অগ্নিগর্ভ নেপাল: গণআন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করলেন কেপি শর্মা ওলি, প্রতিবেশী শান্তির আহ্বান মমতার
নেপাল এক অভূতপূর্ব সংকটে। Gen Z প্রজন্মের তরুণদের আন্দোলনের চাপের মুখে পড়ে অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। গণবিদ্রোহের দাবির সামনে নতি স্বীকার করে তিনি তাঁর পদ ছাড়লেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়। সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল মঙ্গলবার সকালে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নিরাপত্তার আশ্বাসের বিনিময়ে ইস্তফা দেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপরই ওলি পদত্যাগ করেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতা শুধু ওলির ব্যক্তিগত সংকট নয়; তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও বিক্ষোভের শিকার হয়েছেন। উত্তেজিত জনতা তাঁদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি ওলির নিজস্ব বাসভবনেও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। সূত্রের খবর, তিনি দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন এবং সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই। তবে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ওলি সর্বদলীয় বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি জানান, বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা হবে। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে তার আগেই তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়। নেপালের সমাজমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। এর প্রতিবাদে তরুণ সমাজ পথে নেমে পড়ে এবং দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশ গুলি চালালে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনাই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।
এদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার পথে নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “নেপাল আমার দেশ নয়। এটি কেন্দ্র সরকারের বিষয়। আমরা প্রতিবেশী দেশগুলিকে ভালোবাসি—শ্রীলঙ্কা, নেপাল, বাংলাদেশ। কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নেবে, তার ভিত্তিতেই আমরা অবস্থান জানাব। এখনই মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”
তিনি উত্তরবঙ্গের জনগণকে সতর্ক থাকতে বলেন। শিলিগুড়ি ও কালিম্পং অঞ্চলের বিস্তীর্ণ বর্ডার নেপালের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, “আমরা নেপালকে ভালোবাসি। কেউ ঝামেলায় জড়াবেন না। কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সমর্থন করব। প্রতিবেশী দেশের শান্তিই আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
মমতা আরও বলেন, SIR (সংশোধিত নির্বাচন ব্যবস্থা) নিয়ে তাঁর এবং তাঁর দলের অবস্থান স্পষ্ট। বহু প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারও বলেছেন, কয়েক মাসে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। “আমরা এর বিরোধিতা করব। ভোটার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত,”—তিনি বলেন।
নেপালের পরিস্থিতির পটভূমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নেপাল সরকার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে Gen Z প্রজন্ম প্রতিবাদে পথে নামে। সংঘর্ষে সেনা ও পুলিশের মুখোমুখি হয় বিক্ষোভকারীরা। সোমবার রাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। এরপরও পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে বরং আরো উত্তপ্ত হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং সেনার পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ইস্তফা দেন।
ত্রিভুবন বিমানবন্দর বন্ধ করে সমস্ত উড়ান বাতিল করা হয়েছে। ৩০০-র বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সেনার হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে নিরাপদে মন্ত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতি শুধু নেপালের নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেশী দেশে অস্থিরতা সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জন্যও উদ্বেগের কারণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর শান্তির আহ্বান শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সমগ্র উপমহাদেশের জন্য একটি মানবিক বার্তা।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন