Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Thursday, 15 January 2026

ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের

ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব খারিজ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে লিখিতভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি করা নির্দেশিকায় ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য যে নথিগুলিকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তার তালিকায় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড অন্তর্ভুক্ত নেই। সেই কারণেই রাজ্য সরকারের পাঠানো প্রস্তাব গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কমিশন।

কমিশনের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত তালিকার বাইরে গিয়ে নতুন কোনও নথিকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। ফলে আসন্ন ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে না—এ বিষয়ে কার্যত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।

এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত পড়ুয়া ও তরুণ-তরুণীদের সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। তবে কমিশনের বক্তব্য, নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বত্র একরকম নিয়ম বজায় রাখাই স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার স্বার্থে জরুরি।

ভোটের মুখে যখন রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

BLO মৃত্যুকাণ্ডে তীব্র রাজনৈতিক তরজা, TMC কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ BJP-র


যাদবপুর বিধানসভার ১১০ নম্বর পার্টের BLO অশোক দাসের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর অনন্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ।
সজল ঘোষের দাবি, অনন্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজু বিশ্বাস (BLA 2, AITC)-এর লাগাতার চাপ ও হুমকির জেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন অশোক দাস। নিজের দাবির সপক্ষে একটি অডিও প্রকাশ করেছেন বিজেপি কাউন্সিলর।
সজল ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, অশোক দাসের স্ত্রী ও পুত্রকে হামলার ভয় দেখানো হচ্ছিল। তাঁর বক্তব্য, “পিসি-ভাইপোর রাজত্বে কি এই আত্মহত্যার কোনও বিচার হবে না?”
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তদন্তের আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সিঙ্গুরে NAMO-র সভা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক | সিঙ্গুর

সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রস্তাবিত জনসভা ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে উঠেছে। সভার জন্য নির্ধারিত জমি ব্যবহারে প্রয়োজনীয় অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগে বিডিও অফিসে অন্তত ১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এর জেরে সভা আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী বেচারাম মান্না প্রশ্ন তুলেছেন, “বিনা অনুমতিতে সাধারণ কৃষকের জমি কেন ব্যবহার করা হবে?” তাঁর দাবি, নিয়ম মেনে অনুমতি না নিয়ে জমি ব্যবহার করা হলে তা কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থী।

পাল্টা জবাবে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে উন্নয়নের পথে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সভা আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে জমি সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। অনুমতির বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সভা আয়োজন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। রাজনৈতিক তরজা চললেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর সবার।

২ আক্রান্ত, ১০০ জন আইসোলেশনে—নিপা আতঙ্ক রাজ্যে, কী করবেন আর কী নয়? মাস্ক কি বাধ্যতামূলক?

২ আক্রান্ত, ১০০ জন আইসোলেশনে—নিপা আতঙ্ক রাজ্যে, কী করবেন আর কী নয়? মাস্ক কি বাধ্যতামূলক?

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক

রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং সংক্রমণের শঙ্কায় প্রায় ১০০ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চলছে প্রশাসনের। এর মধ্যেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—নিপা থেকে বাঁচতে কী করবেন, কী করবেন না? মাস্ক পরা কি এখন বাধ্যতামূলক?

নিপা কীভাবে ছড়ায়?

নিপা ভাইরাস মূলত বাদুড় থেকে ছড়াতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তাঁর শরীরের নিঃসৃত তরলের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটতে পারে। কাঁচা ফল, খেজুরের রস বা অপরিষ্কার খাবারের মাধ্যমেও ঝুঁকি থাকে।

কী করবেন (Do’s)

  • ✔️ বারবার সাবান ও জল দিয়ে হাত ধোবেন
  • ✔️ জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
  • ✔️ অসুস্থ ব্যক্তির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন
  • ✔️ ফল ভালোভাবে ধুয়ে ও খোসা ছাড়িয়ে খাবেন
  • ✔️ সরকারি নির্দেশিকা ও স্বাস্থ্য দফতরের আপডেট মেনে চলবেন

কী করবেন না (Don’ts)

  • ❌ কাঁচা বা আধা-পাকা ফল খাবেন না
  • ❌ অসুস্থ ব্যক্তির ব্যক্তিগত জিনিস ব্যবহার করবেন না
  • ❌ অযথা ভিড় বা গুজবে কান দেবেন না
  • ❌ উপসর্গ লুকিয়ে রাখবেন না

মাস্ক পরা কি বাধ্যতামূলক?

এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে সাধারণভাবে মাস্ক বাধ্যতামূলক নয়। তবে হাসপাতালে, আইসোলেশন ইউনিটে বা উপসর্গযুক্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে মাস্ক পরার জোরালো পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকলে বা ভিড় এড়ানো সম্ভব না হলে মাস্ক ব্যবহার করাই নিরাপদ।

স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।

ইরান আকাশসীমা বন্ধ, যাত্রীদের জন্য অ্যাডভাইসরি জারি ভারতীয়

 বিমানসংস্থাগুলির
Y বাংলা নিউজ ডেস্ক:- 
ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায় প্রভাব পড়তে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য একের পর এক অ্যাডভাইসরি জারি করল ভারতের একাধিক বিমানসংস্থা। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইরানের এয়ারস্পেস ব্যবহার করা না যাওয়ায় বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিমানের রুট পরিবর্তন করা হচ্ছে।

বিমানসংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, বিকল্প রুটে বিমান চালাতে হওয়ায় কিছু ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি, অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকটি ফ্লাইট বাতিলও করা হয়েছে। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলি জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, আমেরিকার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ইরান সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার জেরেই মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপগামী একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের রুটে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশ의 বিমানসংস্থা।

যাত্রীদের উদ্দেশে বিমানসংস্থাগুলি পরামর্শ দিয়েছে, যাত্রার আগে নিজ নিজ ফ্লাইটের স্ট্যাটাস যাচাই করে নিতে এবং প্রয়োজনে এয়ারলাইন্সের কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিষেবা আগের মতো চালু করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

Wednesday, 14 January 2026

নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে ভোটার তালিকায় নাম নাও থাকতে পারে: সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক, নয়া দিল্লি:
নাগরিকত্ব নিয়ে ন্যূনতম সন্দেহ থাকলে কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় নাও রাখা হতে পারে—এমনই অবস্থান সুপ্রিম কোর্টে স্পষ্ট করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বাংলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কমিশনের এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী জানান, কোনও ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) যদি নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কারও নাম ভোটার তালিকায় না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। কারণ নাগরিকত্ব নির্ধারণের একমাত্র অধিকার কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।
শুনানিকালে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব নির্ধারণ না করা পর্যন্ত কোনও ব্যক্তির ভোটাধিকার কি স্থগিত থাকবে? এর উত্তরে কমিশনের আইনজীবী জানান, SIR প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল যারা ভারতীয় নাগরিক নন, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিশ্চিত করা। তবে কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া বা তাকে দেশছাড়া করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই।
এই মামলার শুনানি আগামী ১৫ জানুয়ারি ফের শুরু হবে প্রধান বিচারপতির এজলাসে।
উল্লেখ্য, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি অভিযোগ করেন, SIR সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশ নির্বাচন কমিশন সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে জারি করছে।
এছাড়াও অভিযোগ ওঠে, হোয়াট্‌সঅ্যাপের মাধ্যমে ব্লক লেভেল অফিসারদের (BLO) কাজের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি আগেই প্রকাশ্যে এনেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি এই প্রসঙ্গ তোলেন।
তৃণমূলের তরফে কমিশনের তথ্যে যুক্তিগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, SIR প্রক্রিয়ার আওতায় ভোটাররা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তার বিপরীতে কোনও রসিদ বা স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।

রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে, রাজ্যসভায় আর যেতে চান না দিগ্বিজয় সিং


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক:
মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান মেয়াদ শেষ হলে রাজ্যসভায় আর যেতে চান না তিনি। তাঁর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অন্দরে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই বিরোধী শিবিরেও চলছে নানা হিসেব-নিকেশ।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোর প্রশংসা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক উত্থানকে সম্মান জানানোর পর থেকেই দিগ্বিজয় সিংকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
যদিও দিগ্বিজয় সিং সরাসরি দলবদলের বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেননি, তবে রাজ্যসভার আসন ছাড়ার ঘোষণা কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই নেতার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

বাংলাদেশ না খেললেও বোর্ডের ক্ষতি হবে না’, মন্তব্য বিসিবি কর্তার


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক:
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলা নিয়ে বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আর্থিক কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললেও বোর্ডের আর্থিক ক্ষতি হবে না।
নাজমুল ইসলামের বক্তব্য, “ক্রিকেটারদের ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু বোর্ডের নয়। কোনও ক্রিকেটার যদি ম্যাচ খেলে ভালো পারফরম্যান্স করে, ম্যাচ সেরা হয় বা উল্লেখযোগ্য কিছু করে দেখায়, তা হলে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী যে অর্থ পাওয়া যায়, তা সরাসরি ক্রিকেটারের নিজের প্রাপ্য। সেই টাকার সঙ্গে বোর্ডের কোনও লেনদেন নেই।”
তিনি আরও জানান, আইসিসি থেকে প্রাপ্ত পারফরম্যান্স-ভিত্তিক আর্থিক সুবিধা সম্পূর্ণভাবে ক্রিকেটারদের জন্য নির্ধারিত। ফলে দল খেলুক বা না খেলুক, বোর্ডের আর্থিক অবস্থার উপর তার কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই মত বিসিবি কর্তার।
বিশ্বকাপ ঘিরে এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে বাংলাদেশের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।

কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে ঐতিহাসিক রদবদল: ৬ ভবনের দফতর যাচ্ছে ‘কর্তব্য ভবনে’, নর্থ-সাউথ ব্লকে আসছে ‘যুগে যুগে ভারত’ মিউজিয়াম

🏛️ কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে ঐতিহাসিক রদবদল: ৬ ভবনের দফতর যাচ্ছে ‘কর্তব্য ভবনে’, নর্থ-সাউথ ব্লকে আসছে ‘যুগে যুগে ভারত’ মিউজিয়াম

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক | নয়াদিল্লি

দিল্লির ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের ঠিকানা বদলাতে চলেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের। শাস্ত্রী ভবন, কৃষি ভবন, নির্মাণ ভবন, শ্রমশক্তি ভবন এবং উদ্যোগ ভবন—এই ছ’টি ভবনে থাকা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দফতর স্থানান্তরিত হবে নতুন নির্মিত ‘কর্তব্য ভবনে’।

এই স্থানান্তরের ফলে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঐতিহ্য রক্ষার দিকটিও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্রিটিশ স্থপতি হারবার্ট বেকারের নকশায় নির্মিত ১৯৩১ সালের ঐতিহাসিক নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক অক্ষত রাখা হচ্ছে।

এই দুই ঐতিহাসিক ভবনকে নতুন রূপে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। এখানে তৈরি হবে ‘যুগে যুগে ভারত’ নামে একটি মিউজিয়াম। প্রস্তাবিত এই মিউজিয়ামে ভারতের প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক সময় এবং ভবিষ্যৎ ভারতের রূপরেখা প্রদর্শিত হবে।

ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণের এই যুগল পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নাগরাকাটার ভোটযুদ্ধ: জোড়াফুল না পদ্ম—কার উপর ভরসা পাহাড়-ডুয়ার্সের এই জনপদের?


🌼 

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক | নাগরাকাটা

একসময় নাগরাকাটা মানেই ছিল বামদুর্গ। বছরের পর বছর লাল পতাকার দাপটে অভ্যস্ত ছিল এই বিধানসভা কেন্দ্র। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে রাজনৈতিক মানচিত্র। এখন নাগরাকাটায় মূল লড়াই দুই ‘ফুলে’র—জোড়াফুল ও পদ্মের মধ্যে।

২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের ঢেউ এসে লাগে নাগরাকাটাতেও। তৃণমূল কংগ্রেস–কংগ্রেস জোটের হাতেই প্রথমবার যায় এই আসন। পরের বছর উপনির্বাচনে আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণ আবার বদলায় ২০২১ সালে। সেই নির্বাচনে তৃণমূলকে হারিয়ে নাগরাকাটার দখল নেয় বিজেপি।

এরপর থেকে এলাকায় ক্রমশ সংগঠন শক্তিশালী করার দাবি করছে পদ্মশিবির। বিজেপির বক্তব্য, নাগরাকাটায় তাদের জনভিত্তি আগের চেয়ে অনেকটাই মজবুত। বুথ স্তরে সংগঠন, আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প—সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী তারা।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও পিছিয়ে নেই। শাসক শিবিরের দাবি, উন্নয়নমূলক কাজ ও স্থানীয় নেতৃত্বের জোরেই আবারও নাগরাকাটায় জোড়াফুলের প্রত্যাবর্তন সম্ভব। অতীতের ফলাফল টেনে এনে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, এই আসন এখনও পুরোপুরি তাদের হাতছাড়া হয়নি।

সব মিলিয়ে নাগরাকাটা এখন রাজনৈতিক দোলাচলে। প্রশ্ন একটাই—আসন্ন ভোটে নাগরাকাটার মানুষ ভরসা রাখবেন কোন ফুলে? পদ্মে, না কি ফের অতীতের মতো জোড়াফুলেই ফিরবে এই কেন্দ্র? নজর থাকবে ভোটের ফলাফলের দিকে।

আই-প্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নজর, বৃহস্পতিবার শুনানি—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডির আবেদন


⚖️ আই-প্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নজর, বৃহস্পতিবার শুনানি—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডির আবেদন

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক | কলকাতা | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

আই-প্যাক অফিসে তল্লাশি অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দায়ের করা আবেদনের শুনানি হতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হবে।

জানা গিয়েছে, বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে মোট দু’টি আবেদন শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ইডির অভিযোগ, আই-প্যাক অফিসে তল্লাশি চালানোর সময় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। অন্যদিকে, মামলার শুনানিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

এখন দেখার, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয় এবং এই মামলার পরবর্তী গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়।

Tuesday, 13 January 2026

বাংলাদেশে অশান্তি চরমে, হিন্দু অটোচালককে পিটিয়ে খুন—সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ



শেখ হাসিনার অপসারণের পর থেকে লাগাতার হিংসা, ইউনূস সরকারের ভূমিকা ঘিরে প্রশ্ন

Y বাংলা ব্যুরো:
২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সেই অস্থিরতা আরও প্রকট আকার নেয়। হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশজুড়ে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক হিংসার অভিযোগ সামনে আসছে। বিক্ষোভ, অরাজকতা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই আরও এক নৃশংস ঘটনার খবর সামনে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চট্টগ্রামের দাগনভূঁইয়া এলাকায় এক হিন্দু অটোচালককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। নিহতের নাম সমীর দাস, বয়স ২৮ বছর। এটি বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রতিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

দাগনভূঁইয়ার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, দুষ্কৃতীরা প্রথমে সমীর দাসকে বেধড়ক মারধর করে, এরপর ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি চুরি করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দেশি অস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার পর নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু সমাজে। গত এক মাসে পদ্মাপার জেলাগুলিতে হিন্দুদের উপর একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সমালোচনার ঝড় উঠলেও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকার।

সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে অন্তত ছয়জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি বহু সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। গত শনিবার ৪০ বছর বয়সী এক হিন্দু বিধবার উপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে। তাঁকে গণধর্ষণের পর গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ক্রমবর্ধমান হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, সাম্প্রদায়িক হিংসার মাত্রা ততই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তারা প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনা কঠোরভাবে দমন করার আশা করছে। যদিও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস ভারতের এই উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই গভীর হচ্ছে, আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

সংঘর্ষবিরতি সত্ত্বেও থামছে না ‘অপারেশন সিঁদুর’ — সন্ত্রাসে জিরো টলারেন্সে অনড় ভারত



পাকিস্তানের যে কোনও দুঃসাহসের জবাব হবে আরও কড়া, স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

Y বাংলা ব্যুরো:
ভারত–পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা থাকলেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানে কোনও শিথিলতা নেই। রবিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন—‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চলছেই। সীমান্তে পাকিস্তানের যে কোনও দুঃসাহসিকতার যোগ্য ও কঠোর জবাব দেবে ভারত।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, বায়ুসেনা প্রধান এ পি সিং, নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠী এবং সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ মে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা অন্তত ন’টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। সেই অভিযানের পর থেকেই ভারতের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট—পাকিস্তান গুলি চালালে পাল্টা আরও জোরালো প্রতিক্রিয়া আসবে, আর পাকিস্তান থামলে তবেই ভারত থামবে।

সূত্রের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধুমাত্র সামরিক অভিযান নয়, বরং সন্ত্রাস মোকাবিলায় ভারতের এক নতুন কৌশলগত নীতি। জঙ্গি হামলার জবাবে প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে এক ‘নিউ নরমাল’। পাকিস্তানের সঙ্গে আপাতত একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে খোলা রাখা হয়েছে ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশন্স (DGMO) স্তর।
 কূটনৈতিক বা অন্য কোনও আলোচনার দরজা এখন বন্ধ।
একই সঙ্গে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে—সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস ছড়ালে তার মাশুল দিতে হবে। একদিকে জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া আর অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে জলবণ্টন বা বাণিজ্যে সহযোগিতা—এই দুই একসঙ্গে চলবে না। সিন্ধু জলচুক্তিকেও এখন সন্ত্রাসের প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে, ফলে চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে দিল্লি।
সব মিলিয়ে বার্তাটা পরিষ্কার—সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান আপসহীন। 

‘অপারেশন সিঁদুর’ কেবল প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও পাকিস্তানের প্রতি এক শক্ত বার্তা বহন করছে।

Sunday, 11 January 2026

শুভেন্দুর গাড়িতে ‘হামলা’ অভিযোগে নড়ল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তৃণমূলের কটাক্ষ, ‘পুরোটাই রাজনৈতিক নাটক’

 



ডিজিটাল ডেস্ক, Y বাংলা নিউজ:
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে এবার সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। শনিবার গভীর রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক।

জানা যাচ্ছে, ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১৩ তারিখ মঙ্গলবার চন্দ্রকোনায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি অবরোধ ও সভার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। পুরুলিয়া থেকে মেদিনীপুর ফেরার পথে চন্দ্রকোনা রোডে শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূলের প্রায় কুড়িজন দুষ্কৃতী বাঁশ ও লাঠি হাতে তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে চন্দ্রকোনা রোড ফাঁড়িতে ঢুকে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফাঁড়ি ইনচার্জের সামনেই মেঝেতে বসে পড়েন শুভেন্দু। দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে উঠবেন না বলেও জানান। শেষ পর্যন্ত রাত দেড়টা নাগাদ ফাঁড়ি ছাড়েন তিনি। ওই রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথন হয় বলে বিজেপি সূত্রে খবর।

এই ঘটনার প্রতিবাদে পালটা কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে গোটা ঘটনাকে ঘিরে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি,

“একটা জেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। থানার স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের নাটক চলতে পারে না।”

তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর ফেসবুক পোস্টেও তীব্র বিদ্রুপ ধরা পড়েছে। তিনি লেখেন,

“সিআরপিএফের ঘেরাটোপে থেকেও সামান্য স্লোগান সামলাতে পারে না, আবার নাকি রাজ্য সামলাবে?”

অরূপ চক্রবর্তীর আরও দাবি, শুভেন্দুর নিরাপত্তারক্ষীরাই স্থানীয় বিজেপি নেতা গৌতম কৌরিকেই মারধর করেছেন। তাঁর কথায়,

“বহিরাগত সিআরপিএফ চিনতে না পেরে বিজেপির মণ্ডল নেতা গৌতম কৌরিকেই তুমুল লাঠিপেটা করা হয়েছে। তিনি আবার বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী বলেও শোনা যাচ্ছে।”

শুভেন্দুর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য রাজনৈতিক তরজা এখন চরমে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট তলবের পর এই ইস্যু কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ধর্ম জিজ্ঞেস করে হত্যা, আজও দগদগে ক্ষত পহেলগাঁও হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ সইফুল্লার দম্ভভরা ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

 


ধর্ম জিজ্ঞেস করে হত্যা, আজও দগদগে ক্ষত

পহেলগাঁও হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ সইফুল্লার দম্ভভরা ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

ডিজিটাল ডেস্ক, Y বাংলা নিউজ:
ধর্ম জানতে চেয়ে একের পর এক নিরীহ মানুষকে হত্যা, কান্না আর হাহাকারে ভরে উঠেছিল কাশ্মীরের উপত্যকা। পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরস্ত্র নাগরিকের মৃত্যু ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক ভয়াবহ শোকচিহ্ন হয়ে রয়েছে। সময় গড়ালেও সেই ক্ষত আজও দগদগে। গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল ওই নৃশংসতা।

এই আবহেই ফের আলোচনায় পহেলগাঁও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে চিহ্নিত লস্কর-ই-তইবা নেতা সইফুল্লা কাসুরি। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল নিশ্চিত করেনি

জানা যাচ্ছে, হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ তথা ‘ডানহাত’ সইফুল্লা কাসুরি এখনও পাকিস্তানেই বহাল তবিয়তে আত্মগোপনে রয়েছে—এমন গুঞ্জন দীর্ঘদিনের। এবার পাকিস্তানের একটি স্কুল অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে ‘ভাষণ’ দিতে দেখা গেল তাকে। সেই মঞ্চ থেকেই দম্ভভরে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসে লস্কর নেতা।

ভিডিওতে সইফুল্লাকে বলতে শোনা যায়,

“পাক সেনার পক্ষ থেকেই আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কোনও সেনার মৃত্যু হলে শেষকৃত্যেও আমি ডাক পাই।”

এরপরই সে সরাসরি পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ টেনে দাবি করে,

“তোমরা জানো, ভারত আমাকে ভয় পায়। পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী হিসেবে আমাকেই ধরা হয়। আজ আমার নাম গোটা বিশ্বে পরিচিত।”

এখানেই থামেনি। ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়েও কটাক্ষ ছুঁড়ে দেয় সে। সইফুল্লার দাবি,

“শুধু জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ভারত বড় ভুল করেছে।”

বরাবরের মতোই পাকিস্তান জঙ্গি মদতের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। এমনকী, আন্তর্জাতিক স্তরে চাপের মুখে পড়ে এক সময় ‘ধূসর তালিকা’তেও জায়গা হয়েছিল তাদের। কিন্তু প্রকাশ্যে পাক মাটিতে বসে জঙ্গি নেতার এমন বক্তব্য ফের প্রশ্ন তুলে দিল—জঙ্গি সংগঠন ও পাক সেনার যোগসাজশ আদৌ কি অস্বীকারযোগ্য?

পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ডের এই হুমকির ভিডিও ফের একবার স্পষ্ট করে দিল, সীমান্তের ওপার থেকেই পরিকল্পিতভাবে এদেশে কাপুরুষোচিত হামলার ছক কষা হচ্ছে।

Friday, 9 January 2026

আইপ্যাক দপ্তর থেকে ‘নির্বাচনী নথি চুরি’র অভিযোগ, ইডির বিরুদ্ধে থানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার লিখিত নালিশ

 


আইপ্যাক দপ্তর থেকে ‘নির্বাচনী নথি চুরি’র অভিযোগ, ইডির বিরুদ্ধে থানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার লিখিত নালিশ

Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক:
তল্লাশির নামে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি চুরির অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) বিরুদ্ধে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। আচমকাই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। সেই খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ১৫ মিনিট প্রতীক জৈনের বাড়িতে ছিলেন তিনি। বেরোনোর সময় একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন, ইডির এই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল হাতিয়ে নেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।

এর মধ্যেই খবর আসে, সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পৌঁছে যান আইপ্যাকের দপ্তরে। অভিযোগ, সেখান থেকে কিছু নথি, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিজের গাড়িতে তোলেন তিনি।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী বারবার দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কৌশল ‘চুরি’ করতেই কেন্দ্র ইডিকে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, ইডির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে—মুখ্যমন্ত্রী অনৈতিকভাবে তদন্তে বাধা দিয়েছেন।

গোটা বিষয়টি গড়িয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইডির বিরুদ্ধে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির সময় ঠিক কী ঘটেছিল, মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন কোন আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন—তা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ইডির তরফে একটি রিপোর্ট অর্থমন্ত্রকে জমা দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টই পরবর্তী পর্যায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হবে।

মোদির ফোন না পেয়ে ইগোতে আঘাত’, সেই কারণেই ভারতের উপর ৫০% শুল্ক—বিস্ফোরক দাবি মার্কিন বাণিজ্য সচিবের

 



Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক:
ভারতের উপর বিপুল মার্কিন শুল্ক চাপার নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনমনীয় অবস্থানই বড় কারণ—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। একটি পডকাস্টে তিনি জানান, ভারত–আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় সেই চুক্তি ভেস্তে যায়।

লুটনিকের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিতে সই করার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরাসরি ফোনালাপকে অপরিহার্য শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের কাছে মোদির ফোন এলেই বাণিজ্য চুক্তিতে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ত। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। ভারতীয় আধিকারিকরা এই শর্ত মানতে চাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর ফলেই শেষ পর্যন্ত ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। লুটনিকের দাবি, মোদির ফোন না পাওয়ায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অসন্তোষ বেড়ে যায় এবং সেই ‘ইগো’ থেকেই ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আলোচনা হলেও আর চুক্তি এগোয়নি।

এখানেই থামেননি মার্কিন বাণিজ্য সচিব। তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই এমন একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার ফলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির উপর ভবিষ্যতে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের উপর নতুন করে আরও শুল্কের বোঝা চাপার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

লুটনিকের কথায়, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ফোন না আসায় তিনি যথেষ্ট হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন। সেই অসন্তোষই শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে ভারত–আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে।

তৃণমূল সাংসদদের হেনস্থার ঘটনায় ক্ষোভ, ‘ধর্ষকদের বেল, প্রতিবাদীদের জেল’ মন্তব্য অভিষেকের

 


ব্যুরো রিপোর্ট | Y বাংলা নিউজ

কলকাতায় আইপ্যাক (IPAC)-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়ি ও সল্টলেকের অফিসে ইডি অভিযানের (ED Raid) রেশ এবার ছড়াল জাতীয় রাজনীতিতেও। বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতরের বাইরে ধর্না-বিক্ষোভে বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) একাধিক সাংসদ। তবে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভের অভিযোগ তুলে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তৃণমূলের অভিযোগ, বিক্ষোভরত সাংসদদের টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। বাসে তুলে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মিত্র, কীর্তি আজাদ, শতাব্দী রায়-সহ একাধিক সাংসদ। পরে প্রশাসনিক কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন,
“এরা ধর্ষকদের জামিন দেয়, আর প্রতিবাদীদের জেলে পুরে দেয়।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে অভিষেক আরও লেখেন,
“আজ গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, আর অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ভোট লুটের চেষ্টা চলছে। এটাই বিজেপির ‘নতুন ভারত’।”

এখানেই থামেননি তিনি। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূল নেতা। অভিষেকের বক্তব্য,
“গোটা দেশ বিজেপির চাপে আত্মসমর্পণ করলেও বাংলা করবে না। বাংলা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেই। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে বিজেপির সব দাঁত-নখ ভেঙে দেব।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আইপ্যাক ও প্রতীক জৈনকে ঘিরে ইডি অভিযানের পর যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল, দিল্লিতে সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা ও বিরোধী কণ্ঠ দমনের অভিযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে চলেছে তৃণমূল—এমন ইঙ্গিতই মিলছে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, প্রথমে সাংসদদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই অনুরোধ মানা না হওয়াতেই বিক্ষোভ সরাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

মমতার সবুজ ফাইলে কী ছিল? ইডি অভিযানের মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা কতটা বৈধ—প্রশ্নের মুখে রাজনীতি

 



ডিজিটাল ব্যুরো | Y বাংলা নিউজ

বৃহস্পতিবারের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা নিঃসন্দেহে আই-প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র অভিযান। সেই তল্লাশি চলাকালীনই নাটকীয়ভাবে প্রতীকের ফ্ল্যাটে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পর বুকে আগলে একটি সবুজ ফোল্ডার হাতে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আই-প্যাকের অফিসেও যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও তাঁর গাড়িতে এক সহযোগীকে কয়েকটি ফাইল তুলতে দেখা যায়।

দিনভর এই ঘটনাপ্রবাহের পর সাধারণ মানুষের মনে মূলত দু’টি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
এক, মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা ওই সবুজ ফাইলে আসলে কী ছিল?
দুই, ইডি-র তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী কি এভাবে ঢুকে পড়ে ফাইল নিয়ে আসতে পারেন?

দ্বিতীয় প্রশ্নটি নতুন নয়। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির সময়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সিবিআই ও কলকাতা পুলিশের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বড় কোনও আইনি পরিণতিতে গড়ায়নি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, এই প্রশ্ন আদতে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছবে না। বিরোধীরা যেমন সমালোচনায় সরব, তেমনই শাসক শিবির এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেই দেখছে।

এবার আসা যাক সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নে—সবুজ ফাইলে কী ছিল?

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রতীক জৈনের বাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ছিল। তাঁর দাবি, বিজেপি ইডি-কে ব্যবহার করে সেই তালিকা হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল। সেই কারণেই তিনি ওই নথি সেখান থেকে সরিয়ে এনেছেন। মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সবুজ ফোল্ডারের মধ্যেই ছিল তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।

এই একটি বক্তব্যই মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ বদলে দিয়েছে। সবুজ ফোল্ডার বুকে আগলে বেরিয়ে আসার সেই ছবি কার্যত দিনের সবচেয়ে আলোচিত ফ্রেম হয়ে উঠেছে।

বাস্তবে ওই ফাইলে কী ছিল, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না। হতে পারে তাতে কেবল সাদা কাগজই ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূলের কোর সমর্থক, দলের কর্মী ও বিজেপি-বিরোধী একাংশের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে।

আই-প্যাক তৃণমূলের সংগঠনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, তা অজানা নয়। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পর প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বে আই-প্যাক বাংলায় সক্রিয় হয়। বর্তমানে বুথ স্তর থেকে শুরু করে সংগঠনের ডেটা, সমীক্ষা, প্রার্থী বাছাইয়ের খসড়া, প্রচারের নকশা—সবই পেশাদারভাবে আই-প্যাকের কাছে থাকা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সেই অর্থে প্রতীক জৈনের বাড়ি বা আই-প্যাকের অফিসে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে?

তৃণমূল বিরোধীদের একাংশ এই ঘটনায় স্বস্তি পেলেও, শাসক দলের ভিতরের যে অংশ আই-প্যাকের প্রভাব নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাঁদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে বৃহত্তর রাজনৈতিক চিত্রে এই ঘটনা পক্ষ-বিপক্ষের অবস্থানকে আরও তীক্ষ্ণ করবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

সংবিধানের ৩৫৫ বা ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের প্রশ্নও উঠেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়ার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। তবে অতীতে অরুণাচল ও উত্তরাখণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় মাথায় রেখে কেন্দ্র সেই পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে এটুকু স্পষ্ট, এই ঘটনা এখানেই শেষ হচ্ছে না। সূত্রের খবর, প্রতীক জৈনকে ইডি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস দিতে পারে। অতীতে যেমন রাজীব কুমারকে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তেমন পরিস্থিতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, আই-প্যাক ইডি অভিযান, সবুজ ফাইল এবং মুখ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ—এই ত্রয়ী আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রাজ্যপালকে খুনের হুমকি! ইমেলে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ বার্তা, লোকভবনে হাই অ্যালার্ট

 



ডিজিটাল ব্যুরো | Y বাংলা নিউজ

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য প্রশাসনে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লোকভবনের আধিকারিকদের ইমেলে আসে একটি হুমকি বার্তা। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল—রাজ্যপালকে “উড়িয়ে দেওয়া হবে”।

বার্তাটি নজরে আসতেই রাতেই তৎপর হয়ে ওঠেন লোকভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা। জরুরি বৈঠক ডাকা হয় এবং রাজ্যপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্ত শুরু হয়। হুমকি মেলের বিষয়টি দ্রুত জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে।

লোকভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যপালকে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ ও সিআরপিএফ। মাঝরাতেই শীর্ষস্তরে বৈঠকে বসেন বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর আধিকারিকরা। সম্ভাব্য ঝুঁকি, নিরাপত্তা বলয় আরও মজবুত করার কৌশল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি—সব দিকই খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে।

বর্তমানে রাজ্যপালের জন্য ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও, এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। লোকভবনের আধিকারিকদের দাবি, এর আগেও রাজ্যপালকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হুমকি এসেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যপাল আনন্দ বোস শুক্রবার নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই রাস্তায় নামার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি বলেছেন,
“বাংলার মানুষই আমাকে রক্ষা করবেন।”
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

একই দিনে শহরের রাজনীতিতেও উত্তাপ রয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিলে নামছেন। আগের দিন আই-প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী সরব হন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। ফলে শহরের দুই শীর্ষ প্রশাসনিক মুখ আলাদা আলাদা পথে রাস্তায় নামায় পুলিশের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

ইডির তল্লাশি ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে রাজ্যপালও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,
“সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া অপরাধ। হুমকি বা আইনি ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাজ থেকে বিরত করা আরও গুরুতর অপরাধ। সংবিধানিক কর্তৃপক্ষ যদি সংবিধানের বাইরে যান, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”

হুমকি মেলের উৎস কী, কারা এর পিছনে রয়েছে এবং রাজ্যপালের নিরাপত্তা আরও কীভাবে জোরদার করা হবে—সব দিকেই এখন নজর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের।

Thursday, 8 January 2026

I-PAC ইডি রেড: ‘ভোটের সঙ্গে কোনও যোগ নেই’, ফাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে ইডি

 


🔴 I-PAC ইডি রেড: ‘ভোটের সঙ্গে কোনও যোগ নেই’, ফাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে ইডি

ডিজিটাল ডেস্ক | Y বাংলা নিউজ

কয়লা পাচার মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি-সহ দেশের মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আই-প্যাকের (I-PAC ED Raid) অফিসে অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠলেও, ইডি সাফ জানিয়ে দিয়েছে—এই তল্লাশির সঙ্গে ভোট বা কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সম্পর্ক নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকের আই-প্যাকের কলকাতা অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। একই সঙ্গে সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতেও অভিযান চলে। তল্লাশি শেষে আই-প্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাসভবন থেকে একাধিক নথির বান্ডিল নিয়ে বেরোতে দেখা যায় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের।

তল্লাশির পর সেখান থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোট কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের কাগজপত্র ও তথ্য ‘লুট’ করা হয়েছে। হার্ড ডিস্ক, আর্থিক নথি এবং রাজনৈতিক কাজকর্ম সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজ বাজেয়াপ্ত করার কথাও তিনি জানান। পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামার সাহস না থাকায় এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ইডির অভিযানকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলেও মন্তব্য করেন।

তবে বেলা গড়াতেই ইডির তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করে,
“সাংবিধানিক পদে থাকা এক ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন। দু’টি জায়গায় বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চলছিল।”
ইডি আরও জানায়, কোনও রাজনৈতিক কার্যালয়কে টার্গেট করা হয়নি এবং এই অভিযানের সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।

এই বিবৃতির পরই আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশিতে ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। আগামী দিনে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাউডন স্ট্রিটে যাওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অনৈতিক। যদিও তদন্ত বা ইডির তল্লাশি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, তদন্তের বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি কথা বলবেন না, তবে অতীতেও সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেস দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একইভাবে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির সময়েও তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান করেছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে, আই-প্যাক ইডি রেড ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপানউতর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। হাইকোর্টে মামলার শুনানি এই বিতর্কে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

SIR শুনানি ঘিরে নতুন জটিলতা: বাইরে থাকা ভোটারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব সিইও দফতরের

 


 SIR শুনানি ঘিরে নতুন জটিলতা: বাইরে থাকা ভোটারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব সিইও দফতরের

ডিজিটাল ডেস্ক | Y বাংলা নিউজ

পশ্চিমবঙ্গে চলতি স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR in West Bengal) প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব ঘিরে একের পর এক জটিলতা সামনে আসছে। ইতিমধ্যেই বহু ভোটার শুনানির নোটিস পেয়েছেন। নির্ধারিত নথি নিয়ে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও, রাজ্যের বাইরে কিংবা বিদেশে থাকা ভোটার এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সেই নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর—তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন ভাবনায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। সূত্রের খবর, ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক ও বিদেশে থাকা ভোটারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আলাদা কোনও অনলাইন পোর্টাল বা ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যাতে এই ভোটারদের শুনানি নেওয়া যায় বা তাঁরা প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে পারেন, সেই বিষয়টি বিবেচনায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হবে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনই।

এদিকে, এসআইআর সংক্রান্ত নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথির পাশাপাশি সিএএ (CAA) সার্টিফিকেটকে প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন মঙ্গলবারই কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কোনওভাবেই এসআইআর শুনানিতে গ্রাহ্য হবে না।

কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই যাঁরা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন, তাঁদের ফের শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হতে পারে। মঙ্গলবারই এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুরুতে কমিশনের অবস্থান ছিল—ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO)। সেই কারণেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিল, কোন স্তরের আধিকারিক এই শংসাপত্র ইস্যু করেন।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জেলাশাসকরাই ইস্যু করতেন। পরবর্তীতে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয় অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) এবং মহকুমা শাসক বা এসডিওদের। ঘটনাচক্রে, এসআইআর পর্বে এই এসডিওরাই নির্বাচনী নথিভুক্তিকরণ আধিকারিক (ERO)-র দায়িত্বেও রয়েছেন।

এই ব্যাখ্যা পাওয়ার পরই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আদৌ এসআইআর-এর ক্ষেত্রে প্রমাণ্য নথি কি না, তা জানতে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠায় রাজ্য সিইও দফতর। কমিশন সূত্রে খবর, সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এসআইআর শুনানিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

সব মিলিয়ে, এসআইআর শুনানি পর্বে বাইরে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য প্রশাসন ও ভোটাররা।

Wednesday, 7 January 2026

এসআইআর আতঙ্কে মতুয়ারা, ‘সহ্য করতে হবে’ বিতর্কের পর বনগাঁয় ড্যামেজ কন্ট্রোলে শুভেন্দু



এসআইআর আতঙ্কে মতুয়ারা, ‘সহ্য করতে হবে’ বিতর্কের পর বনগাঁয় ড্যামেজ কন্ট্রোলে শুভেন্দু

 Y বাংলা নিউজ   ডিজিটাল ডেস্ক  

প্রথম থেকেই এসআইআর (SIR in Bengal) নিয়ে আতঙ্কে মতুয়া সম্প্রদায়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বহুদিন আগেই। সেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের ‘সহ্য করতে হবে’ মন্তব্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতেই বুধবার মতুয়াগড় হিসেবে পরিচিত বনগাঁয় দাঁড়িয়ে মতুয়াদের আশ্বস্ত করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় এসআইআর শুরু হওয়াকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে বারবার দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয় তর্কবিতর্ক। বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে আতঙ্ক ছড়ায়। বিজেপির তরফে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় বহু মতুয়ার নাম তাতে নেই।

এই আবহেই সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর মন্তব্য করেন,
“ভোটার তালিকা থেকে ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ গেলে, সেখানে ১ লক্ষ আমাদের লোক (মতুয়া) যদি বাদ যায়, তাহলে সেটুকু সহ্য করতে হবে।”
এই মন্তব্য ঘিরেই মতুয়া সমাজে ক্ষোভ ও উদ্বেগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একাংশ আন্দোলনের পথেও হাঁটেন।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মতুয়াদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। তবে তাতেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। বুধবার মতুয়াদের একাংশ রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হন বলেও জানা গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই এদিন বনগাঁয় সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চ থেকে তিনি বলেন,
“প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখুন। কোনও মতুয়া উদ্বাস্তুর নাম বাদ যাবে না।”

শুভেন্দু আরও দাবি করেন,
“হিন্দুদের বাঁচাতেই আমি তৃণমূল ছেড়েছি। বাংলায় এখন জামাতের সরকার চলছে।”
এরপর তিনি মতুয়াদের আশ্বস্ত করে বলেন, কেন্দ্র সবসময় মতুয়াদের কথা ভাবে বলেই সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। কারও ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শান্তনু ঠাকুরের ‘সহ্য করতে হবে’ মন্তব্যে যে বিতর্ক ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, বনগাঁর সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য সেই ক্ষতি সামাল দেওয়ারই চেষ্টা। ছাব্বিশের আগে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখাই যে বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ, তা এই ঘটনাপ্রবাহেই স্পষ্ট।

বাংলায় SIR শুনানি: নথির ‘ত্রুটি’তে নোটিস নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে, বিতর্ক তুঙ্গে

 


🔴 বাংলায় SIR শুনানি: নথির ‘ত্রুটি’তে নোটিস নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে, বিতর্ক তুঙ্গে

ডিজিটাল ডেস্ক | Y বাংলা নিউজ

পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর (SIR in West Bengal) শুনানি পর্বে এবার নজরে এল চাঞ্চল্যকর নাম। এনুমারেশন ফর্মে ত্রুটি ধরা পড়ায় নোটিস গিয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনের (Amartya Sen) নামে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এনুমারেশন ফর্মে অমর্ত্য সেনের সঙ্গে তাঁর পিতা বা মাতার বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম উল্লেখ থাকায় তা ‘সাধারণভাবে প্রত্যাশিত নয়’ বলে ধরা হয়েছে। সেই কারণেই নথি যাচাইয়ের জন্য নোটিস পাঠানো হয়। যদিও কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, অমর্ত্য সেনকে কোনও শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দিতে হবে না। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেই সংশোধন সম্ভব।

মঙ্গলবার এই ইস্যুতে বীরভূমের রামপুরহাটে জনসভা থেকে সরব হন তৃণমূল সাংসদ ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,
“নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকেও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। দেশের জন্য নোবেল পুরস্কার এনে দেওয়া মানুষকেও এরা হেনস্তা করতে ছাড়ছে না। অভিনেতা-সাংসদ দেব, ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে—এগুলো কি নিছক কাকতালীয়?”

অভিষেকের মন্তব্যের পরই কমিশনের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শান্তিনিকেতনের প্রতীচী বাড়িতে গিয়ে নোটিস পৌঁছে দেয়। অমর্ত্য সেন বর্তমানে আমেরিকার বোস্টন শহরে অবস্থান করছেন।

নোবেলজয়ীর ভাই শান্তভানু সেন বলেন,
“কাগজপত্রে কিছু গরমিল আছে বলেই নোটিস দেওয়া হয়েছে। এটা স্পষ্টতই হয়রানি। সবাই যাঁকে চেনে, তাঁকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হচ্ছে।”

প্রতীচী বাড়ির দায়িত্বে থাকা গীতিকণ্ঠ মজুমদার জানান,
“অমর্ত্য সেনের সমস্ত বৈধ নথি আমাদের কাছে রয়েছে। কমিশনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হবে। কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে দুর্ভাগ্যজনক যে ওঁর মতো মানুষকেও বারবার এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, অমর্ত্য সেন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। তারপরও নোটিস পাঠানোয় প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী শিবির। বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা নিয়েই এখন জোর তরজা রাজ্য রাজনীতিতে।

প্রকাশ্যে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য কমিটি, ৩৫ জনের তালিকায় নেই দিলীপ–শুভেন্দু–সুকান্ত, সহ সভাপতি হলেন তাপস রায়

 


প্রকাশ্যে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য কমিটি, ৩৫ জনের তালিকায় নেই দিলীপ–শুভেন্দু–সুকান্ত, সহ সভাপতি হলেন তাপস রায়

ব্যুরো রিপোর্ট | Y Bangla News

অবশেষে প্রকাশ্যে এল বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি। ৩৫ জনের এই রাজ্য কমিটি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা। কারণ, তালিকায় নেই বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নাম। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নামও রাখা হয়নি এই কমিটিতে।

দীর্ঘদিন রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা একাধিক শীর্ষ নেতার নাম বাদ পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও জল্পনা বেড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়কে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন কমিটিতে। শুধু রাজ্য কমিটির সদস্যই নন, তাঁকে রাজ্য সহ সভাপতি পদেও নিয়োগ করা হয়েছে। বিজেপির অন্দরে তাপস রায়ের এই উত্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

নতুন রাজ্য কমিটিতে পুরনো কয়েকজন মুখও ফিরেছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম তনুজা চক্রবর্তী। একসময় বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব সামলালেও পরে তাঁকে পদ থেকে সরানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন কোনও উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক দায়িত্বে না থাকলেও এবার শমীক ভট্টাচার্যের উদ্যোগে তাঁর পুনর্বাসন হল। তনুজা চক্রবর্তীকেও রাজ্য সহ সভাপতি পদে আনা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রকাশ্যেই দিলীপ ঘোষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার বার্তা দিয়ে যান। তার পর থেকেই নতুন উদ্যমে জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে দিলীপকে। কিন্তু সেই আবহেই রাজ্য কমিটির তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় দিলীপ অনুগামীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ভোটের আগে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল কোন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নতুন কমিটি কি ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস, না কি কৌশলগত সিদ্ধান্ত—তা নিয়ে এখন থেকেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

মাথাচাড়া দিতে দেব না’ বলতেই বলতেই বিজেপি আজ প্রধান বিরোধী—অভিষেককে পাল্টা দিলীপ ঘোষ

 


ব্যুরো রিপোর্ট | Y Bangla News

ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে ফের তুঙ্গে তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে ‘পরিযায়ী পাখি’ বলে কটাক্ষ করার একদিনের মধ্যেই কড়া পাল্টা দিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

মঙ্গলবার রামপুরহাটের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ভোটের সময় আসে, ভোট মিটলেই উধাও হয়ে যায় বিজেপি। একই সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল—রাজ্যে বিজেপিকে কোনওভাবেই মাথাচাড়া দিতে দেওয়া যাবে না।

এই মন্তব্যের জবাবে বুধবার দিলীপ ঘোষ বলেন,
“এই ‘মাথাচাড়া দিতে দেব না’ কথাটা বলতেই বলতেই বিজেপি আজ রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠেছে।”

দীর্ঘদিন কিছুটা নীরব থাকলেও বিধানসভা ভোটের আগে ফের মাঠে নেমেছেন দিলীপ। পুরনো আক্রমণাত্মক ছন্দেই তিনি দাবি করেন, শুরু থেকেই বিজেপির নেতা-কর্মীদের উপর আক্রমণ, সংঘর্ষ এমনকি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবুও বিজেপির লড়াই থামেনি, থামবেও না।

দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, বাংলার উন্নয়নের দাবিতে বিজেপির সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দলের কর্মীরা আত্মত্যাগে প্রস্তুত। রাজ্যে পরিবর্তন ঘটানোই বিজেপির লক্ষ্য—এই বার্তাই দেন তিনি।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে দিলীপ ঘোষকে বৈঠকে ডাকেন। পরে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন তিনি। তার পর থেকেই একের পর এক জনসভা শুরু করেছেন দিলীপ। ভোটের আর কয়েক মাস বাকি থাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে স্বাভাবিকভাবেই।

যেখানে অমিত শাহ ২০০-র বেশি আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন, সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন—তৃণমূল পাবে ২৫০-র বেশি আসন। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, লোকসভা ভোটে তৃণমূল বলেছিল ‘৪২-এ ৪২’। ফলাফল সকলেরই জানা। তাঁর মতে, এবার ২৫০ নয়, চাইলে ২৯৪ আসনের দাবিও করতে পারে তৃণমূল, কিন্তু বাস্তব বদলাবে না।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট কৌশল নিয়েও আক্রমণ শানান দিলীপ। তাঁর অভিযোগ, শাসক দলের সামনে মানুষের কাছে বলার মতো কোনও ইস্যু নেই। পুরনো নেতাদের সামনে এনে ভোট পার করার চেষ্টা চলছে, কিন্তু তাতে কোনও ফল হবে না।

এসআইআর ইস্যুতেও তৃণমূলকে নিশানা করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, এক সময় বলা হয়েছিল এসআইআর করতে দেওয়া হবে না, পরে বলা হয় কোনও নাম বাদ যাবে না। অথচ বাস্তবে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনীতিতে সংঘাতের সুর আরও চড়া হচ্ছে—এটাই স্পষ্ট।

Tuesday, 6 January 2026

মাদুরোর মতো মোদীকেও কি তুলে নেবেন ট্রাম্প? প্রাক্তন মন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক

 


মাদুরোর মতো মোদীকেও কি তুলে নেবেন ট্রাম্প? প্রাক্তন মন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক

নয়াদিল্লি | Y BANGLA NEWS ডিজিটাল ডেস্ক:
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) নিয়ে মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) কড়া অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক ঝড় তুললেন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক প্রাক্তন মন্ত্রী।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ওই প্রাক্তন মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “মাদুরোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে ভবিষ্যতে কি ট্রাম্প মোদীর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারেন?” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

বিজেপির তরফে এই মন্তব্যকে “অযৌক্তিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা” বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “ভারতের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশি রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে এইভাবে তুলনা করা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।”

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, এই মন্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান এবং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যদিও কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্সির সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই ভারতের রাজনীতিতে এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ফের অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী, তড়িঘড়ি দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি

 


ফের অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী, তড়িঘড়ি দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি

নয়াদিল্লি | Y BANGLA NEWS ডিজিটাল ডেস্ক:
ফের অসুস্থ হয়ে পড়লেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। শনিবার সকালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে তড়িঘড়ি দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রের খবর, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্যেই সোনিয়া গান্ধীর কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। আপাতত তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছেন। যদিও তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা যাচ্ছে।

কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়মিতভাবে সোনিয়া গান্ধীর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও রাহুল গান্ধীও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বয়সজনিত ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে গত কয়েক বছর ধরে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে সোনিয়া গান্ধীকে। এর আগেও বিদেশে ও দেশেই চিকিৎসা করাতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

চিকিৎসকদের তরফে আনুষ্ঠানিক মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ হলে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ তকমা! ছত্তিশগড়ে মারধরের শিকার পুরুলিয়ার ৮ সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিক

 


বাংলায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ তকমা! ছত্তিশগড়ে মারধরের শিকার পুরুলিয়ার ৮ সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিক

বাংলায় কথা বলার অপরাধে ফের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ উঠল। বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ে পুরুলিয়ার ৮ জন সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। হামলার জেরে এক শ্রমিকের হাত ভেঙে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।

জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া মফস্বল থানার চেপড়ি গ্রামের বাসিন্দা শেখ জসিম প্রায় তিন মাস আগে ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলার কোতয়ালি থানার সুরজপুর এলাকায় একটি পাউরুটি কারখানায় কাজ শুরু করেন। প্রায় দু’মাস কাজ করার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। পরে কারখানায় আরও শ্রমিকের প্রয়োজন হওয়ায় মাস খানেক আগে তাঁর ভাই শেখ আলম, চেপড়ি গ্রামের শেখ বাবিন ওরফে শরিফুল, শেখ জুলফিকার, শেখ সাহিল, তেঁতলো গ্রামের আরবাজ কাজী এবং আড়শা থানার ভুরসু গ্রামের শেখ মিনাল ও শেখ ইসমাইল সেখানে কাজে যোগ দেন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই আটজন সুরজপুর এলাকার পেররী গ্রামে একটি পাউরুটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, রবিবার বিকেলে কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বচসা হয়। সেই সময় স্থানীয় কিছু বজরং দলের সদস্য কারখানায় পৌঁছায়। এরপর বাংলায় কথা বলার কারণে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দিয়ে লাঠিপেটা করা হয় বলে অভিযোগ।

এই হামলায় শেখ জসিম গুরুতর আহত হন এবং তাঁর একটি হাত ভেঙে যায় বলে পরিবারের দাবি। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় যোগাযোগ করেন। এরপর রায়পুর জেলার কোতয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটজনকেই উদ্ধার করে।

চেপড়ি গ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি শেখ ইকবাল জানান, রবিবার দুপুরে ছত্তিশগড় পুলিশের এক আধিকারিক ফোন করে ওই আটজনের নাম ও ঠিকানা জানতে চান। পরে পুরুলিয়া মফস্বল থানার আইসির সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারের তরফে প্রয়োজনীয় নথি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঘটনার জেরে আতঙ্কে রয়েছেন শ্রমিকদের পরিবার। তেঁতলো গ্রামের বাসিন্দা আরবাজ কাজীর বাবা সায়েদ কাজী বলেন, “আমি নিজেও ভিনরাজ্যে কাজ করি। ছেলেকে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি বলে মারধর করা হয়েছে শুনে খুব ভয় পাচ্ছি।”

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আড়শা ও পুরুলিয়া মফস্বল থানার তরফে প্রত্যেকের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকরা যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে বিষয়েও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।


এসআইআর শুনানির লাইনে খোদ বিডিও! মাটিয়ালি ব্লকে ব্যতিক্রমী ঘটনায় জোর চর্চা

 


এসআইআর শুনানির লাইনে খোদ বিডিও! মাটিয়ালি ব্লকে ব্যতিক্রমী ঘটনায় জোর চর্চা

রাজ্যজুড়ে যেখানে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন বিভিন্ন ব্লকের বিডিওরা, ঠিক সেখানেই এক ব্যতিক্রমী ছবি উঠে এল জলপাইগুড়ির মাটিয়ালি ব্লকের মেটলি এলাকায়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই লাইনে দাঁড়িয়ে এসআইআর শুনানিতে অংশ নিতে দেখা গেল লাভা ব্লকের বিডিও ভারতী চিক বড়াইককে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে বিডিও ভারতী চিক বড়াইক-সহ তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পিতা কপিল চিক বড়াইক, বোন আরতি চিক বড়াইক এবং ভাই প্রণব চিক বড়াইক। ইতিমধ্যেই বিডিও ভারতী চিক বড়াইক শুনানিতে হাজির হয়েছেন। আগামী দিনে পরিবারের বাকি তিন সদস্যের শুনানিতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না, আর সেখান থেকেই এই জটিলতার সূত্রপাত। যদিও পরিবারের দাবি, তাঁরা সকলেই ভারতীয় নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরেই মালবাজার মহকুমার জুরন্তি চা বাগান এলাকায় বসবাস করছেন।

তাঁদের আরও দাবি, ১৯৯৯ সালে মেটলি হাসপাতাল পাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০৪ সালে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তার আগেও একাধিকবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল, কিন্তু সে সময় তা সম্ভব হয়নি বলে পরিবার সূত্রে দাবি।

একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিডিও নিজেই এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়ানোয় বিষয়টি প্রশাসনিক মহলে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন সব নজর এসআইআর শুনানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই।

কনকনে শীতে কাঁপছে তিলোত্তমা, ১৩ বছর পর ১০ ডিগ্রির নিচে নামল কলকাতার পারদ

 


কনকনে শীতে কাঁপছে তিলোত্তমা, ১৩ বছর পর ১০ ডিগ্রির নিচে নামল কলকাতার পারদ

চলতি মরশুমে যেন রীতিমতো ঝোড়ো ব্যাটিং করছে শীত। নতুন বছরের শুরুতেই কলকাতার তাপমাত্রা নেমেছিল ১১ ডিগ্রিতে। এরপর কয়েকদিন পারদ সামান্য ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মঙ্গলবার ফের এক ধাক্কায় নামল তাপমাত্রা। এদিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দাঁড়ায় ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা গত এক দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন।

হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি কলকাতার তাপমাত্রা নেমেছিল ৯ ডিগ্রিতে। তার পর থেকে প্রতি বছর পৌষ-জানুয়ারিতে পারদ মূলত ১১ ডিগ্রির আশেপাশেই ঘোরাফেরা করেছে। বহুবছর পর চলতি বছরে জানুয়ারিতে তাপমাত্রা নেমে এল ১১ ডিগ্রির নিচে।

মরশুমের শুরু থেকেই ঠান্ডার দাপটে খুশি শীতপ্রেমীরা। তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা বেশ কষ্টকর। লেপ-কম্বল ছাড়া বেরোনো কার্যত দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকদিন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রির আশেপাশে থাকলেও মঙ্গলবার এক ধাক্কায় তিলোত্তমার পারদ নেমে যায় ১০ ডিগ্রির ঘরে।

শহরের পাশাপাশি শহরতলি ও জেলার পরিস্থিতিও প্রায় একই। কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছে পথঘাট। দৃশ্যমানতা এতটাই কমেছে যে একহাত দূরের জিনিসও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে যান চলাচলেও। ট্রেন ও বাস চলছে ধীর গতিতে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মঙ্গলবারের ঠান্ডা একাধিক পুরনো রেকর্ডের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এর আগে ২০০৩ সালের ২২ জানুয়ারি কলকাতায় তাপমাত্রা নেমেছিল ৯.৩ ডিগ্রিতে। আরও পিছনে তাকালে দেখা যায়, ১৮৯৯ সালের জানুয়ারিতে শহরের তাপমাত্রা নেমেছিল ৬.৭ ডিগ্রিতে।

এদিকে উত্তরবঙ্গেও শীতের দাপট চরমে। হাঁড়কাপানো ঠান্ডায় জবুথবু অবস্থা পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের। শীত উপভোগ করতে দার্জিলিং-সহ উত্তরের একাধিক পাহাড়ি এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকেরা।

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে জোড়া খুন, ফের আতঙ্কে সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজ

 


মাত্র ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে জোড়া খুন, ফের আতঙ্কে সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজ

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশে খুন হলেন দুই হিন্দু ব্যক্তি। রবিবার যশোর জেলায় প্রকাশ্য বাজারে গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক ও সংবাদপত্র সম্পাদক রানা প্রতাপ। আর তার ঠিক পরের দিন, সোমবার রাতে নরসিংডি জেলায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় মণি চক্রবর্তী নামে এক হিন্দু দোকানিকে। এই জোড়া খুনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত মণি চক্রবর্তী নরসিংডি জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর একটি মুদিখানার দোকান ছিল। সোমবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ নিজের দোকানেই ছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে পৌঁছলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ভরা বাজারে এই হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর একদিন আগেই রবিবার বিকেলে যশোর জেলায় খুন হন সাংবাদিক রানা প্রতাপ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভরা বাজারে আততায়ীরা তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর দেহ থেকে একাধিক বুলেট উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু হত্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় ২৯ বছরের অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২৫ বছরের দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বছরের শেষদিনে খোকন দাস নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এরও আগে ভালুকা এলাকায় বজেন্দ্র বিশ্বাস খুন হন বলে অভিযোগ।

সব মিলিয়ে গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে অন্তত ৬ জন হিন্দু হিংসার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সম্প্রতি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগও সামনে এসেছে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ক্রমাগত এই ঘটনাগুলির জেরে পদ্মাপাড়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Monday, 5 January 2026

BLA–দের ফোন করে সরাসরি প্রশ্ন—‘শুনানিতে পাশে ছিলেন কি বিধায়ক?’ ২০২৬-এর টিকিটে প্রভাব ফেলতে পারে এই মূল্যায়ন

 


📰 Y বাংলা ডিজিটাল খবর | ব্যুরো

এসআইআর (SIR) চলাকালীন মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই নির্দেশ কতটা মানা হয়েছে? বিধায়করা সত্যিই কি মাঠে ছিলেন?—এ বার সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেমেছে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা।

দলীয় সূত্রের খবর, বারাসত থেকে বসিরহাট—বিভিন্ন সাংগঠনিক এলাকায় ইতিমধ্যেই ফোন যাচ্ছে বিএলএ–২দের কাছে। একেবারে সোজাসাপ্টা প্রশ্ন—এসআইআর শুনানির সময় বিধায়ক কি পাশে ছিলেন? এলাকায় কতটা সময় দিয়েছেন? সমস্যা হলে সাহায্য পাওয়া গিয়েছে কি না? প্রতিটি উত্তরই নথিবদ্ধ হচ্ছে ‘রিপোর্ট কার্ডে’।

শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট—শুধু উপস্থিতি নয়, প্রয়োজনের সময়ে বিধায়ককে পাওয়া যায় কি না, সেটাই আসল মাপকাঠি। আর সেই কাজের নিরিখেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট বণ্টনের সময় গুরুত্ব পেতে পারে এই মূল্যায়ন।

এর আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করেছিলেন—যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে পথে নামবে দল। সেই কারণে একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠকে বিএলএ–২দের দায়িত্ব ও কাজের রূপরেখা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। এখন মাঠে যাঁরা সরাসরি মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই চলছে তথ্য সংগ্রহ।

দলীয় সূত্রের দাবি, বারাসত সাংগঠনিক জেলায় একাধিক জায়গায় ‘বিধায়ককে কাছে না-পাওয়া’র অভিযোগ জমা পড়েছে। দেগঙ্গা নিয়ে রিপোর্ট মিশ্র। বসিরহাটের কয়েকটি কেন্দ্রেও মতভেদ, যেখানে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ছাপ দেখছেন সংগঠনের একাংশ।

বারাসতের এক বিএলএ বলেন,
“আমাকে পরিষ্কার করে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বিধায়ক যোগাযোগ রাখেন কি না। আমি জানিয়েছি—এসআইআর পর্বে উনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন না।”
অন্যদিকে, হাড়োয়ার এক বিএলএর বক্তব্য,
“এলাকায় ক্যাম্প হয়েছে, কাজও হয়েছে। সেটাই জানিয়েছি। তবে বিধায়ক সম্পর্কে কী মত দিয়েছি, তা প্রকাশ করতে চাই না।”

সব মিলিয়ে, এসআইআর ঘিরে যেমন রাজপথে তৎপরতা, তেমনই দলের অন্দরেও শুরু হয়ে গিয়েছে নিঃশব্দ ঝাড়াই–বাছাই। শেষ পর্যন্ত এই জনসংযোগের ‘রিপোর্ট কার্ড’ বিধায়কদের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়েই এখন কৌতূহল তুঙ্গে তৃণমূল শিবিরে।

মুস্তাফিজুর বিতর্কে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ, ‘হাসিনাকেও ফেরত পাঠান’—BCCI ও কেন্দ্রকে নিশানা ওয়েইসির




📰 Y বাংলা ডিজিটাল নিউজ  ব্যুরো 

মিনি নিলামে নাম থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলার সুযোগ না দিয়ে স্বদেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হল। এই ইস্যুতে এ বার সরব হলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁর প্রশ্ন, মুস্তাফিজুরকে ফেরানো হলে, একই যুক্তিতে কেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে না? এই সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

ওয়েইসির মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওয়েইসি বলেন,
“পহলেগামে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরেও আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে এশিয়া কাপে খেলেছি। তাহলে এখন হঠাৎ করে বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে ফেরানোর যুক্তি কী?”
তাঁর দাবি, খেলাধুলোর ক্ষেত্রে রাজনীতি ঢুকলে তা সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

বাংলাদেশি পেসারের প্রসঙ্গ টেনে ওয়েইসি শেখ হাসিনার দিকেও প্রশ্ন ছুড়েছেন। নাম না করে তিনি বলেন, “একজন বাংলাদেশি মহিলা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে রয়েছেন। বাংলাদেশ যখন তাঁকে ফিরিয়ে নিতে চাইছে, তখন তাঁকে কেন পাঠানো হচ্ছে না?” তাঁর মতে, এই বিষয়েও ভারতের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, দেশ ছাড়ার পর থেকেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। যদিও হাসিনা ও তাঁর পরিবারের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কোনও নিরপেক্ষ বিচার সম্ভব নয়। এই মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা নিয়েও ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী মতও সামনে এসেছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর-সহ একাধিক নেতা মনে করছেন, খেলাধুলোর সঙ্গে রাজনীতি মেশানো ঠিক নয়। তবে বোর্ডের দাবি, আগেভাগেই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে জানানো হয়েছিল, যাতে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্ত এখন আর নিছক ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই ইস্যুতে জড়িয়ে পড়েছে কূটনীতি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বার্তা—আর ওয়েইসির মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলল।

ভোটার তালিকার SIR নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’, নির্বাচন কমিশনকে পাল্টা চিঠি শুভেন্দু অধিকারীর

 


📰 ব্যুরো রিপোর্ট

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে রাজ্য সরকারের আপত্তির কড়া জবাব দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।

সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, SIR কোনও হঠকারী বা অপরিকল্পিত প্রক্রিয়া নয়। বরং ভুয়ো ও অযোগ্য ভোটারের নাম ছাঁটাই করতেই এই সাংবিধানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় বেআইনি নাম ঢোকানোর সুযোগ পেয়েছে শাসকদল। সেই ‘অস্বস্তিকর সত্য’ সামনে আসছে বলেই এখন আপত্তি তোলা হচ্ছে।

শুভেন্দু আরও দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আসলে কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের নথি যাচাই করাচ্ছেন এবং সংশোধন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছেন বলেও দাবি তাঁর।

প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ‘হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা’ ও কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়াই চালানো হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নের অভিযোগ ছিল, কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি, সার্কুলার বা আইনি নির্দেশ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা স্বেচ্ছাচারী এবং এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠছে।

এই অভিযোগের জবাবে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, SIR প্রক্রিয়ার প্রশিক্ষণ, সময়সীমা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা সারা দেশেই এক নিয়মে চলছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বচ্ছতা রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

একই সঙ্গে কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং বুথ স্তরের এজেন্টদের ভূমিকা সীমিত করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না ঘটে।

চিঠির শেষাংশে নির্বাচন কমিশনকে কোনও রকম রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, SIR প্রক্রিয়াই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রকৃত ভোটারের অধিকার সুরক্ষিত করবে।

প্রশংসা একদিকে, শুল্ক চাপ অন্যদিকে—ভারত নিয়ে ট্রাম্পের দ্বিমুখী বার্তা

 


ব্যুরো রিপোর্ট:
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত একটি অডিও বার্তা ঘিরে আবারও আলোচনায় ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক। ওই অডিওতে মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত নীতি যদি আমেরিকার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

অডিও ক্লিপে ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে এসেছে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং সেই অসন্তোষের কথা দিল্লিকেও জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, আমেরিকার মনোভাব বুঝেই ভারত নাকি কিছু ক্ষেত্রে অবস্থান বদল করেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রসঙ্গে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করলেও, ট্রাম্পের বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট সতর্কতা। তিনি বলেন, মোদী বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন যে আমেরিকা সন্তুষ্ট নয় এবং সেই কারণেই সম্পর্ক রক্ষায় ভারতের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে একইসঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, বাণিজ্য ক্ষেত্রে আমেরিকা চাইলে খুব দ্রুত ভারতের উপর শুল্ক বাড়াতে পারে, যা ভারতের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমী দেশগুলির রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার আবহে, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি নতুন নয়। ভারত একদিকে শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রাখছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই দ্বৈত অবস্থান নিয়েই কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে।

অডিও বার্তায় বিশ্ব অর্থনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংকটজনক। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক চাপকে একসঙ্গে ব্যবহার করেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে চেয়েছেন তিনি।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই অডিও ক্লিপ ভারত–আমেরিকার বাণিজ্য আলোচনা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক কৌশলগত সমীকরণে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং একইসঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে অংশীদারিত্ব ধরে রাখা—এই ভারসাম্য রক্ষা করাই আপাতত ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog