Sample Video Widget

Seo Services

Friday, 5 September 2025

শিক্ষক দিবসে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠান নওদা পাবলিক স্কুলে

শিক্ষক দিবসে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠান নওদা পাবলিক স্কুলে

শিক্ষক দিবসে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠান নওদা পাবলিক স্কুলে

শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ও অতিথিদের মূল্যবান বক্তব্যে ভরে উঠল দিন

নওদা, ৫ সেপ্টেম্বর

আজ সারা দেশের মতোই শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নওদা পাবলিক স্কুল (বালকবিভাগ) আলতলা শাখায় আয়োজিত হলো এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয় উৎসবমুখর পরিবেশে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শুভ সূচনা

অনুষ্ঠানের শুভ আরম্ভ হয় পবিত্র কেরাত পাঠের মাধ্যমে। পবিত্র কোরআনের সুমধুর তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজন যেন ছড়িয়ে দেয় আধ্যাত্মিক আবহ। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফুল ও করতালির মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করে নেন। উপস্থিত সবাই এ সময় দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।

অতিথিদের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষা অনুরাগী খন্দকার আনোয়ার সাহেব, শিক্ষা-উদ্যোগী ব্যক্তিত্ব এস. ই. মো. মুকুল শেখ, শিক্ষক ও এই এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বজিত ঘোষ, এবং রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষক রেন্টু শেখ। তাঁদের পাশাপাশি এলাকার বহু সমাজসেবক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে আরও গৌরবান্বিত করেন।

অতিথিদের বক্তব্য

খন্দকার আনোয়ার সাহেব

শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা খন্দকার আনোয়ার সাহেব তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন,

“শিক্ষক শুধু পাঠ্যপুস্তক পড়ান না, তাঁরা সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি তৈরি করেন। এক জন প্রকৃত শিক্ষকই একজন শিক্ষার্থীকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম। শিক্ষককে সম্মান জানানো মানে সমাজের অগ্রযাত্রাকে সম্মান জানানো।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,

“তোমরা যতই আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নাও না কেন, শিক্ষকের কাছ থেকে যে প্রজ্ঞা, অনুপ্রেরণা ও মানবিক মূল্যবোধ পাও, তা কখনও বই বা যন্ত্র থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।”

এস. ই. মো. মুকুল শেখ

এস. ই. মো. মুকুল শেখ শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আজকের সমাজের নানা সংকট এবং তার সমাধান। তিনি বলেন,

“আজকের দিনে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া যতটা জরুরি, তার চেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার প্রচার। যদি তরুণ প্রজন্ম শুধু বিদ্যায় নয়, নীতিতে দৃঢ় হয়, তবে সমাজের উন্নতি নিশ্চিত।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,

“তোমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে পরিশ্রম, সততা ও শৃঙ্খলাকে সঙ্গী করতে হবে। শিক্ষকদের কাছ থেকে এই তিনটি গুণ শিখে নিতে পারলেই জীবনে বড় কিছু করা সম্ভব।”

বিশ্বজিত ঘোষ

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বজিত ঘোষ শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন,

“তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আজ থেকেই পরিশ্রমী, সৎ এবং দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করো। শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্মান করো, তাহলেই জীবনে সফলতা আসবে।”

তিনি আরও বলেন,

“পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। আগামী দিনে তোমাদের মধ্য থেকেই কেউ হবে ডাক্তার, কেউ হবে প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক। কিন্তু সবার আগে একজন ভালো মানুষ হওয়া জরুরি।”

রেন্টু শেখ

রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষক রেন্টু শেখ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন,

“শিক্ষার পাশাপাশি চারিত্রিক গুণও অর্জন করতে হবে। শিক্ষার আলো দিয়ে শুধু নিজেকে নয়, সমাজকেও আলোকিত করতে হবে। তোমাদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের নেতৃত্ব।”

তিনি শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,

“তোমাদের কাছে শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। তোমাদের মধ্যে সততা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি করতে হবে। এই গুণই আগামী দিনের ভারত গড়ে তুলবে।”

শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা। একে একে মঞ্চস্থ হয় নানা ধরণের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—

  • গজল পরিবেশনা: শিক্ষার্থীদের গাওয়া গজল শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায়। সুরেলা কণ্ঠে তারা কৃতজ্ঞতার আবহ সৃষ্টি করে।
  • আবৃত্তি: বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তুলে ধরে শিক্ষকদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
  • তাৎক্ষণিক বক্তৃতা: কয়েকজন শিক্ষার্থী মঞ্চে উঠে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখে। তাঁদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় দর্শকরা মুগ্ধ হন।
  • নাটক: শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিবেশিত নাটকটি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। নাটকের মাধ্যমে বোঝানো হয়, শিক্ষক শুধু জ্ঞান দেন না, তাঁরা পথপ্রদর্শক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আবেগঘন মুহূর্ত

সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শেষে শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় শিক্ষকদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। অনেক শিক্ষকই এ সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

“আমাদের সারা বছরের ক্লান্তি আজ দূর হয়ে গেল। এ ধরনের সম্মানই আমাদের কাজের প্রকৃত প্রাপ্তি।”

অভিভাবক ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও সমাজসেবকেরা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হন। তাঁদের মতে, এরকম অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে এই শিক্ষার্থীরাই সমাজকে আলোকিত করবে।

শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা

অতিথি ও শিক্ষকেরা তাঁদের বক্তব্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। শিক্ষার্থীদেরকে শুধু একাডেমিক সাফল্যের দিকে মনোযোগ না দিয়ে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

তাঁদের মতে, শিক্ষক দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি শিক্ষকদের ত্যাগ ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন।

সমাপ্তি

দিনভর নানা আয়োজন শেষে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হয় আবেগঘন পরিবেশে। অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে নওদা পাবলিক স্কুল (বালকবিভাগ) আলতলা শাখার শিক্ষক দিবসের উদযাপন হয়ে উঠল অনন্য ও স্মরণীয় এক দিন।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog