বিহারের বিধানসভা ভোটে জন সুরাজ পার্টি প্রথম ধাপের প্রার্থী ঘোষণা
বিহারের বিধানসভা ভোটে জন সুরাজ পার্টি প্রথম ধাপের প্রার্থী ঘোষণা
প্রাক্তন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বে জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ।
বিহারের বিধানসভা ভোটে ২৪৩ আসনের সবক’টিতে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রাক্তন ভোটকুশলী তথা জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান প্রশান্ত কিশোর (পিকে)
বিশেষ প্রার্থী তালিকা
জন সুরাজ পার্টির প্রথম দফার তালিকায় রয়েছেন:
জনপ্রিয় ভোজপুরি গায়ক রীতেশরঞ্জন পান্ডে, রোহতাস জেলার কারগাহর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
পরিচিত চিকিৎসক, আইনজীবী এবং প্রাক্তন আমলারা।
তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি প্রীতি কিন্নর, গোপালগঞ্জের ভোরে আসন থেকে ভোটে লড়বেন।
দলের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় সিংহ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বলেছেন, "আমরা শীঘ্রই অন্যান্য আসনের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করব। ১১ অক্টোবর আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব-এর নির্বাচনী এলাকা রাঘোপুর থেকে প্রশান্ত কিশোর প্রচার শুরু করতে পারেন।"
প্রার্থী মনোনয়নের অনন্য পদ্ধতি
প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া অন্যান্য দলের থেকে আলাদা। কর্মীদের মতামত নিয়ে ব্লক, পঞ্চায়েত ও বুথ স্তরে সম্মেলনে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যুব, কৃষক, সংখ্যালঘু, তফসিলি ও অন্যান্য ওবিসি শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশকারীদের আবেদন যাচাই করা হচ্ছে। চূড়ান্ত নির্বাচন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নির্ধারিত হচ্ছে।
নির্বাচন সূচি
নির্বাচন কমিশন নির্ঘণ্ট ঘোষণা: ৬ অক্টোবর
প্রথম দফা ভোটগ্রহণ: ৬ নভেম্বর (১২১ আসনে)
দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ: ১১ নভেম্বর (১২২ আসনে)
মনোনয়ন জমা: প্রথম দফার জন্য ১৭ অক্টোবর, দ্বিতীয় দফার জন্য ২০ অক্টোবর পর্যন্ত
নাম প্রত্যাহার: প্রথম দফার জন্য ২০ অক্টোবর, দ্বিতীয় দফার জন্য ২৩ অক্টোবর
দিনের পর দিন জাতপাত নিয়ে হয়রানি সহ্য করতে না-পেরে নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হরিয়ানা পুলিশের এডিজি আইপিএস ওয়াই পুরন কুমার (৫২)। এই ঘটনায় দায়ী করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের দুই শীর্ষকর্তাকে। এই অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী আইএএস অমনীত পি কুমার। তিনি হরিয়ানার ডিজিপি শত্রুজিৎ সিং কাপুর এবং রোহটাকের এসপি নরেন্দ্র বিজারনিয়া-এর বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীকে মৃত্যুতে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিস্তারিত: আইএএস অমনীত জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর ব্যাগ থেকে একটি আট পৃষ্ঠার নোট পাওয়া গেছে। সেই নোটে বর্ণিত হয়েছে, কিভাবে হরিয়ানা পুলিশের দুই শীর্ষ আধিকারিক তাঁকে পদ্ধতিগতভাবে হেনস্তা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁর তফশিলি জাতি-উপজাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নিয়মিত অপমান ও হয়রানি চলত।
ওয়াই পুরন কুমার ২০০১ সালের আইপিএস ব্যাচের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। মঙ্গলবার ৭ অক্টোবর চণ্ডীগড়ের নিজ বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর মাথায় গুলির আঘাত ছিল। জানা গেছে, তিনি নিজের রিভলবার দিয়ে নিজ মাথায় গুলি করেন। ঘটনায় তাঁর ছোট মেয়ে উপস্থিত ছিল। মেয়ের চিৎকারে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে।
অমনীত পি কুমার আরও জানিয়েছেন, ডিজিপি শত্রুজিৎ সিং কাপুর এবং রোহটাকের এসপি নরেন্দ্র বিজারনিয়ার নির্দেশে মিথ্যা এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। স্বামী মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। এরপরও তিনি উচ্চকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা হয়নি এবং তিনি হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
এ ঘটনায় হরিয়ানা মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনিও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তদন্ত ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করে জুতো নিক্ষেপ, ঘটনার নিন্দায় মুখর প্রধানমন্ত্রী
সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করে জুতো নিক্ষেপ, ঘটনার নিন্দায় মুখর প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৫ | প্রকাশক: ফারিয়া ইসলাম
সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
নয়াদিল্লি: সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন দেশের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই-কে লক্ষ্য করে ‘জুতো ছোঁড়া’-র ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে সমগ্র দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ শাসক-বিরোধী উভয় দলের নেতা মন্ত্রীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ওই পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য গাভাইকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ঘটনার পটভূমি: সোমবার খাজুরাহ নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের ভরা এজলাসে তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ছুঁড়ে মারেন রাকেশ কিশোর নামক এক আইনজীবী। নিরাপত্তা কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে তাকে এজলাস থেকে বের করে আনেন, ফলে আক্রমণ এড়ানো যায়।
যখন আইনজীবীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তাঁকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “সনাতন কা আপমান নহি সহেঙ্গে” — অর্থাৎ সনাতনের প্রতি কোনও অপমান সহ্য করা হবে না। পরে জানা যায়, ওই আইনজীবী দাবি করেছেন, “ঈশ্বরের নির্দেশেই আমি এই কাজ করেছি।”
দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও তিনদিন ধরে চুপ ছিলেন প্রধান বিচারপতি। বৃহস্পতিবার ভরা এজলাসে অবশেষে মুখ খুলে বি আর গাভাই বলেন, “আমি হতভম্ব হয়ে গেছিলাম। আমি এবং আমার সহকারী দুজনেই সোমবারের ঘটনায় অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু ওই অধ্যায় আমাদের কাছে অতীত।”
এই ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইনজীবী মহলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার মর্যাদাকে আঘাত করে।
জইশ-ই-মহম্মদের নতুন চাল: মহিলা জঙ্গি বাহিনী ‘জামাত-উল-মোমিনত’ গঠনের ঘোষণা
জইশ-ই-মহম্মদের নতুন চাল: মহিলা জঙ্গি বাহিনী ‘জামাত-উল-মোমিনত’ গঠনের ঘোষণা
পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে শুরু হয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা জঙ্গি বাহিনীর নিয়োগ প্রক্রিয়া। নেতৃত্বে মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে সন্ত্রাসের হাওয়া বইছে। কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এবার এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা গঠন করেছে একটি বিশেষ মহিলা জঙ্গি বাহিনী, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জামাত-উল-মোমিনত’। এই নতুন উইংয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার।
পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এই বাহিনীর সদস্য সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। সংগঠনের প্রোপাগান্ডা প্ল্যাটফর্ম আল-কালাম মিডিয়া জানিয়েছে, ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া। জানা গেছে, মহিলা সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে গুপ্ত হামলা, বিস্ফোরক তৈরি এবং আত্মঘাতী মিশন পরিচালনার জন্য।
সূত্র মারফত খবর, ‘জামাত-উল-মোমিনত’-এর সদস্যদের মধ্যে অনেকেই নিহত জইশ কমান্ডারদের স্ত্রী বা পরিবার থেকে নেওয়া হচ্ছে। বাহাওয়ালপুর, করাচি, মুজফফরাবাদ, কোটলি, হরিপুর এবং মানশেরা অঞ্চলের আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলাদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। এদের মধ্যে কিছুজনকে “শহীদ পরিবারের উত্তরাধিকারী” হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে সমাজে তাদের জনপ্রিয়তা তৈরি হয় এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ সহজ হয়।
তথ্যবক্স:
🔸 বাহিনীর নাম: জামাত-উল-মোমিনত
🔸 সংগঠন: জইশ-ই-মহম্মদ
🔸 নেতৃত্বে: সাদিয়া আজহার
🔸 শুরু: ৮ অক্টোবর, বাহাওয়ালপুর
🔸 লক্ষ্য: আত্মঘাতী ও গোপন হামলার কৌশল প্রয়োগ
🔸 প্রচারমাধ্যম: আল-কালাম মিডিয়া
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এত দিন পর্যন্ত জইশ-ই-মহম্মদ সংগঠনের ভেতরে মহিলাদের কোনও ভূমিকা ছিল না। তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়াও সংগঠনের নীতি অনুযায়ী নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতীয় সেনার অভিযানে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে জইশ। তাদের বহু শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়। এরপরই সংগঠনের নেতৃত্ব নতুন কৌশল গ্রহণ করে, যেখানে মহিলাদেরও জিহাদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়।
জঙ্গি মহলের মতে, জইশ-ই-মহম্মদের এই পদক্ষেপ চরম উদ্বেগের কারণ। কারণ, মহিলা জঙ্গিরা সাধারণত সহজে জনতার মধ্যে মিশে যেতে পারে, যা নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে চিহ্নিত করা কঠিন। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই নতুন হুমকির বিষয়ে সতর্ক হয়েছে এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে নজরদারি জোরদার করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জইশ-ই-মহম্মদের এই পদক্ষেপ বিশ্বের অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠন যেমন আইএসআইএস, বোকো হারাম, হামাস এবং এলটিটিই-এর পথ অনুসরণ করছে। এই সংগঠনগুলিও অতীতে মহিলা আত্মঘাতী যোদ্ধা তৈরি করেছিল। এখন দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গি রাজনীতিতেও সেই প্রবণতা প্রবল হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু পাকিস্তান নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি নতুন সংকেত। ভারতীয় গোয়েন্দারা বলছেন, “এই নতুন মহিলা জঙ্গি ইউনিট ভবিষ্যতে সীমান্ত অতিক্রম করে বড়সড় হামলা চালানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে।”
প্রকাশক: ফারিয়া ইসলাম | সম্পাদনা: Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক
শুভমান গিল — নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক: রোহিতের যাত্রা, কোহলি-রোহিতের ভবিষ্যত ও গিলের মন্তব্য
শুভমান গিলকে ওয়ানডে অধিনায়ক করার পটভূমি, রোহিত—কোহলির ভবিষ্যৎ ও গিলের দিল্লি বক্তব্য
প্রকাশক: মহিবুর রহমান শেখ | প্রকাশিত: 09 অক্টোবর 2025
ভারতীয় ক্রিকেটে হঠাৎ এক যুগান্তকারী বদল — শুভমান গিল এখন টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই ভারতীয় দলের অধিনায়ক। প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকর ৪ অক্টোবর গিলের ওয়ানডে অধিনায়কত্বের ঘোষণা দেন, আর তা ঘিরে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিচিত্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে শিবিরের তরফে গিল সাংবাদিক সম্মেলনে বসে কিছু পরিস্কার বক্তব্য দিয়েছেন। 0
প্রথমে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—কেন রোহিত শর্মাকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো, আর শুভমান গিল কেন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কড়াভাবে নীরব থেকেছিলেন? সরাসরি প্রশ্নের উত্তরে গিল জানিয়েছেন যে তিনি মূলত আগে থেকেই রোহিত শর্মার ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়ে অবগত ছিলেন—তার উপর ভিত্তি করে তিনি দায়িত্ব নেন। গিল জানান, “প্রথম টেস্টের পরে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু আমি এটা আগেই জানতাম। ভারতের অধিনায়কত্ব পাওয়াটা সম্মানের।” 1
“প্রথম টেস্টের পরে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু আমি এটা আগেই জানতাম।” — শুভমান গিল
গিল স্পষ্ট করলেন, তিনি রোহিত শর্মার সঙ্গে কাজ করে যা শিখেছেন—তার শান্ত স্বভাব, দলের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা—এসব তিনি সংরক্ষণ ও অনুকরণ করতে চান। গিল বলেন, “রোহিত ভাইয়ের শান্ত স্বভাব এবং দলে বন্ধুত্বের পরিবেশ তৈরি করার পদ্ধতি গ্রহণ করতে চাই। এই গুণগুলো দলের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।” এই মন্তব্যটি দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখার সংকল্পকে প্রতিফলিত করে। 2
বহু সমালোচক অনলাইনে এবং বিশ্লেষণ মঞ্চে বলছেন প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকর সিদ্ধান্তটি নিয়ে অনেক তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন—কারণ রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি দুজনেই দেশের সাম্প্রতিক দশকের সেরা নেতৃত্ব ও ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। নির্বাচক এবং সংবাদমাধ্যমে সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা হলেও বিতর্ক থামেনি। প্রধান নির্বাচকের যুক্তি—দলকে ভবিষ্যতের শক্ত পদের দিকে নিয়ে যেতে এবং বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেয়া—এই ধরনের ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করেই পালা বদল সম্ভব হয়েছে। 3
গিল আরও বলেন, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি—দুইজনেই এখনও দলকে খেলবেন। তারা খেলোয়াড় হিসাবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং অক্তবরের মাঝামাঝি অস্ট্রেলিয়া সফরে তাদের নাম ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তথ্য ইতোমধ্যেই এসেছে; দুজনেই ১৫ অক্টোবর দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন—এমনটাই জানানো হয়েছে। গিল এই দুজনের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগত বৈশিষ্ট্যকে দলের জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন। 4
প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর সম্পর্কেও গিল ইতিবাচক কথা বলেছেন—তিনি বলেছেন, “আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা খেলোয়াড়দের কীভাবে নিরাপদ বোধ করাতে পারি এবং কিভাবে ফাস্ট বোলারদের একটি শক্তিশালী পুল তৈরি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছি।” গিলের এবং গম্ভীরের এই সংলাপ দলের প্রস্তুতি ও কৌশলগত রূপরেখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া সফরের মতো চ্যালেঞ্জিং মাঠে। 5
সংক্ষেপে কি ঘটেছে:
৪ অক্টোবর—অজিত আগারকর সূত্রে সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয় যে শুভমান গিলকে ওয়ানডে অধিনায়ক করা হবে। 6
গিল ইতিমধ্যেই টেস্ট অধিনায়ক; এখন ওয়ানডেও তাঁর নেতৃত্বে দল অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে। 7
রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি—দুইজনেই খেলোয়াড় হিসেবে দলের অংশ থাকবেন এবং অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে নাম থাকছে। 8
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো—এই বদল টিম বিল্ডিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। তরুণ নেতৃত্বকে সময়মতো দায়িত্ব দিয়ে আগামী ২০২৭ বিশ্বকাপের দিক লক্ষ্য রেখে কাঠামো গঠন করা হচ্ছে। তবে সিনিয়র ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা ও মানসিক সমর্থন ছাড়াও প্রয়োজন, যাতে দলীয় ভারসাম্য বজায় থাকে। অনলাইন প্রতিক্রিয়ায় ভক্ত ও বিশ্লেষকরা নানা মত দিয়েছেন—কেউ এটিকে ভবিষ্যৎমুখী উদ্যোগ বলছেন, আবার অনেকে বলছেন বড়ো নামদের থেকে এই পদক্ষেপ নেয়া সহজ নয়। 9
শেষ পর্যন্ত গিলের বক্তব্যে একটি বার্তা স্পষ্ট—“ভারতীয় অধিনায়কত্ব পাওয়া সম্মানজনক এবং আমি দলের জন্য আমার সেরাটা দেব”। সামনে অস্ট্রেলিয়া সফর, বিশেষত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ (১৯–২৫ অক্টোবর) গিলের নেতৃত্বে নতুন ভারতকে প্রথম বড় পরিক্ষা। যুক্তিসঙ্গত পরিকল্পনা, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সাথে সমন্বয় ও মাঠে প্রত্যেকের পূর্ণতা উপস্থাপন করতে পারলে পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই ফলপ্রসূ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। 10
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
সির (SIR) নিয়ে বিতর্ক: শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ও রাজ্যের রাজনৈতিক প্ররোচনা
পুজো মিটতেই SIR তোরজোর: শুভেন্দু অধিকারীর দাবি — "ঠিকঠাক SIR হলে ১ কোটিরও বেশি নাম বাদ যেতে পারে"
প্রকাশকাল: 09 অক্টোবর 2025 | প্রতিবেদক: Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
পুজোর পর রাজ্যব্যাপী ও সার্বিক রাজনৈতিক আলোচনা ঘনায়েছে — এই আলোচনার কেন্দ্রে এখন SIR (Special Intensive Revision / Special Summary Revision) — এক ধরনের সংবেদনশীল ভোটার তালিকা পরিমার্জন কর্মসূচি। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে প্রস্তুতি যাচাই–পর্যায়ে আছে এবং যে কোনসময়ে SIR ঘোষণা হতে পারে। এতে রাজ্য রাজনীতিও সরব হয়েছে।
টেকনিক্যালভাবে SIR হল ভোটার তালিকা নতুন করে যাচাই ও হালনাগাদ করার একটি বিস্তৃত ও তৎপর কর্মসূচি, যেখানে প্রতিটি বুথের এলাকার ভোটার তালিকা ঘরে ঘরে যাচাই করার জন্য বুথ-স্তরের কর্মী (BLO) সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য—ভোটার তালিকা সঠিক ও স্বচ্ছ রাখা। 0
ফাইল ছবি: বুথ-স্তরের কর্মীরা (BLO) সাধারণত প্রত্যেক পোস্টিং এলাকায় নাম যাচাই করেন।
“...আমি বলব, সঠিক এসআইআর হলে গত ১০-১২ বছরে বাংলাদেশের মুসলমান যে ভাবে ঢুকেছে… এতে ১ কোটির বেশি নাম বাদ যাওয়া উচিত।” — শুভেন্দু অধিকারী (বিধানসভা ভোট ইস্যুতে)
বিধানসভা বাইরে সাংবাদিকদের সামনে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর আশঙ্কা ও দাবিগুলো খুলে বলেছেন — তিনি বলেন, বিহারের SIR–এ রাজ্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ সফলতা দেখা গেছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস, সম্প্রদায়ভিত্তিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা–চ্যালেঞ্জ গम्भীরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি এও জানান যে BLO যদি নির্ভয়ে মাঠে কাজ করতে না পারেন, তাহলে যাচাই প্রক্রিয়ার ফলাফল প্রশস্তভাবে প্রভাবিত হবে।
SIR ও BLO—সংক্ষেপে:
SIR—ভোটার তালিকা সম্পূর্ণরূপে পুনরায় যাচাই/হালনাগাদ করার বিশেষ তৎপরতা। বিভিন্ন রাজ্যে এই পদ্ধতি সময়ভিত্তিকভাবে ভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। 1
BLO (Booth Level Officer)—বুথ স্তরের সেই স্থানীয় কর্মকর্তা/কর্মী যিনি মাঠে ঘুরে ভোটারের তথ্য যাচাই, নতুন যোগ, এবং অপ্রয়োজনীয় নাম বাদ দেওয়ার কাজ করেন। BLO সাধারণত ওই এলাকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রতিনিধিত্ব করেন। 2
শুভেন্দু দাবি করেছেন, গত ১০–১২ বছরে সীমান্ত–সংলগ্ন অঞ্চলে অনিবন্ধিত নাগরিক–উপস্হিতি বা অনিয়মের কারণে ভোটার তালিকায় অনেক অনিয়ন্ত্রিত নাম যুক্ত হয়েছে — ফলে সঠিক SIR হলে এক কোটি বা তার বেশি সংখ্যক নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা ও প্রত্যাশা উভয়টাই ব্যক্ত করেছেন। এই ধরনের সংখ্যাগত দাবি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন—SIR-এর ধারা ও প্রক্রিয়া যদি কঠোরভাবে চালানো হয়, তাহলে মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বিগুণ এন্ট্রি বা অনুপযুক্ত এন্ট্রিগুলো চিহ্নিত হতে পারে; আবার একই সময়ে, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, পরিচয় যাচাইয়ের বিধি ও প্রতিটি কেসে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনি ব্যাখ্যার গুরুত্ব অপরিহার্য। বিহারের ক্ষেত্রে কমিশন কর্মসূচি চালিয়ে সফলতা দাবি করলেও তা নিয়ে আইনগত ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ উঠেছে—কিছু সংগঠন SIR-এর পদ্ধতি এবং মানদণ্ড নিয়ে উচ্চ আদালতে আপত্তি জানিয়েছে। 3
শুভেন্দু আরও বলেন, বিজেপি সারাবঙ্গে মাঠে সক্রিয় থাকবে এবং বিশেষভাবে মুসলিম-ঘনত্বপূর্ণ বুথগুলোতে দলের কর্মীদের সরাসরি মাঠে রাখার কথা তিনি উল্লেখ করেন না—কারণ তাঁর কথায় কর্মীদের ওপর আক্রমণের ঝুঁকি থাকায় 'প্রাণ দিয়ে' কাজ করিয়ে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছেনা। তিনি বললেন, তবু দলের দৃষ্টি থাকবে, এবং প্রয়োজনীয় রাজকৌশল গ্রহণ করা হবে।
অপর পাশে, নির্বাচন কমিশন ও দায়িত্বশীল প্রশাসন সতর্ক করেছেন যে SIR একদিকে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করবে, অন্যদিকে এটি সম্পন্ন করার সময়, পদ্ধতি ও তথ্যপ্রমাণের ওপর নির্ভর করবে প্রতিটি সিদ্ধান্ত। BLOদের নিরাপত্তা, মাঠে তাদের চলাফেরা ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অংশগ্রহণ—এসব বিষয়ই নির্ধারণ করবে কার্যকারিতা ও সুনামের কথা। 4
রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে শুভেন্দুর কথায়ও স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল—SIR ভালভাবে হলে, ভোটার তালিকার পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে কাদের উপকার করবে তা মন্তব্য করে তিনি বলেছিলেন, তাদের গ্যাপ এবং নির্বাচনগত অবস্থান নিয়ে হিসাব-নিকাশের কথা তুলে ধরেন। রাজ্য রাজনীতি ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ; SIR চালুর পরে দলের স্ট্র্যাটেজি ও জনমত বিশ্লেষণ আরও তীব্র হবে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।
“আমরা আশা করব ইলেকশন কমিশন এই চ্যালেঞ্জে উতরে কাজ করবেন।” — শুভেন্দু অধিকারী
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণে বলা যায়—SIR হতে পারে নির্বাচন ব্যবস্থার শুদ্ধি ও স্বচ্ছতার একটি বড় পদক্ষেপ; তবে একই সময়ে তার কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, আইনি ফ্রেমওয়ার্ক এবং মাঠে তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতির উপর। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক নির্দেশনা, BLOদের প্রশিক্ষণ ও নাগরিকদের কাছে স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা সঠিকভাবে বজায় থাকলেই SIR-এর লক্ষ্য অর্জিত হবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
প্রকাশক: সালমা মণ্ডল | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো | প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৫
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নতুন শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হলেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ১৩,৪২১টি শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। কিন্তু ‘টেট’-এর প্রশ্ন ভুল নিয়ে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারীরা।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে একটি নতুন মামলা দায়ের হয়, যেখানে বলা হয়েছে— প্রশ্ন ভুলের অভিযোগ এখনও বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ প্রশাসনিকভাবে অন্যায্য ও বিভ্রান্তিকর। বিচারপতি ওম নারায়ণ রাই আবেদনটি গ্রহণ করে মামলার শুনানির অনুমতি দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই বিষয়টি আদালতে তোলা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, ২০১৭ ও ২০২২ সালের টেট পরীক্ষায় অন্তত ২০টি প্রশ্ন ভুল ছিল বলে প্রার্থীদের দাবি। তাঁর কথায়, “যদি সেই প্রশ্নগুলির জন্য প্রাপ্য নম্বর দেওয়া হয়, অনেক পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবেন। তাই বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তির আগে নতুন নিয়োগ শুরু করা যুক্তিসঙ্গত নয়।”
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া শুরু হলে বহু যোগ্য প্রার্থী আবেদনের সুযোগ হারাবেন। কারণ প্রশ্ন ভুল সংক্রান্ত রায় তাঁদের পক্ষে গেলে তাঁরা পরবর্তী নিয়োগের যোগ্যতা অর্জন করবেন। তাই নতুন বিজ্ঞপ্তি স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়েছে আদালতের কাছে।
উল্লেখ্য, টেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল সংক্রান্ত মামলা নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সেই কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিটি অভিযোগ যাচাই করে আদালতে রিপোর্ট পেশ করার। কিন্তু রিপোর্ট জমা পড়ার আগেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, যা চলবে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত। তবে মামলা দায়েরের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হবে কি না, তা এখন আদালতের নির্দেশের উপর নির্ভর করছে।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা উচিত, যাতে নতুন কোনও বিভ্রান্তি বা আইনি জটিলতা না তৈরি হয়। অন্যদিকে পর্ষদ কর্তারা দাবি করছেন, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের জন্য দ্রুত নিয়োগ অপরিহার্য।
ফলে একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে প্রশাসনিক তাড়না— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে হাজার হাজার প্রাথমিকে চাকরি প্রত্যাশী।
শ্যালিকা-জামাইবাবু থেকে স্বামী-স্ত্রীর পথে: তন্নু ও রাহুলের সম্পর্কের সংঘাত ও বিয়ের কাহিনি
শ্যালিকা-জামাইবাবু থেকে স্বামী-স্ত্রীর পথে: তন্নু ও রাহুলের সম্পর্কের সংঘাত ও বিয়ের কাহিনি
রিপোর্ট: Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো | স্মরণিকা: 8 অক্টোবর, 2025
গৃহপরিচারিকা বা আত্মীয়ের কেয়ার—দায়বদ্ধতার নাম নিয়ে ঢোকার পরিণতি কখনো কখনো অনपेক্ষিত মোড় নেয়। বিহারের জামুই জেলার খাইরা থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এক সম্পর্কের গল্প তেমনই। দিদির বিলোপিত পরিবারের দায় নেওয়া থেকে শুরু করে জামাইবাবুর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পথে পরিবারের প্রতিক্রিয়া, লুকোচুরি, বিতণ্ডা এবং শেষমেশ মন্দিরবিবাহ—সবই কাহিনিতে রয়েছে।
গিধেশ্বর শিব মন্দির—জামুইয়ের পারিবারিক মন্ডলীর পরিচিত ধর্মীয় স্থান, যেখানে তন্নু ও রাহুল নিবন্ধনীয় বিয়ে সম্পন্ন করেন। (ছবি: স্থানীয়)
সংক্ষিপ্ত সারমর্ম:
নীলমের মৃত্যুতে তার মেয়ের দেখাশোনা করতে বাড়ি গেলে তন্নু পড়েন তার শাশুড়বাড়ির জামাই রাহুলের সঙ্গে; শুরু সীমিত দায়বোধ, পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক—পরিবারের আপত্তি, দূরত্ব, গোপন দেখা-শোনা এবং অবশেষে দুই পরিবারের সম্মতিতে মন্দিরে বিয়ে।
ঘটনাটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি তন্নু—আমারি গ্রামের বাসিন্দা। তন্নুর দিদি নীলমের বিয়ে হয়েছিল বাতাসপুরের বাসিন্দা রাহুলের সঙ্গে। ভেন্ট্রিকেলে সংসারের ছন্দ ছিল অবিচল। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের একটি কন্যা সন্তানও ছিল। কিন্তু কন্যার বয়স প্রায় দেড় বৎসর হলে নীলম অকালেই রয়ে যান।
নীলমের প্রয়াণের পর, পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকে তন্নু চলে যান দিদির বাড়ি; মেয়েটির দেখাশোনা, বাড়ির কাজ—সব কিছুতে হাত বাড়ান তিনি। গ্রামের সামাজিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গে এমন দায়িত্ব নেওয়া ব্যাপক প্রশংসিত। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে দায়েরসঙ্গীতা একটি নতুন রূপরেখা নেয়—তন্নু ও রাহুল একে অপরের প্রতি ম্যারাঞ্জ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন।
শুরুটা ছিল দায়িত্ব-অনুপ্রাণিত—শিশুর দেখাশোনা, ঘর-বাড়ির দায়িত্ব বিনিময়ে দু'জনের মধ্যকার সান্নিধ্য বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে সেই সান্নিধ্য থেকে জন্ম নেয় ঘনিষ্ঠতা; ধোঁয়াশা ছড়ানোর আগেই সম্পর্ক গভীরতর হয়।
কিন্তু পরিবার সবসময়ই সহজে মেনে নেয়নি।
প্রতিটি পরিবারে সামাজিক মর্যাদা, সম্মান ও সংস্কার মেনে চলার প্রত্যাশা থাকে—বিশেষত এমন সম্পর্ক যেখানে সম্পর্কের সূচনা শাশুড়বাড়ি ও শ্যালিকার মাঝেই। খবরটি দুই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে পৌঁছালে প্রতিবাদের স্রোত বয়ে ওঠে। বহির্বিশ্বের সমালোচনা, আত্মীয়স্বজনের রোষ—সব মিলিয়ে পারিবারিক অশান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
প্রাথমিকভাবে তন্নুর বাবা-মা তন্নুকে জামুই ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং সম্পর্ক বিচ্ছেদের হুমকি জানান। তাদের ধারণা—দূরত্ব বজায় রাখলে সম্পর্কের আগুন অনুভবহীন হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দূরত্ব যেন সম্পর্ককে দুর্বল করার বদলে আরো পাকা করে তোলে; লুকোচুরি, মিলন-সাক্ষাৎ—সবই সীমাবদ্ধ চেষ্টায় ঘনিয়ে ওঠে।
রাহুলও থেমে থাকেননি। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের সমর্থন নিয়ে তিনি পরিবারগুলোর কাছে তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অনুরোধ শুরু করেন। লম্বা আলোচনার পর—সম্ভবত পারিবারিক চাপ, স্থানীয় সামাজিক বিবেচনা ও সরাসরি সমঝোতার মাধ্যমেই—অবশেষে দুই পরিবারই নরম হন।
দুটি পরিবারিক আশীর্বাদ মিলেই গিধেশ্বর মন্দিরে নিয়ম মেনে অনুষ্ঠিত হয় তন্নু ও রাহুলের বিয়ে। মন্দিরটি ওই এলাকার পরিচিত ধর্মীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে—যেখানে গ্রামের মানুষ বারবার আসে আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য। বিয়ের দিন উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের বহু সদস্য; স্থানীয়ভাবে এই ঘটনার গুরুত্ব অনুভূত হয়।
এ ঘটনাটি স্থানীয় সমাজে নানা প্রশ্নও তুলেছে—কীভাবে দায়-দায়িত্ব থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ধারণার সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করে? কোথায় পড়ে ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও সামাজিক বিধিবিধান—এ প্রশ্নগুলো এই কাহিনির মধ্যেই বারবার উঠে আসে।
একদল নেটিজেন এই সম্পর্ককে 'প্রেমের স্বাধীনতা' ও 'বাধা অগ্রাহ্যতা' হিসেবে দেখেন; অনেকে আবার পরিবার ও সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলার কথা বলছেন। স্থানীয় ক্ষেত্রবিশেষে এমন রকমের সম্পর্ক ভিন্নমত সৃষ্টি করে—কারণ প্রত্যেক পরিবারের নিজস্ব ইতিহাস, সম্মান-সংবেদনশীলতা ও সামাজিক অবস্থান আলাদা।
দুঃখজনক পাশাপাশিই দেশের আরেকটি বিস্ময়কর কেনো কাণ্ডও সামনে আসে—নিয়মিতভাবে শ্যালিকা-জামাইবাবু সংক্রান্ত নাটকীয় কাহিনির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। অক্টোবরের শুরুর দিনগুলোতে উত্তরপ্রদেশের এক ঘটনাও আলোচনায় ছিল, যেখানে সম্পর্ক ও পরিবারগত সহিংসতার মিশ্র ফলাফল হিসেবে প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটও দেশের সামাজিক ও আইনগত আলোচনাকে জোরদার করে।
তন্নু ও রাহুলের কাহিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—প্রেম ও দায়বদ্ধতার মধ্যে সূক্ষ্ম সীমারা উপস্থিত। সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত ইচ্ছার মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা করা যে সহজ নয় তা এই কাহিনি স্পষ্ট করে দেখায়। অবশেষে—এই দম্পতির সিদ্ধান্ত ও দুই পরিবারের একত্রে নেওয়া সমর্থনই তাদের নতুন জীবনের পথ প্রশস্ত করেছে।
বুধবার দুপুরে উত্তরবঙ্গ পরিদর্শনের পরে ফেরার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে বলেন, "আমি দুঃখিত, এই কথা বলতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, অমিত শাহতেই সাবধান থাকুন। সব বিষয়ে ওঁকে ভরসা করবেন না। উনিই সবচেয়ে বড় মীরজাফর।" এই মন্তব্যের পর সঠিক রাজনৈতিক শহরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। 0
“এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তি-সম্বোধন নয়—এটি রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি, যা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং পার্টি-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে,”—রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়ন।
মমতার এই অবস্থান প্রকাশের পর সিপিএম, কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক খামগুলোর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সিপিএম নেতা রবীন দেব সরাসরি প্রশ্ন তোলে যে, “উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বিপর্যয়কে আড়াল করতেই মমতা এই ধরণের কেন্দ্র-নির্ভর বক্তব্য দিচ্ছেন।” তিনি অভিযোগ করেন—রাজ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বহীনতা রয়েছে এবং টার্গেট ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর উদ্দেশ্য রয়েছে। (রবীন দেবের উদ্ধৃতি—প্রদত্ত বক্তব্য অনুসারে)।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও তৃণমূল এবং বিজেপিকে সমধিক সমালোচনার শিকার করেন; তিনি বলেন যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়েছে এবং “বাইনারি পলিটিক্স” তৈরি করে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুভঙ্কর সরকারের দাবি—জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা এবং দ্রুত আর্থিক—মানবিক সহায়তা চালুর দাবি উঠছে। (উল্লেখ্য: এই বক্তব্যগুলি প্রতিবেদকের কাছে প্রাপ্ত সরকারী ও রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী উপস্থাপিত)।
প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, মমতা যে কাউকে বিশ্বাস করেন বা না করেন—সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার; কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে এমন বক্তব্য “অপমানজনক” এবং “ছোট মনের পরিচয়” বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, মমতার ওপর জাতীয় স্তরে আস্থা নেই—এমন আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে। 1
সূত্র: Indian Express, India Today, Times of India, Hindustan Times, Deccan Herald. 2
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতার এই মন্তব্য কোনো একক ঘটনা নয়—এটি দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আরেকটি প্রকাশ। গত কয়েক দফায় কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণ ও স্থানীয় বাস্তবতার মধ্যে বিরোধ ও আর্থিক—প্রশাসনিক সম্পৃক্ততা নিয়েই এই উত্তেজনা গোনা যায়। অপরদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর দলে অনেকে মনে করেন, এমন বক্তব্য শক্তভাবে কেন্দ্রে তৎপরতা ও নজর আকর্ষণ করতে সক্ষম।
নাগরিক-সমাজ ও গণমাধ্যমেও এই মন্তব্যকে বড় আকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনেকে জানিয়েছেন, দুর্যোগ-প্রশাসন ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ নিয়ে রাজনৈতিক বিবাদ সাধারণ মানুষের সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে দেয়—এমনটাই তাদের সমালোচনা। অন্যদিকে কিছু সমর্থক এই মন্তব্যকে ন্যায়-প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন—তাদের মতে, কেন্দ্রে ঘনিষ্ঠ শক্তিগুলোর অপ্রাসঙ্গিক কর্তৃত্ব সম্পর্কে থাকা উচিত সতর্কতা।
যা স্পষ্ট—এই পরস্পর-অভিযোগ রাজনীতিকে আরও তীব্রতর করেছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমঝোতা ও স্বচ্ছ সমন্বয় না হলে বাস্তব দুর্যোগ মোকাবেলার কাজ কষ্টকর হবে—বিশ্লেষকরা এমনই সতর্ক করছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, সর্বদলীয় সমন্বয় ও সত্যিকার ভূমিকা নিয়েই উত্তরবঙ্গের দুর্যোগ থেকে পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজে নিতে হবে, তা তাদের মত।
আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর উত্তর প্রতিক্রিয়া ও কেন্দ্র-রাজ্য মধ্যকার কথাবার্তা কিভাবে গঠিত হয়—সে দিকে দেশজুড়ে নজর থাকবে। মিডিয়া রিপোর্ট ও দলীয় বিবৃতি অনুসারে পরিস্থিতির পুরোদমে প্রতিফলন ও সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করা হবে। 3
গুয়াহাটি: সিঙ্গাপুরে জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যু — CID গ্রেফতারের পর তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়
গুয়াহাটি: সিঙ্গাপুরে জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যু — CID গ্রেফতারের পর তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়
প্রকাশক: ওয়াসীমা সুলতানা | তারিখ: ৮ অক্টোবর ২০২৫ | রিপোর্ট: গুয়াহাটি
ছবি: জুবিন গর্গ (ডান) এবং সন্দীপন গর্গ—CID সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসারে সন্দীপন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের উত্তর-পূর্বের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ও গায়ক জুবিন গর্গ-এর (৫২) রহস্যজনক মৃত্যু ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে ঘটেছে—তার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে চলছে তীব্র চলমান তদন্ত। ঘটনার শুরু থেকেই রহস্য ও ষড়যন্ত্র-অভিযোগ মিশ্রিত আলোচনা চলেছে; সম্প্রতি মামলায় এক নতুন মোড় এসেছে যখন ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (CID) গায়কের আপন আপোদাস্ব সৎভাই ও অসম পুলিশের অফিসার সন্দীপন গর্গ-কে গ্রেফতার করেছে এবং তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটি থেকেই নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল-এ যোগ দিতে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন জুবিন। সেখানে একটি ইয়ট ট্রিপে অংশ নেওয়ার সময় সমুদ্রের কাছে সাঁতার কাটার পর রহস্যজনকভাবে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং পরে হাসপাতালে পৌঁছে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে নানা তদন্ত ও জল্পনা শুরু হয়।
প্রসঙ্গগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (সারাংশ):
জুবিন গর্গ ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রের কাছে সাঁতার কাটার সময় নিখোঁজ হন; পরে তাকে হাসপাতালে নিলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
CID ও SIT তদন্তে গায়কের ম্যানেজার, অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং দুই সহকর্মী—শামকানু মহন্ত, সিদ্ধার্থ শর্মা, শেখরজ্যোতি গোস্বামী ও অমৃতপ্রভা মহন্তসহ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার বা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে কিছু ক্ষেত্রে হত্যার অভিযোগ (বিএনএস/আইপিসি-এর সংশ্লিষ্ট ধারায়) অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং মামলাটি বর্তমানে উচ্চমাত্রার বিচারকীয় অনুসন্ধান ও সাইলো-জোরা তদন্তের অধীনে।
স্থানীয় সরকার, বিশেষত রাজ্যের মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাটির দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জনগণের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তদন্তকারি সূত্র বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক সূত্র অনুসন্ধানে কিছু প্রাসঙ্গিক ভিডিও ফুটেজ এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের বিবরণ পেয়েছে SIT ও CID। ওই ভিডিওগুলিতে দেখা গেছে, ইয়ট ট্রিপ চলাকালে জুবিন কেবল একা সাঁতার কাটছিলেন না—কয়েকজনই তাঁর সঙ্গে ছিলেন, কেউ তাঁকে ঘিরে ছিল, আর কেউ ভিডিও তুলে রেখেছিলেন। তদন্তকারীরা ওই ফুটেজ এবং ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের ডেটা বিশ্লেষণ করছেন যাতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় ঘটনাক্রম কিরূপ ছিল।
জবানবন্দি অনুযায়ী, একাধিক গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি তদন্তে বিভিন্ন পর্যায়ে জানিয়েছে যে ঘটনাটি দুর্ঘটনার মতোই মনে হলেও কিছু অস্বাভাবিক দিক রয়েছে। এক গ্রেফতারকৃত সহকর্মী দাবি করেছেন যে গায়ক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছু সময় পর তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে বাঁচানো যায়নি—তবে আরেক গ্রেফতারের মাটির সূত্রে অভিযোগ ওঠেছে যে হয়তো কোনো প্ররোচনা বা বিষক্রিয়া থাকতেই পারে; এ ধরনের দাবিও তদন্তে তোলা হয়েছে।
ঘটনার পরে রাজ্যব্যাপী শোক ও উদ্বেগ দেখা দেয়। বৃহৎ সংখ্যক ভক্ত এবং শিল্পমহল শোকাহত হলেও একই সময় ঘটনাটি নিয়ে কটূক্তি, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাটির ন্যায্য বিচার ও প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সিঙ্গাপুর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই ঘটনায় প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে—তবে সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি প্রমাণ সংগ্রহ বা ফরেনসিক রিপোর্ট আসা কিছুটা সময়সাপেক্ষ কাজ।
আইনগত তথা ন্যায়বিচার সম্পর্কিত নিয়তি:
এই ধরনের রকমারি ঘটনা তদন্তে আদালত প্রক্রিয়া, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদ—এই তিনটি অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দীপন গর্গকে CID হেফাজতে নেওয়ার পর আজ তাঁকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং পুলিস রবিবারের রিমান্ডের জন্য আবেদন করলেও আদালত বিচারিক কারণ বিবেচনায় গ্রহণ করে সাত দিনের রিমান্ড প্রদান করতে পারে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় অভিযোগ এনেছে পুলিশ—তারা যদি বাংলাদেশ/সিঙ্গাপুর ইন্টারঅ্যাকশনের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে রেকোয়েস্ট করা হতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও ভক্তদের মধ্যে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দাবি-অভিযোগ করছেন—কেউ বলছেন গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত না করলে সরকারের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে, আবার কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন। পুলিশি তদন্তে রাজনৈতিক কোনো হস্তক্ষেপ যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনও বারবার আশ্বস্ত করেছে যে তদন্ত স্বাধীনভাবেই চালানো হবে।
বর্তমানে তদন্তকারীরা নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো যাচাই করছেন: (১) ইয়ট ও সাঁতার সংক্রান্ত যে ভিডিও ও ফুটেজ আছে—তার সম্পূর্ণ ক্রনোলজি; (২) যেসব ব্যক্তিরা ঐ সময়ে ইয়টে ছিলেন—তাদের গতিবিধি ও মোবাইল/কমিউনিকেশন ডেটা; (৩) গায়কের শারীরিক মর্যাদাসূচক রিপোর্ট ও সিঙ্গাপুর থেকে প্রাপ্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট; (৪) ঘটনার আগে-পরে ওই আয়োজনের আর্থিক লেনদেন ও দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব-পরিসর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ঘটনায় জটিলতা বেশি থাকে—কারণ প্রাথমিক প্রমাণ-উপাদান বিদেশে পাওয়া গেলে তা আনতে কূটনৈতিক ও প্রক্রিয়াগত সময় লাগে। তবুও ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঠিকভাবে সিঙ্গাপুর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করলে দ্রুত অর্থপূর্ণ ফল পাওয়া সম্ভব। জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে পেতে সর্বোপরি দরকার স্বচ্ছতা ও সময়মতো তথ্য প্রকাশ।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে তারা চাইছেন—দ্রুত এবং সুষ্ঠু তদন্ত হোক যাতে মর্মান্তিক ভাবে বিদায় নেওয়া শিল্পীর প্রতি ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়। পরিবার ও ভক্তগণ রাষ্ট্রকে আস্থা দেখিয়ে রেখেছেন এবং প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেছেন যেন তথ্য আড্ডা-সূত্রে গোপন রাখা না হয়।