কোচবিহারে নিশীথ প্রামাণিকের ওপর হামলার অভিযোগ, দিনহাটায় উত্তেজনা
প্রাক্তন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বিজেপি কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন
নিশীথ প্রামাণিক বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন।
কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক নিজ বাড়ির অদূরে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হলেন। শনিবার দুপুরে তিনি বিজেপি কর্মীদের বাড়ি যাওয়ার সময় কনভয় ঘিরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। অভিযোগ ওঠেছে, এই বিক্ষোভে তৃণমূল সমর্থিত দুষ্কৃতীরা জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেটাগুড়ি এলাকার কয়েকজন বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে দিন তিনেক আগে। বাড়িঘর ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগও ওঠে। দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিশীথ প্রামাণিক শনিবার দুপুরে নিজের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন। কিন্তু মাত্র ১০০ মিটার এগোতেই তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। কালো পতাকা দেখানো হয় এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়।
বিক্ষোভের কারণে প্রাক্তন সাংসদ শুধুমাত্র এক দলের কর্মীর বাড়িতে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং সেখানে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। এরপর গাড়ি ঘুরিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে হয় তাঁকে।
নিশীথ প্রামাণিকের বক্তব্য:
"এসব তো তৃণমূলের অলংকার। মারামারি, হামলা, হিংসা ছাড়া তৃণমূলের অস্তিত্ব নেই। ওরা যতদিন এসব চালিয়ে যাবে, আমরা পালটা রুখে দেব। মানুষই জবাব দেবে।"
দিনহাটা থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকে নিশীথকে জেলায় তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন পর তিনি এতটা সক্রিয়ভাবে দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে দিনহাটার ভেটাগুড়ি অঞ্চলে। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক হিংসা ও বিক্ষোভের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
নিশীথ প্রামাণিকের হামলার ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা ভোটারদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দলীয় কর্মীদের মনোবল প্রভাবিত করতে পারে।
ভেটাগুড়ি এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা এবং দলের কর্মীদের ওপর হামলা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক হয়েছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাগরিকরা চাইছেন, রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবনযাপন করতে পারুক।
পুলিশের মন্তব্য:
"আমরা ঘটনার পুরো তদন্ত করছি। অপরাধীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।"
এই ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, রাজনৈতিক হিংসা বাড়লে জনগণের মধ্যে ভয় এবং নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানানো হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম চালানোর জন্য।
স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উত্তেজনা প্রশমনের জন্য প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগামী দিনে দিনহাটার ভেটাগুড়িতে পরিস্থিতি কেমন থাকবে তা নজর রাখা হচ্ছে।
নাগরিকরা আশা করছেন, রাজনৈতিক হিংসা না বাড়িয়ে সকলেই শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন।
ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের বড় শহরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে নতুন এনসিআরবি ২০২৩ সালের রিপোর্ট। এই রিপোর্টে কলকাতা পুনরায় দেশের নিরাপদতম শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই শহরটির জন্য এটি টানা চতুর্থবারের সাফল্য, যা শহরবাসীর জন্য এক বড় স্বস্তি।
অপরাধের হার অনুযায়ী সেরা শহরগুলি
এনসিআরবি-র সমীক্ষায় মোট ১৯টি শহরের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি লক্ষ মানুষের মধ্যে অপরাধের হার সবচেয়ে কম কলকাতায়। শহরের প্রতি লক্ষ জনবসতিতে অপরাধের হার মাত্র ৮৩.৯, যা দেশের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় অত্যন্ত কম।
অপরাধের হার অনুযায়ী অন্যান্য শহরগুলো হলো:
হায়দরাবাদ: প্রতি লক্ষ মানুষে ৩৩২.৩ অপরাধ
পুণে: প্রতি লক্ষ মানুষে ৩৩৭.১ অপরাধ
মুম্বই: প্রতি লক্ষ মানুষে ৩৫৫.৪ অপরাধ
এর বিপরীতে, কোচিতে প্রতি লক্ষ মানুষের মধ্যে অপরাধের হার ৩,১৯২.৪, দিল্লিতে ২,১০৫.৩, এবং সুরাটে ১,৩৭৭.১। এটি প্রমাণ করে যে, কলকাতা অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ।
কলকাতার নিরাপত্তা ইতিহাস
কলকাতার নিরাপত্তার পরিস্থিতি গত কয়েক বছর ধরে ক্রমশ উন্নতি করছে। ২০১৬ সালে শহরের প্রতি লক্ষ জনবসতিতে অপরাধের সংখ্যা ছিল ১৫৯.৬, ২০২১ সালে কমে ১০৩.৫ হয়েছে। ২০২২ সালে সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬.৫ এবং ২০২৩ সালে আরও কমে ৮৩.৯ হয়েছে।
এই ধারাবাহিক উন্নতির ফলে কলকাতা দেশের নিরাপদতম শহরের খেতাবটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। শহরবাসীর নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নারী নির্যাতন এবং যৌন অপরাধের পরিসংখ্যান
কলকাতায় নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা ২০২৩ সালে কমেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ১,৭৪৬টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যা ২০২২ সালের ১,৮৯০টির চেয়ে কম। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,৭৮৩।
নাবালিকার যৌন হেনস্তার অভিযোগও কমেছে। ২০২৩ সালে এই ধরনের অভিযোগ দাঁড়িয়েছে ১৭২। ধর্ষণের সংখ্যা ২০২১ এবং ২০২২ সালে ১১টি হলেও ২০২৩ সালে কমে ১০ হয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে শহরে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নিরাপত্তার এই উন্নতির দিক থেকে চেন্নাই দ্বিতীয় এবং কোয়েম্বাটোর তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ
যদিও কলকাতায় মোট অপরাধের হার কমেছে, হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। ২০২৩ সালে শহরে এই ধরনের ঘটনা হয়েছে ৪৩টি, যা ২০২২ সালের ৩৪টির তুলনায় বেশি। ২০২১ সালে এই ধরনের অপরাধ ছিল ৪৫।
বাংলার অপরাধের সার্বিক অবস্থান দেশের মধ্যে ৪৩৩ নম্বরে রয়েছে। অন্য রাজ্যগুলির মধ্যে ঝাড়খণ্ডের অপরাধ হার ১৬১.১, নাগাল্যান্ডের ৮৪.৯, সিকিমের ১০৩.৯ এবং মেঘালয়ের ১০৫.২।
বাংলায় ২০২৩ সালে মোট ১,৬৮৬টি খুন এবং ২২৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে।
শহরবাসীর প্রতিক্রিয়া
কলকাতার নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই সাফল্য শহরবাসীর মধ্যে স্বস্তি সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক বছর ধরে শহরের পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে অপরাধের হার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
অপরাধ হ্রাসের কারণে নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তার ধারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নারী এবং শিশুদের জন্য শহরটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হিসেবে পরিচিত।
সংক্ষেপে
২০২৩ সালের এনসিআরবি রিপোর্ট প্রমাণ করছে যে, কলকাতা টানা চতুর্থবার দেশের নিরাপদতম শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। শহরের প্রতি লক্ষ মানুষের মধ্যে অপরাধের হার ৮৩.৯, যা অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় অনেক কম। নারী নির্যাতন এবং যৌন অপরাধের হারও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু মোট নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক।
এই তথ্য শহরবাসীর জন্য স্বস্তি এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছে।
এনসিআরবি-র রিপোর্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কলকাতা শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমাগত উন্নতি করছে এবং এটি দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। শহরের নাগরিকরা নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
জল্পনার অবসান: অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ভারতের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা — Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক
ডিজিটাল ডেস্ক
জল্পনার অবসান! অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ঘোষণা হল ভারতের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দল
Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক | আপডেট: ৪ অক্টোবর ২০২৫ | লেখক: Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক
ছবি: বিসিসিআই / দল ঘোষণার সময়ের প্রতীকী ছবি।
অবশেষে জল্পনা কণ্টক বিহীনভাবে ঘোষণা হয়ে গেল ভারতীয় ক্রিকেট দলের দুই ফরম্যাটের স্কোয়াড — অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য নির্ধারিত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দল। ওয়ানডেতে অধিনায়কত্বের পরিবর্তন ঘটলো; রোহিত শর্মার জায়গায় স্কুয়াডের নেতৃত্বে অভিষিক্ত করা হলো শুভমন গিলকে, আর টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। এই সিদ্ধান্তের ফলে খেলোয়াড়রতিদ্বয় রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন তেজ সৃষ্টি হয়েছে।
দলঘোষণা (পূর্ণ স্কোয়াড)
ভারতের ওয়ানডে দল:
শুভমন গিল (অধিনায়ক)
শ্রেয়স আইয়ার (সহ-অধিনায়ক)
রোহিত শর্মা
বিরাট কোহলি
অক্ষর প্যাটেল
লোকেশ রাহুল (উইকেটরক্ষক)
নীতীশ কুমার রেড্ডি
ওয়াশিংটন সুন্দর
কুলদীপ যাদব
হর্ষিত রানা
মহম্মদ সিরাজ
অর্শদীপ সিংহ
প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ
ধ্রুব জুরেল (উইকেটরক্ষক)
যশস্বী জয়সওয়াল
ভারতের টি-টোয়েন্টি দল:
সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক)
শুভমন গিল (সহ-অধিনায়ক)
অভিষেক শর্মা
তিলক বর্মা
নীতীশ কুমার রেড্ডি
শিবম দুবে
অক্ষর পটেল
জিতেশ শর্মা (উইকেটরক্ষক)
বরুণ চক্রবর্তী
জশপ্রিত বুমরাহ
অর্শদীপ সিংহ
কুলদীপ যাদব
সঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক)
হর্ষিত রানা
রিঙ্কু সিংহ
ওয়াশিংটন সুন্দর
কী পরিবর্তন ঘটল — সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
সবচেয়ে বড় ঘোষণা হলো — ওয়ানডেতে রোহিত শর্মার অধিনায়কত্ব ছেড়ে শুভমন গিলকে নেতৃত্ব দেওয়া। গিল, যিনি টেস্ট ধারায় ইতিমধ্যে দায়িত্ব সামলেছেন, ওয়ানডেতেও সেই আস্থা পেলেন। রোহিত থাকছেন দলে — যা বোঝায় যে selectors এখনও তাঁর ক্রিকেটীয় মূল্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন; তবে নেতৃত্ব থেকে সরে এসে তিনি প্লেয়ার হিসেবেই অবদান রাখবেন।
বিরাট কোহলিও রয়েছেন ওয়ানডে দলে; এই সিদ্ধান্তটি বিরাটকে আন্তর্জাতিক মর্যাদায় রাখার ইঙ্গিত দেয়। তবু, সংবাদে আলোচনা হচ্ছিল যে কোহলি-রোহিত যুগ ধীরে ধীরে শেষ হচ্ছে — এবং অস্ট্রেলিয়া সফর হয়তো তাদের জন্য বিদায়ের মঞ্চ হতে পারে। এই ঘোষণার সঙ্গে কোচ গৌতম গম্ভীরের 'নতুন প্রজন্ম' গঠনের পরিকল্পনা স্পষ্টতই মিলেছে।
টি-টোয়েন্টিতে সূর্যকুমার যাদবকে অধিনায়ক করা হয়েছে — এটি গত কয়েক সালে এসকে ওয়াই-এর ফর্ম ও নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতার স্বীকৃতি। বুমরাহকে টি-২০ দলে রাখা হয়েছে, অথচ ওয়ানডেতে তিনি নেই — সম্ভবত শরীর ও ব্যবস্থাপনার কারণে দল নির্ধারণে এমনটা প্রতিফলিত হয়েছে। সবচেয়ে বিশেষ: মহম্মদ শামি কোনো দলেই জায়গা পেলেন না, আর ঋষভ পন্থ চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় টিমে নেই।
রোহিত-বিরাট: বিদায়, অবসর বা অন্তর্ভুক্তি — কোন পথে?
ক্রিকেট মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হচ্ছে — রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ কী হবে? অস্ট্রেলিয়া সফরকে অনেকেই শেষ ওয়ানডে হিসেবে দেখছেন; কারণ পরবর্তী সিরিজগুলোর সরাসরি প্রভাব থাকবে ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির উপর। যদি দুই মহাতারকা এখানেই আন্তর্জাতিকভাবে বিদায় ঘোষণা করেন, তাহলে সেটি একটি আবেগঘন মুহূর্ত হবে। কিন্তু যদি তারা না করেন, আগামিকাল তাঁদের জন্য কঠিন হতে পারে — কারণ selectors আগামী বিশ্বকাপ লক্ষ্য করে নতুন সংমিশ্রণ গঠন করছে।
দিকনির্দেশনা: যে কেউ এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে — ব্যাক্তিগত স্বাস্থ্যের অবস্থা, পারিবারিক সিদ্ধান্ত, ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও দলের প্রয়োজনে মিলিয়ে নেওয়া হয়। জাতীয় বোর্ড ও কোচিং স্টাফ সাধারণত সম্মান ও বিশ্বাস বজায় রেখে দ্রæত সিদ্ধান্ত নেন।
বয়সের দিক থেকেও চিন্তা আছে — বিশ্বকাপ ২০২৭-এ রোহিত প্রায় চার দশকের দেখা ৪০ বছর বয়সী খেলোয়াড় হবেন, আর কোহলি ৩৮ হবে। দীর্ঘ বিরতি ও ফিটনেস পরীক্ষার চাপে তারা আবারও আন্তর্জাতিক ফর্ম ফিরে আনবেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। আইপিএল তাদের শেষ প্রতিযোগিতা হিসেবে কাজে এসেছে — যার পরে আন্তর্জাতিক ফিরতি চ্যালেঞ্জ আরও গুরুতর।
নির্বাচক কমিটির মানসিকতা ও কোচ গৌতম গম্ভীরের পরিকল্পনা
বর্তমান নির্বাচক ও কোচিং স্টাফের কৌশল পরিষ্কার — ২০২৭ বিশ্বকাপ লক্ষ্য করে 'নতুন প্রজন্ম' তৈরি করা। শুভমন গিলকে ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেওয়া সেই কৌশলের অংশ। গৌতম গম্ভীর—যিনি অধিনায়ক নির্বাচন ও দলের মেন্টালিটি গঠনে উদ্যোগী—তাঁর পরিকল্পনা টেস্ট-ওয়ানডে-টি-২০-র মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে এক নতুন পাথর স্থাপন করা।
গম্ভীরের সঙ্গে রোহিত-বিরাটের সম্পর্ক নিয়ে অনভিপ্রেত সমালোচনা সংবাদপত্রে আলোচিত হলেও বোর্ড-টিম ম্যানেজমেন্ট সম্ভবত ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ, দু'টির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চেয়েছে। নতুন নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ রাখা হয়েছে — যাতে দলান্তরে অভিজ্ঞতা ও নবীন উদ্যম একসাথে কাজ করতে পারে।
কিনা-কিনা অনুপস্থিতি লক্ষণীয়?
কয়েকটি নাম অনুপস্থিতি কায়দা মতো চোখে পড়ে — মহম্মদ শামি ও ঋষভ পন্থ। শামির অনুপস্থিতি বিস্ময়ের কারণ, কারণ অভিজ্ঞতা ও বল গতির কারণে তিনি দীর্ঘদিন দলের নির্ভরযোগ্য সদস্য ছিলেন। সম্ভবত তরুণ পেসারদের ভিত্তিতে দল সাজাতে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঋষভ পন্থের চোটের কারণে তাকে রাখা হয়নি; এটি স্পষ্ট যে ফিটনেস ও রিকভারির ওপর জোর দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসতে পারেন।
অন্যদিকে জশপ্রিত বুমরাহ টি-টোয়েন্টি দলের জন্য ডাক পেয়েছেন — বোঝা যায় যে শরীরগত পরিস্থিতি ও ঈগল-শিক্ষার মত নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী তাকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ওয়ানডে দলে বুমরাহ না থাকায় পেস আক্রমণে ভিন্ন রূপ দেখা যাবে; যেখানে সিরাজ, অর্শদীপ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ইত্যাদি পেসারদের উপর নির্ভরতা বাড়বে।
ফ্যান ও মিডিয়ার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া
সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ও মিডিয়ায় নিশ্চিতভাবেই আলোচনার ঝড় উঠবে — বিশেষ করে রোহিত-বিরাট সম্পর্কে। তাদের দুই মহাতারকাকে ‘বিদায়’ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা ও প্রশংসা, উভয়ই দেখা যাবে। কিছুর মধ্যেই মনে রাখতে হবে — বাইশ গজের বাইরে আমাদের আবেগ কিন্তু খেলার সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলার মতো নয়; তবে জনমতের সম্মান বজায় রেখে বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
শুভমন গিলের নেতা হিসেবে অভিষেককে অনেকেই উৎসাহ দেবে; কারণ নতুন প্রজন্মের আবেগ, ট্যালেন্ট ও ফ্রেশ এনার্জিকে তারা সমর্থন করবে। সূর্যকুমারকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক করা দলের স্বাধীনতা ও ক্রিয়েটিভিটি বাড়াতে পারে; তিনি খেলার নতুন রং দেন—এভাবেই দল আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া সফরের সম্ভাব্য প্রভাব — দীর্ঘ দৃষ্টিতে
অস্ট্রেলিয়া যখন মাঠে, তখন ভরসা ও মানসিক চাপ পরীক্ষা হয়। যদি এটি রোহিত-বিরাট যুগের শেষ উইন্ডো হয়, তাহলে টিম ম্যানেজমেন্টকে অবশ্যই এমন সম্বর্ধনা ও মর্যাদা দিতে হবে যাতে দুই কিংবদন্তি ক্রিকেট জীবনে শান্ত ও সম্মানজনক বিদায় পায়। অন্যদিকে, নতুন নেতৃত্বের সফলতা যদি দেখা দেয় — তাহলে ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ভারত শক্তশালী কোর গড়ে তুলতে পারবে।
সিরিজে শুভমন গিল ও সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বদানের ফলাফল কেবল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নয়, বরং পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের সেন্সিটিভ সিরিজেও প্রতিফলিত হবে। জাতীয় দল যদি এখানে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে বিশ্বকাপের পথ সুগম হবে; অন্যথায় দ্রুত পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে।
প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দিক — কী পরিবর্তন দেখা যেতে পারে?
ওয়ানডেতে নতুন অধিনায়ক হিসেবে শুভমন গিল কিভাবে দলের ব্যাটিং ক্রম নির্ধারণ করবেন, ফিল্ডিং প্ল্যান কেমন হবে, স্পিন-পেস ব্যালেন্স কিভাবে রাখা হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। গিল নিজের আগ্রাসী ব্যাটিং স্টাইলকে নেতৃত্বে অনুবাদ করতে চাইবেন; কিন্তু তিনি কি ক্ষণস্থায়ী চাপ সামলাতে পারবেন? সহ-অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের কন্ট্রোল ও কৌশলগত সমর্থন জরুরি হবে।
টি-টোয়েন্টিতে সূর্যকুমার অধিনায়ক হিসেবে খেললে দল আরও উদ্ভাবনী পরিকল্পনা চালাবে—ছোট-খেলা পিচ ও গতি-সামঞ্জস্যে দল দ্রুততা বাড়াতে পারবে। বোলিং ইউনিটে বুমরাহের উপস্থিতি টি-২০-তে শক্তি যোগ করবে; তবে ভারসাম্য রাখতে স্থানীয় কন্ডিশনে পরিবর্তিত পেস-স্পিন সংমিশ্রণের উপর নির্ভর করতে হবে।
সংক্ষিপ্ত উপসংহার
অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য দল ঘোষণায় ভারতীয় ক্রিকেট এখন পরিবর্তনের পথে। শুভমন গিল ও সূর্যকুমারের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ ঝুলে আছে—তারা কি সম্মানজনকভাবে বিদায় নেবেন, নাকি আরও কিছু বছর খেলবেন—সে সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ও টিম-স্তরের বিবেচ্য বিষয়। তবে একটাই নিশ্চয়তা — ২০২৭ বিশ্বকাপের দিকে দৌড় শুরু হয়ে গেছে, এবং এই দৌড়ে নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক ভবিষ্যত সংবাদ ও বিশ্লেষণের জন্য অপেক্ষা করবে—অস্ট্রেলিয়া সিরিজ, খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া ও বোর্ড ঘোষণা অনুযায়ী আমরা সময়মতো আপডেট দেব।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
ফের মুর্শিদাবাদে বিস্ফোরণ, নিখোঁজ ওসমান বিশ্বাস — আতঙ্কে রেজিনগর
ডিজিটাল ডেস্ক, মুর্শিদাবাদ: ফের মুর্শিদাবাদে বোমা বিস্ফোরণ। অভিযোগ, বোমা বাঁধতে গিয়েই ঘটে এই বিস্ফোরণ। ঘটনাস্থল থেকে নিখোঁজ এক ব্যক্তি — যার নাম ওসমান বিশ্বাস। শুক্রবার রাতে রেজিনগর থানা এলাকার ছেতিয়াণীতে ঘটে এই বিস্ফোরণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বোমা বাঁধার কাজের জন্য রেজিনগর থানা এলাকার তকিপুর গ্রামের বাসিন্দা ওসমান বিশ্বাস ছেতিয়াণীতে এসেছিলেন। বোমা তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে। তীব্র শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। পরে দেখা যায়, বিস্ফোরণের ধাক্কায় আশেপাশের ঘরের কাচ ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে ওসমান বিশ্বাসকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, ওসমান বিস্ফোরণে মারা গিয়েছেন, তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর দেহ উদ্ধার হয়নি।
রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। রেজিনগর থানার তদন্তকারীরা এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বোমা বাঁধার সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্তে ফরেনসিক দলকেও ডাকা হয়েছে।
তথ্যবক্স:
📍 ঘটনাস্থল: ছেতিয়াণী, রেজিনগর, মুর্শিদাবাদ
🕒 সময়: শুক্রবার রাত
👤 নিখোঁজ: ওসমান বিশ্বাস, তকিপুর গ্রামের বাসিন্দা
🚓 তদন্ত: রেজিনগর থানার পুলিশ ও ফরেনসিক দল
অন্যদিকে, দুর্গা পুজোর বিসর্জনের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল আতঙ্কে। বীরভূমের মারগ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে এই ঘটনা। অভিযোগ, শোভাযাত্রা চলাকালীন ভিলেজ পুলিশের এক সদস্য প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে আসা এক যুবকের মুখের দিকে নিষিদ্ধ বাজি ছুঁড়ে দেয়। সেই বাজি মুখেই ফেটে যায়, গুরুতর জখম হন যুবক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপাড়া গ্রামে প্রতিমা নিরঞ্জন চলছিল। ভিড়ের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেমন্ত বাগদি নামে এক যুবক ও তাঁর স্ত্রী। সেই সময়েই এক ভিলেজ পুলিশ একটি ‘চকোলেট বোম’ তাঁর মুখে ছুঁড়ে দেয়। মুহূর্তেই বাজিটি ফেটে গিয়ে রক্তাক্ত হন যুবক। তাঁকে তড়িঘড়ি রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তরিত করা হয় বর্ধমান মেডিক্যালে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়দের দাবি, এই বাজিটি সাধারণ নয়, নিষিদ্ধ বাজি। প্রশ্ন উঠেছে, ভিলেজ পুলিশের হাতে এমন বিপজ্জনক বাজি এল কীভাবে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বীরভূম ঘটনার মূল তথ্য:
📍 স্থান: চাঁদপাড়া, মারগ্রাম, বীরভূম
👤 আহত: হেমন্ত বাগদি
🚓 অভিযুক্ত: স্থানীয় ভিলেজ পুলিশ
⚠️ অবস্থা: আশঙ্কাজনক, বর্ধমান মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন
Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক, ওয়াশিংটন/তেল আভিভ:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্পষ্ট বারণ সত্ত্বেও ফের গাজায় বিমান হামলা চালাল ইজরায়েল। শুক্রবার রাতে গাজার উত্তরাঞ্চলে ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর আক্রমণে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনায় নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সক্রিয় ছিলেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তিনি পেশ করেছিলেন ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা। এই প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময়, এবং গাজায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশন গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইজরায়েল প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেও, হামাসের তরফে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দ্বিধা বজায় ছিল।
হামাসের সম্মতি ও ট্রাম্পের আহ্বান
শেষ পর্যন্ত হামাসও ট্রাম্পের প্রস্তাবে সম্মতি জানায়। তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে যে, ইজরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে তারা বন্দি মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করবে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আমরা শান্তি চাই, রক্তপাত নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে নতুন সূচনা সম্ভব।”
এই সিদ্ধান্তের পরই ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে হামাসকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন — “গাজার মানুষকে শান্তি ফিরিয়ে দিতে হলে এখনই বোমা বর্ষণ বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি জীবন মূল্যবান।”
কিন্তু সেই বার্তা অগ্রাহ্য করে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী ফের আক্রমণ চালায় গাজায়। ইজরায়েলের দাবি, হামাস এখনও সীমান্ত বরাবর অস্ত্র মজুত রাখছে এবং রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই কারণেই ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ চালানো হয়েছে।
নেতানিয়াহু সরকারের অবস্থান স্পষ্ট
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছেন, “ইজরায়েল নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনও দেশের অনুমতির অপেক্ষা করবে না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তি চাই, কিন্তু আমাদের নাগরিকদের উপর হামলা হলে প্রতিরোধই একমাত্র উত্তর।”
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ওয়াশিংটনের বারণ ইজরায়েলকে আটকাতে পারেনি। মার্কিন প্রশাসনের এক অংশ যদিও ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করছে, তবুও ইজরায়েলের এই হামলার পর হোয়াইট হাউস থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো আসেনি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভারতের অবস্থান
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বেই ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। শুক্রবারের ঘটনার পর মোদী প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, “যুদ্ধ নয়, সংলাপই একমাত্র সমাধান।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও মোদীর এই অভিন্ন অবস্থান মার্কিন-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। অন্যদিকে, আরব লীগ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইজরায়েল যদি শান্তি আলোচনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও বাড়বে।
হামাসের কৃতজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সংকেত
আক্রমণের আগে হামাস প্রকাশ্যে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করে। তারা জানায়, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমবারের মতো আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝেছেন।” পাশাপাশি, হামাস আরব দেশগুলোকেও কৃতজ্ঞতা জানায় শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য।
তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইজরায়েলের নতুন আক্রমণ হামাসের আস্থা নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা। গাজার স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও এক নারী রয়েছেন।
ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি প্রস্তাবের মূল পয়েন্ট
ট্রাম্পের প্রস্তাবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ছিল গাজায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠন। পরিকল্পনা অনুযায়ী,
১️⃣ গাজার উপর হামাসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
২️⃣ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে।
৩️⃣ পণবন্দি মুক্তি ও মানবিক সাহায্যের প্রবাহ বাড়ানো হবে।
৪️⃣ ইজরায়েল ও হামাস উভয়ের অস্ত্রবিরতি মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হবে।
যদিও হামাস এই শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল, ইজরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে গাজা ও ইজরায়েল সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এখন নজর রয়েছে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ট্রাম্প কি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেবেন, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার পথে হাঁটবেন — সেটাই সময় বলবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি: সিবিআই ও ইডি চূড়ান্ত চার্জশিট ও মামলার হাল
দুর্গাপুজো শেষ হতেই কেন্দ্রীয় তদন্ত: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ
ডিজিটাল ডেস্ক — আপডেট:
দুর্গাপুজো মিটেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠে—প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই ও ইডি একের পর এক চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে। ব্যাঙ্কশাল কোর্টে জমা হওয়া সাম্প্রতিক চার্জশিটে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম প্রসারিত হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
ব্যাঙ্কশাল আদালত—যেখানে এই মামলাটি চলছে। (ছবি: প্রতীকী)
সংক্ষেপে কী ঘটেছে?
ইডি ও সিবিআই পঞ্চম সাপ্লিমেন্টারি চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে।
চূড়ান্ত চার্জশিটে জায়গা পেয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য, বিভাস অধিকারী ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তৎকালীন কর্মকর্তা-দের বিরুদ্ধে অভিযোগ।
মামলাটি আলিপুর থেকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ের ফলাফল মামলার গতিপথকে প্রভাবিত করেছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি অভিযোগ করেছে যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের মাধ্যমে সহস্রাধিক নিয়োগ প্রভাবিত হয়েছিল; অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঘিরে করা কাগজপত্র, সাক্ষ্য ও আর্থিক লেনদেন কড়াকড়ি ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানান, সাম্প্রতিক দাখিল করা প্রাইমারি চার্জশিটটি প্রায় কয়েকশ পৃষ্ঠার বিশ্লেষণগত নথি, যেখানে পদবী, নিয়োগের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্টদের সংযোগস্থল উল্লেখ আছে।
এই মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ২০২২ সাল থেকে জেলে ছিলেন; যদিও বিভিন্ন কেসে পরে তিনি জামিন পেয়ে বেরিয়েছেন—তবু একাধিক দফায় উচ্চ আদালতের আদেশ ও শর্তের কারণে মুক্তি-প্রক্রিয়া জটিলতা রয়ে গেছে। আদালতীয় সালিশিতে ৩২ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ বিষয়ে উচ্চ আদালত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ প্রদান করেছিল, যা পরে বিভাজিত বেঞ্চের শুনানিতে নানা পর্যায়ে বহাল-অবস্থান পেয়েছে।
তদন্তে অভিযুক্তদের মধ্যে থাকা প্রভাবশালী স্থানীয় নেতারা ও পূর্বতন বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শামিল ষড়যন্ত্র, আর্থিক লেনদেন ও সমন্বয় সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এখনও গ্রেফতার-সমীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। মামলার গোড়াপত্তন ও সাক্ষ্য-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই মামলার প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা গেছে—কেননা উপযুক্ত নিয়োগ ও শৃঙ্খলা নিয়ে জনআস্থার প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা খাতে অনিয়মকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ভবিষ্যত চাকরির স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের অধিকার সব মিলিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
আইনজীবীরা মনে করান, দায়ের করা চূড়ান্ত চার্জশিট আদালতে প্রমাণ-প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সহায়তা করবে, তবু প্রতিটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অবশ্যই সুপ্রতিষ্ঠিত মামলা গঠনের প্রয়োজন হয়—যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত থাকে। মামলাটি কেবল ব্যক্তিগত দায় নির্ণয় নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিস্থাপনের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট কেস হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনী: নির্বাচনী প্রস্তুতি তুঙ্গে, বিজেপি ও সাড়া
তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনী: নির্বাচনী প্রস্তুতি তুঙ্গে, বিজেপি ও সাড়া
Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর পরেই তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে তার বিজয়া সম্মিলনী কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। রবিবার থেকে বিভিন্ন ব্লকে জনসংযোগ ও নির্বাচনী প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মোট ৫০ জন নির্বাচিত নেতা-নেত্রী এই সম্মিলনীতে অংশগ্রহণ করবেন, যারা নেতৃত্বের নির্দেশে ব্লক স্তরের কর্মীদের সঙ্গে ভোট প্রস্তুতি ও জনসমর্থন সংগ্রহের কাজ করবেন।
ছবি: পুজোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনী আয়োজনের দৃশ্য।
তৃণমূলের নতুন জনসংযোগ কৌশল
বিজয়া সম্মিলনী কোনো নতুন উদ্যোগ নয়। বিগত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল পুজোর পর নতুন জনসংযোগ পদ্ধতি অবলম্বন করছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অনুষ্ঠানের জন্য ৫০ জন বক্তা বাছাই করেছেন। তালিকায় সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়ক, ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতৃত্বরা রয়েছেন।
রাজ্য ও জাতীয় ইস্যু
তৃণমূলের লক্ষ্য কেবল নির্বাচনী প্রস্তুতি নয়। বাংলা ভাষার অপমান এবং রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থার ঘটনার মতো বিষয়গুলোকে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও SIR ইস্যুতে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা হবে। এই সম্মিলনীতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনহিতকর প্রকল্পও তুলে ধরা হবে যাতে সাধারণ মানুষ সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন হয়।
বিজেপি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া
তবে তৃণমূলের এই উদ্যোগে পিছিয়ে নেই বিজেপিও। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবকে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যান্য নেতা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “এঁরা মূলত বিজেপিকে নকল করার চেষ্টা করছে। তবে এতে জনসংযোগ হবে না।”
জনসংযোগ ও নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্ব
২৬ তারিখে বড় একটি নির্বাচনী পরীক্ষা সামনে। আরজি কর পর্বের পরে নতুন জনআন্দোলন সংগঠিত না হলেও, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৃণমূলের জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। জনসমর্থন আদায়ের জন্য যে কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে, তার সূচনা এই বিজয়া সম্মিলনী থেকেই। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ৫ তারিখ থেকে অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারী নেতারা ব্লক স্তরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই ধরনের জনসংযোগ কর্মসূচি নতুন নয়। তবে পুজোর পরে বড় ধরনের সম্মিলনী আয়োজন করা এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরা তৃণমূলের জন্য একটি প্রমাণযোগ্য কৌশল। অন্যদিকে, বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করছে। দুই দলের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে আরও উত্তপ্ত করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তৃণমূলের লক্ষ্য শুধুই নির্বাচনী জয় নয়, জনমত গঠন। তাই ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজ্যের সুনাম রক্ষার মতো ইস্যুকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও মানুষকে জানানো হবে যাতে সরকার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সংযোগ সুদৃঢ় হয়।
পুজোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনী এবং রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি কার্যক্রম রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। ৫০ জন নির্বাচিত নেতা-নেত্রীর মাধ্যমে ব্লক স্তরে কার্যক্রম তৃণমূলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিজেপিও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করছে। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আগামী নির্বাচনী সপ্তাহে আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
মুর্শিদাবাদে বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ, মৃত্যু এক গৃহবধূর
মুর্শিদাবাদে বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ, মৃত্যু এক গৃহবধূর
Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের ডোমকলে শনিবার দুপুরে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ছিদ্দাতন বিবি (৪০) নামে এক গৃহবধূর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির উঠোনে মজুত একটি বালতির মধ্যে থাকা বোমা আচমকা ফেটে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের ডোমকলে বাড়িতে বিস্ফোরণে মৃত্যু এক গৃহবধূর।
ঘটনার বিবরণ
ডোমকলের ঘোড়ামারা নিশ্চিন্তপুর কামুড়দিয়াড় ঘাট পাড়া এলাকায় ছিদ্দাতন বিবির বাড়ি। দুপুরে হঠাৎ একটি বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখেন, বাড়ির উঠোনে রক্তাক্ত অবস্থায় ছিদ্দাতন বিবি মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়ির উঠোনে রাখা বালতিটিতে বোমা ছিল। ছিদ্দাতন বিবি এটি তুলে নেয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে আশেপাশের ঘর-দোর কেঁপে ওঠে।
পুলিশের তদন্ত
ঘটনার পর মৃতার স্বামী গফুর মণ্ডলকে পুলিশ আটক করেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে, বিস্ফোরণটি বাড়িতে মজুত বোমার কারণে হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং বিস্ফোরণ বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন।
তদন্তের তথ্য: পুলিশ এবং বিস্ফোরণ বিশেষজ্ঞরা বালতি এবং বিস্ফোরিত অংশগুলি সংগ্রহ করে প্রাথমিক পরীক্ষা করছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার কারণে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও আশপাশের পরিস্থিতি
বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডোমকলের আশেপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের সময় কেউ খুব কাছে থাকলে গুরুতর আহত হতে পারত। স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়েছে এবং আগত জনসাধারণকে দূরে থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পূর্ববর্তী ঘটনার প্রেক্ষাপট
মুর্শিদাবাদে পূর্বেও কয়েকটি বাড়িতে মজুত বিস্ফোরক নিয়ে নিরাপত্তা ইস্যু দেখা গেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী দিনগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হবে।
নিয়ন্ত্রণ এবং সতর্কতা
স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ নিশ্চিত করেছেন, বিস্ফোরণ ঘটার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বোমা ফাটার স্থানীয় এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবার ও প্রতিবেশীর প্রতিক্রিয়া
পরিবার এবং প্রতিবেশীরা ঘটনার শোক প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, “কেউ ভাবতেও পারছিল না বাড়িতে এমন বিপজ্জনক কিছু রাখা আছে। এক মুহূর্তের অসতর্কতায় আমাদের প্রিয়জনকে হারালাম।” পরিবার ও স্থানীয়দের শোকের মধ্যে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
মুর্শিদাবাদে বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত। পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত তদন্ত চালাচ্ছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পরিবার শোকাহত, এবং এলাকার মানুষ সতর্ক থাকতে পরামর্শ পেয়েছেন। ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
y ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর মরসুমে পশ্চিমবঙ্গের নদী তীরবর্তী এলাকায় আবারও জলছাড় নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি) মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৭০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তোপ দাগেছেন। তাঁর অভিযোগ, ডিভিসি রাজ্যকে আগাম নোটিশ না দিয়ে এমন ‘বেপরোয়া’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বাংলার মানুষের উৎসব উদযাপনের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করছে।
মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে ডিভিসি-র জলছাড়া, দক্ষিণবঙ্গের নদী তীরবর্তী এলাকা বিপন্ন।
ডিভিসির অবস্থান
ডিভিসির এক কর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে জানিয়েছেন, ‘‘ডিভিসি নিজের ইচ্ছায় জল ছাড়ে না। জল ছাড়তে আমরা বাধ্য। এবং আবারও বলছি, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সরকারকে জানিয়েই জল ছাড়া হয়।’’ তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি সরাসরি তোপ দাগেন। মমতা বলেন, “আনন্দ, উল্লাস এবং নতুন আশার সময়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে শান্তিতে উৎসব শেষ করতে দেওয়ার বদলে, ডিভিসি কর্তৃপক্ষ রাজ্যকে আগাম বার্তা না-দিয়ে ৬৫ হাজার কিউসেক জল ছেড়ে দিয়েছেন।”
বৃষ্টিপাত ও নিম্নচাপের প্রভাব
গত এক সপ্তাহ ধরে ঝাড়খণ্ডে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানেও বর্ষণ অব্যাহত। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ, সর্বত্রই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহে ডিভিসির জলাধারগুলি টইটম্বুর হয়ে উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে মাইথন জলাধার থেকে ৪২,৫০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ২৭,৫০০ কিউসেক জল ছাড়া শুরু করেছে ডিভিসি। ফলে দক্ষিণবঙ্গের নদী তীরবর্তী এলাকায় প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সতর্কবার্তা: ডিভিসি কর্তৃপক্ষ দামোদর তীরবর্তী এলাকার জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে বর্ধমান, হাওড়া এবং হুগলি জেলায় অতিরিক্ত জলছাড়া নিয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পূর্ববর্তী পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত জুন-জুলাই মাসেও ডিভিসি হাজার হাজার কিউসেক জল ছেড়েছিল। সেই সময় নিম্নচাপের কারণে বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও অন্যান্য জেলায় বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। রাজনৈতিকভাবে তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। এবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিভিসির সিদ্ধান্তকে বাংলার জনগণের প্রতি ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শ্রমিক ও ডিভিআরআরসি পদত্যাগ
ডিভিসির জলাধার নিয়ন্ত্রণ কমিটি (ডিভিআরআরসি) থেকে রাজ্যের দুই প্রতিনিধি পদত্যাগ করেছেন। শ্রমিক সংগঠন ইউটিইউসি ডিভিসির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শ্রমিকদের স্বার্থে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্য প্রশাসন আরও সতর্ক হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা ও জনসংযোগ
শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা কালীঘাটে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আরামবাগের সাংসদ মিতালী বাগও উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ডিভিসি-র জল ছাড়া মোকাবিলায় কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাপতি উত্তরা সিংহ, অজিত মাইতি, প্রদ্যোৎ ঘোষদের উদ্দেশে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার তফসিল দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ডিভিসি জলছাড়ের পরিণতি
দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা আবারও প্লাবনের ঝুঁকিতে। আসানসোল, দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলে গত দু’দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এই জল দামোদর নদীতে মিশছে। দুর্গাপুরে রাজ্য সেচ দফতরের জলাধারের ক্ষমতা অতিক্রম করেছে। প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী গ্রাম ও শহরের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা: ত্রাণ ও উদ্ধার কাজের জন্য প্রশাসন প্রস্তুত। স্থানীয় ও রাজ্যস্তরের তৃণমূল নেতৃত্ব ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছেন। এ ছাড়া নদী তীরবর্তী এলাকায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম তৈরি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর তোপ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “এই বেপরোয়া পদক্ষেপ আমাদের পবিত্র উৎসবের মধ্যে দুর্দশা তৈরির প্রচেষ্টার কম নয়। একতরফা পদক্ষেপ লজ্জাজনক এবং অস্বীকার্য।” সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যবাসী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। অনেকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “নোটিশ পেলে হয়তো এই বিপর্যয় এড়ানো যেত।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ডিভিসির জলছাড় নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতারা জনসচেতনতা তৈরিতে মাঠে নামবেন। নদী তীরবর্তী এলাকা ও জলাধার পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম কার্যকর করা হবে। রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা ও উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়া দশমী শুভেচ্ছা ও ডিভিসি তোপ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়া দশমী শুভেচ্ছা ও ডিভিসি তোপ
ডিজিটাল ডেস্ক: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব বিজয়া দশমী শেষ হওয়ার পর এখন বিসর্জন পর্ব চলছে। উৎসবের বিষাদ সরিয়ে মিষ্টিমুখ ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করছেন মানুষ। এই সময়ে রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে থেকেও নেতা-মন্ত্রীরাও উৎসবে মেতে উঠেন। শুক্রবার কালীঘাটে দলীয় কার্যালয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজয়া সম্মিলনীতে যোগ দেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ১৩ অক্টোবর আমতলা, নিজের সংসদীয় কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারবাসীর সঙ্গে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এদিন দলীয় অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কার্যালয়ে বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়—মিষ্টির হাঁড়ি, বিভিন্ন উপহার—যা তিনি গ্রহণ করে সকলকে ধন্যবাদ জানান।
ডিভিসির জলছাড়া নিয়ে তোপ
উৎসবের আনন্দে মেতেও অভিষেক দমিয়ে বসেননি রাজনৈতিক তোপ দিয়ে। ডিভিসির জলছাড়া নিয়ে তিনি জানান, “বিসর্জন হবে, তবে বাংলা ও বাংলার মানুষের নয়। বিসর্জন হবে বিজেপি জমিদারদের।” সূত্রের খবর, তিনি উল্লেখ করেছেন, “ডিভিসি প্রতি বছর ম্যান-মেড বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে। ভোট যত এগিয়ে আসে, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সংস্থাগুলি আমাদের না জানিয়ে নানা কাজ করে। অফিসারদের সঙ্গে কোনও সমন্বয় করা হয় না। বাংলাকে ওরা বঞ্চিত করতে চায়, ডোবাতে চায়।”
মুখ্য বক্তব্য: অভিষেকের অভিযোগ অনুযায়ী, ডিভিসির এই কার্যক্রম মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি বাংলার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় না করে কাজ করছে। এই ধরনের আচরণ বাংলার জন্য অগ্রহণযোগ্য এবং তা প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজয়া সম্মিলনী ও জনসংযোগ
দলের বিভিন্ন নেতা-কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এই অনুষ্ঠান শুধু উৎসব উদযাপন নয়, জনসংযোগেরও সুযোগ। তিনি বলেন, “এই সময়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিজয়া দশমী শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।”
বিজেপি সমালোচনা ও রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি
ডিভিসির জলছাড়া নিয়ে অভিষেকের তোপ কেবল প্রশাসনিক সমালোচনা নয়, রাজনৈতিক দিকও বহন করে। তিনি বলেন, “২০২৪-এ বিজেপি কিছুটা পরাজিত হয়েছে, ২০২৬-এ পুরোপুরি পরাজিত হবে। বাংলা থেকে ভোট না পাওয়ায় এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।” সূত্রের খবর, তৃণমূলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিভিসির অতিরিক্ত জলছাড়া নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে।
উৎসবের সঙ্গে রাজনীতি
বিজয়া দশমীর আনন্দের মধ্যে রাজনীতিকদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষকে আনন্দিত করেছে। তবে ডিভিসির জলছাড়া নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—বাঙালির স্বার্থকে ক্ষতি করতে দেওয়া হবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, এবারের পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ফল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, রাজ্যবাসীর স্বার্থে আগামীদিনে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ডিভিসির কার্যক্রম এবং বিজেপির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমে কাজ করবেন। লক্ষ্য হলো বাংলার মানুষ যাতে নিরাপদে এবং আনন্দে উৎসব উদযাপন করতে পারে।