অসমে অবৈধ বিদেশি শনাক্ত ও বিতাড়নে ১৯৫০ সালের আইন কার্যকর, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: অসম সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠক – অবৈধ বিদেশি শনাক্তের সিদ্ধান্ত ঘোষণা
প্রেক্ষাপট
অসম সরকার অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত ও বিতাড়নে ১৯৫০ সালের আইন কার্যকর করতে আনুষ্ঠানিক এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) প্রণয়ন করেছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে ঘোষণা করেন যে, এবার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের শনাক্ত, শুনানি এবং বিতাড়নের কাজ এগোবে। তিনি বলেন, “বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ১০ দিনের সুযোগ দেওয়া হবে।”
আইনের প্রয়োগের প্রক্রিয়া
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, সিএএ-র ৬এ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ অসম সরকারের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা নিশ্চিত করেছে। এই আইনের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত জেলাশাসক অবৈধ বিদেশিদের উচ্ছেদ ও বিতাড়ন করতে পারবেন। প্রথমবারের মতো রাজ্য মন্ত্রিসভা সম্পূর্ণভাবে এই আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ
- সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জেলাশাসকের পক্ষ থেকে নোটিশ প্রদান করা হবে।
- নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হবে।
- শুনানির পর সিদ্ধান্ত হলে অবিলম্বে উচ্ছেদের আদেশ জারি হবে।
- যদি জেলাশাসক নিশ্চিত হতে না পারেন, মামলা বিদেশি ট্রাইবুনালে পাঠানো হবে।
জনস্বার্থ ও তফসিলি জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগ
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও বিতাড়ন করা হবে যাদের উপস্থিতি জনস্বার্থের জন্য বা তফসিলি জনগোষ্ঠীর স্বার্থে ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, “শনাক্ত হওয়া বিদেশিদের অবিলম্বে এলাকা থেকে উচ্ছেদ বা অসম থেকে বিতাড়িত করা হবে।”
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, এই পদক্ষেপ আসলে মেরুকরণের রাজনীতি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। তাঁদের বক্তব্য, “অবৈধ বিদেশি” নামে যেসব মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের অনেককেই বাংলাদেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। বরং তারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে গ্রহণ করবে না। বিরোধীরা দাবি করেছেন যে সরকারের এই উদ্যোগ ভোটের রাজনীতির অংশ এবং এটি বাস্তব সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক চমক সৃষ্টি করছে।
মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন
মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই নাগরিকত্বের নথিপত্র সংগ্রহ করা দরকার হয়, যা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে কঠিন হতে পারে। তাঁরা দাবি করছেন, এই প্রক্রিয়া যেন নাগরিকদের ওপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি না করে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
অসমে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সময়ে এই বিষয় নিয়ে সংঘাত, বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে এই আইন কার্যকর হওয়া নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে এর সামাজিক প্রতিক্রিয়া কতটা হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর।
বিশ্লেষণ
অসমের জনসংখ্যা গঠন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং তফসিলি সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকেও নজর দিতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেন নিরীহ নাগরিকরা ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন