরিবারের বাড়ি পুড়ল

রাইটস: এই প্রতিবেদন কপি রাইট মুক্ত।
লেখক: ফারিয়া মন্ডল, Y বাংলা ব্যুরো

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

গ্রেটা থুনবার্গকে জোর করে ইজরায়েলের পতাকা পরানোর অভিযোগ, নির্বাসিত কর্মীরা নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ছেন

গ্রেটা থুনবার্গকে জোর করে ইজরায়েলের পতাকা পরানোর অভিযোগ, নির্বাসিত কর্মীরা নির্যাতনের অভিযোগ তুলে

গ্রেটা থুনবার্গকে জোর করে ইজরায়েলের পতাকা পরানোর অভিযোগ, নির্বাসিত কর্মীরা বললেন অপমান-নির্যাতনভিত্তিক আচরণ

Y বাংলা ব্যুরো, মহিবুর রহমান শেখ — ইস্তানবুল। আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৫
ফ্লোটিলা ও নির্বাসিত কর্মীরা
ফ্লোটিলার নির্বাসিত কর্মীরা ইস্তানবুলে ফিরে এসে তাদের ওপর হওয়া আচরণ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। (ছবি: প্রতিনিধiser)

গাজার উদ্দেশ্যে নৌকাযাত্রা (ফ্লোটিলা) সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘটনায় আটক ও নির্বাসন হয়ে ইস্তানবুলে ফিরে আসা একশত ত্রিশের বেশি কর্মী অভিযোগ করেছেন, গ্রেটা থুনবার্গসহ কয়েকজনের সঙ্গে 'অমানবিক' ও 'অপমানজনক' আচরণ করা হয়েছে। শনিবার ইস্তানবুলে নামার পর বিভিন্ন দেশের কর্মীরা সাংবাদিকদের সামনে তাদের অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়েছেন এবং কয়েক দফা গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রকের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নির্বাসিতদের মধ্যে ৩৬ জন তুর্কি নাগরিক ছাড়াও রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, আলজেরিয়া, মরক্কো, ইতালি, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মৌরিতানিয়া, সুইজারল্যান্ড, তিউনিসিয়া ও জর্ডনের নাগরিকরা।

আরও খবর পড়ুন , বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫: সময়সীমা ঘোষণা, NDA বনাম মহাগঠবন্ধনের লড়াই

মালয়েশিয়ার হজওয়ানি হেলমি ও মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আটককালীন সময়ে তাদের 'মানবেতর' আচরণ করা হয়েছে। হেলমি জানান, গ্রেটাকে ধাক্কা দিয়ে ইজরায়েলের পতাকা জোর করে গলায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং আটকের সময় পরিষ্কার খাবার ও পানীয় জল দেওয়া হয়নি; এমনকি জরুরি ওষুধও ক্রমান্বয়ে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

ইতালির আঞ্চলিক কাউন্সিলর পাওলো রোমানো বলেন, "আমাদের মুখ নিচু করে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বলা হয়। নড়লেই মারধরের হুমকি ছিল। গালাগাল, অপমান ও শারীরিক নির্যাতন ছিল।" এ ধরনের বিবৃতিগুলো নির্বাসিত কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষুব্ধতা বাড়িয়েছে।

একাধিক অভিযোগের সারমর্ম:
  • গ্রেটা থুনবার্গকে জোর করে ইজরায়েলের পতাকা গলায় পরানো হয়েছে বলে দাবি।
  • পর্যাপ্ত খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়নি; ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়েছেন কিছু কর্মী।
  • শারীরিক কসরৎ ও অপমানজনক আচরণ; কিছুকে শক্ত অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়।
  • আইনি সহযোগিতা ও চিকিৎসা সহায়তা ছিল না বলে অভিযোগ।

এক বেসরকারি সূত্রে খবর, সুইডিশ বিদেশ মন্ত্রকের একটি ইমেলে বলা হয়েছে, গ্রেটাকে 'ছাড়পোকার সংক্রমিত সেলে' রাখা হয়েছিল। সেখানে পর্যাপ্ত জল-খাবার না পাওয়ায় এবং অনুপযুক্ত অবস্থানের কারণে তাঁর শরীরে র‍্যাশ ও ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ দেখা গেছে, ইমেলে এই তথ্য জানিয়েছে কাগজপত্র।

নির্বাসিতরা আরও জানিয়েছেন, আটকদলের পক্ষ থেকে কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও তারা নিজ পর্যবেক্ষণে আইন লংঘনের কোনও প্রমাণ পাননি; বরং আচার-সংস্কৃতির সীমানা লঙ্ঘনের কথাই শোনা গেছে। অন্যদিকে ইজরায়েল সরকার সমস্ত অভিযোগকে 'সম্পূর্ণ মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং জানায়, আটককৃতদের সঙ্গে যথাযথ আচরণ করা হয়েছে—খাবার, জল ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল বলে তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ আছে।

এই ফ্লোটিলা গত আগস্ট মাসের শেষে গাজা নিয়ে রওনা দেয়; দীর্ঘদিন ধরেই ইজরায়েলের নৌবন্দুকরণ ও অবরোধের প্রতিবাদে এটি বিভিন্ন বার আয়োজন করা হচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে এই প্রতিবাদী কার্যক্রম চলে আসছে, এবং সাম্প্রতিক ইজরায়েল–হামাস সংঘাতের পর এই অভিযানটির রাজনৈতিক ও মানবিক গুরুত্ব আরও বাড়ে।

ইতালির একটি প্রতিনিধি দল—যার মধ্যে চার জন সংসদ সদস্যও ছিলেন—রোমে ফিরে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করেছে। ইতালীয় সাংসদ আর্তুরো স্কট্টো বলেন, "যারা আইন মেনে চলছিলেন তারা নৌকায় ছিলেন; যেসব নৌকা আটক করা হয়েছে, সেগুলোকে যারা আটক করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।"

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আহ্বান ও কূটনীতি-সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো জোরালো হয়েছে। বিশেষত গ্রেটা থুনবার্গের মতো পরিচিত পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বিশ্ব প্রচারে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করেছে।

এপ্রসঙ্গে, ইজরায়েলি বিদেশ মন্ত্রণালয় ঐ অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও, ঘটনাটির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার রক্ষা করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত বলে অনুরোধ করা হচ্ছে।

রাইটস: এই প্রতিবেদনের লেখা কপি রাইট মুক্ত।
সম্পর্ক: Y বাংলা ব্যুরো, রিপোর্টার: মহিবুর রহমান শেখ

অবিরাম বর্ষণে জলস্ফীতি, পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যার আশঙ্কা

অবিরাম বর্ষণে জলস্ফীতি, পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যার আশঙ্কা

অবিরাম বর্ষণে জলস্ফীতি, পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যার আশঙ্কা

অ্যানিকাট বাঁধের জলস্তর বিপজ্জনক পর্যায়ে; কৃষকদের মাথায় হাত

পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ অক্টোবর: টানা ভারী বর্ষণে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাজুড়ে জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন নদী ও খাল উপচে পড়েছে। অ্যানিকাট বাঁধের জলস্তর বিপজ্জনক মাত্রা ছুঁয়েছে, ফলে বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আংশিকভাবে জল ছাড়া শুরু করেছে প্রশাসন।

পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যার জল

ছবি: টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত পশ্চিম মেদিনীপুরের গ্রামাঞ্চল

গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলায় ১৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর ফলে কাঞ্চন, সুবর্ণরেখা, দ্বারকেশ্বরসহ প্রধান নদীগুলোর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায়। অ্যানিকাট বাঁধ, যা জেলার কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি, বর্তমানে চরম চাপের মুখে।

💧 জলস্তর বিপজ্জনক: অ্যানিকাট বাঁধে জলস্তর ৯৫ ফুট অতিক্রম করেছে, যা নিরাপদ সীমার উপরে বলে জানিয়েছে সেচ দপ্তর।

সেচ বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গত বছরের বন্যায় বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং চলতি সেপ্টেম্বর থেকে এর মেরামত কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ বাকি থাকায়, এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত চাপ বাঁধের স্থায়িত্বে হুমকি তৈরি করছে।

আরও খবর পড়ুন , বিহার ভোটের আগে নতুন দায়িত্বে অধীর চৌধুরী, কংগ্রেসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক নিযুক্ত

প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে বাঁধ থেকে শনিবার সকাল থেকে পর্যায়ক্রমে জল ছাড়া হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ইতিমধ্যেই সালবনী, খালিসি, গোবিন্দপুর প্রভৃতি ব্লকে বাড়িঘরে জল ঢুকে পড়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এবং যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

বন্যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কৃষকদের উপর। ধানের মৌসুমে এই অপ্রত্যাশিত বর্ষণ তাঁদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়েছে। হাজার হাজার একর জমির ধানজমি প্লাবিত, এবং মাঠে ফসল পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং জরুরি সাহায্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে।

⚠️ সতর্কতা জারি: স্কুল-কলেজ সাময়িকভাবে বন্ধ, ঘাটগোলা এলাকায় বাস পরিষেবা স্থগিত, লোকাল ট্রেনে দেরি।

মেদিনীপুর শহরসহ আশেপাশের বেশ কিছু অঞ্চলে জল জমে যাওয়ায় যানজট দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকাজে নেমেছে সিভিল ডিফেন্স ও জেলা প্রশাসনের বিশেষ টিম। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং সব ব্লকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।

আরও খবর পড়ুন , খানাকুলে তৃণমূল নেতার উপর গণধোলাই: রাজনৈতিক উত্তেজনা হুগলিতে

🕒 সর্বশেষ আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৫ | 📰 প্রতিবেদন: Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

হ্যাশট্যাগ: #WestMidnaporeFlood #BengalRain #AnicutDam #MidnaporeWeather #BengalDisaster #HeavyRain #BengalFlood2025 #FarmersLoss #WestBengalNews

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

পটনা থেকে: এনডিএর সমন্বয় বৈঠক — আসনবণ্টন ঘিরে উসকি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যস্থতা

পটনা থেকে: এনডিএর সমন্বয় বৈঠক — আসনবণ্টন ঘিরে উসকি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যস্থতা |

পটনা, ৫ অক্টোবর: এনডিএর সমন্বয় বৈঠক — আসনবণ্টন ঘিরে উসকি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যস্থতা

পটনা, ৫ অক্টোবর ২০২৫লেখক: সালমা মন্ডল আপডেট: 05/10/2025

আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এনডিএ-র অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও আসনবণ্টন নিয়ে তীব্র আলোচনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মধ্যস্থতায় বৈঠক — জিতেন রাম মাঝির দাবি, জেডিইউ-বিজেপির সূত্র এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তৃত রিপোর্ট।

পটনায় এনডিএ বৈঠক
ছবি: পটনায় এনডিএর সমন্বয় বৈঠক (y বাংলা নিউজ/ফাইল ছবি)
পটনা: আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের (Bihar Election) প্রস্তুতিতে কেন্দ্রীয় স্তরে এনডিএর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে গতকাল থেকে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনা ও সমন্বয় প্রচেষ্টা চলছে। রবিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পটনায় এসে হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (HAM) নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন রাম মাঝির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং বিজেপির বিহার প্রभारী বিনোদ তাওড়েও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর জিতেন রাম মাঝি বলেন যে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তাঁর দাবি—এই দফায় তাঁর দল ১৫ থেকে ২০টি আসন চান। এ দাবি জেডিইউ ও বিজেপির নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সংঘাতের সৃষ্টি করেছে, কেননা জেডিইউ ও বিজেপি প্রস্তাব করছেন মাঝির দলের অংশগ্রহণ ৭ থেকে ১০ আসনে সীমাবদ্ধ রাখার।

আরও খবর পড়ুন , ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে কোল্ডরিফ সিরাপ: মৃত্যু ১১ শিশুর — মধ্যপ্রদেশে চিকিৎসক গ্রেফতার, বিভিন্ন রাজ্যে সিরাপ নিষিদ্ধ

রাজনৈতিক মহলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলা হচ্ছে; কারণ HAM-র সমর্থন মহাদলিত সম্প্রদায়ের বড় ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব রাখতে পারে। গত নির্বাচনে HAM-কে মোট ৭টি আসন দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৪টিতে জয় হয়েছিল — ফলে এবারের চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে ওই সফলতা অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

সূত্রের খবর, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাটনার সফরটি এনডিএর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দূর করার লক্ষ্যে সমন্বয়মূলক প্রচেষ্টা হিসেবে রূপ নিয়েছে। প্রধানজির সঙ্গে বৈঠকে জেডিইউ নেতা লালন সিংহও অংশগ্রহণ করেন; সেখানে জেডিইউকে ১০২টি আসন এবং বিজেপিকে ১০১টি আসনের সূত্র আলোচনা করা হয়েছিল, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে জেডিইউকে সামান্য সুবিধা দিলেও জোটে অমিল কমানোর উদ্দেশ্যেই প্রস্তাবটি ছিল।

আরও খবর পড়ুন বিজয়কে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি: কারুর দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ

অন্যদিকে, লোক জনশক্তি পার্টি (চিরাগ পাসওয়ান) ও উপেন্দ্র কুশওয়াহার নেতৃত্বাধীন দলগুলোর দাবিও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নেবে। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, বাকি ৪০টি আসন অন্যান্য সহযোগীদের মধ্যে বণ্টিত করার প্রস্তাব চলমান—যেমন: লোক জনশক্তি পার্টিকে ২২টি, HAM-কে ৬-৮টি এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চাকে ৪টি আসন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয় এবং দুর্গাপূজা ও দশহরা উৎসবের পর চূড়ান্ত বণ্টন ঘোষিত হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জিতেন রাম মাঝির কাছে ‘স্বীকৃত দল’ মর্যাদা না থাকায় তার দলের সন্তুষ্টি অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঝি নিজে জানিয়েছেন, তিনি “ভিক্ষা করছি না, দাবি করেই চলেছি”—এই বক্তব্য এনডিএ ভেতরের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। চিরাগ পাসওয়ানের শিবিরও তাদের দাবিতে তৎপর; আগে তারা ৪৫টি আসন দাবি করেছিল, যা কমিয়ে ২২টিতে রেখেছে — এ নিয়ে তাঁদেরও অসন্তোষ কম নয়।

এনডিএ’র অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখাটাই এখন মুখ্য লক্ষ্য। ধর্মেন্দ্র প্রধান বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে “এনডিএ-র ঐক্যই আমাদের শক্তি” এবং আসনবণ্টন নিয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনী জোটকে শক্তকরণ করে মহাগঠবন্ধনের মতো বিরোধী জোটের কৌশল মোকাবিলা করতে চান।

প্রতিপক্ষ মহাগঠবন্ধন ইতিমধ্যেই এই ভেতরের অস্থিরতাকে রাজনৈতিক সুযোগে পরিণত করার চেষ্টা শুরু করেছে। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব দাবি করেছেন, “এনডিএ ভাঙছে” — যদিও এনডিএ শিবিরের উচ্চপদস্থ নেতা ও সমর্থকরা এমন টীকা খণ্ডন করে বলছেন যে সামান্য মতবিরোধ হচ্ছে স্বাভাবিক এবং সমাধান দ্রুত হয়ে যাবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আরও মত দিয়েছেন যে আসনবণ্টন শুধুমাত্র সংখ্যার লড়াই নয় — প্রতিটি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন, স্থানীয় শক্তি, সমাজিক গোষ্ঠীর শক্তিধর প্রভাব এবং ভোট চরিত্র নির্ধারণের মতো জটিল বিষয়ও বিবেচ্য। তাই শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে ভালো সমন্বয় না হলে স্থানীয় স্তরে আঘাত আসতে পারে।

নির্বাচনী কৌশলগত পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এনডিএর সংশ্লিষ্ট দলের মাঝে আপোষমূলক সমঝোতা ও রাজনৈতিক আর্থ-সামাজিক ইস্যু বেছে নিয়ে প্রচারণা চালানো হবে। একইসঙ্গে দলের ক্যাম্পেইনে মহাদলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ আর্কষণ তৈরির চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত আসনবণ্টন ও তার পিছনের কৌশল-মুখী চ্যালেঞ্জগুলি কতটা মেটানো যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে বিহারের রাজনৈতিক মানচিত্র। দুর্গাপূজা ও দশহরার পর এনডিএর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু চূড়ান্ত ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে — এবং সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি জোট সদস্যের রণকৌশলও স্পষ্ট হবে। y বাংলা নিউজ এই বিষয়ে আপডেট রাখবে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও আসনভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

সংক্ষিপ্ত তথ্য:
  • জিতেন রাম মাঝি দাবি: ১৫-২০টি আসন
  • জেডিইউ-জোট সূত্র (প্রস্তাবিত): জেডিইউ ১০২, বিজেপি ১০১
  • বাকি আসন বিতরণ: লোক জনশক্তি ২২, HAM ৬-৮, রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা ৪ (প্রায়)
  • চূড়ান্ত বণ্টন: দুর্গাপূজা/দশহরা পর ঘোষিত হতে পারে
কপি রাইট মুক্ত রিপোর্ট — y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক।
সম্পাদনা: ডিজিটাল ডেস্ক | যোগাযোগ: editor@ybanglanews.com

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog