ছত্তিসগঢ়ে একসঙ্গে ১৪ হাজারেরও বেশি এনএইচএম কর্মীর পদত্যাগ
ছত্তিসগঢ়ে একসঙ্গে ১৪ হাজারেরও বেশি এনএইচএম কর্মীর পদত্যাগ
ছত্তিসগঢ়ে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (National Health Mission - NHM) অধীনে কর্মরত বিপুল সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক কর্মীর একযোগে পদত্যাগে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার হঠাৎ করেই প্রায় ১৪ হাজার কর্মী একসঙ্গে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে একই পদে কর্মরত থাকলেও বেতন বৃদ্ধি এবং স্থায়ী নিয়োগের বিষয়টি সরকার বারবার এড়িয়ে যাচ্ছে।
আন্দোলনের সূচনা
জানা গিয়েছে, গত ১৮ অগস্ট থেকে এনএইচএম কর্মীরা তাঁদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। মূলত বেতন কাঠামোর সংস্কার, কাজের নিরাপত্তা ও স্থায়ী নিয়োগের নিশ্চয়তা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তাঁরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চালাচ্ছিলেন। কর্মীদের দাবি, একই দায়িত্ব পালনের পরও স্থায়ী কর্মীদের তুলনায় তাঁরা অনেক কম বেতন পান।
বরখাস্তের প্রতিবাদে গণপদত্যাগ
অভিযোগ, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে রাজ্য সরকার ২৫ জন কর্মীকে বরখাস্ত করে। এই ঘটনার পরই বাকি কর্মীরা ব্যাপক ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকার যদি দাবি শোনার বদলে আন্দোলন ভাঙতে চাকরিচ্যুতির মতো পদক্ষেপ নেয়, তবে আর চাকরিতে থেকে কোনও লাভ নেই।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রভাব
এনএইচএম কর্মীরা রাজ্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও ব্লক পর্যায়ের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মেরুদণ্ডস্বরূপ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নার্স, টেকনিশিয়ান, ওষুধ সরবরাহকারী, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী কর্মী। একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক কর্মীর পদত্যাগে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত অচল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা প্রদান, মাতৃসদন পরিষেবা, শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
কর্মীদের বক্তব্য
পদত্যাগী কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁদের লড়াই কেবল বেতন বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং ন্যায্য মর্যাদা এবং কর্মসংস্থানের নিরাপত্তার জন্য। এক কর্মীর কথায়, “বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক চাকরি করে যাচ্ছি। আমরা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।”
সরকারের অবস্থান
এ বিষয়ে এখনও রাজ্য সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে, কীভাবে এত বড় আকারের পদত্যাগের পর স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু রাখা যায়। একাংশের মতে, দ্রুত আলোচনায় না বসলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে এবং সাধারণ মানুষই এর মূল ভুক্তভোগী হবেন।
উপসংহার
ছত্তিসগঢ়ে এনএইচএম কর্মীদের একযোগে পদত্যাগ কেবল একটি শ্রমিক আন্দোলন নয়, বরং স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও অবহেলার প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই জটিল পরিস্থিতির সমাধান করে, নাকি রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটে পড়বে।



No comments:
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন