Sample Video Widget

Seo Services

Saturday, 13 September 2025

আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল কলকাতা হাইকোর্ট

আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল কলকাতা হাইকোর্ট

আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল কলকাতা হাইকোর্ট

আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শুভেন্দু অধিকারী আদালতে

ছবি: আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ধর্মতলায় উপস্থিত হওয়ায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।

ঘটনার সূত্রপাত

বৃহস্পতিবার ধর্মতলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের ধর্নাস্থলে হাজির হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর আগেই আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, বিজেপির কোনও পদাধিকারী ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করায় আদালতের অবমাননার অভিযোগ ওঠে। রাজ্য সরকারের তরফে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ কঠোর সতর্কবার্তা দেন।

বিচারপতির সতর্কবার্তা

বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন:

“আদালতের সঙ্গে কারসাজি করলে সমস্যা আছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের প্রতি সহানুভূতি আছে। কিন্তু যখন অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, তখন রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা ছিল না। এখন যে অভিযোগ করা হচ্ছে তাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকাশ পাচ্ছে। কেন আদালতের নির্দেশ মানা হচ্ছে না? আদালত এই মুহূর্তে কোনও পদক্ষেপ করছে না। তবে ভবিষ্যতে এমন হলে রং না দেখেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আদালত পক্ষপাতদুষ্ট হবে না। শাসক বা বিরোধী—সব পক্ষের জন্য সমানভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

মামলাকারীদের বক্তব্য

মামলাকারীদের আইনজীবী জানান, শুভেন্দু ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ঠিকই। তবে পুলিশের নির্দেশে যখন জানানো হয় রাজনৈতিক পদাধিকারীদের সেখানে থাকতে দেওয়া যাবে না, তখন তিনি নিজেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আদালতের নির্দেশ ছিল, শুধুমাত্র সেনাকর্মীরা থাকতে পারবেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নয়। কিন্তু পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের ফলে বিষয়টি আদালতে পৌঁছায়।

মেয়ো রোডের ঘটনার প্রতিধ্বনি

এর আগে ১ সেপ্টেম্বর মেয়ো রোডে তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ উদ্বোধন করতে সেনাকর্মীরা এগিয়ে আসেন। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:

“আমি যখন এখানে আসছিলাম, আপনারা অনেকে ছবিও পেয়েছেন। প্রায় ২০০ সেনা আমাকে দেখে ছুটে পালাচ্ছিল।”

এই মন্তব্যের পরে সেনাবাহিনীর অপমানের অভিযোগ ওঠে। গাঁধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভের আবেদন করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের একাংশ। পরে আদালত তাদের বিক্ষোভের অনুমতি দিলেও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়।

রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি

এই ঘটনার ফলে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ে। তৃণমূল কংগ্রেস আদালতের দ্বারস্থ হয়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলে। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করে, সেনাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শুভেন্দু সেখানে গিয়েছিলেন। তবে আদালত জানায়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা চলবে না।

আদালতের ভূমিকা এবং নিরপেক্ষতা

বিচারপতি ঘোষ স্পষ্ট করে বলেন, আদালত সহানুভূতিশীল হলেও শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আদালতের নির্দেশ ভঙ্গ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। আদালতের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

সংঘাতের পেছনের কারণ

মেয়ো রোডের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সেনাসদস্যদের প্রতি অপমানজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়। এর জেরে সেনাকর্মীদের একাংশ প্রতিবাদী অবস্থান নেয়। তারা গাঁধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেন। আদালত তাদের মানবাধিকার রক্ষায় অনুমতি দিলেও রাজনৈতিক উপস্থিতি নিষিদ্ধ রাখে। এই নির্দেশই পরে প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বিরোধী ও শাসক শিবিরের পাল্টাপাল্টি

রাজ্য রাজনীতির উত্তপ্ত পরিবেশে এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সেনাকর্মীদের সম্মান রক্ষা বনাম রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার। শাসক শিবির আদালতের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানালেও বিরোধী পক্ষ দাবি করছে সেনাদের পাশে দাঁড়ানো তাদের নৈতিক কর্তব্য। আদালত উভয় পক্ষকেই সতর্ক করেছে—আইনের বাইরে গিয়ে কোনও রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদালতের কঠোর বার্তা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

বিচারপতি ঘোষের বক্তব্য রাজনীতির ঊর্ধ্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। ভবিষ্যতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে রং বা দলের ভিত্তিতে ছাড় দেওয়া হবে না—এই অবস্থান আদালতের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করবে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্দেশ রাজনীতির মাঠে একটি বার্তা দেবে: মানবিকতার নামে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো চলবে না।

উপসংহার

ধর্মতলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের ধর্নাস্থলে উপস্থিত হওয়া নিয়ে আদালতের সতর্কতা শুধু রাজনৈতিক বিবাদ নয়, এটি আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি আনুগত্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, আদালত সহানুভূতিশীল হলেও শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর হতে দ্বিধা করবে না। ভবিষ্যতে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আইনকে প্রাধান্য দেওয়ার এই বার্তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করবে।


📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog