এশিয়া কাপ ফাইনালের দিনে বিসিসিআইয়ের নতুন সভাপতির ভাগ্য নির্ধারিত”
এশিয়া কাপ ফাইনালের দিনই বিসিসিআইয়ের ভবন—৯৫তম বার্ষিক সভার দিন ঠিক, শীর্ষপদের ভাগ্য নির্ধারণ
সভা ও এজেন্ডার সৌরভ: কী কী নির্ধারিত হবে?
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ইতোমধ্যেই রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সভাপতি, সহ-সভাপতি, সচিব, যুগ্ম-সচিব ও কোষাধ্যক্ষ—এই পাঁচটি কার্যনির্বাহী পদের তফসিল ২৮ সেপ্টেম্বর এজেন্ডার প্রধান অংশ হবে। এছাড়া অ্যাপেক্স কাউন্সিল এবং ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধির নির্বাচনের বিষয়টিও তালিকাভুক্ত রয়েছে।
কেন এ দিনটি গুরুত্বপূর্ণ?
প্রথমত, এশিয়া কাপ ফাইনালের দিন নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নজরও ওই দিন বন্দী থাকবে—এটি রাজনৈতিকভাবে এবং মিডিয়া কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, লোধা আইন মেনেই নির্বাচন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে—যার ফলে আগে–পরে প্রশাসনিক ও নিয়োগগত অনেক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিসিসিআই সভাপতিত্বের খালি আসন—পরিস্থিতি
এই মাসের শুরুতে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার রজার বিনি পদত্যাগের পর থেকে বিসিসিআইয়ের সভাপতির আসন শূন্য রয়েছে। সেই শূন্যতার ভরাটই এবার প্রধান অনুষঙ্গে থাকবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের চর্চা শুরু হয়ে গেছে—কিন্তু অফিসিয়ালি এখনও কেউ নাম ঘোষণা করেননি।
- নতুন আইপিএল চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হবেন—কারণ বর্তমান চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল ছয় বছর প্রশাসনে সম্পন্ন করেছেন এবং এখন কুলিং-অফে যেতে বাধ্য।
- ধুমালের জায়গায় আইপিএল চেয়ারম্যান হিসেবে রাজীব শুক্লা অথবা এমসিএ-র প্রাক্তন সচিব সঞ্জয় নায়েকের নাম ঘুরছে।
- যদি রাজীব শুক্লা আইপিএল চেয়ার থাকেন, তাহলে বিধিগত শূন্যতা পূরণে বিসিসিআই সহ-সভাপতির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রাকেশ তিওয়ারির নাম উঠে আসছে—তিনি বিহার ক্রিকেট সংস্থার প্রধান ও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখ।
আইপিএল চেয়ারম্যান: ধুমাল থেকে নতুন নেতৃত্ব
বর্তমান আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমালের ছয় বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি বাধ্যতামূলক কুলিং অফ পিরিয়ডে যাবেন—এই বেসিক নিয়মের কারণে আইপিএল চেয়ারম্যান নিয়োগ আজকের আলোচনার অঙ্গ। স্থানীয় সূত্রে গুঞ্জন আছে রাজীব শুক্লা বা সঞ্জয় নায়েকের নাম স্থান পেতে পারে। রাজীব শুক্লা নির্বাচিত হলেই তাঁর শূন্য হওয়া বা অন্য পদে পরিবর্তন সূচকের ফলে বিসিসিআইয়ের অভ্যন্তরীণ পযর্ন্তে চেইঞ্জ দেখা দেবে—যার প্রতিফলন বোর্ডের শক্তি-সামঞ্জস্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পড়বে। আরও খবর পড়ুন , নদীয়ার তেহত্বের ৭ বছরের বাচ্চা খুন
ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন ও মহিলা প্রিমিয়ার লিগ
সভায় ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের একজন প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করার কথাও আছে। এই পদটি খেলোয়াড়দের কণ্ঠস্বর বোর্ডে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মহিলা প্রিমিয়ার লিগ (WPL) সম্পর্কিত কমিটির জন্যও ভোট অনুষ্ঠিত হবে—যা মহিলাদের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায় আরও আধুনিকতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব আনার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
নিয়োগ: ওম্বুডসম্যান ও এথিক্স অফিসার
শাস্তিগত ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে এবার ওম্বুডসম্যান ও এথিক্স অফিসার নিয়োগের আলোচনাও রয়েছে। এই পদগুলো বোর্ডকে অভ্যন্তরীণভাবে জবাবদিহিতার ধাঁচে কাজ করতে সহায়তা করবে—বিশেষত আচরণগত ও প্রশাসনিক অনিয়ম সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে।
কমিটি গঠন: স্ট্যান্ডিং, ক্রিকেট ও আম্পায়ার্স কমিটি
সভায় স্ট্যান্ডিং কমিটি, ক্রিকেট কমিটি এবং আম্পায়ার্স কমিটি গঠনের বিষয়ও রয়েছে। এই কমিটিগুলো নির্বাচনী ও কার্যনির্বাহী সিদ্ধান্তের মূল মেরুদণ্ড—যেখানে খেলায় উন্নয়ন, আইন ব্যাখ্যা ও ম্যাচ/টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোর দায়িত্বভার কেন্দ্রীভূত হয়।
কারও পদে বহাল থাকার সম্ভাব্যতা
চলতি বছরের মার্চে যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত রোহন গাউনস দেশাই পদে বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রভাতেজ ভাটিয়া—যিনি জানুয়ারিতে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন—তাঁরও উপস্থিতি বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় অব্যাহত থাকতে পারে। এই ধরণের ধারাবাহিকতা বোর্ডের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
রাজনৈতিক ও ক্রীড়া প্রশাসনিক প্রভাব
বিসিসিআইতে শীর্ষপদে যাদের অবস্থান তা কেবল ক্রীড়া প্রশাসনের নয়—এর রাজনৈতিক প্রতিচ্ছবিও থাকে। আইপিএল ও জাতীয় ক্রীড়ানীতির সিদ্ধান্ত, খেলোয়াড়দের চুক্তি, উন্নয়ন প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সবকিছুই এই নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল। তাই ২৮ সেপ্টেম্বরের ফলাফল কেবল তালিকা বদল নয়, ভবিষ্যত কৌশলগত রূপরেখা নির্ধারণ করবে।
শেষ কথা
২৮ সেপ্টেম্বর—এশিয়া কাপ ফাইনালের দিন—বিসিসিআইয়ের ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা ক্রীড়া প্রশাসনের একটি মাইলফলক স্বরূপ। লোধা আইনের আওতায় নিয়ম-প্রক্রিয়া মেনে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা আগামী দিনে বোর্ডের কাজকর্মে কি ধরনের বদল আনবে তা নজর রাখা প্রয়োজন। নতুন সভাপতি, আইপিএল চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নির্বাচন শুধু শিরোনাম নয়; তা হবে ভবিষ্যৎ ক্রীড়ানীতির কাঠামো তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
📢 সবার আগে نیوز আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে


No comments:
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন