ভিনদেশী সংখ্যালঘু নাগরিকদের জন্য ভারত সরকারের শর্তসাপেক্ষ ছাড়
ভিনদেশী নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মরিয়া ভারত সরকার। অবৈধ নাগরিকদের অনত্র সরাতে প্রতিটি রাজ্যে ডিটেশন ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ কেন্দ্রের। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়মের কড়াকড়ি থেকে ছাড় মিলবে ভিনদেশী নাগরিকদের। সেই কথাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ভারত সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার, কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, যেসমস্ত ভিনদেশী নাগরিকরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছেন তাঁদের চিহ্নিত করে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে যদি কোনও ব্যক্তি বৈধ নথি না দেখাতে পারেন, তাহলে তাঁকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়মের হেরফের হবে।
ছাড় পাওয়ার শর্ত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু নাগরিক এবং হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ও পার্সি ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা যারা নিজেদের দেশে ধর্মীয় অত্যাচার থেকে বাঁচতে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের ফেরত পাঠানো হবে না। তবে এক্ষেত্রেও থাকবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মবিধি।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ কার্যকর করার সময় কেন্দ্রের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, যে নাগরিক ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে এসেছেন, একমাত্র তাদেরই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তবে কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকায় ওই সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁরা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে এসেছেন, তাদের পাসপোর্ট বা অন্য কোন নথি ছাড়াই ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।
কেন্দ্রের এই নয়া নির্দেশিকার পরে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি মিলেছে ভিনদেশী সংখ্যালঘু নাগরিকদের। তবে ভারতে থাকতে পারলেও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা পাবেন না তারা।
মূল তথ্য সংক্ষেপে
- ডিটেশন ক্যাম্পের নির্দেশ: অবৈধ নাগরিকদের অনত্র সরানোর জন্য প্রতিটি রাজ্যে তৈরি হবে।
- ছাড় প্রযোজ্য: বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু নাগরিক এবং হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ও পার্সি ধর্মাবলম্বীরা।
- নাগরিকত্ব সীমা: ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আসা নাগরিকদের নাগরিকত্বের বিষয় ছিল, নতুন নির্দেশিকায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।
- নথি প্রমাণ ছাড়: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আসা সংখ্যালঘু নাগরিকদের পাসপোর্ট বা নথি ছাড়াই ভারতে থাকার অনুমতি।
- নাগরিকত্ব নয়: থাকার অনুমতি থাকলেও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
- সংখ্যালঘু নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি বৃদ্ধি
- ভারতে বসবাসের জন্য কিছু ঝামেলা কমানো হয়েছে
- নাগরিকত্ব না থাকায় ভবিষ্যতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রযোজ্য হতে পারে
- কেন্দ্রের নির্দেশিকা প্রমাণ ও ডিটেনশন সংক্রান্ত ঝামেলা হ্রাস করেছে
বিশেষ মন্তব্য
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্দেশিকার ফলে সংখ্যালঘু নাগরিকরা স্বল্প ঝুঁকিতে ভারতে থাকতে পারবে। তবে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা না থাকায়, এটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়। বিশেষভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন