Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Thursday, 9 October 2025

সির (SIR) নিয়ে বিতর্ক: শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ও রাজ্যের রাজনৈতিক প্ররোচনা

সির (SIR) নিয়ে বিতর্ক: শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ও রাজ্যের রাজনৈতিক প্ররোচনা

পুজো মিটতেই SIR তোরজোর: শুভেন্দু অধিকারীর দাবি — "ঠিকঠাক SIR হলে ১ কোটিরও বেশি নাম বাদ যেতে পারে"

প্রকাশকাল: 09 অক্টোবর 2025 | প্রতিবেদক: Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

পুজোর পর রাজ্যব্যাপী ও সার্বিক রাজনৈতিক আলোচনা ঘনায়েছে — এই আলোচনার কেন্দ্রে এখন SIR (Special Intensive Revision / Special Summary Revision) — এক ধরনের সংবেদনশীল ভোটার তালিকা পরিমার্জন কর্মসূচি। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে প্রস্তুতি যাচাই–পর্যায়ে আছে এবং যে কোনসময়ে SIR ঘোষণা হতে পারে। এতে রাজ্য রাজনীতিও সরব হয়েছে।

টেকনিক্যালভাবে SIR হল ভোটার তালিকা নতুন করে যাচাই ও হালনাগাদ করার একটি বিস্তৃত ও তৎপর কর্মসূচি, যেখানে প্রতিটি বুথের এলাকার ভোটার তালিকা ঘরে ঘরে যাচাই করার জন্য বুথ-স্তরের কর্মী (BLO) সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য—ভোটার তালিকা সঠিক ও স্বচ্ছ রাখা। 0

BLOs শুরু হয়েছেন মাঠে — SIR যাচাই।
ফাইল ছবি: বুথ-স্তরের কর্মীরা (BLO) সাধারণত প্রত্যেক পোস্টিং এলাকায় নাম যাচাই করেন।

“...আমি বলব, সঠিক এসআইআর হলে গত ১০-১২ বছরে বাংলাদেশের মুসলমান যে ভাবে ঢুকেছে… এতে ১ কোটির বেশি নাম বাদ যাওয়া উচিত।” — শুভেন্দু অধিকারী (বিধানসভা ভোট ইস্যুতে)

বিধানসভা বাইরে সাংবাদিকদের সামনে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর আশঙ্কা ও দাবিগুলো খুলে বলেছেন — তিনি বলেন, বিহারের SIR–এ রাজ্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ সফলতা দেখা গেছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস, সম্প্রদায়ভিত্তিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা–চ্যালেঞ্জ গम्भীরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি এও জানান যে BLO যদি নির্ভয়ে মাঠে কাজ করতে না পারেন, তাহলে যাচাই প্রক্রিয়ার ফলাফল প্রশস্তভাবে প্রভাবিত হবে।

SIR ও BLO—সংক্ষেপে:
  • SIR—ভোটার তালিকা সম্পূর্ণরূপে পুনরায় যাচাই/হালনাগাদ করার বিশেষ তৎপরতা। বিভিন্ন রাজ্যে এই পদ্ধতি সময়ভিত্তিকভাবে ভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। 1
  • BLO (Booth Level Officer)—বুথ স্তরের সেই স্থানীয় কর্মকর্তা/কর্মী যিনি মাঠে ঘুরে ভোটারের তথ্য যাচাই, নতুন যোগ, এবং অপ্রয়োজনীয় নাম বাদ দেওয়ার কাজ করেন। BLO সাধারণত ওই এলাকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রতিনিধিত্ব করেন। 2

শুভেন্দু দাবি করেছেন, গত ১০–১২ বছরে সীমান্ত–সংলগ্ন অঞ্চলে অনিবন্ধিত নাগরিক–উপস্হিতি বা অনিয়মের কারণে ভোটার তালিকায় অনেক অনিয়ন্ত্রিত নাম যুক্ত হয়েছে — ফলে সঠিক SIR হলে এক কোটি বা তার বেশি সংখ্যক নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা ও প্রত্যাশা উভয়টাই ব্যক্ত করেছেন। এই ধরনের সংখ্যাগত দাবি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন—SIR-এর ধারা ও প্রক্রিয়া যদি কঠোরভাবে চালানো হয়, তাহলে মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বিগুণ এন্ট্রি বা অনুপযুক্ত এন্ট্রিগুলো চিহ্নিত হতে পারে; আবার একই সময়ে, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, পরিচয় যাচাইয়ের বিধি ও প্রতিটি কেসে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনি ব্যাখ্যার গুরুত্ব অপরিহার্য। বিহারের ক্ষেত্রে কমিশন কর্মসূচি চালিয়ে সফলতা দাবি করলেও তা নিয়ে আইনগত ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ উঠেছে—কিছু সংগঠন SIR-এর পদ্ধতি এবং মানদণ্ড নিয়ে উচ্চ আদালতে আপত্তি জানিয়েছে। 3

শুভেন্দু আরও বলেন, বিজেপি সারাবঙ্গে মাঠে সক্রিয় থাকবে এবং বিশেষভাবে মুসলিম-ঘনত্বপূর্ণ বুথগুলোতে দলের কর্মীদের সরাসরি মাঠে রাখার কথা তিনি উল্লেখ করেন না—কারণ তাঁর কথায় কর্মীদের ওপর আক্রমণের ঝুঁকি থাকায় 'প্রাণ দিয়ে' কাজ করিয়ে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছেনা। তিনি বললেন, তবু দলের দৃষ্টি থাকবে, এবং প্রয়োজনীয় রাজকৌশল গ্রহণ করা হবে।

অপর পাশে, নির্বাচন কমিশন ও দায়িত্বশীল প্রশাসন সতর্ক করেছেন যে SIR একদিকে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করবে, অন্যদিকে এটি সম্পন্ন করার সময়, পদ্ধতি ও তথ্যপ্রমাণের ওপর নির্ভর করবে প্রতিটি সিদ্ধান্ত। BLOদের নিরাপত্তা, মাঠে তাদের চলাফেরা ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অংশগ্রহণ—এসব বিষয়ই নির্ধারণ করবে কার্যকারিতা ও সুনামের কথা। 4

রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে শুভেন্দুর কথায়ও স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল—SIR ভালভাবে হলে, ভোটার তালিকার পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে কাদের উপকার করবে তা মন্তব্য করে তিনি বলেছিলেন, তাদের গ্যাপ এবং নির্বাচনগত অবস্থান নিয়ে হিসাব-নিকাশের কথা তুলে ধরেন। রাজ্য রাজনীতি ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ; SIR চালুর পরে দলের স্ট্র্যাটেজি ও জনমত বিশ্লেষণ আরও তীব্র হবে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

“আমরা আশা করব ইলেকশন কমিশন এই চ্যালেঞ্জে উতরে কাজ করবেন।” — শুভেন্দু অধিকারী

সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণে বলা যায়—SIR হতে পারে নির্বাচন ব্যবস্থার শুদ্ধি ও স্বচ্ছতার একটি বড় পদক্ষেপ; তবে একই সময়ে তার কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, আইনি ফ্রেমওয়ার্ক এবং মাঠে তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতির উপর। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক নির্দেশনা, BLOদের প্রশিক্ষণ ও নাগরিকদের কাছে স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা সঠিকভাবে বজায় থাকলেই SIR-এর লক্ষ্য অর্জিত হবে।

বিঃদ্রঃ উপরের প্রতিবেদনে SIR ও BLO বিষয়ে তথ্যসূত্র হিসেবে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি/বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনগুলো সংক্ষেপে ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র: Election Commission / PIB ও সংবাদ ও বিশ্লেষণী প্রতিবেদন। 5

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

প্রাথমিকে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে হাই কোর্টে মামলা, উঠল প্রশ্ন ‘ভুল প্রশ্নের’ নিষ্পত্তি না হতেই নিয়োগ কেন?

প্রকাশক: সালমা মণ্ডল | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো | প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৫

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নতুন শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হলেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ১৩,৪২১টি শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। কিন্তু ‘টেট’-এর প্রশ্ন ভুল নিয়ে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারীরা।

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে একটি নতুন মামলা দায়ের হয়, যেখানে বলা হয়েছে— প্রশ্ন ভুলের অভিযোগ এখনও বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ প্রশাসনিকভাবে অন্যায্য ও বিভ্রান্তিকর। বিচারপতি ওম নারায়ণ রাই আবেদনটি গ্রহণ করে মামলার শুনানির অনুমতি দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই বিষয়টি আদালতে তোলা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, ২০১৭ ও ২০২২ সালের টেট পরীক্ষায় অন্তত ২০টি প্রশ্ন ভুল ছিল বলে প্রার্থীদের দাবি। তাঁর কথায়, “যদি সেই প্রশ্নগুলির জন্য প্রাপ্য নম্বর দেওয়া হয়, অনেক পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবেন। তাই বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তির আগে নতুন নিয়োগ শুরু করা যুক্তিসঙ্গত নয়।”

চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া শুরু হলে বহু যোগ্য প্রার্থী আবেদনের সুযোগ হারাবেন। কারণ প্রশ্ন ভুল সংক্রান্ত রায় তাঁদের পক্ষে গেলে তাঁরা পরবর্তী নিয়োগের যোগ্যতা অর্জন করবেন। তাই নতুন বিজ্ঞপ্তি স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়েছে আদালতের কাছে।

উল্লেখ্য, টেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল সংক্রান্ত মামলা নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সেই কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিটি অভিযোগ যাচাই করে আদালতে রিপোর্ট পেশ করার। কিন্তু রিপোর্ট জমা পড়ার আগেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, যা চলবে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত। তবে মামলা দায়েরের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হবে কি না, তা এখন আদালতের নির্দেশের উপর নির্ভর করছে।

শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা উচিত, যাতে নতুন কোনও বিভ্রান্তি বা আইনি জটিলতা না তৈরি হয়। অন্যদিকে পর্ষদ কর্তারা দাবি করছেন, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের জন্য দ্রুত নিয়োগ অপরিহার্য।

ফলে একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে প্রশাসনিক তাড়না— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে হাজার হাজার প্রাথমিকে চাকরি প্রত্যাশী।

আরও খবর পড়ুন সিঙ্গাপুরে জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যু — CID গ্রেফতারের পর তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Wednesday, 8 October 2025

শ্যালিকা-জামাইবাবু থেকে স্বামী-স্ত্রীর পথে: তন্নু ও রাহুলের সম্পর্কের সংঘাত ও বিয়ের কাহিনি

শ্যালিকা-জামাইবাবু থেকে স্বামী-স্ত্রীর পথে: তন্নু ও রাহুলের সম্পর্কের সংঘাত ও বিয়ের কাহিনি

শ্যালিকা-জামাইবাবু থেকে স্বামী-স্ত্রীর পথে: তন্নু ও রাহুলের সম্পর্কের সংঘাত ও বিয়ের কাহিনি

গৃহপরিচারিকা বা আত্মীয়ের কেয়ার—দায়বদ্ধতার নাম নিয়ে ঢোকার পরিণতি কখনো কখনো অনपेক্ষিত মোড় নেয়। বিহারের জামুই জেলার খাইরা থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এক সম্পর্কের গল্প তেমনই। দিদির বিলোপিত পরিবারের দায় নেওয়া থেকে শুরু করে জামাইবাবুর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পথে পরিবারের প্রতিক্রিয়া, লুকোচুরি, বিতণ্ডা এবং শেষমেশ মন্দিরবিবাহ—সবই কাহিনিতে রয়েছে।
গিধেশ্বর মন্দিরে বিয়ে
গিধেশ্বর শিব মন্দির—জামুইয়ের পারিবারিক মন্ডলীর পরিচিত ধর্মীয় স্থান, যেখানে তন্নু ও রাহুল নিবন্ধনীয় বিয়ে সম্পন্ন করেন। (ছবি: স্থানীয়)
সংক্ষিপ্ত সারমর্ম:

নীলমের মৃত্যুতে তার মেয়ের দেখাশোনা করতে বাড়ি গেলে তন্নু পড়েন তার শাশুড়বাড়ির জামাই রাহুলের সঙ্গে; শুরু সীমিত দায়বোধ, পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক—পরিবারের আপত্তি, দূরত্ব, গোপন দেখা-শোনা এবং অবশেষে দুই পরিবারের সম্মতিতে মন্দিরে বিয়ে।

ঘটনাটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি তন্নু—আমারি গ্রামের বাসিন্দা। তন্নুর দিদি নীলমের বিয়ে হয়েছিল বাতাসপুরের বাসিন্দা রাহুলের সঙ্গে। ভেন্ট্রিকেলে সংসারের ছন্দ ছিল অবিচল। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের একটি কন্যা সন্তানও ছিল। কিন্তু কন্যার বয়স প্রায় দেড় বৎসর হলে নীলম অকালেই রয়ে যান।

নীলমের প্রয়াণের পর, পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকে তন্নু চলে যান দিদির বাড়ি; মেয়েটির দেখাশোনা, বাড়ির কাজ—সব কিছুতে হাত বাড়ান তিনি। গ্রামের সামাজিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গে এমন দায়িত্ব নেওয়া ব্যাপক প্রশংসিত। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে দায়েরসঙ্গীতা একটি নতুন রূপরেখা নেয়—তন্নু ও রাহুল একে অপরের প্রতি ম্যারাঞ্জ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন।

শুরুটা ছিল দায়িত্ব-অনুপ্রাণিত—শিশুর দেখাশোনা, ঘর-বাড়ির দায়িত্ব বিনিময়ে দু'জনের মধ্যকার সান্নিধ্য বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে সেই সান্নিধ্য থেকে জন্ম নেয় ঘনিষ্ঠতা; ধোঁয়াশা ছড়ানোর আগেই সম্পর্ক গভীরতর হয়।

কিন্তু পরিবার সবসময়ই সহজে মেনে নেয়নি।

প্রতিটি পরিবারে সামাজিক মর্যাদা, সম্মান ও সংস্কার মেনে চলার প্রত্যাশা থাকে—বিশেষত এমন সম্পর্ক যেখানে সম্পর্কের সূচনা শাশুড়বাড়ি ও শ্যালিকার মাঝেই। খবরটি দুই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে পৌঁছালে প্রতিবাদের স্রোত বয়ে ওঠে। বহির্বিশ্বের সমালোচনা, আত্মীয়স্বজনের রোষ—সব মিলিয়ে পারিবারিক অশান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়।

প্রাথমিকভাবে তন্নুর বাবা-মা তন্নুকে জামুই ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং সম্পর্ক বিচ্ছেদের হুমকি জানান। তাদের ধারণা—দূরত্ব বজায় রাখলে সম্পর্কের আগুন অনুভবহীন হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দূরত্ব যেন সম্পর্ককে দুর্বল করার বদলে আরো পাকা করে তোলে; লুকোচুরি, মিলন-সাক্ষাৎ—সবই সীমাবদ্ধ চেষ্টায় ঘনিয়ে ওঠে।

রাহুলও থেমে থাকেননি। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের সমর্থন নিয়ে তিনি পরিবারগুলোর কাছে তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অনুরোধ শুরু করেন। লম্বা আলোচনার পর—সম্ভবত পারিবারিক চাপ, স্থানীয় সামাজিক বিবেচনা ও সরাসরি সমঝোতার মাধ্যমেই—অবশেষে দুই পরিবারই নরম হন।

দুটি পরিবারিক আশীর্বাদ মিলেই গিধেশ্বর মন্দিরে নিয়ম মেনে অনুষ্ঠিত হয় তন্নু ও রাহুলের বিয়ে। মন্দিরটি ওই এলাকার পরিচিত ধর্মীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে—যেখানে গ্রামের মানুষ বারবার আসে আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য। বিয়ের দিন উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের বহু সদস্য; স্থানীয়ভাবে এই ঘটনার গুরুত্ব অনুভূত হয়।

এ ঘটনাটি স্থানীয় সমাজে নানা প্রশ্নও তুলেছে—কীভাবে দায়-দায়িত্ব থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ধারণার সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করে? কোথায় পড়ে ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও সামাজিক বিধিবিধান—এ প্রশ্নগুলো এই কাহিনির মধ্যেই বারবার উঠে আসে।

একদল নেটিজেন এই সম্পর্ককে 'প্রেমের স্বাধীনতা' ও 'বাধা অগ্রাহ্যতা' হিসেবে দেখেন; অনেকে আবার পরিবার ও সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলার কথা বলছেন। স্থানীয় ক্ষেত্রবিশেষে এমন রকমের সম্পর্ক ভিন্নমত সৃষ্টি করে—কারণ প্রত্যেক পরিবারের নিজস্ব ইতিহাস, সম্মান-সংবেদনশীলতা ও সামাজিক অবস্থান আলাদা।

দুঃখজনক পাশাপাশিই দেশের আরেকটি বিস্ময়কর কেনো কাণ্ডও সামনে আসে—নিয়মিতভাবে শ্যালিকা-জামাইবাবু সংক্রান্ত নাটকীয় কাহিনির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। অক্টোবরের শুরুর দিনগুলোতে উত্তরপ্রদেশের এক ঘটনাও আলোচনায় ছিল, যেখানে সম্পর্ক ও পরিবারগত সহিংসতার মিশ্র ফলাফল হিসেবে প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটও দেশের সামাজিক ও আইনগত আলোচনাকে জোরদার করে।

তন্নু ও রাহুলের কাহিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—প্রেম ও দায়বদ্ধতার মধ্যে সূক্ষ্ম সীমারা উপস্থিত। সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত ইচ্ছার মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা করা যে সহজ নয় তা এই কাহিনি স্পষ্ট করে দেখায়। অবশেষে—এই দম্পতির সিদ্ধান্ত ও দুই পরিবারের একত্রে নেওয়া সমর্থনই তাদের নতুন জীবনের পথ প্রশস্ত করেছে।

নোট: এই প্রতিবেদনটি Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো কর্তৃক সংগৃহীত সাক্ষাৎকার, স্থানীয় সূত্র ও ঘটনাবলীর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। কাহিনীর বর্ণনা প্রতিবেদকের অনুসন্ধান ও স্থানীয় বিবরণীগুলোর ওপর ভিত্তি করে সরাসরি অনুবৃত্ত — সম্পূর্ণ কপি রাইট মুক্ত।

সম্পাদকীয় অভিযোগ/তথ্য পরিমার্জনা: editor@ybangla.example.com

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

👉 উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়কে ঢাকতে রাজনৈতিক আক্রমণ, অভিযোগ সিপিএম ও কংগ্রেসের। বিজেপির কটাক্ষ— “নিজের ঘর সামলাতে পারেন না, দেশকে পরামর্শ দিচ্ছেন!”

কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বার্তা — "অমিত শাহতেই সাবধান"

কলকাতা, ৮ অক্টোবর: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা—"অমিত শাহতেই সাবধান"

রিপোর্ট: ওয়াসীমা সুলতানা  |  লোকেশন: কলকাতা  |  প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৫
কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মমতা
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য—ফাইল ছবি।

বুধবার দুপুরে উত্তরবঙ্গ পরিদর্শনের পরে ফেরার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে বলেন, "আমি দুঃখিত, এই কথা বলতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, অমিত শাহতেই সাবধান থাকুন। সব বিষয়ে ওঁকে ভরসা করবেন না। উনিই সবচেয়ে বড় মীরজাফর।" এই মন্তব্যের পর সঠিক রাজনৈতিক শহরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। 0

“এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তি-সম্বোধন নয়—এটি রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি, যা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং পার্টি-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে,”—রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়ন।

মমতার এই অবস্থান প্রকাশের পর সিপিএম, কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক খামগুলোর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সিপিএম নেতা রবীন দেব সরাসরি প্রশ্ন তোলে যে, “উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বিপর্যয়কে আড়াল করতেই মমতা এই ধরণের কেন্দ্র-নির্ভর বক্তব্য দিচ্ছেন।” তিনি অভিযোগ করেন—রাজ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বহীনতা রয়েছে এবং টার্গেট ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর উদ্দেশ্য রয়েছে। (রবীন দেবের উদ্ধৃতি—প্রদত্ত বক্তব্য অনুসারে)।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও তৃণমূল এবং বিজেপিকে সমধিক সমালোচনার শিকার করেন; তিনি বলেন যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়েছে এবং “বাইনারি পলিটিক্স” তৈরি করে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুভঙ্কর সরকারের দাবি—জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা এবং দ্রুত আর্থিক—মানবিক সহায়তা চালুর দাবি উঠছে। (উল্লেখ্য: এই বক্তব্যগুলি প্রতিবেদকের কাছে প্রাপ্ত সরকারী ও রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী উপস্থাপিত)।

প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, মমতা যে কাউকে বিশ্বাস করেন বা না করেন—সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার; কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে এমন বক্তব্য “অপমানজনক” এবং “ছোট মনের পরিচয়” বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, মমতার ওপর জাতীয় স্তরে আস্থা নেই—এমন আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে। 1

সূত্র: Indian Express, India Today, Times of India, Hindustan Times, Deccan Herald. 2

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতার এই মন্তব্য কোনো একক ঘটনা নয়—এটি দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আরেকটি প্রকাশ। গত কয়েক দফায় কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণ ও স্থানীয় বাস্তবতার মধ্যে বিরোধ ও আর্থিক—প্রশাসনিক সম্পৃক্ততা নিয়েই এই উত্তেজনা গোনা যায়। অপরদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর দলে অনেকে মনে করেন, এমন বক্তব্য শক্তভাবে কেন্দ্রে তৎপরতা ও নজর আকর্ষণ করতে সক্ষম।

নাগরিক-সমাজ ও গণমাধ্যমেও এই মন্তব্যকে বড় আকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনেকে জানিয়েছেন, দুর্যোগ-প্রশাসন ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ নিয়ে রাজনৈতিক বিবাদ সাধারণ মানুষের সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে দেয়—এমনটাই তাদের সমালোচনা। অন্যদিকে কিছু সমর্থক এই মন্তব্যকে ন্যায়-প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন—তাদের মতে, কেন্দ্রে ঘনিষ্ঠ শক্তিগুলোর অপ্রাসঙ্গিক কর্তৃত্ব সম্পর্কে থাকা উচিত সতর্কতা।

যা স্পষ্ট—এই পরস্পর-অভিযোগ রাজনীতিকে আরও তীব্রতর করেছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমঝোতা ও স্বচ্ছ সমন্বয় না হলে বাস্তব দুর্যোগ মোকাবেলার কাজ কষ্টকর হবে—বিশ্লেষকরা এমনই সতর্ক করছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, সর্বদলীয় সমন্বয় ও সত্যিকার ভূমিকা নিয়েই উত্তরবঙ্গের দুর্যোগ থেকে পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজে নিতে হবে, তা তাদের মত।

আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর উত্তর প্রতিক্রিয়া ও কেন্দ্র-রাজ্য মধ্যকার কথাবার্তা কিভাবে গঠিত হয়—সে দিকে দেশজুড়ে নজর থাকবে। মিডিয়া রিপোর্ট ও দলীয় বিবৃতি অনুসারে পরিস্থিতির পুরোদমে প্রতিফলন ও সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করা হবে। 3

#মমতা #অমিতশাহ #প্রধানমন্ত্রীরূপেসতর্কতা #উত্তরবঙ্গ #রাজনীতি #নাগরাকাটা
রিপোর্টার: ওয়াসীমা সুলতানা | কলকাতা
নোট: এই প্রতিবেদনটি প্রাথমিক রাজনৈতিক বিবৃতি ও দলীয় প্রতিক্রিয়া ভিত্তিক। উদ্ধৃতিগুলো রিপোর্টিং সূত্রানুযায়ী উপস্থাপিত; তদন্ত বা ভবিষ্যৎ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত দায়বদ্ধ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অফিসিয়াল প্রতিবেদনগুলোর দিকে مراجعه করুন।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

সিঙ্গাপুরে জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যু — CID গ্রেফতারের পর তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

গুয়াহাটি: সিঙ্গাপুরে জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যু — CID গ্রেফতারের পর তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

গুয়াহাটি: সিঙ্গাপুরে জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যু — CID গ্রেফতারের পর তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

প্রকাশক: ওয়াসীমা সুলতানা  |  তারিখ: ৮ অক্টোবর ২০২৫  |  রিপোর্ট: গুয়াহাটি
Zubeen Garg ও সন্দীপন গর্গ
ছবি: জুবিন গর্গ (ডান) এবং সন্দীপন গর্গ—CID সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসারে সন্দীপন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

দেশের উত্তর-পূর্বের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ও গায়ক জুবিন গর্গ-এর (৫২) রহস্যজনক মৃত্যু ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে ঘটেছে—তার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে চলছে তীব্র চলমান তদন্ত। ঘটনার শুরু থেকেই রহস্য ও ষড়যন্ত্র-অভিযোগ মিশ্রিত আলোচনা চলেছে; সম্প্রতি মামলায় এক নতুন মোড় এসেছে যখন ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (CID) গায়কের আপন আপোদাস্ব সৎভাই ও অসম পুলিশের অফিসার সন্দীপন গর্গ-কে গ্রেফতার করেছে এবং তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটি থেকেই নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল-এ যোগ দিতে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন জুবিন। সেখানে একটি ইয়ট ট্রিপে অংশ নেওয়ার সময় সমুদ্রের কাছে সাঁতার কাটার পর রহস্যজনকভাবে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং পরে হাসপাতালে পৌঁছে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে নানা তদন্ত ও জল্পনা শুরু হয়।

প্রসঙ্গগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (সারাংশ):
  • জুবিন গর্গ ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রের কাছে সাঁতার কাটার সময় নিখোঁজ হন; পরে তাকে হাসপাতালে নিলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
  • CID ও SIT তদন্তে গায়কের ম্যানেজার, অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং দুই সহকর্মী—শামকানু মহন্ত, সিদ্ধার্থ শর্মা, শেখরজ্যোতি গোস্বামী ও অমৃতপ্রভা মহন্তসহ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার বা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
  • পুলিশ ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে কিছু ক্ষেত্রে হত্যার অভিযোগ (বিএনএস/আইপিসি-এর সংশ্লিষ্ট ধারায়) অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং মামলাটি বর্তমানে উচ্চমাত্রার বিচারকীয় অনুসন্ধান ও সাইলো-জোরা তদন্তের অধীনে।
  • স্থানীয় সরকার, বিশেষত রাজ্যের মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাটির দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জনগণের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তদন্তকারি সূত্র বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক সূত্র অনুসন্ধানে কিছু প্রাসঙ্গিক ভিডিও ফুটেজ এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের বিবরণ পেয়েছে SIT ও CID। ওই ভিডিওগুলিতে দেখা গেছে, ইয়ট ট্রিপ চলাকালে জুবিন কেবল একা সাঁতার কাটছিলেন না—কয়েকজনই তাঁর সঙ্গে ছিলেন, কেউ তাঁকে ঘিরে ছিল, আর কেউ ভিডিও তুলে রেখেছিলেন। তদন্তকারীরা ওই ফুটেজ এবং ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের ডেটা বিশ্লেষণ করছেন যাতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় ঘটনাক্রম কিরূপ ছিল।

জবানবন্দি অনুযায়ী, একাধিক গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি তদন্তে বিভিন্ন পর্যায়ে জানিয়েছে যে ঘটনাটি দুর্ঘটনার মতোই মনে হলেও কিছু অস্বাভাবিক দিক রয়েছে। এক গ্রেফতারকৃত সহকর্মী দাবি করেছেন যে গায়ক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছু সময় পর তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে বাঁচানো যায়নি—তবে আরেক গ্রেফতারের মাটির সূত্রে অভিযোগ ওঠেছে যে হয়তো কোনো প্ররোচনা বা বিষক্রিয়া থাকতেই পারে; এ ধরনের দাবিও তদন্তে তোলা হয়েছে।

ঘটনার পরে রাজ্যব্যাপী শোক ও উদ্বেগ দেখা দেয়। বৃহৎ সংখ্যক ভক্ত এবং শিল্পমহল শোকাহত হলেও একই সময় ঘটনাটি নিয়ে কটূক্তি, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাটির ন্যায্য বিচার ও প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সিঙ্গাপুর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই ঘটনায় প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে—তবে সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি প্রমাণ সংগ্রহ বা ফরেনসিক রিপোর্ট আসা কিছুটা সময়সাপেক্ষ কাজ।

আইনগত তথা ন্যায়বিচার সম্পর্কিত নিয়তি:

এই ধরনের রকমারি ঘটনা তদন্তে আদালত প্রক্রিয়া, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদ—এই তিনটি অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দীপন গর্গকে CID হেফাজতে নেওয়ার পর আজ তাঁকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং পুলিস রবিবারের রিমান্ডের জন্য আবেদন করলেও আদালত বিচারিক কারণ বিবেচনায় গ্রহণ করে সাত দিনের রিমান্ড প্রদান করতে পারে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় অভিযোগ এনেছে পুলিশ—তারা যদি বাংলাদেশ/সিঙ্গাপুর ইন্টারঅ্যাকশনের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে রেকোয়েস্ট করা হতে পারে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও ভক্তদের মধ্যে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দাবি-অভিযোগ করছেন—কেউ বলছেন গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত না করলে সরকারের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে, আবার কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন। পুলিশি তদন্তে রাজনৈতিক কোনো হস্তক্ষেপ যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনও বারবার আশ্বস্ত করেছে যে তদন্ত স্বাধীনভাবেই চালানো হবে।

বর্তমানে তদন্তকারীরা নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো যাচাই করছেন: (১) ইয়ট ও সাঁতার সংক্রান্ত যে ভিডিও ও ফুটেজ আছে—তার সম্পূর্ণ ক্রনোলজি; (২) যেসব ব্যক্তিরা ঐ সময়ে ইয়টে ছিলেন—তাদের গতিবিধি ও মোবাইল/কমিউনিকেশন ডেটা; (৩) গায়কের শারীরিক মর্যাদাসূচক রিপোর্ট ও সিঙ্গাপুর থেকে প্রাপ্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট; (৪) ঘটনার আগে-পরে ওই আয়োজনের আর্থিক লেনদেন ও দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব-পরিসর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ঘটনায় জটিলতা বেশি থাকে—কারণ প্রাথমিক প্রমাণ-উপাদান বিদেশে পাওয়া গেলে তা আনতে কূটনৈতিক ও প্রক্রিয়াগত সময় লাগে। তবুও ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঠিকভাবে সিঙ্গাপুর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করলে দ্রুত অর্থপূর্ণ ফল পাওয়া সম্ভব। জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে পেতে সর্বোপরি দরকার স্বচ্ছতা ও সময়মতো তথ্য প্রকাশ।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে তারা চাইছেন—দ্রুত এবং সুষ্ঠু তদন্ত হোক যাতে মর্মান্তিক ভাবে বিদায় নেওয়া শিল্পীর প্রতি ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়। পরিবার ও ভক্তগণ রাষ্ট্রকে আস্থা দেখিয়ে রেখেছেন এবং প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেছেন যেন তথ্য আড্ডা-সূত্রে গোপন রাখা না হয়।

#ZubeenGarg #জুবিনগর্গ #SandipanGarg #CID #সিঙ্গাপুরমৃত্যু #নর্থইস্টফেস্টিভ্যাল #তদন্তচালু
রিপোর্টার: ওয়াসীমা সুলতানা | এসাইনড অফিস—গুয়াহাটি
নোট: এই প্রতিবেদনটি সংবাদশৈলীতে প্রস্তুত করা হয়েছে—প্রাথমিক সূত্র ও সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে; তদন্ত চলমান থাকায় ভবিষ্যতে কিছু তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নাকি তৃণমূলের হস্তক্ষেপ—নাগরাকাটায় রাজনৈতিক উত্তাপ তীব্র।”

নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ-বিধায়কের ওপর হামলা: দুজন গ্রেফতার, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত

নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ-বিধায়কের ওপর হামলা: দুজন গ্রেফতার, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত

প্রকাশক: ওয়াসীমা সুলতানা
তারিখ: ৮ অক্টোবর ২০২৫

উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় ত্রাণ বিতরণের সময় হামলার শিকার হয়েছেন বিজেপির সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। সোমবারের এই হামলার ঘটনায় দুই দিন পর পুলিশ অবশেষে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাকি ছয় অভিযুক্তের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। তবে বিজেপি শিবিরের দাবি, “চাপের মুখে পড়েই ৪৮ ঘণ্টা পর গ্রেফতার দেখাতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।”

নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ-বিধায়কের ওপর হামলার স্থান
নাগরাকাটায় হামলার স্থান, যেখানে ত্রাণ বিতরণের সময় বিজেপি সাংসদ-বিধায়ক আক্রান্ত হন

হামলার সময় সাংসদ খগেন মুর্মু গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তাঁর চোখের নীচের হাড় ভেঙে গেছে এবং বর্তমানে তিনি উত্তরবঙ্গের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও হামলার সময় আঘাত পেয়েছেন, যদিও তাঁর চোট ততটা গুরুতর নয়।

মঙ্গলবার হাসপাতাল পরিদর্শনে যান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুকান্ত মজুমদার। তিনি সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। তাঁর বক্তব্য, “এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার না করাটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার না করা জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করছে।”

রাজ্য রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম! ঘটনা ঘটেছে বিজেপি অধ্যুষিত এলাকায়, এমপি এবং এমএলএ—সবই বিজেপির। তাহলে দায় কার?” মুখ্যমন্ত্রী এভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, যেন এই ঘটনার পেছনে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল দায়ী হতে পারে।

অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পুলিশের উপর আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “পুলিশের উপস্থিতিতে তৃণমূলের লোকজন হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে এখন দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু আমরা জানি পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করবে না। তাই এনআইএ তদন্ত দাবি করছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ শুধুমাত্র স্থানীয় সীমাতেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের মধ্যেও বিতর্ক তৈরি হতে পারে। এনআইএ তদন্তের দাবি, পুলিশি দোষী অনুসন্ধান এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে নাগরাকাটার পরিস্থিতি এখন নজরকাড়া ও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

নাগরাকাটা ঘটনা প্রমাণ করছে, রাজনৈতিক সংঘাত শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষ, প্রশাসন, এবং রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা প্রত্যক্ষভাবে এতে প্রভাবিত হচ্ছেন। বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের আঘাত ও হাসপাতাল ভর্তি, পুলিশের দেরি, রাজনৈতিক নেতা ও দলগুলোর মতামত—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত।

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নাগরাকাটার দিকে। ৪৮ ঘণ্টা পর দুজনের গ্রেফতার হলেও, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন থামছে না। মানুষ জানতে চায়, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ, হামলার কারণ ও দায়ীদের শাস্তি কবে হবে।

#নাগরাকাটা #বিজেপি_হামলা #খগেনমুর্মু #শঙ্করঘোষ #উত্তরবঙ্গরাজনীতি

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিষাক্ত ‘কোল্ড্রিফ’ সিরাপে শিশু মৃত্যু, কেন্দ্র-তামিলনাড়ু সরকারের নীরবতা প্রশ্নে

মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিষাক্ত ‘কোল্ড্রিফ’ সিরাপে শিশু মৃত্যু, কেন্দ্র-তামিলনাড়ু সরকারের নীরবতা প্রশ্নে

মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিষাক্ত ‘কোল্ড্রিফ’ সিরাপে শিশু মৃত্যু, কেন্দ্র-তামিলনাড়ু সরকারের নীরবতা প্রশ্নে

প্রকাশক: মহিবুর রহমান শেখ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৫

Y বাংলা ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিষাক্ত কোল্ড্রিফ সিরাপের ঘটনায় ২০ শিশু মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কেন্দ্র ও তামিলনাড়ু সরকারের মধ্যে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, সিডিএসসিও ইতিমধ্যেই সতর্কতা ও সুপারিশ জানিয়েছিল, কিন্তু তামিলনাড়ু খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (TN-FDA) এই ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার বিরুদ্ধে এখনও কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি।

কেন্দ্রের তীব্র প্রশ্ন ও তামিলনাড়ুর নীরবতা

কেন্দ্রের তরফে প্রশ্ন করা হয়েছে, এত ছোট্ট প্রাণের ক্ষতি ঘটার পরও কেন সংস্থার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়নি। কেন কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি, যদিও ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (DGCI) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। যদিও কেন্দ্র এই ঘটনাকে রাজনৈতিক খেলা হিসেবে দেখছে না, তবুও তামিলনাড়ু সরকারের নীরবতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থার লঙ্ঘন

তামিলনাড়ু ড্রাগস কন্ট্রোল দফতরের ২৬ পাতার তদন্ত প্রতিবেদনে স্রেসুন ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে ৩৫০-এর বেশি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। কারখানার পরিবেশ চরম অস্বাস্থ্যকর, যন্ত্রপাতি মরচে ধরেছে এবং রাসায়নিক ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেড নয় এমন ব্যবহার করা হয়েছে। সিরাপে ডায়িথাইলিন গ্লাইকল (DEG) ধরা পড়েছে, যা অত্যন্ত বিষাক্ত এবং কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ

তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ১ অক্টোবর মধ্যপ্রদেশ থেকে জরুরি সতর্কতা পাওয়ার পরই রাজ্যে সিরাপের বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। ৩ অক্টোবর উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সংস্থাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। ৭ অক্টোবর আরও একটি নোটিশ দিয়ে অপরাধমূলক মামলা শুরু করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু কেন্দ্র দাবি করছে, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। সংস্থার বিরুদ্ধে এখনও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা দায়বদ্ধতার অভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংক্রমিত রাজ্যসমূহের পদক্ষেপ

যেসব রাজ্যে কোল্ড্রিফ সিরাপ বিক্রি, বিতরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে:

  • মধ্যপ্রদেশ
  • রাজস্থান
  • তামিলনাড়ু
  • উত্তরপ্রদেশ
  • পাঞ্জাব
  • কেরল
  • ঝাড়খণ্ড
  • মহারাষ্ট্র

মধ্যপ্রদেশে পুলিশের পদক্ষেপ

মধ্যপ্রদেশ পুলিশ সরকারি হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্রবীণ সোনিকে গ্রেফতার করেছে। তবে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA) এই গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করেছে। তাঁদের দাবি, দায়ী হওয়া উচিত সংস্থা ও ড্রাগ নিয়ন্ত্রক দফতরের ব্যর্থতার জন্য, চিকিৎসকদের নয়।

সরকার ছিন্দওয়াড়া ও জবলপুরের দুই ড্রাগ ইনস্পেক্টর এবং ফুড ও মেডিসিন বিভাগের সহ-পরিচালককে সাসপেন্ড করেছে। ড্রাগ কন্ট্রোলারকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক ভোপালে ১৯টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। ১০টি পরীক্ষা ইতিমধ্যে সম্পন্ন, যার মধ্যে ৯টি পাস করেছে কিন্তু একটিতে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়েছে। কেন্দ্র আরও ছ’টি রাজ্যের ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্রে ঝুঁকি ভিত্তিক পরীক্ষা শুরু করেছে।

গ্রামীন স্তরে তদন্ত ও জনসচেতনতা

রাজস্থান এবং অন্যান্য রাজ্যে গ্রামে গ্রামে তদন্ত চালানো হচ্ছে। নিরাপদ ওষুধ ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। শিশু ও গর্ভবতীদের জন্য ক্ষতিকর সিরাপে বিশেষ সতর্কতা লেবেল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশেও বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রে FDA কোল্ড্রিফ সিরাপের বিক্রি ও বিতরণ নিষিদ্ধ করেছে।

কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব এবং ভবিষ্যতের পদক্ষেপ

এই ঘটনা কেন্দ্র-রাজ্য স্তরের দ্বন্দ্বকেও স্পষ্ট করেছে। কেন্দ্র দাবি করছে, রাজ্য পর্যায়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন। ড্রাগ সংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে শিশু ও সাধারণ মানুষের প্রাণ ঝুঁকিতে না পড়ে।

প্রকাশক: মহিবুর রহমান শেখ | Y বাংলা

#কোল্ড্রিফ #বিষাক্তসিরাপ #শিশুমৃত্যু #তামিলনাড়ু #মধ্যপ্রদেশ #রাজস্থান #ড্রাগকন্ট্রোল #স্বাস্থ্যনিরাপত্তা #FDA #DGCI

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

নির্বাচনী প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশনের রাজ্যজুড়ে তৎপরতা

নির্বাচনী প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশনের রাজ্যজুড়ে তৎপরতা

নির্বাচনী প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশনের রাজ্যজুড়ে তৎপরতা

প্রকাশক: ফারিয়া ইসলাম

প্রকাশিত: 8 অক্টোবর, 2025

Y বাংলা নিউজ ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে ভোটের উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি যাতে সময়মতো সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরণের গাফিলতি না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত করেছে। বৈঠকে সাত দিনের মধ্যে সমস্ত নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বৈঠক
রাজ্যের জেলাশাসকদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভার্চুয়াল বৈঠক

নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার রাতেই দিল্লি থেকে কলকাতায় পৌঁছে। দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপ-নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী, তথ্যপ্রযুক্তি শাখার ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্না, কমিশনের সচিব এসবি যোশী এবং উপ-সচিব অভিনব আগরওয়াল। বৈঠকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে সময়মতো সব নির্বাচনী প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বৈঠকে সাফ জানানো হয়েছে যে, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত নির্বাচনী প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। কমিশন চায়, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে ভোটার ফর্ম ছাপানো এবং বিতরণ সব কাজ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হোক। বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে জেলা কম প্রস্তুত সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রস্তুতির বিশদ পরিকল্পনা

রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭.৬৫ কোটি ভোটার রয়েছেন। প্রতিটি ভোটারের জন্য দুটি করে আবেদনপত্র ছাপানো হবে—একটি ভোটারের হাতে পৌঁছাবে, অন্যটি বিএলও সংগ্রহ করবেন। রাজ্যের প্রতিটি জেলা নিজেদের পরিকাঠামো ব্যবহার করে ফর্ম ছাপার দায়িত্ব পালন করবে।

বৈঠকে কমিশনের প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের চার-পাঁচ দিনের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ ফর্ম ছাপানোর কাজ শেষ করতে হবে। এই ছাপার কাজ শুধুমাত্র এক কেন্দ্রীয় স্থানে নয়, বরং প্রতিটি জেলার নিজস্ব প্রিন্টিং ইউনিটের মাধ্যমে করা হবে।

রাজ্যজুড়ে ছাপা ফর্ম পরবর্তী ধাপে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এরপর BLO-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিটি ভোটারের হাতে ফর্ম বিতরণ করবেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাররা নির্দিষ্ট সময়ে ফর্ম হাতে পাবেন এবং ভোটার তালিকায় নাম নিশ্চিত করতে পারবেন।

উত্তরবঙ্গ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়

উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি বেশিরভাগ জেলা প্রশাসক। তাদের জন্য পরে আলাদা বৈঠক ডেকেও পুরো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। কমিশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, যে কোনো গাফিলতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা কঠোরভাবে দায়িত্বে আনা হবে।

বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে বিহারের উদাহরণ টানা হয়েছে, যেখানে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাতেও একইভাবে দায়িত্বে অবহেলার জন্য কোনো রেহাই থাকবে না।

নির্বাচনী প্রস্তুতি তদারকি

নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করতে চায় যে, রাজ্যের প্রতিটি জেলা সময়মতো প্রস্তুতি শেষ করবে। এছাড়াও তারা সমস্ত জেলার প্রস্তুতির খতিয়ান সরাসরি দেখবেন এবং ত্রুটিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করবেন।

কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা তাদের দায়িত্ব। কোনও ধরণের অবহেলা বা গাফিলতি চলবে না। কমিশন রাজ্যের প্রতিটি জেলায় নিয়মিত তদারকি করবে এবং সমস্ত পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ করবে।

বৈঠকের মধ্যে কমিশনের প্রতিনিধি দল জেলাশাসকদের জানিয়েছে, এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সকলকে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

উত্তরবঙ্গের জেলা প্রশাসকরা আলাদা বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া অন্যান্য জেলা প্রশাসকরা নিয়মিত ফলোআপ এবং রিপোর্টের মাধ্যমে কমিশনকে তথ্য দেবেন। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে যে, ভোটারদের জন্য সময়মতো ফর্ম বিতরণ এবং নির্বাচন প্রস্তুতি বাধাহীনভাবে সম্পন্ন হবে।

নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ রাজ্যের নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, সময়নিষ্ঠ এবং সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সকল জেলাশাসক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সতর্ক বার্তা দিয়েছে যে, সময়মতো সমস্ত কার্যক্রম শেষ করতে হবে, না হলে দায়বদ্ধতার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারসংক্ষেপ

রাজ্যে ভোটার সংখ্যা এবং ফর্ম বিতরণের জটিলতা বিবেচনায়, নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কার্যকর ও পরিকল্পিত পদ্ধতিতে ভোটারদের ফর্ম পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। সাত দিনের মধ্যে সমস্ত নির্বাচনী প্রস্তুতি শেষ করা এবং সময়মতো ফর্ম বিতরণের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনের পরিবেশকে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ রাখা হবে।

#WestBengal #ElectionCommission #VoterPreparation #SIRSurvey #BLO #Election2025 #TransparentElections #VotingProcess

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

মৌসম নুর: তৃণমূল ছাড়ছেন কি? — মালদা রাজনীতিতে জল্পনা

মৌসম নুর: তৃণমূল ছাড়ছেন কি? — মালদা রাজনীতিতে জল্পনা

মৌসম নুর: তৃণমূল ছাড়ছেন কি? — মালদা রাজনীতিতে জোরালো জল্পনা

মালদা, 8 অক্টোবর 2025 • রিপোর্ট: Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক
মৌসম নুর — মালদা
মালদা কেন্দ্রে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নুর (ফাইল ছবি)

দুর্গাপুজো শেষ হতেই মালদার রাজনৈতিক বাতাসে নতুন এক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে — রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নুর কি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ফের কংগ্রেসে ফিরে আসছেন? স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে আলোচনা তীব্র। যদিও মৌসম নিজে বারবার বলেছেন, তিনি তৃণমূলে একনিষ্ঠ ও দলের নির্দেশ মেনে কাজ করে যাবেন, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সময়ে থাকা তাঁর গতিবিধি ও পারিবারিক পটভূমি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য কৌশল দেখছেন।

মৌসম নুরের রাজনৈতিক যাত্রা প্রথাগত ও পারিবারিকভাবে গড়া। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগেই তাঁর পরিবার মালদার প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত। মা রুবি নুর কংগ্রেস থেকে বিধায়ক ছিলেন — সেই ঐতিহ্যই মৌসমকে ঘিরে ভালো যোগাযোগ গড়ে তোলে। ২০০৮ সালে মায়ের মৃত্যুর পরে তিনি সুজাপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন জিতে বিধায়ক হন; পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে লোকসভায় জয়ী হন এবং মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মর্যাদা লাভ করেন।

সংক্ষেপে:
  • মৌসম নুর — প্রাক্তন কংগ্রেস কার্যকারী, ২০১৯-এ তৃণমূলে যোগদান।
  • ২০২০-তে তৃণমূলের নির্দেশে রাজ্যসভার সাংসদ হন।
  • আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জল্পনা ও কংগ্রেসের 'ওদার উন্মুক্ত' ঘোষণা দৃশ্যমান।

২০১৯ সালে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকে মৌসম মালদা জেলার তৃণমূল কাঁধে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর আমলেই মালদায় তৃণমূল প্রথমবার বিধায়ক আসনে জয়ী হয় বলে দলের কount করে। কিন্তু লোকসভা এবং পরবর্তী নির্বাচনে তার ফলাফল মিশ্র ছিল; মাঝে বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মুর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং হারও ছিল। ২০২০-এ তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য (Rajya Sabha MP) হিসেবে দিল্লি পাঠায় — সেই পদে থাকাকালীন তিনি কেন্দ্রীয় স্তরে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

এই সময়ে রাজনৈতিক সমালোচনার এক অংশ ছিল — লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন এবং তৃণমূলে যোগদানের পর তাঁর স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ। পার্টির জেলা নেতৃত্বের পদ থেকে সরিয়ে রাখা হওয়াও তাঁর রাজনীতির একটি প্রবণতা নির্দেশ করে। এসব প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হলে — যা আগামী মার্চে হবে — তাঁর সেলফ-রিইনভেনশনের সুযোগ থাকতে পারে।

অন্যদিকে কংগ্রেস জেলা সভাপতি ইশা খান চৌধুরির মন্তব্যও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি জানিয়েছেন, যারা তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিতে চান, তাদের কাছে দরজা খোলা রয়েছে। ইশার কড়া বক্তব্যের এক দিক হলো — স্থানীয় পর্যায়ে কংগ্রেস পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করছে এবং প্রয়োজনে যারা ফিরে আসতে চান তাদের স্বাগত জানাবে।

মৌসম নিজে সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি তৃণমূলে আছেন, দলের যে দায়িত্ব দেওয়া হবে তা তিনি পালন করবেন এবং বর্তমানে তাঁকে দলের তরফে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এই ধরনের বক্তব্য অনেকে 'দলীয় নিয়মানুস্য' হিসেবে দেখলেও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণ আরও সূক্ষ্ম: অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা পার্টি বদলে দলগত স্থান ও নির্বাচনী সুযোগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন তখনই যখন স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটার সমর্থন সে পথে ঠেকায়।

স্থানীয় নেতাদের কথায়, মৌসমের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এখনও আছে — গলিসরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি, সামাজিক কার্যক্রম ও জনসংযোগ বেড়েছে। এটাই ইঙ্গিত দেয় যে তিনি নিজের রাজনৈতিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে কংগ্রেসের উন্মুক্ত নামা-নেওয়া নীতির কারণে অনেকেই মনে করছেন, যদি মৌসম কংগ্রেসে ফিরে যান, তা মালদা রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের তরঙ্গ তৈরি করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বোর্ডের নম্বর নির্ভর করবে প্রধানত তিনটি বিষয়ের উপর — (১) মৌসমের নিজস্ব জনপ্রিয়তা এবং মাঠে তার সমর্থন, (২) তৃণমূলে তার অবস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রস্তাবনা, এবং (৩) কংগ্রেসের স্থানীয় কৌশল ও ক্ষমতা পুনরুজ্জীবনের ষড়যন্ত্র। যেকোনও সিদ্ধান্তই নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে এবং ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে গণনাগত ভাবে গুরুত্ব পাবে।

প্রভাব:
  • মৌসম কংগ্রেসে ফিরে গেলে মালদা-নগর ও মালদা উত্তর কেন্দ্রে কংগ্রেসের শক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • তৃণমূলের স্থানীয় দলে শূন্যতা তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে ওই অঞ্চলে সামনের নির্বাচনী প্রার্থী তালিকা পরিকল্পনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
  • রাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতিতে এ ধরনের দলে নাম 변경 বাতাস আরও বাড়াবে এবং রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার সূর তৈরি করবে।

ফলে এখনকার অবস্থায় প্রতিটি পক্ষই সংযত পদক্ষেপ নিচ্ছে। মৌসম স্পষ্ট করে বলছেন, “দল যদি দায়িত্ব দায়, আমি করব,” আর কংগ্রেস বলছে — দরজা খোলা। মাঠের রাজনীতি, ভোটার-আচরণ এবং দলে থাকা কৌশলই চূড়ান্ত নিয়ামক হবে।

কপিরাইট অবস্থা: এই প্রতিবেদটি কপিরাইট-মুক্ত (Public Domain / CC0) হিসেবে প্রকাশ করা হলো — আপনারা এটি অনায়াসে কপি, সম্পাদনা ও পুনঃপ্রকাশ করতে পারবেন। প্রস্তুতকারক: Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক।
আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৫ • রিপোর্টার: Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক •

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

সব বিষয়ে অমিত শাহকে ভরসা করবেন না — বেশি বিশ্বাস করলে মীরজাফরের মতো পরিণতি হতে পারে”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

“সব বিষয়ে অমিত শাহকে ভরসা করবেন না — বেশি বিশ্বাস করলে মীরজাফরের মতো পরিণতি হতে পারে”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | Y বাংলা

“সব বিষয়ে অমিত শাহকে ভরসা করবেন না — বেশি বিশ্বাস করলে মীরজাফরের মতো পরিণতি হতে পারে”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

• Kolkata
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিমানবন্দরে সংবাদদাতাদের সঙ্গে
কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় — ছবি: পরিবর্ধন/ফাইল (যদি ব্যবহার করেন, অনুগ্রহ করে উপযুক্ত ক্রেডিট প্রদান করুন)

কলকাতাঃ বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে চড়তে শুরু করেছে ভোটের উত্তাপ। বাড়ছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। তাঁরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নাম না-করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করলেন তিনি — “সব বিষয়ে অমিত শাহকে ভরসা করবেন না। বেশি বিশ্বাস করলে মীরজাফরের মতো পরিণতি হতে পারে।”

সংক্ষিপ্ত সারাংশ
  • মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন কলকাতা বিমানবন্দরে, উত্তরবঙ্গ পরিদর্শনের পরে।
  • তিনি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনকেও কড়া আক্রমণ করেন।
  • ত্রিপুরায় তৃণমূলের অফিসে হামলা ও প্রতিনিধি দলকে আটকে রাখার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন।

বুধবার দুপুরে উত্তরবঙ্গ থেকে ফেরার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দুঃখিত এই কথা বলতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, অমিত শাহকে ভরসা করবেন না। উনিই সবচেয়ে বড় মীরজাফর।” তিনি আরও বলেন, “আমি বলতে চাই — সব বিষয়ে অমিত শাহকে ভরসা করবেন না। বেশি বিশ্বাস করলে মীরজাফরের মতো পরিণতি হতে পারে।”

নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দেশিকা ঘিরে মমতা তীব্র কটাক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট নির্দেশে অভিযোগ পেলে ১৫ দিনের মধ্যে এসআইআর (SIR) দাখিল করার কথা বলা হয়েছে — এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কমিশন কি বিজেপির কথা মতো চলছে?’ এবং বলেন, “মনে হচ্ছে, উনিই এখন অ্যাকটিং প্রাইম মিনিস্টার।”

একই সঙ্গে ত্রিপুরার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, “ত্রিপুরায় আমাদের টিমকে প্রিপেড ট্যাক্সি দেওয়া হয়নি; বাধ্য হয়ে আমি হেঁটে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।” মঙ্গলবার আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে হামলার ঘটনাকে তিনি কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত দুষ্কৃতীদের দ্বারা সংঘটিত বলে অভিযুক্ত করেন এবং বলেন, “আমরা ভয় পাই না। বাংলার তৃণমূল কর্মীরা মাথা নোয়াবে না।”

প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের অফিস ভাঙচুর এবং দলের প্রতিনিধি দলকে বিমানবন্দরে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুসারে গাড়ির বদলে মাত্র একটি গাড়ি দেওয়া হয় ও প্রিপেড ট্যাক্সি বুক করতেও বাধা দেওয়া হয় — ফলে দল ধর্না ও পায়ে হেঁটে তাদের কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়।

কপিরাইট অবস্থান:

এই নিবেদনটি কপিরাইট-মুক্ত (Public Domain / CC0) হিসেবে প্রকাশ করা হলো — আপনি এটি কপি, বিতরণ, পুনঃব্যবহার বা সম্পাদনা করতে পারেন কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই। (প্রকাশক: ফারিয়া ইসলাম)

আপডেট: 8 অক্টোবর 2025 • প্রকাশক: ফারিয়া ইসলাম
নোট: প্রধান বক্তব্য এবং ঘটনাবলী প্রতিবেদক কর্তৃক সংগ্রহ করা হয়েছে। ছবির ক্রেডিট ব্যবহার করলে অনুগ্রহ করে উৎসের নাম প্রদান করুন।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Featured post

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক: অল্লু অর্জুনের সুপারহিট ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘পুষ্পা’ ফের নতুন চমক আনতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, ‘পুষ্পা ৩’ ছবিতে খলচর...

Search This Blog