Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Thursday, 25 December 2025

ভোটার শুনানি প্রক্রিয়ায় নজরদারিতে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিল নির্বাচন কমিশ

ডেস্ক রিপোর্ট রাজ্যে আসন্ন ভোটার তালিকা সংশোধন ও চূড়ান্তকরণের আগে ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিল নির্বাচন কমিশন। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হল। ভোটারদের শুনানির প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালানোই হবে এই মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার শুনানির সময় ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-রা মূল দায়িত্বে থাকলেও, গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা। তাঁদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যাতে কোনও অনিয়ম, পক্ষপাত বা তথ্যগত ত্রুটি থেকে না যায়। নজরুল মঞ্চে প্রশিক্ষণ শিবির বুধবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে দুই দফায় এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। প্রথম দফার প্রশিক্ষণ শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ, দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হয় দুপুর ২টো থেকে। প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত-সহ সিইও দফতরের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। প্রশিক্ষণ পর্বে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও আচরণবিধি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। কী ভাবে শুনানি প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালাতে হবে, কোথায় রিপোর্ট করতে হবে এবং কোনও সমস্যা দেখা দিলে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে— সেই সব বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে নজরদারি কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১১টি করে শুনানির টেবিল বসানো হবে। প্রতিটি টেবিলের জন্য থাকবেন একজন করে মাইক্রো অবজ়ার্ভার। অর্থাৎ, রাজ্যজুড়ে চার হাজারেরও বেশি মাইক্রো অবজ়ার্ভার এই শুনানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। এই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মূল কাজ হবে ভোটারদের জমা দেওয়া এনুমারেশন ফর্ম, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলি সঠিক ভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা। ভোটার তালিকা প্রস্তুত বা সংশোধনের সময় যাতে কোনও নিয়মবহির্ভূত কাজ না হয়, সেটিই তাঁদের দায়িত্বের অন্যতম অংশ। এনুমারেশন ফর্ম যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রশিক্ষণ শিবিরে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় এনুমারেশন ফর্ম যাচাইয়ের পদ্ধতির উপর। ভোটারদের নাম সংযোজন, বিয়োজন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে যে ডিজিটাল এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়ে, তা ব্লক লেভেল অফিসার (বিএলও)-রা সংগ্রহ করেন। সেই তথ্য সঠিক ভাবে ডিজিটাইজ়ড হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব থাকবে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের উপর। এ ছাড়া জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য, ঠিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য সরকারি নথির সঙ্গে ভোটার তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখতে বলা হয়েছে। মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ৯টি নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের তরফে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের জন্য মোট ৯টি নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলি হল— ১. বিএলও-দের জমা দেওয়া ডিজিটাইজ়ড এনুমারেশন ফর্মের তথ্য যাচাই করা। ২. জন্ম-মৃত্যুর নথি ও অন্যান্য সরকারি তথ্যের সঙ্গে ভোটার তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখা। ৩. ইআরও বা এইআরও-রা যাঁদের নোটিস পাঠিয়েছেন, সেই ভোটারদের জমা দেওয়া নথি পরীক্ষা করা। ৪. ভোটারের দাবির সঙ্গে জমা দেওয়া নথির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা। ৫. পুরো শুনানি প্রক্রিয়ার উপর সার্বিক নজরদারি চালানো। ৬. ভোটার তালিকা তৈরির বা সংশোধনের সময় কোথাও কোনও বিচ্যুতি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা। ৭. পর্যবেক্ষক ও বিশেষ পর্যবেক্ষকদের পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। ৮. সিইও, পর্যবেক্ষক বা বিশেষ পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। ৯. নজরদারির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো। শনিবার থেকেই শুরু শুনানি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী শনিবার থেকেই রাজ্যে ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই শুনানির উপরেই অনেকাংশে নির্ভর করবে কোনও ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে কি না। ফলে এই পর্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন। এই কারণেই আগেভাগে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ জন মাইক্রো অবজ়ার্ভারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের দায়িত্ব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের আশা, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য হবে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ রাজ্যের ভোটারদের আস্থা বাড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Wednesday, 24 December 2025

‘বাহুবলি’ উৎক্ষেপণ বিলম্ব: ইতিহাস গড়ার পথে ISRO

LVM3 ‘বাহুবলি’ উৎক্ষেপণ বিলম্ব: ইতিহাস গড়ার পথে ISRO

LVM3 ‘বাহুবলি’ উৎক্ষেপণ বিলম্ব: ইতিহাস গড়ার পথে ISRO

ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট LVM3, যা ‘বাহুবলি’ নামেই বেশি পরিচিত, বুধবার সকালে ইতিহাস গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই রকেটের মাধ্যমেই মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে মার্কিন সংস্থা AST SpaceMobile-এর অত্যাধুনিক কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট BlueBird 6। তবে উৎক্ষেপণের ঠিক আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে সময় পরিবর্তন করে ISRO।

আগে উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট। শেষ মুহূর্তে তা পরিবর্তন করে করা হয় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। অর্থাৎ উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়া হয় ৯০ সেকেন্ড

কেন পিছোল উৎক্ষেপণ?

ISRO জানিয়েছে, উৎক্ষেপণপথের কাছাকাছি কক্ষপথে থাকা মহাকাশের জঞ্জাল এবং অন্যান্য স্যাটেলাইটের গতিপথের সঙ্গে সম্ভাব্য ‘কনজাংশন’ বা সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। সেই ঝুঁকি এড়াতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উৎক্ষেপণের সময় সামান্য পিছিয়ে দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রীহরিকোটা উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের উপর দিয়ে এখন হাজার হাজার সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইট ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় মহাকাশে সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে।

BlueBird 6: ভারতের রকেটে পাঠানো সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট

BlueBird 6 হল ভারতের রকেট দ্বারা উৎক্ষেপিত সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট। এর ওজন প্রায় ৬,১০০ কেজি। ISRO-র চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন জানিয়েছেন, “ভারতের মাটি থেকে এর আগে কখনও এত ভারী স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়নি।”

প্রায় ৪৩.৫ মিটার উচ্চতা এবং ৬৪০ টন ওজনের LVM3 রকেটই এই বিশাল স্যাটেলাইট বহনের জন্য উপযুক্ত। এই রকেট আগের সাতটি মিশনে ১০০ শতাংশ সাফল্যের রেকর্ড ধরে রেখেছে, যার মধ্যে ঐতিহাসিক চন্দ্রযান-৩-এর উৎক্ষেপণও রয়েছে।

LVM3-M6 মিশন ও ভারতের বাণিজ্যিক সাফল্য

এই উৎক্ষেপণটি LVM3-M6 নামে পরিচিত। এটি LVM3 রকেটের অষ্টম উড়ান এবং তৃতীয় বাণিজ্যিক মিশন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা আরও একবার প্রমাণিত হল।

মহাকাশ থেকে সরাসরি স্মার্টফোনে ইন্টারনেট

BlueBird 6 স্যাটেলাইটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর প্রায় ২,২০০ বর্গমিটার আকারের বিশাল অ্যারে অ্যান্টেনা, যা এখনও পর্যন্ত লো আর্থ অরবিটে সবচেয়ে বড়। এটি আগের প্রজন্মের স্যাটেলাইটের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ডেটা ক্ষমতা বহন করতে পারবে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই পরিষেবার জন্য Starlink বা OneWeb-এর মতো আলাদা গ্রাউন্ড টার্মিনালের প্রয়োজন হবে না। সাধারণ স্মার্টফোনেই সরাসরি মহাকাশ থেকে ৫জি মানের ব্রডব্যান্ড সিগন্যাল পাওয়া যাবে।

নীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

যদিও প্রযুক্তিগতভাবে এই মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভারত এখনও স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার অনুমোদন দেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে নীতি, নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন উঠে আসতে পারে।

নতুন যুগের দোরগোড়ায় বিশ্ব

সব মিলিয়ে, এই উৎক্ষেপণ শুধু ISRO-র জন্য নয়, গোটা বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। মহাকাশ থেকে সরাসরি স্মার্টফোনে ইন্টারনেট পৌঁছনো সম্ভব হলে, দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

Saturday, 20 December 2025

রেললাইনে থমকে গেল জীবনের মিছিল—রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় অসমে প্রাণ গেল ৮টি বন্য হাতির। উন্নয়ন আর প্রকৃতির সংঘর্ষে আবারও প্রশ্নের মুখে মানবিকতা।

অসমে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ৮ হাতির মৃত্যু, রেল–বন্যপ্রাণ সংঘর্ষে নতুন করে উদ্বেগ

অসমে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ৮ হাতির মৃত্যু, রেল–বন্যপ্রাণ সংঘর্ষে নতুন করে উদ্বেগ

অসমের হোজাই জেলায় শনিবার ভোররাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সাইরাং–নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি হাতির পালের সংঘর্ষে অন্তত ৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে একটি হাতির শাবক, যাকে পরে বন দফতরের কর্মীরা উদ্ধার করেন। ঘটনার জেরে উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রুটে রেল চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

রেল ও বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর প্রায় ২টা ১৭ মিনিট নাগাদ হোজাই জেলার কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাজধানী এক্সপ্রেসটি মিজোরামের সাইরাং (আইজলের কাছে) থেকে নয়াদিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল।

হোজাইয়ের কাছে আচমকাই রেললাইনের উপর উঠে আসে একটি হাতির দল। লোকো পাইলট দূর থেকেই হাতিদের দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক কষেন। কিন্তু ট্রেনের গতি বেশি থাকায় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, একের পর এক হাতি ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে।

সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রেনের ইঞ্জিন এবং পাঁচটি কোচ লাইনচ্যুত হয়ে যায়। রেললাইনের উপর ছড়িয়ে পড়ে হাতিদের দেহাংশ, ফলে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

৮ হাতির মৃত্যু, শাবক গুরুতর আহত

বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় মোট ৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই পালে মোট আটটি হাতিই ছিল এবং সংঘর্ষে অধিকাংশেরই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

একটি হাতির শাবক গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাবকটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

বন দফতর আরও জানিয়েছে, যে জায়গায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা ঘোষিত হাতির করিডর নয়। এই তথ্য সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, করিডরের বাইরেও কেন বারবার এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে।

যাত্রীদের প্রাণহানি হয়নি

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় কোনও যাত্রী হতাহত হননি। ট্রেন লাইনচ্যুত হলেও সমস্ত যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন।

রেল সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচের যাত্রীদের সাময়িকভাবে ট্রেনের অন্যান্য কোচের ফাঁকা বার্থে স্থান দেওয়া হয়েছে। ট্রেনটি গুয়াহাটিতে পৌঁছনোর পর অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত করে সব যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

রেল পরিষেবায় বড়সড় ব্যাঘাত

দুর্ঘটনার ফলে আপার অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়। লাইনচ্যুত কোচ সরানো এবং রেললাইন পরিষ্কারের কাজে রেল দুর্ঘটনা মোকাবিলা দল ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চলায় বহু ট্রেন বাতিল ও বহু ট্রেনের যাত্রাপথ পরিবর্তন করতে হয়।

ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু: ক্রমবর্ধমান সমস্যা

এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এল রেললাইন ও বন্যপ্রাণীর সংঘর্ষের ভয়াবহ বাস্তবতা। ভারতের দ্রুত বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক ক্রমশই বন্যপ্রাণের জন্য একটি বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠছে—বিশেষ করে হাতিদের ক্ষেত্রে।

সাম্প্রতিক একটি সরকারি সমীক্ষায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০০৯-১০ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৮৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

৭৭টি রেলপথ চিহ্নিত, নয়া পরিকল্পনা কেন্দ্রের

এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ১৪টি রাজ্যের মোট ৭৭টি রেলপথ চিহ্নিত করেছে, যেখানে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক, রেল মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার আওতায় আনা হয় মোট ১২৭টি রেলপথ, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩,৪৫২ কিলোমিটার

হাতির চলাচল, অতীত দুর্ঘটনার তথ্য এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে এর মধ্যে ৭৭টি রেলপথকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কী ধরনের কাঠামো তৈরি হবে

হাতির মৃত্যু কমাতে মোট ৭০৫টি বিশেষ কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ৫০৩টি র‍্যাম্প ও লেভেল ক্রসিং
  • ৭২টি সেতুর সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
  • ৬৫টি আন্ডারপাস
  • ২২টি ওভারপাস
  • ৩৯টি বেড়া, ব্যারিকেড বা ট্রেঞ্চ
  • ৪টি এক্সিট র‍্যাম্প

এই সমস্ত কাঠামোর মূল লক্ষ্য একটাই— হাতিদের নিরাপদে রেললাইন পার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া অথবা বিপজ্জনক এলাকাগুলি থেকে তাদের অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া।

অসমসহ হাতি-প্রধান রাজ্যগুলিতে অগ্রাধিকার

হাতির সংখ্যা বেশি এমন রাজ্যগুলিকে এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অসমে তৈরি হবে ১৩১টি লেভেল ক্রসিং ও র‍্যাম্প, মহারাষ্ট্রে ১২৫টি এবং উত্তরপ্রদেশে ৯২টি

২০১৭ সালের হাতি গণনা অনুযায়ী, কর্ণাটকে সবচেয়ে বেশি বন্য হাতি রয়েছে—৬,০৪৯টি। এরপরেই রয়েছে অসম (৫,৭১৯), কেরল (৫,৭০৬) এবং তামিলনাড়ু (২,৭৬১)।

নতুন করে প্রশ্ন বন–রেল সমন্বয় নিয়ে

হোজাইয়ের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বন দফতর ও রেল দফতরের মধ্যে সমন্বয় এবং আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু করিডর এলাকাতেই নয়, করিডরের বাইরেও আধুনিক সতর্কতা ব্যবস্থা, গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

নইলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মতুয়াগড়ে সভার আগে বাংলার রাজনীতিতে মোদীর কড়া বার্তা

মতুয়াগড়ে সভার আগে বাংলার রাজনীতিতে মোদীর কড়া বার্তা

মতুয়াগড়ে সভার আগে বাংলার রাজনীতিতে মোদীর কড়া বার্তা

মতুয়াগড়ে জনসভার ঠিক আগেই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, বাংলায় শাসক দল লুটপাট, দুর্নীতি এবং ভয় দেখানোর সব সীমা অতিক্রম করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যের মানুষের কাছে বিজেপিকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হচ্ছে।

শনিবার নদিয়া জেলার রানাঘাটে জনসভা করতে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের আর এক বছরেরও কম সময় বাকি, তার উপর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীর বার্তা

শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলায় তাঁর সফরের মূল লক্ষ্য কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখী প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে শাসক দলের শাসনে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিজেপির মতে, এই বার্তা আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণেরই ইঙ্গিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সফরে মোদীর বক্তব্যে তৃণমূল-বিরোধী সুর আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক তাঁর বক্তৃতায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

এসআইআর বিতর্ক ও রাজনৈতিক তরজা

এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রাজ্যে এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। অভিযোগ উঠেছে, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু প্রকৃত ভোটার তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার হারাতে পারেন।

বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই উদ্বেগ আরও প্রবল। বিরোধীদের আশঙ্কা, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মতুয়া সমাজের বড় অংশ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মতুয়াগড় ও মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক

মতুয়াগড় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মতুয়া সমাজের ভোটব্যাঙ্ক পশ্চিমবঙ্গের একাধিক আসনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণে বিজেপি ও তৃণমূল—দুই দলই এই সমাজের সমর্থন পেতে মরিয়া।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সভা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এসআইআর বিতর্কের আবহে এই সভা বিজেপির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজনৈতিক বার্তা

শনিবারের সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ী। এই সভা থেকে জাতীয় সড়ক সংক্রান্ত দু’টি বড় প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হবে এদিন। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের কৃষ্ণনগর থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ৬৮ কিলোমিটার অংশের চার লেনের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। শনিবার তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি বারাসত থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার জাতীয় সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজের শিলান্যাসও করবেন তিনি। এই প্রকল্পগুলি রানাঘাট-বনগাঁ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে বলে কেন্দ্রের দাবি।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বিজেপি একদিকে যেমন উন্নয়নের বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘উন্নয়ন-বিরোধী’ ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।

রানাঘাট-বনগাঁ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উদ্বোধন বিজেপির সংগঠনের জন্য নতুন অক্সিজেন জোগাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি

সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে নামবে। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে করে তাহেরপুর হয়ে পৌঁছবেন রানাঘাটের নেতাজি পার্ক ময়দানের সভাস্থলে।

সভা শেষে একই দিনে তাঁর দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই স্বল্প সময়ের সফর হলেও রাজনৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসপিজি-র পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের তরফেও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। সভাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মতুয়াগড়ে সভার আগে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও বার্তা বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে। এসআইআর বিতর্ক, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক এবং উন্নয়ন প্রকল্প—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Tuesday, 16 December 2025

২০২৬-এর নির্বাচনের আগে SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিস্তারিত

২০২৬-এর নির্বাচনের আগে SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিস্তারিত

২০২৬-এর নির্বাচনের আগে SIR প্রক্রিয়ায় ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

ভোটাররা ceowestbengal.wb.gov.in/asd_sir ওয়েবসাইটে লগইন করে, অথবা voters.eci.gov.in এবং প্লে-স্টোরে থাকা ECINET অ্যাপ ব্যবহার করে জানতে পারবেন তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না।

কীভাবে আপনার নাম দেখবেন

অনলাইন এবং অফলাইন—দু’ভাবেই খসড়া ভোটার তালিকা যাচাই করা যাবে।

অনলাইন পদ্ধতি

  • নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট: eci.gov.in
  • সিইও ওয়েস্ট বেঙ্গল ওয়েবসাইট: ceowestbengal.wb.gov.in
  • প্লে-স্টোর থেকে ECI Net / ECINET অ্যাপ ডাউনলোড করুন

অ্যাপ বা ওয়েবসাইট খুলে সবুজ রঙের “Search Your Name in Voter List” অপশনে ক্লিক করুন। এরপর Search by Voter ID / EPIC নির্বাচন করে নিজের EPIC নম্বর লিখে সার্চ করুন।

অফলাইন পদ্ধতি

রাজ্যের প্রতিটি বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর কাছে খসড়া ভোটার তালিকার হার্ড কপি থাকবে। ভোটাররা নিজেদের বুথের BLO-র সঙ্গে যোগাযোগ করে নাম যাচাই করতে পারবেন।

এছাড়াও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের কাছে সফ্ট ও হার্ড কপি থাকবে। বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) কাছ থেকেও ভোটাররা তথ্য জানতে পারবেন।

কোন কোন কারণে নাম বাদ যেতে পারে

  • মৃত ভোটার
  • স্থানান্তরিত
  • নিখোঁজ
  • ডুপ্লিকেট
  • অন্যান্য নথিগত বা তথ্যগত সমস্যা

হিয়ারিং ও আপত্তি জানানোর সময়সূচি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে। সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের কেন ডাকা হচ্ছে?

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই, অথবা ওই তালিকায় বাবা-মা, দাদু-দিদা বা পরিবারের কারও নাম নেই—এমন ২৪ লক্ষ ২১ হাজার ১৩৩ জন ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে।

যাঁদের বয়স এখন ৪৫ বছর, তাঁদের ২০০২ সালে বয়স ছিল প্রায় ২২ বছর। ১৮ বছর বয়সেই ভোটার তালিকায় নাম ওঠার কথা। তাই ৪৫ বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও যাঁদের নাম ২০০২ বা ২০০৬ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না, তাঁদের ক্ষেত্রে কমিশনের সন্দেহ রয়েছে।

বয়স সংক্রান্ত অসঙ্গতির তথ্য

  • বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর – ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩০ জন
  • বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছর – ৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ৭৩৬ জন

খসড়া তালিকা মানেই চূড়ান্ত নয়

খসড়া তালিকায় নাম থাকলেই চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে—এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। Logical Discrepancies থাকা ভোটারদের প্রায় সকলকেই শুনানিতে ডাকা হবে। আবার খসড়া তালিকায় নাম না থাকলেও সব নথি ঠিক থাকলে Form 6 (Name Inclusion) জমা দিয়ে নাম তোলা যাবে।

মোট ভোটারের পরিসংখ্যান

গত ২৭ অক্টোবর SIR-এর দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই দিন পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক ভোটারের নামে এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হয়েছিল এবং বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) তা বিতরণ করেছিলেন। শুধুমাত্র ফর্মে সই করে জমা দিলেও খসড়া তালিকায় নাম ওঠার কথা।

সেই হিসাবে প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় থাকার কথা, যাদের তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

প্রতিবেদন: SIR ও খসড়া ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী।

Sunday, 14 December 2025

নদিয়ায় NRC নোটিস ঘিরে আতঙ্

নদিয়ায় NRC নোটিস ঘিরে আতঙ্ক

নদিয়ায় NRC নোটিস ঘিরে নতুন আতঙ্ক, প্রশ্নের মুখে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া

এনআরসি (NRC) আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছেই না পশ্চিমবঙ্গের মানুষের। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা নদিয়ায় সম্প্রতি একটি ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অসম (Assam) রাজ্য থেকে পাঠানো একটি NRC নোটিস হাতে পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকের ধুবুলিয়া থানার সোনাডাঙা মাঝের পাড়ার দুই বাসিন্দা সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখ এবং তাঁদের পরিবার।

অসম থেকে আসা চিঠি, তৈরি বিভ্রান্তি

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ৩ অক্টোবর সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের কাছে একটি করে চিঠি আসে, যা সম্পূর্ণ অসমিয়া ভাষায় লেখা ছিল। ভাষা বুঝতে না পারায় প্রথমে তাঁরা চিঠির বিষয়বস্তু বুঝতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিচিতদের সহায়তায় জানা যায়, সেটি অসম রাজ্য থেকে পাঠানো নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত NRC নোটিস।

হঠাৎ এই ধরনের নোটিস হাতে পেয়ে দুই পরিবারই চরম আতঙ্কে পড়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে নদিয়াতেই বসবাসকারী এই পরিবারগুলির কাছে এমন নোটিস একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।

মাত্র কয়েক দিনের জন্য অসমে যাওয়া

সূত্র বলছে, প্রায় ১৫ বছর আগে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখ অসমে গিয়েছিলেন। সঞ্জু শেখ সেখানে মাত্র এক মাস কাজ করেছিলেন এবং আরসাদ শেখ ছিলেন মাত্র ১৫ দিন। কাজ শেষে দু’জনেই নদিয়ায় ফিরে আসেন এবং এরপর আর কখনও অসমে যাননি।

এত অল্প সময়ের জন্য অন্য রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে কীভাবে তাঁদের নাম অসমের নাগরিকত্ব যাচাই তালিকায় এল, তা নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কোনওভাবে তথ্যের গরমিল বা ভুল নথিভুক্তির ফলেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, যদি এমন ভুল নোটিস আরও অনেকের কাছেই পৌঁছতে শুরু করে, তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।

এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক

এই ঘটনার পর সোনাডাঙা মাঝের পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে যে, তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের কারও কাছেও এ ধরনের নোটিস আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে রাজ্যে বসবাস করা মানুষও নিজেদের নাগরিকত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

অনেকেই মনে করছেন, পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে দেশের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেলে যদি এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়, তাহলে জীবিকার জন্য বাইরে যাওয়ার সাহস হারাবেন মানুষ।

প্রশাসনিক সহায়তার অপেক্ষায় পরিবারগুলি

বর্তমানে সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের পরিবার প্রশাসনিক সহায়তার আশায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা চান, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের নজরে আনুক এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্যার সমাধান করুক।

পরিবারগুলির দাবি, তাঁদের কাছে সমস্ত বৈধ নথি রয়েছে—ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং দীর্ঘদিনের বসবাসের প্রমাণ। সেগুলি যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মত

নাগরিকত্ব আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনায় তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। নথির সামান্য ভুল বা নামের মিল থেকেও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে, যার ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব যাচাই একটি সংবেদনশীল বিষয়। এখানে প্রশাসনের মানবিক ভূমিকা ও দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি, নচেৎ সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের মতো বহু পরিবার অযথা হয়রানির শিকার হতে পারেন।

সার্বিক পরিস্থিতি

সব মিলিয়ে, নদিয়ার এই ঘটনা রাজ্যে NRC আতঙ্ককে আবারও উসকে দিল। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই সমস্যার সমাধান করে এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল নোটিস যাতে আর না যায়, সে বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।

© ২০২৫ | বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলায় শীতের দাপট: বিস্তারিত আবহাওয়া বিশ্লেষণ

বাংলায় শীতের দাপট: বিস্তারিত আবহাওয়া বিশ্লেষণ

শীতের দাপট ফের স্পষ্ট বাংলায়: আগামী সাত দিনের বিস্তারিত আবহাওয়া পূর্বাভাস

শীতের আমেজ আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গে। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা, উত্তুরে হাওয়ার দাপট এবং ক্রমশ নামতে থাকা পারদের জেরে রাজ্যজুড়ে আবহাওয়ার চরিত্রে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে শীত যে আরও কিছুটা জাঁকিয়ে বসতে চলেছে, সে ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সাম্প্রতিক আবহাওয়াগত পরিস্থিতি সেই পূর্বাভাসকেই আরও জোরালো করছে।

ঘূর্ণাবর্ত ও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার যুগল প্রভাব

আবহাওয়া দফতরের মতে, এই মুহূর্তে একাধিক বৃহৎ আবহাওয়াগত ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাব পড়ছে পূর্ব ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে। দক্ষিণ বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি আপার এয়ার সার্কুলেশন বা ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার উপকূল সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকাতেও আরেকটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এই দুটি ঘূর্ণাবর্ত মূলত আর্দ্রতা বহন করলেও, উত্তুরে হাওয়ার প্রবাহের কারণে সেই আর্দ্রতা রাজ্যে বৃষ্টি ঘটানোর মতো সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারছে না।

অন্যদিকে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় হচ্ছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance)। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব শীঘ্রই আরও একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর ভারতে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিস্থিতির ফলে হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা বাড়ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে উত্তর ও পূর্ব ভারতের সমভূমিতে। পশ্চিমবঙ্গেও এর জেরে উত্তুরে হাওয়া আরও শক্তিশালী হবে এবং শীতের দাপট বাড়বে।

কলকাতায় পারদের পতন

এরই মধ্যে কলকাতায় ফের নামতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে, যা এই সময়ের স্বাভাবিক মানের কাছাকাছি হলেও শীতের অনুভূতি বেশ স্পষ্ট। সকালের দিকে উত্তুরে হাওয়া বইতে শুরু করায় ঠান্ডার কামড় আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা শহরের বিভিন্ন অংশে দেখা যাচ্ছে, যা যান চলাচলের ক্ষেত্রে সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী অন্তত সাত দিন এই শীতের স্পেল বজায় থাকবে। এই সময়ে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি অথবা সামান্য নীচে থাকতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিন শীতের আমেজ বজায় থাকবে। পশ্চিমের জেলা যেমন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সব জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। ফলে ভোর ও রাতের দিকে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হবে।

উপকূলবর্তী জেলা—পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর ২৪ পরগনায়—রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকলেও শীতের অনুভূতি কমবে না। এই সব এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে নদী ও জলাশয় সংলগ্ন অঞ্চলে।

উত্তরবঙ্গে কুয়াশার দাপট

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় কুয়াশার প্রভাব আরও বাড়তে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী কয়েক দিনে অন্তত চারটি জেলায় কুয়াশার ঘনঘটা দেখা যেতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় মাঝারি কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে আসতে পারে প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত। এর ফলে পাহাড়ি রাস্তায় যান চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও সকালের দিকে কুয়াশার প্রভাব থাকতে পারে। যদিও আপাতত ঘন কুয়াশা নিয়ে কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবুও ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, আবহাওয়া শুষ্ক

একটি স্বস্তির খবর হল, আগামী সাত দিনে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় থাকলেও উত্তুরে হাওয়ার প্রভাবে রাজ্যের বায়ুমণ্ডল তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকবে। ফলে দিনের বেলা আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং রোদের দেখা মিলবে। তবে রাত নামলেই তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি বাড়বে।

আগামী দিনের সামগ্রিক চিত্র

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, আগামী সাত দিন পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ জমাট থাকবে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকবে, তবে বড়সড় কোনও তাপমাত্রা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। দিনে দিনে পারদের ওঠানামা এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

সকালে হালকা কুয়াশা বা ধোঁয়াশা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাবে। শীতপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি না হলেও, উত্তুরে হাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্টভাবেই বজায় থাকবে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোর ও রাতের ঠান্ডা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সব মিলিয়ে, শীতপ্রেমীদের জন্য আগামী সপ্তাহ সুখবর নিয়ে এলেও, কুয়াশা ও ঠান্ডাজনিত সমস্যার কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর।

© ২০২৫ | আবহাওয়া বিশ্লেষণ প্রতিবেদন

লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক ভারত সফর: ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’

লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক ভারত সফর: ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’

লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক ভারত সফর: ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’ ঘিরে উন্মাদনা

শনিবার ভোরে কলকাতার মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই যেন উৎসবের রূপ নেয় গোটা শহর। বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি (Lionel Messi) দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবার ভারতে এসেছেন— এই খবরেই আবেগে ভেসে যান লাখো ভক্ত। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পতাকা, ব্যানার, স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কলকাতা। ফুটবলের সঙ্গে আবেগগত সম্পর্ক যাদের রক্তে মিশে আছে, সেই কলকাতাবাসীর কাছে মেসির আগমন ছিল এক স্বপ্নপূরণের মতো।

এই সফর শুধুই একজন তারকা ফুটবলারের ভারত ভ্রমণ নয়, বরং এটি ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায়। ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’ (GOAT Tour India) নামেই বোঝা যায়, এই সফরকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বকাপজয়ী, সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলারকে এক নজর দেখার জন্য বহু মানুষ রাতভর অপেক্ষা করেছেন, কেউ কেউ আবার দূরদূরান্ত থেকে শহরে এসেছেন।

কলকাতা: আবেগের শহর থেকেই সফরের সূচনা

মেসির ভারত সফরের সূচনা হয়েছে কলকাতা থেকেই—যে শহরকে ভারতের ফুটবল রাজধানী বলা হয়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ডার্বি, মারাদোনার ঐতিহাসিক সফর—এই সব স্মৃতি কলকাতার ফুটবল সংস্কৃতিকে অনন্য করেছে। মেসির আগমন সেই ঐতিহ্যকেই আরও সমৃদ্ধ করল।

যদিও কলকাতায় তাঁর অবস্থান ছিল সংক্ষিপ্ত, তবুও বিমানবন্দর থেকে হোটেল—প্রতিটি মুহূর্তে ভক্তদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো ছিল। অনেকেই মেসির জার্সি পরে, কেউ আবার আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে পড়েন। শহরের একাংশে যেন বিশ্বকাপ জয়ের রাতের আবহ ফিরে আসে।

হায়দরাবাদ পর্ব: মাঠে নামলেন মেসি

কলকাতা পর্ব শেষ করেই শনিবার সন্ধ্যায় হায়দরাবাদে পৌঁছন লিওনেল মেসি। সেখানে রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এই অনুষ্ঠান ছিল ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’-র অন্যতম আকর্ষণ।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা শুধু প্রিয় ফুটবলারকে দেখেই তৃপ্ত হননি, বরং মেসিকেও মাঠে নেমে ফুটবল খেলতে দেখেছেন। একটি সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনী ম্যাচ, ফুটবল ক্লিনিক এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মিলিয়ে পুরো সন্ধ্যাটি ছিল স্মরণীয়। মেসি নিজে কয়েকটি পাস দেন, গোলমুখে শট নেন এবং কয়েকটি বল দর্শকদের দিকে ছুঁড়ে দেন, যা ভক্তদের উল্লাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি (Revant Reddy)। তিনি নিজেও প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নেন এবং মেসির সঙ্গে পাস দেওয়া-নেওয়ার সুযোগ পান। রাজনীতির মাঠের বাইরে ফুটবলের মাঠে এমন দৃশ্য দর্শকদের কাছে ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। মেসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং কথোপকথনের পর তাঁকে একটি জার্সি উপহার দেন এলএম১০ (LM10)। এই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়ে দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

আয়োজকদের বক্তব্য: ভারতীয় ফুটবলের জন্য বড় সুযোগ

এই সফরের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত জানান, ১৪ বছর পর মেসির ভারতে আসা শুধু ভক্তদের জন্য নয়, বরং ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “মেসি আবার ভারতে আসছেন, এটাই বিশাল বিষয়। ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে মানুষের সংযোগ নতুন করে তৈরি হচ্ছে। এত স্পনসর আগে কখনও ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে মেসির ভারতে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি এক বিরল সুযোগ। ছোট ফুটবলাররা তাঁদের আদর্শকে সামনে থেকে দেখতে পাচ্ছে—যা তাদের অনুপ্রেরণা দেবে বহু বছর ধরে।

মুম্বই পর্ব: ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বিশেষ অনুষ্ঠান

আজ রবিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে লিওনেল মেসির। এই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে থাকবেন লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো দে পল— আর্জেন্টিনার দুই তারকা ফুটবলার।

এখানে একটি দাতব্য ফ্যাশন ইভেন্ট আয়োজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কাজে অর্থ সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি সিসিআই-তে প্যাডেল কাপেও অংশ নেওয়ার সূচি রয়েছে মেসির। ফুটবলের বাইরেও অন্যান্য ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণ এই সফরকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

মুম্বই সফরকে ঘিরে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ট্যান্ডের ভিতরে জলের বোতল, ধাতব সামগ্রী এবং কয়েন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এছাড়াও স্ট্যান্ডের চারপাশে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসানো হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অতীতে দেখা বিশৃঙ্খলা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের সমস্যার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে দিকেই বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

দিল্লি পর্ব ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

তিনদিনের ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’-র শেষ পর্বে সোমবার দিল্লি যাবেন লিওনেল মেসি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এই বৈঠক ঘিরে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও দিল্লিতে মিনার্ভা অ্যাকাডেমির যুব দলগুলিকে সংবর্ধনা দেওয়ার সূচি রয়েছে। ভারতের ভবিষ্যৎ ফুটবলারদের সঙ্গে মেসির সরাসরি সংযোগ নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে। পাশাপাশি একটি নাইন-এ-সাইড সেলিব্রিটি ম্যাচও আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে মেসির অংশগ্রহণ দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

ভারতীয় ফুটবলের জন্য মেসির সফরের তাৎপর্য

লিওনেল মেসির এই ভারত সফর শুধুমাত্র স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করাই নয়, বরং ভারতীয় ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে পারে। আন্তর্জাতিক স্তরের তারকাদের উপস্থিতি দেশের যুবসমাজকে ফুটবলের দিকে আরও বেশি আকৃষ্ট করবে।

‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’ প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভারতেও ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা কম নয়। যথাযথ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামো গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে ভারতীয় ফুটবল আন্তর্জাতিক মঞ্চেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে—এমন আশাই দেখাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, লিওনেল মেসির এই তিনদিনের ভারত সফর শুধুই একটি ইভেন্ট নয়—এটি একটি আবেগ, একটি অনুপ্রেরণা এবং ভারতীয় ফুটবলের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল।

Saturday, 13 December 2025

কেরলে ঐতিহাসিক ফল: তিরুঅনন্তপুরমে বিজেপির জয়ের পথ

কেরলে ঐতিহাসিক ফল: তিরুঅনন্তপুরমে বিজেপির জয়ের পথে

অবশেষে দক্ষিণে জয়ের পথ খুলছে! তিরুঅনন্তপুরমে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বিজেপি

কেরলের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়। দক্ষিণ ভারতে বিজেপির জন্য দীর্ঘদিনের বন্ধ দরজা খুলে যেতে চলেছে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে কেরলের স্থানীয় নির্বাচনের ফল। পাঁচ দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগম দখলের পথে বিজেপি। যা কেরলের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

যদিও তিরুঅনন্তপুরম বাদ দিলে রাজ্যের বাকি অংশে জয়জয়কার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর। বিপরীতে, স্থানীয় নির্বাচনেও কার্যত ধাক্কা খেল বাম নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ)।

উল্লেখ্য, গত ৯ ও ১১ ডিসেম্বর—দু’দফায় কেরলের পঞ্চায়েত ও পুরভোট অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে গণনা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইতিহাস গড়ে তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগম দখলের পথে গেরুয়া শিবির।

তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমে মোট ১০১টি আসনের মধ্যে ৫০টিতে এগিয়ে বিজেপি—ম্যাজিক ফিগার থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাম শিবির, যারা প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই পুরনিগম নিজেদের দখলে রেখেছিল। এলডিএফ এগিয়ে রয়েছে ২৬টি আসনে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এগিয়ে মাত্র ১৯টি আসনে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, স্থানীয় সাংসদ শশী থারুরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই তাঁর কেন্দ্রের পুরনিগমে বিজেপির এই ঐতিহাসিক সাফল্য। বিজেপির ‘অবিশ্বাস্য’ পারফরম্যান্সে থারুর নিজেও বিস্মিত।

শশী থারুর বলেন, “স্বীকার করতেই হবে বিজেপির এই জয় ঐতিহাসিক। একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট, রাজ্যজুড়ে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বইছে। গোটা রাজ্যে ইউডিএফের বিরাট সাফল্যই প্রমাণ করে, আগামী দিনে কেরলে বদল আসতে চলেছে।”

উল্লেখ্য, এর আগেই কেরলের ত্রিশূরে লোকসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তিরুঅনন্তপুরম লোকসভা কেন্দ্রে আগের নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল গেরুয়া শিবির। এবার পুরনিগম দখলের পথে। ফলে বিজেপির অন্দরে আশার সঞ্চার—হয়তো এবার কেরল এবং দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে তাদের জন্য নতুন রাস্তা খুলতে চলেছে।

রাজ্যজুড়ে ফলাফলের সারসংক্ষেপ

গ্রাম পঞ্চায়েত (মোট ৯৪১)

ইউডিএফ: ৪৭৩ | এলডিএফ: ৩৬৬ | এনডিএ: ২৬

ব্লক পঞ্চায়েত (মোট ১৫২)

ইউডিএফ: ৮১ | এলডিএফ: ৬৫ | এনডিএ: ০

জেলা পঞ্চায়েত (মোট ১৪)

ইউডিএফ: ৮ | এলডিএফ: ৬

পুরসভা (মোট ৮৭)

ইউডিএফ: ৫৫ | এলডিএফ: ২৮ | এনডিএ: ২

পুরনিগম (মোট ৬)

এলডিএফ: ৪ | ইউডিএফ: ১ | বিজেপি: ১

সব মিলিয়ে তিরুঅনন্তপুরমে বিজেপির উত্থান এবং রাজ্যের বাকি অংশে ইউডিএফের সাফল্য— কেরলের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফল যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেবে, সে বিষয়ে একমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ।

যুবভারতীতে তাণ্ডব: গ্রেপ্তার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্

যুবভারতীতে তাণ্ডব: গ্রেপ্তার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত

যুবভারতীতে তাণ্ডব: গ্রেপ্তার হলেন মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসিকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা ও তাণ্ডবের ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার করা হল মূল উদ্যোক্তাকে। মেসিকে কলকাতায় আনার প্রধান আয়োজক হিসেবে পরিচিত শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা।

এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উদ্যোক্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। যদিও শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সরাসরি শতদ্রু দত্তের নাম উল্লেখ করেননি।

ডিজি রাজীব কুমার জানান, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মূল উদ্যোক্তা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন।

পরে রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম স্পষ্ট করে জানান, যুবভারতীর ঘটনায় মূল উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, ক্রীড়াপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শনিবারই কলকাতায় পা রাখেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। শহরে এসে ঠাসা কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুবভারতীতে মেসিকে এক ঝলক দেখতে ভিড় জমান দর্শকরা।

কেউ এসেছিলেন পুরুলিয়া থেকে, কেউ আবার কাঁথি থেকে। শুধু তাই নয়, বেঙ্গালুরু, শিলং এমনকি নেপাল থেকেও এসেছিলেন মেসিভক্তরা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, স্টেডিয়ামে ঢোকার পর থেকেই মেসির চারপাশে ভিড় করে ছিলেন ভিআইপিরা।

আরও খবর পড়ুন এসআইআরের মাঝে রানাঘাটে মোদির সভা

অভিযোগ অনুযায়ী, ভিআইপির সংখ্যা কম করে ১০০ জন ছিল। এর ফলে গ্যালারি থেকে প্রায় ২০ মিনিট ধরে মেসিকে দেখতেই পাননি সাধারণ দর্শকরা। চড়া দামে টিকিট কেটে মাঠে গিয়েও প্রিয় তারকাকে দেখতে না পেয়ে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই চরমে পৌঁছয়।

দর্শকদের অভিযোগ, “আমরা হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছি। কিন্তু পুরো সময়টাই ভিআইপিদের জন্য নষ্ট হয়ে গেল। সাধারণ দর্শকদের কথা কেউ ভাবেনি।”

শেষ পর্যন্ত দর্শক ক্ষোভে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। গোটা ঘটনায় আয়োজকদের ভূমিকা নিয়েই উঠছে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন।

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog