🗓 প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | ✍ প্রতিবেদন: Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
বিহারের প্রথম দফা বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রকাশ করল তারকা প্রচারকদের তালিকা। কিন্তু এই তালিকায় নেই বাংলার কোনও গেরুয়া নেতা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে— কেন পড়শি রাজ্যের ভোটে বাদ পড়লেন বাংলার মুখেরা?
তথ্যবক্স:
বিহারে এবারের বিধানসভা নির্বাচন তিন দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। মোট আসন সংখ্যা ২৪৩, যার মধ্যে প্রথম দফায় ভোট হবে ৯৪টি আসনে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বাংলার গেরুয়া শিবিরের নেতাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নতুন কৌশল নিয়েছে। কারণ হিসেবে অনেকে বলছেন, বিহারের ভোট মাটিতে স্থানীয় নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিতে চায় বিজেপি। অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, বাংলায় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পর থেকে কেন্দ্র হয়তো সংবেদনশীল রাজ্যগুলির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে।
এদিকে, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চায়নি। তবে দলের একাংশের মতে, “এটি কেন্দ্রের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বিহারের নির্বাচনে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্যই এমন পদক্ষেপ।”
অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরের এক নেতা কটাক্ষ করে বলেছেন, “বাংলার নেতাদের বাদ দেওয়া মানে দলের ভিতরে আস্থার অভাব। বিজেপি বুঝে গিয়েছে, বাংলা থেকে ভোট টানতে আর তাদের মুখ কাজে লাগবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিহারে বিজেপি-জেডিইউ জোটের জন্য প্রচার অভিযানকে ঘিরে কেন্দ্রীয় স্তরে প্রচুর কৌশল নেওয়া হয়েছে। আর সেই কারণেই তারকা প্রচারকের তালিকা এবার বিশেষভাবে সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে।
SIR ইস্যুতে BJP–TMC ঝগড়া: সুকান্ত মজুমদার—কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া তর্কবিতর্ক
SIR ইস্যুতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী—সাংসদের কড়া বাকযুদ্ধ: শ্রীরামপুরে গেলেই দেখা হবে — সুকান্ত
রিপোর্ট: Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো •
•
লেখক: সালমা মন্ডল
সুকান্ত মজুমদার (বাঁদিকে) ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়—SIR ইস্যুতে তীব্র বাকযুদ্ধ।
SIR (Special Intensive Revision) ইস্যুকে কেন্দ্র করে BJP ও তৃণমূলের মধ্যে বাকযুদ্ধ তীব্র রূপ নিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের কিছু মন্তব্যের পর শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন—এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা এবং চ্যালেঞ্জ-প্রতিপ্রাশ ভেঙে পড়ে। 1
বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার SIR ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য করায় শ্রীরামপুর থেকে রিপ্লাই দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় পর্যায়ে কল্যাণ আক্রমণাত্মক ভাষায় পাল্টা তোপ দাগেন এবং শ্রীরামপুরে এসে দেখা করার চ্যালেঞ্জ জানান। 이에 সুকান্ত বলেন তিনি রাতারাতি শ্রীরামপুরে পৌঁছে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি দেখবেন এবং প্রয়োজন মনে করলে কঠোর অবস্থান নেবেন—এই কথাবার্তাও প্রকাশ্যে এসেছে। 2
সুকান্ত মজুমদারের উদ্ধৃতি (সংক্ষেপ):
“একজন সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে গুলি করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এঁদের এখন বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো উচিত। আমি কালই যাচ্ছি ওঁর এলাকায়। দেখি না কী করে! কত বড় বাপের ব্যাটা হয়েছে দেখব।” 3
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে—সুকান্তকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন “তুই তোকারি, তুই আয় শ্রীরামপুরে; কীভাবে ঘরে ফিরিস—দেখব” ধাঁচের উক্তি করেছেন বলে সংবাদে বলা হয়েছে। স্থানীয় এবং রাজ্য রাজনীতি পর্যায়ে দুইপক্ষের আলোচনার সীমা দ্রুত উত্তাল হয়ে উঠেছে। 4
পরিপ্রেক্ষিত (সংক্ষেপ):
SIR (Special Intensive Revision) — ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ ও হালনাগাদ নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে।
রান্নাঘরে—এই ইস্যুতে কেন্দ্র এবং রাজ্য স্তরে সমালোচনা-প্রতিউত্তর বেড়েছে; উভয় দলের শীর্ষ নেতারা মাঠে সক্রিয়।
এই বাকযুদ্ধের ফলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কিছু পর্যবেক্ষক।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনী সংবেদনশীল বিষয়ে এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং উগ্র মন্তব্য রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে — যা কখনও কখনও সীমলঙ্ঘনের ঘটনা বা উত্তেজনা বাড়াতে পারে। উল্লেখ্য, উভয় পক্ষের বক্তব্য পেশা-ভিত্তিক এবং সংবাদসাংবাদিকতার পর্যালোচনায় ব্যাপকভাবে কভার করা হয়েছে। 5
পুলিশ এবং প্রশাসনিক সূত্র এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক আপিল বা আইনগত নোটিসের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে বড় ঘোষণা করেনি। কিন্তু রাজনৈতিক মোকাবিলার সময় প্রশাসনিক শান্তি রক্ষা এবং আইনি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। স্থানীয় নেতা-দলগুলোর মতো সাধারণ মানুষও সামাজিক মিডিয়ায় এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। 6
কি ঘটবে এখন?—বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় নেতা যদি এলাকায় গিয়ে রণক্ষেত্র আরও তীব্র করেন, তাহলে স্থানীয় প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। শান্তি বজায় রাখা, বক্তৃতায় সীমা রক্ষা এবং আইনের আওতায় যেকোনো অভিযোগের দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা: আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি প্রত্যেককে ১০,০০০ টাকা অনুদান
মুখ্যমন্ত্রী মমতা: আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি প্রত্যেককে ১০,০০০ টাকা অনুদান
রিপোর্ট: Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো •
•
লেখক: সংবাদ বিভাগ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন রাজ্যের প্রত্যেক আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি (ICDS) কর্মীর অ্যাকাউন্টে এককভাবে ১০,০০০ টাকা করে জমা হবে। সরকার জানিয়েছে এই অর্থ মূলত স্মার্টফোন কেনার জন্য প্রদত্ত পুরস্কার—যাতে কর্মীরা ডিজিটাল সেবা ও যোগাযোগে আরও দক্ষ হন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সমাজের দরিদ্রতম পরিবারের সঙ্গে কাজ করে শিশুস্বাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য ও নারীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাঁদের কাজকে স্বীকৃতি জানিয়ে এবং ভবিষ্যতে ডিজিটাল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কী থাকছে পদক্ষেপে?
প্রতি আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ১০,০০০ টাকা জমা।
উদ্দেশ্য: স্মার্টফোন কেনা ও ডিজিটাল যোগাযোগ সহজ করা।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
টাকার ডিবিট/ক্রেডিট প্রসেস সম্পর্কে কর্মীদের নিকটস্থ অফিসে নোটিফিকেশন দেয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে মাতৃদণ্ডা ও আঙ্গিক অ্যাকাউন্ট ডেটা মিলিয়ে। যাদের নম্বর বা ব্যাঙ্ক ডিটেইল আপডেট নেই, তাঁদের দ্রুত স্থানীয় তিনি/অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে যাতে অর্থ সফলভাবে পৌঁছে যায়।
এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বহু স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কর্মী নেতারা। তাঁরা বলছেন, ডিজিটাল যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে টাস্ক রিপোর্টিং, অনলাইন প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য-জনিত কার্যক্রমে অনেক সুবিধা হবে। অনেকে আশা করছেন ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত সহায়তা ও বেতনবৃদ্ধি সম্পর্কেও সরকার বিবেচনা করবে।
সরকার কর্তৃক ঘোষিত এই অনুদান সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা এবং কর্মী তালিকা প্রকাশ করা হবে রাজ্য সর্ভিস পোর্টালে এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। কর্মীরা অভিযোগ বা প্রশ্ন থাকলে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন/ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারবেন—নির্দিষ্ট নম্বর ও লিংক দ্রুতই প্রদান করা হবে।
শুভেন্দুদের হুঁশিয়ারি: "SIR না হলে ভোট হবে না, ৪ মে ২০২৬ পরে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন" — বিস্তারিত
শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি: "SIR না হলে ভোট হবে না — ৪ মে ২০২৬ পরে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন"
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | রিপোর্টার: আপনার নাম (কপি-রাইট মুক্ত)
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি পুনরায় তীব্র ভাষায় SIR (Special Intensive Revision) নিয়ে অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “বাংলায় SIR হবেই। কিন্তু ভারতীয় মুসলিমরা নিশ্চিন্ত থাকুন — কারও নাম বাদ যাবে না। যদি তৃণমূল SIR করতে না দেয় এবং ভোটার তালিকা ঠিকভাবে গড়ে না ওঠে, ভোট হবে না; তাহলে ৪ মে ২০২৬ রাত ১২টার পরে রাজভবনে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।”
শুভেন্দু অধিকারী বলেন—SIR প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক, তাতে কেউ অনির্দিষ্টভাবে বাদ পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—যদি SIR বাধাগ্রস্ত করা হয় এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে ৪ মে ২০২৬ পরে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন আরোপিত হতে পারে। 4
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে SIR নিয়ে তীব্র রাজনীতি ও জনদাবি চলছে; তৃণমূল SIR-এর বিরুদ্ধে হলেও অংশগ্রহণও করছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। 5
বক্তৃতার প্রেক্ষাপট ও SIR বিতর্ক
Election Commission-এর SIR কার্যক্রম (ভোটার তালিকা বিশেষ তদারকি/সংস্কার) নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি তীব্র হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রিয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও মাঠ পর্যায়ের কাজ নিয়ে তর্ক অব্যাহত—একাই SIR-এর লক্ষ্য ও প্রয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। TMC-র বক্তব্য, SIR-এর নামে বিনা নথি ও অনির্দিষ্টভাবে ভোটার কাটা হতে পারে; অপরদিকে বিরোধীরা (BJP ইত্যাদি) বলছে, এটি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তের উপায়।
শুভেন্দুর ঘোষণার সঙ্গে রাজনৈতিক ফলপ্রসূতা
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উত্থাপিত ‘ভোট হবে না’ ও ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ সংক্রান্ত হুঁশিয়ারি রাজ্য রাজনীতি নতুনভাবে উত্তেজিত করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন মন্তব্য নির্বাচন-সম্ভাব্যতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে স্তরে নিয়ে যেতে পারে — বিশেষত যদি SIR-এর বাস্তবায়ন খারাপভাবে বা বিতর্কিতভাবে সম্পন্ন হয়।
তৃণমূল ও সিভিক প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল লিডাররা SIR-এর বিরুদ্ধে সরব; বিজেপি-বিরোধী ধাঁচে তারা বলেছে, SIR-এর নামে গণভোটারদের অধিকার খোঁচা হতে পারে এবং সংগঠন রাজ্যের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অনুভূতিকে কাজে লাগাচ্ছে। একই সময়ে তৃণমূল কিছু জায়গায় মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে নিজের অনুরোধে ভোটার নথি ঠিক রাখার উদ্যোগ নিয়েছে যাতে আসন্ন যে কোনও ভোটে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
Election Commission বলেছেন, SIR-এর উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা আপডেট করা এবং অসামঞ্জস্য দূর করা—এতে কিছু এলাকার নাম মিল না থাকার সমস্যা সমাধান করা যাবে বলে তারা আশা করছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে তফসিল ও স্টাফ নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। তবু মাঠে ডাটা মিলানোর কাজে চ্যালেঞ্জ আছে—কিছু অঞ্চলে পরিমাণগত মিল কম দেখা গেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্লেষণ: ভবিষ্যৎ কী নির্দেশ করে?
রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবতায় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন ও আইনি/প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। ‘ভোট হবে না’-র মতো হুমকি রাজনৈতিক রণনীতির অংশ হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু বাস্তব রূপ নেওয়ার আগে আইনি ও প্রশাসনিক বাধা-চাপের সম্মুখীন হতে হয়। এই বক্তব্যগুলো রাজ্য-পর্যায়ে ভোটারদের মধ্যে সংশয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে; ফলে সকল পক্ষকে শান্তিপূর্ণ ও আইনি পরিবেশে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জরুরি।
দুর্গাপুর গণধর্ষণ: সিবিআই তদন্ত দাবি পরিবারের, পুনর্নির্মাণে পুলিশের নজর
দুর্গাপুর গণধর্ষণ: সিবিআই তদন্ত দাবি পরিবারের, পুনর্নির্মাণে পুলিশের নজর
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | প্রতিবেদন: Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো | কপি-রাইট মুক্ত
পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় নড়ে উঠেছে গোটা রাজ্য। রাজ্য পুলিশের তদন্ত চলছে দ্রুতগতিতে, কিন্তু নির্যাতিতার পরিবারের দাবি—এই ভয়াবহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সিবিআইয়ের হাতে মামলা তুলে দেওয়া হোক। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য আরও পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পেত।
অভিযুক্তদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ করল দুর্গাপুর পুলিশ। (ফাইল ছবি)
ইতিমধ্যেই শেখ রেয়াজউদ্দিন, অপু বাউড়ি, ফিরদৌস শেখ, নাসিরউদ্দিন ও সফিক শেখ নামে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে এবং পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়েছে। সমস্ত প্রক্রিয়াই ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে রেকর্ড রাখা হয়েছে।
ঘটনার মূল পয়েন্টসমূহ:
পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
নির্যাতিতার পোশাক ও অভিযুক্তদের পোশাক বাজেয়াপ্ত।
ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ ও ভিডিওগ্রাফি সম্পন্ন।
পরিবারের দাবি—সিবিআই তদন্ত হলে সত্য আরও স্পষ্ট হবে।
ওড়িশার বাসিন্দা নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, “রাজ্য পুলিশ ভালো কাজ করছে বলে শুনেছি, কিন্তু আমি মনে করি সিবিআই তদন্ত হলে আরও ভালো হত। ওরা আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়ে এখন কিছুটা স্থিতিশীল। ডাক্তাররা সরাসরি কথা বলেননি, তবে অবস্থার উন্নতির কথা শুনেছি। এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য, মেয়েটিকে অন্য কলেজে ভর্তি করা।”
নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন ওড়িশা মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরাও। তাঁরা ভুক্তভোগীর পুনর্বাসনের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন এবং বলেন, মেয়েটি যাতে নিরাপদ পরিবেশে আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারে, সেই দিকটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্যাতিতার বাবা জানান, “মেয়েকে ওখানে আর পড়াতে চাই না। আমি ওড়িশা মহিলা কমিশনের কাছে আবেদন করেছি যেন ওকে ভালো কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, মেয়ের পাশে তাঁরা থাকবেন।”
অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের নিয়ে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় পুনর্নির্মাণের জন্য। ধৃতদের মধ্যে দু'জনকে তাদের নিজ নিজ বাড়িতেও নিয়ে গিয়ে স্থানীয় তথ্য যাচাই করা হয়। ঘটনার সময় কে কোথায় ছিল, কীভাবে ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল—এসব বিষয়ে পুনর্নির্মাণে খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছেন।
দুর্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে। আদালতের নির্দেশ ও ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করা হবে।” প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি পরিকল্পিত। তাই প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল প্রমাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যজুড়ে এই ঘটনার নিন্দা চলছে। বিভিন্ন সংগঠন নির্যাতিতার পাশে দাঁড়িয়েছে। মহিলা সংগঠন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলির দাবি, দোষীদের যেন উদাহরণমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। নাগরিক মহলের অনেকেই বলছেন, রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সিবিআই তদন্তের দাবি যুক্তিযুক্ত, কারণ এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন নির্যাতনের মামলায় ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সামাজিক পুনর্বাসন সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই তদন্তের পাশাপাশি মেয়েটির মানসিক পুনর্বাসন ও উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
সমাজকর্মীদের দাবি, “এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনকে আরও কড়া হতে হবে।” দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের একাংশ ইতিমধ্যেই কলেজে নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
সবশেষে, নির্যাতিতার বাবার একটাই আবেদন—“দোষীরা যেন আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পায়, আর কোনও মেয়ের সঙ্গে যেন এমনটা না ঘটে।” সেই আবেদন আজ রাজ্যের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
বিহারের আগাম বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আরজেডি শিবিরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভাঙনের আভাস দেখা যাচ্ছে। দল থেকে পৃথক হয়ে বিধায়ক পদে ইস্তফা দিচ্ছেন বহু নেতাই; রবিবার বিধায়ক বিভা দেবী ও প্রকাশ বীর ইস্তফার ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয়েই বিধানসভার স্পিকার নন্দকিশোর যাদবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা জমা করেছেন এবং তা গ্রহণ করা হয়েছে। ইস্তফার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে যে তাঁরা শীঘ্রই নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত জনতা দল (জেডিইউ) কিংবা বিজেপির সঙ্গে আঁতাত ঘটাতে পারেন।
সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
ইস্তফা দিয়েছে: বিভা দেবী (নওদা), প্রকাশ বীর (রাজৌলি) এবং সাম্প্রতিককালে চেতন আনন্দ, সঙ্গীতা কুমারি ইত্যাদি।
সম্ভাব্য গন্তব্য: জেডিইউ/বিজেপি (গুঞ্জনজনক)
নির্বাচন ক্যালেন্ডার: আগামী মাসে বিধানসভা ভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য— আরজেডি-র অভ্যন্তরীণ অনমনীয়তা ও লোকসভা নির্বাচনের সময় কিছু এলাকায় পরিবারভিত্তিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অসম্মানীর ফলেই নেতাদের মনে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে নওদা অঞ্চল থেকে উঠে আসা অন্দোলনের ছোঁয়া, দলীয় সিদ্ধান্তে অংশ না পাওয়া, এবং প্রার্থিতা বিতর্ক—এসব মিলিয়ে ভাঙনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
আরজেডি শিবিরের একাংশের ধারণা, নির্বাচনের আগে যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক নেতাই দল ছেড়ে চলে যায়, তা হলে প্রভাবশালী আসন এবং ভোটের বিন্যাসে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। নিয়মিত শুভানুধ্যায়ীদের আশঙ্কা— এই ধারা অব্যাহত থাকলে জোট রাজনীতি এবং স্থানীয় সমীকরণ বদলে যেতে নেবেই।
অন্যদিকে এনডিএ তৎপর— আসন সমঝোতা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হওয়ায় বিজেপি ও জেডিইউ সমানভাবে ১০১টি আসনে লড়াই করার প্রস্তুতি নেবে; আর ছোট দলগুলোর অংশগ্রহণও নির্বাচনী মানচিত্রে জটিলতা আনবে। এ শ্রমশক্তি-ভিত্তিক রাজনীতি ও ভৌগোলিক রাজনীতিতে আগামী কয়েক সপ্তাহ মাহেন্দ্রক্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
দলীয় নেতৃত্ব দু’পক্ষেই এখন কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র সাজাচ্ছে— নেতাদের টানার চেষ্টা, স্থানীয় শাসন-প্রশাসনিক সমর্থন জোগাড় এবং পাবলিক মুড মেপে কিভাবে নিজেদের প্রার্থীদের লড়াইয়ে জোরদার করা যায়, সেটাই এখন মূল ফোকাস। নির্বাচন-প্রসঙ্গে পাশাপাশিই দরকারীয় ব্যাপার হল— দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান ও গণভোটে পাঠানো বার্তা কতটুকু কার্যকর থাকবে।
সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, বিহারের রাজনৈতিক বতাহ এখন অনিশ্চয়তার সুরে বাজছে— আরজেডি থেকে শুরু হওয়া বিচ্ছিন্ন ইস্তফা ও সম্ভাব্য দলবদল পুরো রাজ্যের নির্বাচনী কৌশল ও ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। ভোটযুদ্ধে কোন পথটি সর্বাধিক প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক সপ্তাহে নেতাদের সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় জনমতের গতি নিয়ে।
তুফানগঞ্জে রাজনৈতিক সংঘর্ষ: তৃণমূল-বিজেপি কর্মী সংঘাতে উত্তেজনা
BDB
তুফানগঞ্জে রাজনৈতিক সংঘর্ষ: তৃণমূল-বিজেপি কর্মী সংঘাতে উত্তেজনা
আপডেট: 13 October 2025 • রিপোর্ট: Bangla Digital Bureau • বিভাগ: রাজনীতি / স্থানীয় খবর
প্রতীকী ছবি — তুফানগঞ্জ শহরের উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য।
দুর্গাপুরের চিকিৎসা পড়ুয়াকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে তুফানগঞ্জ থানায় ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কথা ছিল দলের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই শহরজুড়ে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। থানার সামনে জড়ো হয় দুই রাজনৈতিক পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বচসা, যা পরে রূপ নেয় হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টিতে।
সোমবার দুপুরে তুফানগঞ্জ শহরের একাধিক জায়গায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই তৃণমূল কর্মীরা লাঠি-সোটা হাতে হামলা চালায় তাঁদের উপর। এমনকি বিজেপির ৯ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রের কো-কনভেনার নিখিল গাবুয়াকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগ ওঠে, বিজেপির বিধায়ক মালতি রাভাকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করে তৃণমূল কর্মীরা। মুহূর্তের মধ্যেই বিজেপি কার্যালয়ের সামনে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিজেপির দাবি:
বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থকরাই ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা চালিয়েছে, যাতে ঘোষিত কর্মসূচি ভেস্তে যায়। মালতি রাভা বলেন, “সারা বাংলাতেই এখন আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। মানুষও সেটা দেখছে। রাজ্যে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী আছেন, অথচ মেয়েরা আজ নিরাপদ নয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের লোকজন পুলিশের সামনেই আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে।”
অন্যদিকে, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তুফানগঞ্জ তৃণমূল সভাপতি গৌতম সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমাদের এলাকা শান্তিপ্রিয়। কিন্তু বিজেপি এখানে বারবার উস্কানি দেয়। ভোটের পর থেকে মানুষের পাশে একটাও বিজেপি নেতা নেই। শহরে উন্নয়নের নামে কিছুই হয়নি। তাই সাধারণ মানুষের ক্ষোভেই এই প্রতিক্রিয়া।”
তুফানগঞ্জের সোমবারের ঘটনার পর থেকেই শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে নজরদারি জারি থাকবে।
স্থানীয় কার্যকর সূত্র: স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র বলেছে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট বাড়িয়েছে এবং উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বঙ্গ বামের ৪ প্রজেক্ট: টিম 'এবি, বিবি, এসএম ও পিডিজি'—কী পরিকল্পনা?
বঙ্গ বামের ৪ প্রজেক্ট: টিম 'এবি, বিবি, এসএম ও পিডিজি'—কী পরিকল্পনা?
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫ • রিপোর্ট: Y বাংলা ডেক্স
প্রতীকী ছবি: সংগঠনগত কাজ চালানো হচ্ছে গোপন স্থান ও টিমভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে।
পশ্চিমবঙ্গে কার্যরত বামপন্থী সংগঠন 'বঙ্গ বাম' সম্প্রতি চারটি পৃথক প্রজেক্ট ঘোষণা করেছে—যেগুলোর কোডনেম রাখা হয়েছে টিম এবি (অনিল বিশ্বাস), টিম বিবি (বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য), টিম এসএম (সরোজ মুখোপাধ্যায়) এবং টিম পিডিজি (প্রমোদ দাশগুপ্ত)। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব টিম মূলত স্থানীয় ইস্যু চিহ্নিত করা, সংগঠন মজবুত করা এবং বিভিন্ন স্থানে কাজের রূপরেখা তৈরিতে ইনপুট দেবে।
টিমগুলোর ভূমিকাঃ সংগঠন ও নীতিগত ইনপুট
সরকারি রেকর্ড বা প্রকাশ্য বিবৃতিতে টিমগুলোর বিস্তারিত কর্মঘটনার তালিকা পাওয়া যায়নি; তবে সংগঠনের শীর্ষকক্ষের নয়— বরং স্থানীয় স্তরের কয়েকজন কর্মী ও পরিচিত সুপ্রতিষ্ঠিত সদস্যরা জানিয়েছেন যে টিমগুলো মূলত নীতিনির্ধারণী ও স্ট্র্যাটেজিক পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করবে।
টিমগুলোর ঘোষিত দায়িত্ব (সংক্ষিপ্ত):
স্থানীয় ইস্যু চিহ্নিতকরণ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে ইনপুট প্রদান।
সংগঠনগত কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য প্রশিক্ষণ ও নীতিমালা প্রণয়ন।
স্থিতিশীল ও নিয়মিত জনসম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা।
স্থানীয় শাখা ও কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি সাজানো।
সূত্র বলেছে, "কোনও কাজকর্মই আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে সরাসরি করা হচ্ছে না"—এখানে ইঙ্গিত করা হচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় অফিসের চেয়ে গোপন-ডেরা বা স্থানীয় ভিত্তির কর্মসূচি বেশি সক্রিয়। স্থানীয় পর্যায়ে পেশাদার যারা নিয়োজিত, তারা অঞ্চলভিত্তিক ইস্যু ও জনজীবনের সমস্যার ওপর ভিত্তি করে কর্মসূচি সাজাচ্ছে বলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বক্তব্যে উল্লেখ আছে।
টিম-নেম ও ঐতিহাসিক ইঙ্গিত
টিমের কোডনেমগুলো—এবি, বিবি, এসএম ও পিডিজি—বাম রাজনীতির পরিচিত পুরনো নেতৃবাহিনীর নামের সঙ্গে সংযুক্ত। অনিল বিশ্বাস, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সরোজ মুখোপাধ্যায় ও প্রমোদ দাশগুপ্ত—এসব ব্যক্তিত্বের নাম রাজ্যের বাম রাজনীতিতে দীর্ঘকালীন প্রভাবশালী। টিমনামের ব্যবহার শোনায় যে, ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে নতুন বিন্যাস করা হচ্ছে। যদিও বর্তমান বাস্তবে ঐ চারজনের সক্রিয়তা বা নেতৃত্বে সরাসরি যুক্ত থাকার তথ্য নেই; নামগুলো কেবল ঐতিহাসিক সঙ্গতিপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভ্যন্তরীণ ধারনাও রয়েছে।
কাজকর্ম কোথায় ও কিভাবে হচ্ছে?
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে বলা হয়েছে—গোপন ডেরায় পেশাদার লোকজন কাজটি করছেন; অর্থাৎ কেন্দ্রীয় শুন্য থেকে পরিচালিত হওয়া নয়, বরঞ্চ বিভিন্ন জেলায় ছোট দল গঠন করে স্থানীয় অবস্থান অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার ন্যায়ভিত্তিক প্রচারণা, জনপরিসেবা, সামাজিক ইস্যুতে সচেতনতা এবং কমিউনিটি অ্যাপোস্টলেসি—এসব কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
দ্রষ্টব্য: এটি একটি সংবাদসংকলন—সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও ব্যবহারকারীর দেওয়া বিবরণ থেকে প্রস্তুত। এখানে কোনো এলাকায় ভোট বাড়ানো বা নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কিত স্পষ্ট নির্দেশ বা টার্গেটেড পরামর্শ প্রদান করা হয়নি।
বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—যদি সত্যিই স্থানীয়ভাবে সুসংগঠিত ছোট টিমরা সক্রিয় হয়, তা গঠনগত অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখতে পারে; তবে রাজনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে টিমগুলোর কার্যকারিতা, জনসম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় সমস্যার প্রতি তাদের সমাধান-চেষ্টার উপর। অনেকে মনে করছেন—নামী নেতৃবর্গের স্মৃতিকথা ব্যবহার করে নতুন টিম গঠন করলে সংগঠন তাত্ত্বিক ও নৈতিকভাবে শক্ত হলেও বাস্তবে তা কেমন ফল দেবে, তা সময়ই বলতে পারবে।
স্থানীয় কর্মীরা জানতে দিয়েছেন যে টিমগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত কিছু কর্মীরা ইতিমধ্যেই শিক্ষা, কৃষি, শ্রমিক অধিকার ও নগর সেবা—এই চারটি খাতে প্রাথমিকভাবে নজর দিচ্ছেন; তবে ওই তথ্যগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো সোমবার। বহু বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, ধ্বংস ও মানবিক বিপর্যয়ের পর অবশেষে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে মিশরের শর্ম এল শেখে। উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষ অবিলম্বে অস্ত্রবিরতি বজায় রাখবে, গাজা উপত্যকায় মানবিক সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দেবে এবং সীমান্তে স্থায়ী শান্তি রক্ষায় একটি যৌথ আন্তর্জাতিক তদারকি দল গঠন করা হবে। এছাড়াও, পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে বন্দী বিনিময়, পুনর্গঠন সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানানো হয়।
চুক্তির মূল পয়েন্টসমূহ:
ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর।
মিশরের তত্ত্বাবধানে মানবিক সহায়তা প্রবেশ করবে গাজায়।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ তদারকিতে সীমান্ত নজরদারি।
তিন মাসের মধ্যে বন্দী বিনিময় ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আর্থিক সহায়তায় গাজা পুনর্গঠন তহবিল গঠন।
অনুষ্ঠানস্থল শর্ম এল শেখে ট্রাম্প বলেন, “আজ আমরা এমন এক ইতিহাস লিখছি, যা শান্তির ভিত্তি স্থাপন করবে। ইহুদি, মুসলিম ও আরব— সবাই এই মুহূর্তে একসঙ্গে খুশি। যুদ্ধ শেষ।” তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই হলজুড়ে করতালির ঝড় ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “গাজার জনগণের জন্য এটা নতুন সূচনা। আমি বিশ্বাস করি, আগামী প্রজন্ম শান্তির বাতাসে নিঃশ্বাস নেবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি বলেন, “আমরা চাই, এই অঞ্চলে আর রক্ত না ঝরুক। আমাদের যৌথ প্রচেষ্টাই শান্তির প্রকৃত ভিত্তি।” তিনি আরও জানান, এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি ‘মিশরীয় পর্যবেক্ষণ মিশন’ আগামী সপ্তাহেই গঠিত হবে, যারা সীমান্তে স্থায়ীভাবে উপস্থিত থাকবে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, “ইজরায়েল কখনও যুদ্ধ চায়নি। আমরা শুধু আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা চেয়েছি। আজকের এই চুক্তি সেই নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি বহন করছে।” তিনি ট্রাম্প ও আল-সিসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শান্তির মধ্যস্থতা করার জন্য।
অন্যদিকে, হামাসের রাজনৈতিক শাখা থেকে জানানো হয়েছে, “এই চুক্তি আমাদের জনগণের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল। আমরা আশাবাদী যে, গাজার পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা আমাদের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।” হামাসের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত না থাকলেও, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তারা এই ঘোষণা দেন।
বিশ্লেষণ:
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি ‘একটি বড় পদক্ষেপ’ হলেও সামনে বহু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সীমান্ত খোলা রাখার প্রশ্নে এখনও বিতর্ক রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, চুক্তির প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে কার্যকর করা হবে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিশরে আগমনের আগে ইজরায়েল সফর করেন এবং সেখানে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। মূল আলোচনায় ছিল যুদ্ধবিরতির কাঠামো, গাজার প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার রূপরেখা।
ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র আগামী এক বছরে গাজার পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরব লীগের পক্ষ থেকেও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি এসেছে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী— এই যুদ্ধ শেষ। এখন সময় শান্তি ও পুনর্গঠনের।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন, “শান্তি টিকিয়ে রাখতে হলে সবাইকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে হবে।”
ছবি: শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর করমর্দন করছেন ট্রাম্প ও আল-সিসি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, “এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য আশার আলো। কিন্তু বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন পক্ষগুলোর।” একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে রাষ্ট্রনেতারা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সৌদি আরব ও জর্ডনের রাজপরিবার — সবাই একে ‘নতুন ভোরের সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন।
দুর্গাপুরে মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ: ৩ জন গ্রেফতার
দুর্গাপুরে মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ: ৩ জন গ্রেফতার
আপডেট: | অনলাইন রিপোর্ট | দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান
ছবি: কলেজ परिसরের প্রতীকী চিত্র
চিত্র: প্রতিবেদনচিত্র / প্রতীকী — তদন্ত চলাকালীন বিদ্যালয় ও ভিকটিমের গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে।
দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী অভিযুক্তদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি; তবে তাদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে কল লিস্ট ও টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত থাকতে পারে সে দিকটি খতিয়ে দেখছেন এবং ক্যাম্পাসের কোনও সহপাঠী জড়িত ছিল কি না তাও অনুসন্ধান চলছে। নির্যাতিতার পিতা-মাতার অভিযোগ, সহপাঠীই মেয়েটিকে ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহপাঠীর সঙ্গে অনিচ্ছা সত্ত্বেও খাবার খেতে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়েছিলেন ওই ছাত্রী। অভিযোগ অনুসারে, কাউকে ফোন করে অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গে যোগদানে সক্ষম হয় এবং ছাত্রীর সঙ্গে ওই জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে হামলা চালানো হয়। টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও তদন্তকারীরা আরও কারা জড়িত ছিল তা নিয়ে সন্দিহান। শনিবার কলেজের পাশে অবস্থিত জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং ফরেনসিক টিম নমুনা সংগ্রহ করেছে।
নির্যাতিতার চিকিৎসা চলছে; তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। তিনি সেই কলেজের নিজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং পুলিশের কাছে জবাব দিয়েছেন। রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা ও একটি নারী সংগঠন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারকে সহায়তা করবে বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ডক্টর্স ফোরামের একজন চিকিৎসকও ঘটনাস্থলে যোগ দেবেন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীও এই ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কী বলছে কলেজ কর্তৃপক্ষ:
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতে মেয়েটি তাদের জানিয়েছিল যে ফোন হারিয়েছে ও তাঁর সাথে যৌন নিপীড়ন ঘটেছে। প্রিন্সিপাল ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। কলেজের মুখপাত্র জানান, ক্যাম্পাসের মেন গেট পর্যন্ত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যক্তিগত কার্যক্রমের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কোন দায়িত্ব নয় যদি তারা নিজের ইচ্ছায় ক্যাম্পাস ছেড়ে যান। হাসপাতাল ও কলেজ পুলিশকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে বলে তারা জানিয়েছেন।
তদন্তে পুলিশি আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছে; অভিযোগ দায়েরের পরে প্রয়োজনীয় আইনি ধাপ হিসেবে ফোরেনসিক রিপোর্ট, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। মামলায় সংশ্লিষ্ঠ ধারার আওতায় দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে এবং যেকোনো ধরনের প্রমাণ লোপাট বা প্রভাবিত করার চেষ্টা রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অনুরোধ, কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা বিষয়ে জোরদার পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ছাত্রাবাস-আশ্রয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। শিবিরে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের অবহিত করে নিরাপদ চলাফেরার নিয়মাবলী গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে অবস্থানকারী কেউ থাকলে তৎক্ষণাৎ পুলিশকে সাক্ষ্য বা তথ্য দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে।
মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ও নারী সুরক্ষা সংস্থাগুলির সহযোগিতা কাম্য। এই ধরনের জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব অপরিহার্য।
পাঠকদের অনুরোধ, তদন্ত চলাকালীন ভিত্তিহীন গুজব না ছড়াতে এবং ভিকটিমের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার জন্য। তদন্তে পাওয়া প্রমাণ ও কল ডেটা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অপর অংশগ্রহণকারীদের সন্ধান করা হবে এবং আদালত বা পুলিশ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পরে আরও বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। পাঠকদের প্রত্যক্ষ বা জরুরি তথ্য থাকলে অবিলম্বে দুর্গাপুর নিউ টাউনশিপ থানা যোগাযোগ করার অনুরোধ। ধন্যবাদ।