উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে দিল্লির রাজনীতি সরগরম: এনডিএ বনাম ইন্ডিয়া ব্লক
নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দিল্লির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া ব্লক’-এর মধ্যে প্রতিযোগিতা। এই নির্বাচন শুধু একটি পদে প্রার্থী নির্ধারণ নয়; এটি আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় আলোচনা তৈরি করেছে।
প্রার্থীদের পরিচিতি
এবারের নির্বাচনে এনডিএ-এর প্রার্থী হিসেবে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সি.পি. রাধাকৃষ্ণন ভোটযুদ্ধে নামছেন। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং শাসক জোটের সমর্থন তাঁকে এগিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লকের প্রার্থী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বি. সুদর্শন রেড্ডিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া
ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ১০টায় এবং চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এতে অংশ নেবেন লোকসভার ৫৪২ জন সদস্য (একটি আসন খালি), রাজ্যসভার ২৩৩ জন নির্বাচিত সদস্য (৫টি আসন শূন্য) এবং ১২ জন মনোনীত সদস্য। সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে ভোট গণনা। নির্বাচনের এই পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে যাতে নির্বাচন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
সংখ্যার অঙ্ক ও জয়ের সম্ভাবনা
লোকসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর ২৯৩ জনের সমর্থন রয়েছে। রাজ্যসভায় তাদের পাশে আছে ১২৯ জন সাংসদ। সব মিলিয়ে দুই কক্ষে তাদের সমর্থন ৭৮২ জনের মধ্যে ৪২২ জন। যেখানে জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজন মাত্র ৩৯৪ ভোট। ফলে আপাতভাবে রাধাকৃষ্ণনের জয় নিশ্চিত মনে হলেও, রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে ভোটের ব্যবধান নিয়ে।
ক্রস ভোটিংয়ের আতঙ্ক
রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, সংখ্যা গরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিজেপির শিবিরে এক ধরনের উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভেতরের বিদ্রোহের সম্ভাবনা এবং ক্রস ভোটিং। জগদীপ ধনকড়কে সরিয়ে রাধাকৃষ্ণনকে আনায় যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, তা উল্টে বিরোধীদের হাতে রাজনৈতিক অস্ত্র হতে পারে। যদি কয়েকজন বিজেপি সাংসদ ক্রস ভোট করেন, তবে তা নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে।
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে মোদী-শাহ জুটি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব – নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ – ব্যক্তিগতভাবে সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কোথাও ফোন করছেন, কোথাও আবার ভোজসভা বা কর্মশালার মাধ্যমে সাংসদদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। সাধারণ নির্বাচনের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে এতটা সতর্ক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ফলে এই নির্বাচন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি শাসক জোটের স্থায়িত্ব এবং নেতৃত্বের উপর জনগণের আস্থার পরীক্ষাও বটে।
বিরোধীদের কৌশল
বিরোধী শিবিরের লক্ষ্য শুধু ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। তারা চায় শাসক জোটের মধ্যে দুর্বলতা প্রকাশ পেতে। সুদর্শন রেড্ডির প্রার্থী হওয়া নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার সাংসদদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। যদিও তারা লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, তবুও বিরোধী দলগুলো এই সুযোগে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়। রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় উঠছে যে, যদি বিরোধীরা সংখ্যায় কম হয় তবুও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে সক্ষম হবে।
ফলাফল যাই হোক, গুরুত্বপূর্ণ
যে পক্ষই জয়ী হোক, এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এনডিএ যদি বড় ব্যবধানে জয় পায়, তবে শাসক জোটের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে বিরোধী শিবির যদি ভোটের ব্যবধান কমিয়ে আনে, তাহলে তা সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের ইঙ্গিত হিসেবে গণ্য হবে। ফলে উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকেও বড় তাৎপর্য বহন করছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন