নেপালের অশান্তি: কেপি শর্মা ওলির পতন, নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা
Y বাংলা ব্যুরো: নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া গণঅভ্যুত্থানের জেরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে পদত্যাগে বাধ্য হতে হয়েছে। তার পাশাপাশি দেশে এক গভীর রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে—নেপালের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে? অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, নাকি সংসদ ভেঙে রাষ্ট্রপতির তত্ত্বাবধানে নতুন ভোটের প্রস্তুতি নেওয়া হবে? এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই নেপালের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে তীব্র আলোচনার সূচনা হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের মাত্র দুদিনের মধ্যে সরকারের ভেতরে বিভ্রান্তির ছবি স্পষ্ট। অনেক মন্ত্রী ইস্তফা দিয়েছেন, কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে নেতৃত্বে আসছেন না। বিরোধী দলগুলোর গণইস্তফায় সংসদ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দেশের রাজনীতি এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। নাগরিকদের মধ্যে যেমন আতঙ্ক, তেমনই নতুন নেতৃত্বের আশায় উত্তেজনা।
মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সভাপতি রবি লামিছানেকে নখখু জেল ভেঙে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতির চাপে জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তাঁকে তাঁর স্ত্রী নিকিতা পৌডেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতিতে তাঁকে বন্দি রাখা অনুচিত। উল্লেখ্য, সমবায় দুর্নীতির মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
অন্যদিকে কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ জনতার মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন। ফেসবুকে তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই পরিবর্তনের পেছনে জেন জি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নবীন প্রজন্মের শোষকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম সফল হয়েছে। এখন সময় সংযম প্রদর্শনের।” তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, দেশের সম্পদ ধ্বংস হলে তা জনগণেরই ক্ষতি করবে। তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে সংসদ ভেঙে দিতে হবে বলে দাবি তুলেছেন।
দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও সবাইকে একজোট হয়ে আলোচনায় বসে শান্তির পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে। এই সহিংসতায় আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা ২২ ছুঁয়েছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে কারণ বিরোধী দুই দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ও রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির সমস্ত সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। আরএসপি-র কার্যকরী সভাপতি ডোলপ্রসাদ আর্যল জানিয়েছেন, তাঁদের ২০ জন এমপি পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে আরআরপির মুখ্য সচেতক জ্ঞানবাহাদুর শাহি জানিয়েছেন, তাঁদের ৪২ জন এমপি ও বিধায়ক গণইস্তফা দিয়েছেন। ফলে সংসদ টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই শূন্যতার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটি নাম ঘুরপাক খাচ্ছে—বলেন শাহ ও রবি লামিছানে। তাঁদের নাম মুখে মুখে উঠে আসার কারণ তাঁরা দুজনেই তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন। অনেকেই মনে করছেন, এই টালমাটাল পরিস্থিতির নেপথ্য কারিগর হিসেবে রবি লামিছানের ভূমিকা রয়েছে। নেপালের রাজনৈতিক ময়দানে তিনি তুলনামূলকভাবে অ-বিতর্কিত মুখ। তাঁর জনপ্রিয়তা মূলত ছাত্র-যুব ও শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে।
অনেকে মনে করেন, রবি লামিছানে স্বচ্ছ নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তিনি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য। তাঁর নামের প্রতি মানুষের আস্থা এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর প্রধান সমর্থক শ্রেণি হলো তরুণ প্রজন্ম, যারা পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্নীতি ও আত্মসাৎ-প্রবণতার বিরোধিতা করছে।
বলেন শাহও সমানভাবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনকে উৎসাহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সংযম, ঐক্য ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা। তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং দাবি তুলেছেন সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন ভোটের পথে এগোনোর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে নেপালের রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একদিকে সহিংসতা ঠেকানো, অন্যদিকে জনআস্থাকে ধরে রাখা। যদি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়, তবে তার নেতৃত্ব কে নেবে তা নিয়েই বিভক্ত মতামত। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হলে তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।
আলোচ্য সংকটের পেছনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণও বড় ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, এবং যুবসমাজের হতাশা এই গণআন্দোলনের পেছনে অন্যতম অনুঘটক। আন্দোলনের নেতৃত্ব যেভাবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আলোড়ন তুলেছে তা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তবে স্থিতিশীলতা আনতে হলে আলোচনার টেবিলে সবাইকে বসতে হবে। সেনাবাহিনী, নাগরিক সংগঠন, এবং রাজনৈতিক দলগুলির সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া সমস্যার সমাধান কঠিন।
পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। রবি লামিছানে এবং বলেন শাহ—এই দুই তরুণ নেতা দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মুখ হতে পারেন। তবে তারা কি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে পারবেন, নাকি পুরোনো নেতৃত্বের ছায়ায় সীমাবদ্ধ থাকবেন, তা সময়ই বলবে। নেপালের এই রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থায় নাগরিকদের আশা একদিকে স্থিতিশীলতা, অন্যদিকে দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব। আগামী কয়েক সপ্তাহ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন